তারেক রহমানের নাগরিকত্ব ও দেশে ফেরা

Mon, May 7, 2018 11:05 AM

তারেক রহমানের নাগরিকত্ব ও দেশে ফেরা

মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু: বিএনপির ভাইস চেয়ারমেন তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা ও তার নাগরিকত্ব নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও বিএনপির মধ্যে চলছে আলোচনা সমালোচনা। সম্প্রতি জাতির  জনক  বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে এসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আবারো তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেনl বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের সাথে আলাপ আলোচনা চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেনl বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক এধরণের মন্তব্য বিষয়টিকে আরো জোরাল করে তুলেছেl দুর্নীতির দায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে জেলে থাকার কারণে তারেক রহমানের হাতে দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে।অনেকে মনে করছেন মায়ের অনুপুস্থিতিতে তিনি লন্ডন থেকে দলের সাংগঠনিক কার্যকলাপ পরিচালনা করছেন।

এদিকে তারেক রহমানের নাগরিকত্ব বাতিল সংক্রান্ত কোনো ঘোষণা সরকার থেকে এখনো আসেনিl তবে তার রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদনের কারণ দেখিয়ে বলা হচ্ছে তিনি নাকি তার নাগরিকত্ব হারিয়েছেন? কিন্তু কীভাবে হারাবেন? কেন হারাবেন? রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন করলে কি নাগরিকত্ব হারিয়ে যায়? তিনি যদি নিজে স্বেচ্ছায় নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করে থাকেন তাহলে অন্য কথা। কিন্তু তিনি কি তা করেছেন? এধরণের কোনো প্রমান যদি সরকারের কাছে থেকে থাকে তাহলে তা জনসম্মুখে তুলে ধরা উচিতl তাহলে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যায়l তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব  সারেন্ডার করেছেন এই যুক্তি দেখিয়ে  লন্ডন বাংলাদেশ হাই কমিশনে আসা তারেক রহমানের পাসপোর্ট যথেষ্ট প্রমান নয়l  এমতাবস্থায় হঠাৎ তারেক রহমানকে নিয়ে সরকারি দল, কিছু কিছু মন্ত্রীসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করে চলছেনl পাসপোর্ট সারেন্ডারের  সাথে নাগরিকত্ব হারানোর কোনো সম্পর্ক নেইl

 

 

 

বিষয়টি এমনও হতে পারে যে তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে মন্তব্য ও ব্রিটিশ সরকারের সাথে আলোচনা করার কারণে তার ব্যক্তিগত  আইনি  পরামর্শকরা তাকে ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়  গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি তার নিজের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন জন পশ্চিমা দেশসহ বিভিন্ন দেশে এসে এভাবেই রাজনৈতিক আবেদন করে থাকে। সমস্যার সমাধান হলে তারা পুনরায় নিজ দেশে ফিরে যানl  তারেক রহমানও হয়তো তাই করেছেন। আশ্রয় আবেদনের জন্য পাসপোর্ট সারেন্ডার করার অর্থ এই নয় যে, আমি আর আমার দেশের নাগরিকত্ব রাখতে চাই না, বা আশ্রয় গ্রহণের কারণে আমি আমার নাগরিকত্ব হারিয়ে ফেলেছি।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর পর স্বাধীনতা বিরোধী কার্যকলাপের সাথে সক্রিয় থাকার কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকার জামায়াত নেতা গোলাম আযমসহ মোট পাঁচজনের নাগরিকত্ব বাতিল করেছিল। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের জন্য বঙ্গবন্ধু সরকার ওই সময় এই নির্দেশ জারি করেছিলেন। পরে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান (বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষীরা এখন এই পদবিটি ব্যবহার করে না)  ক্ষমতায় এসে পর্যায়ক্রমে এই নির্দেশ শিথিল  করেন। এ কারণে  গোলাম আযমসহ অনেকেই  তাদের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ফিরে পায়।

এই পাঁচ জন ব্যক্তি পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। অর্থাৎ তারা রাষ্ট্রবিরোধী কাজে সক্রিয় ছিলেন। তারেক রহমানের ব্যাপারে বাংলাদেশের আদালত রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কার্যকলাপে দোষারোপ করেছে কি? যদি করে থাকে তাহলে সরকার চাইলেই তার নাগরিকত্ব বাতিল করতে পারে। তবে  সরকার থেকে তার নাগরিকত্ব বাতিলের কোনো নির্দেশ আসেনি বলেই আমরা জানি। তাহলে তার নাগরিকত্ব বাতিল বা হারানোর প্রশ্ন আসছে কেন?

জেনেভা  কনভেনশনের ১৯৫১  সালের  আইনানুসারে  বিশ্বের  সকল  দেশের  নাগরিকদের  অধিকার রয়েছে বিভিন্ন দেশে প্রবেশ করে আশ্রয় গ্রহণ করার। নিয়ম  অনুসারে  কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন করলে তার নিজস্ব পরিচয় প্রদানের জন্য পাসপোর্ট ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে সমর্পণ করতে হয়। সম্ভবত তারেক  রহমান  তাই  করেছেন। এমতাবস্থায় অর্থাৎ রাজনৈতিক আবেদন করা অবস্থায় সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কারো সেই দেশ ত্যাগ করার মতো কোনো লিগ্যাল ডকুমেন্ট থাকে নাl প্রশ্ন উঠেছে তাহলে তারেক রহমান এইসময় ব্রিটেনের বাহিরে গিয়ে কি করে পুনরায় ব্রিটেনে প্রবেশ করলেন?

ধরে নেওয়া যাক তারেক রহমান ব্রিটেনে রাজনৈতিক, মানবিক, চিকিৎসা, ব্যবসা, কিংবা অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা যে কোনো একটা কারণ দেখিয়ে আশ্রয় পেয়েছেন।

কিন্তু এজন্য তার বাংলাদেশী নাগরিকত্ব হারানোর কথা নয়l নাগরিকত্ব হারানোর প্রশ্ন এখানে আসবে কেন? রাজনৈতিক আশ্রয় পেলে কেউ কখনো তার নাগরিকত্ব হারায় না। একমাত্র সরকার  বা বেক্তি  স্বেচ্ছায়  পরিত্যাগ করলেই জন্মগতসূত্রে পাওয়া নাগরিকত্ব চলে যায়। এই হারিয়ে যাওয়া নাগরিকত্ব পুনরায় রাষ্ট্রের কাছে আবেদন করলে রাষ্ট্র চাইলে আবার ফিরিয়েও দিতে পারেl যেমন গোলাম আজম সহ অন্যান্য যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত ছিল তাদের নাগরিকত্ব জেনারেল জিয়া কৌশলে ফিরিয়ে দিয়েছিলেনl

এদিকে ব্রিটেনের বাংলাদেশ হাইকমিশন বলেছে তারেক রহমান তার পাসপোর্ট তাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেনl পরবর্তীতে সরকারের পরারাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এক সাংবাদিক সম্মেলনের তারেক রহমানের পাসপোর্ট প্রকাশ করেছে। এখন প্রশ্ন হলো বাংলাদেশ হাই কমিশন কি করে এই পাসপোর্ট পেল? আমার মতে আশ্রয় আবেদনকারীর পাসপোর্ট কখনো ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সে দেশের দূতাবাস বা হাইকমিশনে হস্তান্তর করার কথা নয়। তবে আবেদনকারীর আবেদন চূড়ান্ত পর্যায়ে নাকচ হয়ে গেলে স্বদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য পুলিশ দূতাবাসের কাছে পাসপোর্ট দেখিয়ে দেশের নাগরিকত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা করে থাকে, যদি এই  সময় বেক্তির পাসপোর্টের বৈধতার সময়সীমা পার হয়ে যায়l দূতাবাস তখন এই পাসপোর্ট দেখে বেক্তির  জন্য একটি ওয়ানওয়ে পাসপোর্ট ইস্যু করে থাকে যাতে এয়ারপোর্ট  তাকে দেশে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়। তারেক রহমানের দীর্ঘদিন লন্ডনে বসবাসের কারণে ধরে নেওয়া যেতে পারে তিনি যে কোনো একটি কারণ দেখিয়ে এখানে অবস্থান করছেনl তাহলে তার পাসপোর্ট হাইকমিশনে আসলো কিভাবে?

