মিশিগান মেতেছে বৈশাখী উম্মাদনায়

Thu, May 3, 2018 5:13 PM

মিশিগান মেতেছে বৈশাখী উম্মাদনায়

সাইফুল আজম সিদ্দিকী ও শিহাব উল্লাহ, মিশিগান থেকেঃ প্রতিবছরের মত, এবছরেও বেশ জমকালো ভাবে পালন হলো বৈশাখী উৎসব। মিশিগানে একদল তরুন সংগঠকের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক সংগঠন অনুরণনএর  পরিবেশনায় ছিল ব্যতিক্রমী বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন।  

রবিবার দুপুর ২টায় মিশিগানের নর্থভিল শহরে হিলসাইড মিডল স্কুলের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের পর্দা ওঠে। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে আটপৌড়ে দেশীয় সাজে সেজে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিতি হন অনুষ্ঠান উপভোগ করতে।

 

অনুষ্ঠানের প্রথম ভাগে ছিলো পল্লীসংগীত আর লোকনৃত্যের যত আয়োজন - চিরচেনা এসো হে বৈশাখদিয়ে গান শুরু হলেও, একে একে প্রবাসী শিল্পীরা ও আমার দরদী’, ‘আমায় ভাসাইলি রে’, ‘নাও ছাড়িয়া দেইত্যাদির মত জনপ্রিয় সব লোকগীতি পরিবেশন করেন। সংগীত পরিবেশনে ছিলেন জারা আনোয়ার, অভি বিশ্বাস, করবী বাশার, ফজলে রাব্বি আহাদ, সুরভী বনিক, নীলুফা আক্তার নিতু, শিহাব উল্লাহ, শাকিল খন্দকার এবং ইলোরা হোসেন। ঢোল নিয়ে লোকনৃত্য দিয়ে সবার মন মাতিয়ে তোলেন ইমি ইসলাম, সুমাইয়া করিম, তৃশা সাহা, শারমিন তানিম এবং সানজিদা বন্যা - এ নাচে দেশীয় বিভিন্ন প্রপ্স যেমন কুলা, হাতপাখা ইত্যাদির ব্যবহার ছিলো দৃষ্টিনন্দন।

 

প্রথম ভাগের অনুষ্ঠান শেষ হয় পল্লীকবি জসীমউদ্দিনের আখ্যানকাব্য নকশীকাঁথার মাঠঅবলম্বনে একটি ব্যাতিক্রমী গীতিনৃত্যনাট্য দিয়ে - এর নাট্যরুপ এবং নির্দেশনায় ছিলেন শিহাব উল্লাহ। তবলার তালে তালে সংলাপ, জনপ্রিয় লোকসংগীতের ব্যবহার, কলাকুশলীদের দারুণ অভিনয় এবং চমৎকার অনেকগুলো নাচের জন্য এই গীতিনৃত্যনাট্যটি অভ্যাগতদের মধ্যে বিপুল সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। গীতিনৃত্যনাট্যটির শ্রেষ্ঠাংশে ছিলেন জাহেদ জিয়া, ইমি ইসলাম, মোহাম্মদ মোতাকাব্বির শাহীন, সুরভী বনিক, নাইমা হোসেন, সালমান সোহেল, মুকিত হাসান, তৃশা সাহা, শারমিন তানিম, সানজিদা বন্যা এবং সুমাইয়া করিম।  পুরো অনুষ্ঠানের প্রথম ভাগের সঞ্চালনা করেন সাবরিনা সাব্বির বন্যা। যন্ত্রবাদনে  ছিলেন শাকিল, শাওন, শাফি, ইলোরা এবং জাফরী, ক্যামেরায় ছিলেন সনেট।

 

বাংলাদেশের সিনেমার বিবর্তন নিয়ে অনবদ্য পরিবেশনা ছিল এ  অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় ভাগে। ষাটের দশকের জনপ্রিয় গান দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করে হালের নায়িকা পরিমনির নাচ - বাংলা চলচ্চিত্রের মাইলফলক সবকিছুকেই ধারণের একটা প্রয়াস ছিলো এ অংশের পরিবেশনায়। নীল আকাশের নিচে’, ‘মনেরো রঙ এ রাঙাব’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুশ’, ‘পড়েনা চোখের পলকইত্যাদির মত লোকপ্রিয় গান উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে নস্টালজিয়ার আবহ তৈরী করে। প্রথম ভাগের শিল্পীদের পাশাপাশি এই অংশে আরো গান পরিবেশন করেন দেবাঞ্জন দীপ। ভালোবাসিয়া গেলাম ফাসিয়াগানের সাথে যুগল নৃত্য পরিবেশন করেন শারমিন তানিম এবং মীর রসি - তাদের অভিনব বেশভুষা এবং নৃত্যশৈলী দর্শকদের মুগ্ধ করে। ইমি ইসলাম এবং সুমাইয়া করিমের পরিবেশনায় ধিম তানানাচটিও অভ্যাগতদের বেশ বিনোদিত করে।বাংলা চলচ্চিত্রের গানের বিবর্তনকে ভিত্তি করে বিভিন্ন দশকের গান নিয়ে আকর্ষনীয় একটি মেডলি নিয়ে আসেন জাফরী আল ক্বাদরী এবং নিলুফা আক্তার নিতু।

 

অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে মঞ্চ নাটকের আদলে তৈরী স্বল্পদৈর্ঘ্য ছায়াছবি দাওয়াত দে, A fight for invitation’ এর মাধ্যমে। ফাহিম আহমেদ পরিচালিত এই পরিবেশনাটির শ্রেষ্ঠাংশে ছিলেন দীপ, পুলক, মারুফ, ফাতিমা,শাওন,মাহির, আশরাফ, মাজহার, মেহেদী, রাজিউর,বুশরা, তৃষা, জিশা, রামিম, দীপন, মিশু,সানাউল এবং  তন্বী্‌।  

 

হাস্যরসে ভরপুর, টানটান উত্তেজনা অংশটি বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় সব চরিত্রকে উত্তর আমেরিকার পটভুমিতে দেখানো হয়েছে। পাত্রপাত্রীরা চিত্র নায়ক জসীম, ইলিয়াস কাঞ্চন, অভিনেতা ডিপজল, অঞ্জুঘোষ, অনন্ত জলিল সহ জনপ্রিয় সব চরিত্রকে ফুটে তোলেন।

 দ্বিতীয় ভাগে, অভিনব কায়দায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাই সিদ্দিকী, এবং মাফরুহা জাহান, বাংলা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন চরিত্রের অভিনয় ও চলচিত্রের বিভিন্ন ট্রিভিয়া নিয়ে তাদের উপস্থাপনা দরশকদের মন কাড়তে সক্ষম হয়।

 

প্রবাসে কর্মব্যস্ততা ও জীবনসংগ্রামে হাঁপিয়ে ওঠা, বিদেশি সংস্কৃতির মধ্যে হাবুডুবু খেয়ে নিজস্ব শেকড় সন্ধানে কিছুটা আত্মতৃপ্তি খুঁজে ফেরেন প্রবাসী বাঙালিরা। বৈশাখী আয়োজন যেন তাদের কাছে নিরাপদ আশ্রয়। বৈশাখীর অনুষ্ঠান বিদেশে ও নতুন প্রজন্মের কাছে নিজের দেশ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার বড় মাধ্যম।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান