আমার দেশ শিশু ধর্ষকের অভয়ারণ্য হতে পারে না...

Mon, Apr 23, 2018 5:47 PM

আমার দেশ শিশু ধর্ষকের অভয়ারণ্য হতে পারে না...

লুৎফর রহমান রিটন : পত্রিকায়-ইন্টারনেটে-টিভিতে আজকাল একের পর এক শিশুধর্ষণ ও শিশুহত্যার বিবরণ পাঠ ও অবলোকন করে আমি বিষণ্ণ ও বিপন্ন বোধ করছি। গভীর রাতে দুঃস্বপ্নে আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমি আর ঘুমুতে পারি না।ছোট্ট এইটুকুন একেকটা বাচ্চার ধর্ষিত রক্তাক্ত শরীর ও আতঙ্কিত চেহারা আমাকে ঘুমুতে দেয় না। সারা রাত আমি ছটফট করি। সারাদিন আমি বিমর্ষ থাকি