আমার মতে তারেক  রহমান তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ  হাই কমিশনের কাছে স্বেচ্ছায়  ফেরত পাঠিয়ে  দিতে  পারেনl অথবা পাসপোর্ট নবায়ন করার জন্য তিনি হাইকমিশনে প্রেরণ করতে পারেনl তৃতীয় কারণটি  হতে পারে তিনি ব্রিটেনে  ট্রাভেল ডকুমেন্ট, এলাইন্স পাসপোর্ট কিংবা একটি কার্ডে বসবাসের অনুমুতি পাওয়ার কারণে ইমিগ্রেশন তার পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিলে তিনি তা পরবর্তীতে স্বেচ্ছায় হাইকমিশনে প্রেরণ করতে পারেনl সাধারণত আশ্রয় পাওয়া বেক্তির পাসপোর্ট ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ  পাসপোর্টের প্রাপকের কাছে ফিরিয়ে দেয়l  ব্রিটেনের বাহিরে যাতায়াতে সুবিধার্থে তারেক রহমান ট্রাভেল ডকুমেন কিংবা এলাইন্স পাসপোর্ট অথবা একটি কার্ডে বসবাসের অনুমুতি নিয়ে বর্তমানে লন্ডনে বৈধভাবে সপরিবারে বসবাস করছেনl এজন্য তিনি যে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব হারিয়েছেন কিংবা ত্যাগ করেছেন এমন কোনো কথা নয়l তবে ট্রাভেল ডকুমেন কিংবা এলাইন্স পাসপোর্ট নিয়ে কখনো নিজ দেশে ভ্রমণ করা যায় নাl

তারেক রহমানের বাংলাদেশী পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩ জুন ২০১০। কিন্তু তারপরও তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করেছেন। তাহলে ধরে নিতে হবে তার কাছে কোন ধরণের ট্রাভেল ডকুমেন্ট ছিল। অর্থাৎ ২০১০ সালের পর থেকে তিনি যে কোনো একটি স্টেটাস নিয়ে লন্ডনে বৈধভাবে বসবাস করছেন। এর সাথে বাংলাদেশী নাগরিকত্ব রাখা বা না রাখার প্রশ্ন আসতে পারে নাl আসবেই বা কেন? তবে ট্রাভেল ডকুমেন্ট (রিফিউজি স্টেটাস) পাওয়ার চার বছর পর সেদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করা যায়। তারেক রহমান ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য কোনো আবেদন করেছেন কি না অথবা ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেয়েছেন কি না তার কোনো প্রমান নেইl তিনি যদি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়েও থাকেন সেক্ষেত্রেও তার জণ্মগতসূত্রে পাওয়া বাংলাদেশের নাগরিকত্ব হারানোর কথা নয়l এমন হতে পারে যে তারেক তার বাংলাদেশী নাগরিকত্ব বহাল রেখে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব, ট্রাভেল ডকুমেন্ট, এলাইন্স পাসপোর্ট অথবা একটি কার্ডে বসবাসের অনুমুতি নিয়ে বৈধভাবে ব্রিটেনে অবস্থান করছেনl বাংলাদেশের বর্তমান মন্ত্রী পরিষদের কোনো কোনো সদস্য ও বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের দুই দেশের নাগরিকত্ব এখনো বহাল আছেl সুতরাং তারেক রহমানের বাংলাদেশী নাগরিকত্ব হারানো সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন আনা ঠিক হবে নাl

একটি দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ইমিগ্রেশন থেকে যে বিষয়টি অবহিত করা হয় তা হলো আপনাকে নাগরিকত্ব দেওয়া হলো তবে আপনি যদি এখন আপনার পূর্বের নাগরিকত্ব বহাল না রাখতে চান তাহলে আপনার দেশের দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনl এমন পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের মতো একজন বেক্তি কখনই বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করার কথা বলবেন বলে আমার মনে হয় নাl

একসময় বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশীরা অন্য দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার পর বাংলাদেশে ভ্রমণকালে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ভিসা নিয়ে যেতোl জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালীন তার কাছে বিষয়টি তুলে ধরলে তিনি এই নিয়ম পরিবর্তন করে জণ্মগতসূত্রে পাওয়া বাংলাদেশী নাগরিকদের বেলায় NO Visa required for travel to Bangladesh কথাটি পাসপোর্টে সিল দেওয়ার আইন কার্যকরী করা হয়l সুইডিশ নাগরিক হওয়ার কারণে ১৯৮২ ও ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশে ভ্রমণকালে স্টকহলম দূতাবাস থেকে আমাকে ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে হয়েছিলl জণ্মগতসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিকদের বেলায় বাংলাদেশে যাতায়াতে এখন আর ভিসা নিতে হয় নাl কিন্তু এই ভিসা নেওয়ার কারণে বলা ঠিক হবে না যে আমি আমার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব হারিয়েছিl দৈত্ব নাগরিকত্ব  ও  নো  ভিসা  এক  কথা  নয়l  দৈত্ব নাগরিকত্ব  বহাল  রাখতে  হলে  বেক্তিকে একটি ফিস পেমেন্ট করে  পৃথকভাবে দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়l

 

 

 

বৃটিশ হোম মিনিস্ট্রির চিঠিতে For your retention কথাটি অর্থ  এমনও  হতে  পারে  যে, আপনার বাংলাদেশী পাসপোর্ট আপনাদের কাছে ফেরত দেয়া হলো।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলা প্রয়োজন যে নিজের জীবনের নিরাপত্তার কারণ তুলে ধরে যদি তারেক রহমান ব্রিটেনে বসবাসের অনুমতি লাভ করে থাকেন সেক্ষেত্রে তাকে ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশে কখনো ফেরত পাঠাতে পারে নাl যার ফলে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে এখন আর তাকে দেশে ফেরত নেওয়া সম্ভব নয়l একমাত্র যদি তিনি স্বেচ্ছায় যেতে আগ্রহ প্রকাশ না করেনl

 

বাংলাদেশ সরকারের এখানে সবচেয়ে বড় ভুল হলো বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসা। অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে কাজটা করলে হয়তো বা তারেক রহমান ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতেন না। কারণ ব্রিটেনে দীর্ঘদিন তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় না নিয়েই অবস্থান করেছেন। যদিও এই সময় তার পাসপোর্টের বৈধতা পার  হয়ে গিয়েছিলl বাংলাদেশে তারেক রহমান একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীl এমন অবস্থায় তিনি ব্রিটিশ  সরকারের কাছে তার নিরাপত্তার চাইতে পারেনl তাহলে ব্রিটিশ সরকার কি করে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে পারে? এই কারণেই বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সরকার চেষ্টা করলেও তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্য থেকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। অন্যদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফেরাতে কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখছেন না আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এমনকি  বাংলাদেশের  প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যাও   বলেছেন  তারেক  রহমানকে  দেশে  ফিরিয়ে  আনার  বেপারে  ব্রিটেন  সরকারের  সাথে  আলোচনা  চলছেl  এখন দেখা যাক বাস্তবে কোন পক্ষের জয় হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব আছে বলেই যে বাংলাদেশ সরকার তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবে এমন কোনো কথা নয়। বরং রাজনৈতিক আবেদন করার কারণে এখন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এটাই বাস্তবl বাংলাদেশ সরকারকে এখন এই বাস্তবতাকে মানতেই হবে।সত্য চিরদিন সত্যই থাকেl সত্যকে কখনো মিথ্যা দিয়ে  ঢাকা  যায়  নাl

লেখক: জুরি স্টকহলম আপিল কোর্ট, সদস্য সুইডিশ লেফট পার্টি সেন্ট্রাল ইলেকশন বোর্ড


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান