ইবাদতের বিশেষ দিন-রাত ও পবিত্র শবে বরাত

Wed, Apr 25, 2018 11:20 PM

ইবাদতের বিশেষ দিন-রাত ও পবিত্র শবে বরাত

মঈনুল আহসান : সব সময় সব ফসল ফলে না সব কাজও সব সময় করা যায় না এমনকি একই কাজ থেকে সময় ভেদে ফলও পাওয়া যায় ভিন্ন ভিন্ন তাই সব কিছুর জন্যেই চাই যথাযথ সময় ইবাদতের জন্যেও দরকার ঠিক তা-ই। সেই সময়গুলো হিসেব কষে বের করার মত বিষয় নয় তাই জানা সম্ভব ছিল না কোন মানুষের পক্ষে যদি না আল্লাহ পাক দয়া করে তা না জানাতেন। ইবাদতের তেমন বিশেষ সময় রয়েছে প্রতিটি দিনের মধ্যে, রয়েছে সপ্তাহের মধ্যেও। একই ভাবে আছে ইবাদতের বিশেষ মাস, প্রতি মাসের মধ্যে রয়েছে বিশেষ বিশেষ দিনও। এই সময়গুলো কম বেশী সবারই জানা, সবাই পরিচিত এগুলোর সাথে কোন না কোন ভাবে

এমন দিন- রজনী ভিত্তিক বিশেষ ইবাদতগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো পবিত্র লাইলাতুল কদরের ইবাদত এটা উম্মতে মুহম্মদির জন্যে স্পেশাল আগের কোন উম্মতের জন্যে ছিল না এই সুযোগ। এই রাতের গুরুত্ব এতই বেশী যে এ জন্যে আল্লাহ পাক নাযিল করেছেন আল- কোরআনের পুরো একটা সূরা এবং নবীজি সা: স্বয়ং এর নির্দিষ্ট সময় খুঁজে বের করে দিয়ে গেছেন তাঁর প্রিয় উম্মতের জন্যে। রমজানের শেষ দশ দিনের মধ্য থেকে খুঁজে নিতে বলা হয়েছে মহা মহিমান্বিত এই রাতকে। দীর্ঘ দশ দিনের মধ্যে একে লুকিয়ে রেখে আল্লাহ পাক বস্তুত তাঁর প্রকৃত বান্দাদের জন্য নিশ্চিত করেছেন সর্বোচ্চ রহমত ও বরকত লাভের ব্যবস্থা। তবে এত গুরুত্বের পরও লায়লাতুল কদরের ইবাদতকে ফরজ করা হয়নি। বস্তুত আল্লাহ পাক তাঁর কোন বিশেষ ইবাদতকেই মানুষের জন্য আবশ্যক করেননি বরং ছেড়ে দিয়েছেন তাদের ইচ্ছার উপর। ফলে এই ইবাদতগুলো থেকে লাভবান হতে পারে শুধুই আল্লাহ পাকের ঘনিষ্ঠ ও একনিষ্ঠ বান্দারা

দিবস ও রজনী ভিত্তিক বিশেষ ইবাদতগুলোর মধ্যে আরো আছে আশুরা, আরাফার দিন ও পবিত্র শবে বরাতের ইবাদততবে সবচেয়ে বিতর্কিত হলো শবে বরাত। আয়েশা রা:-এর সূত্রে বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ ইবনে মা’জাহ শরিফে এর বিবরণী থাকার পরও এ নিয়ে বিতর্ক বড়ই দুর্ভাগ্যজনক এবং অগ্রহণযোগ্য। প্রথমত এমন প্রতিষ্ঠিত হাদিস গ্রন্থের সামান্য একটা বাক্যও যেখানে চ্যালেঞ্জ করার যোগ্যতা রাখে না এ যুগের কেউই, সেখানে পুরো একটা হাদিসকে বাতিল গণ্য করা চরম ধৃষ্টতা বটে তদুপরি হযরত আয়েশা রা: ছাড়াও এর স্বপক্ষে আরও প্রায় দশজন সাহাবির বর্ণনা রয়েছে অন্যান্য হাদিস গ্রন্থে এবং রয়েছে অনেক পরোক্ষ নির্দেশনাও তাই এর গুরুত্ব অস্বীকার করা দুরূহ

উল্লেখ্য পনেরোই শাবান হলো আইয়ামে বীজের একটি দিন, প্রতি মাসের এই দিনগুলোতে নিয়মিত রোজা রেখেছেন নবীজি সা: উপরন্তু এটা শাবান মাসের আইয়ামে বীজ হওয়ায় তা বাড়তি গুরুত্বের দাবি রাখে কারণ এই মাসেই রমজানের বাহিরে সবচেয়ে বেশী রোজা রাখতেন নবীজি সা: রমজানের প্রস্তুতি হিসেবেপ্রস্তুতির এই কাজটা তিনি তাঁর উম্মতকেও করতে বলেছেন। একই সাথে শাবানের শেষ পনেরো দিন রোজা না রাখতে বলেছেন রমজানের  জন্যে শক্তি সংরক্ষণের প্রয়োজনেএসব সবই নবীজির অতি প্রসিদ্ধ নির্দেশনা যা শ্রদ্ধার সাথে অনুশীলন করে থাকে বিশ্ব মুসলিম বিষয়গুলো এক সাথে বিবেচনা করলে পনেরো তারিখের বিশেষত্ব আঁচ করা যায় সহজেই এবং এ সংক্রান্ত হাদিসগুলোকে তখন মোটেই ভিত্তিহীন বলে মনে হয় না। বরং শাবানে রোজা রেখে রমজানের অনুশীলন করতে হলে লাইলাতুল কদরের মত বিশাল রজনীর জন্যেও শাবান মাসে ছোটখাটো অনুশীলনের ব্যবস্থা থাকাটা মোটেই অযৌক্তিক নয় তাই শবে বরাতের ইবাদতকে রুখে দেয়ার চেষ্টা কোন ভাবেই সমর্থন যোগ্য নয় বরং সেটা একটা গুরুতর অপরাধ বটে 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে ইবাদত কেন্দ্রিক এইসব ডামাডোলের মধ্যে সম্প্রতি এক শবে বরাতের রাতে হঠাৎ-ই আমি, আলহামদুলিল্লাহ, স্বপ্নে দেখেছি নবীজি সা: মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আলাপ করছেন হযরত ওমর রা:-এর সাথে। স্বপ্নটা ছিল আমার প্রতি আল্লাহ পাকের বিশেষ দয়া। অর্থ ছিল পরিষ্কার তথা লায়লাতুল বরাতের সত্যায়ন (Approval)এমন স্বপ্ন দেখার মত পুণ্য আমি স্মরণ করতে পারি না। হয়তো বাড়তি ইবাদতের বিবিধ সুযোগ-সুবিধার প্রতি আমার তীব্র আগ্রহ আল্লাহ পাক পছন্দ করে থাকবেনতবে ঘটনাটা একান্তই ব্যক্তিগত, ঘটেছে ওয়ান-টু ওয়ানতাই বিষয়টা আমার জন্যে পরিষ্কার হলেও অন্যদের জন্য দৃঢ় ভিত্তিক নয়তবে ধারণা করা যায় যে এমন ব্যক্তিগত দলিল অবশ্যই আছে আল্লাহ পাকের আরও অনেক বান্দার কাছে এবং সেগুলো সব একত্র করতে পারলে লাইলাতুল বরাতের প্রমাণ আরও শক্তিশালীই হবে নিঃসন্দেহে

এই দিনের হালুয়া-রুটি কেন্দ্রিক হৈ-হুল্লোড় বস্তুত একটা লোকাল কালচার তথা আঞ্চলিক সংস্কৃতি বিশেষ এর সাথে শবে বরাতের কোন সম্পর্ক নেই আল্লাহর ওয়াস্তে মানুষকে খাওয়ানো ইসলামিক কালচারেরই একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ যে কোন সময়ই কাজটা করা যায় এবং সেটা খুবই সওয়াবের কাজ তবে তা হালুয়া-রুটি দিয়েই করতে হবে তেমন কোন কথা নেই আবার কেউ তা করতে চাইলে তাতে বাধা দেয়ারও কিছু নেই কারণ সেটা পুরোপুরিই দাতার সক্ষমতা ও নিয়তের বিষয় অঞ্চল ভেদে মিষ্টি, খিচুড়ি, খেজুর তথা সুবিধা মত যে কোন খাবারই মানুষকে দান করা যায় বস্তুত নিজের সুবিধা মত দান-খয়রাত করাই ইসলামের নীতি। তাই শবে বরাতে হালুয়া-রুটি বিতরণ করা বা না করা নিয়ে বাড়াবাড়ি নিতান্তই অপ্রাসঙ্গিক এমন বাড়াবাড়ি আসলে ইবাদতের পথে বাধা বিশেষ, তাই তা অবশ্যই শয়তানের কাজ। শুধুমাত্র ইবাদতের দৃঢ় নিয়তই পারে এসব অযাচিত বিচ্যুতি থেকে আমাদেরকে রক্ষা করতে   

লস এঞ্জেলস থেকে

লেখকের বই পেতে: Search ‘Mainul Ahsan’ at ‘amazon.com’


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান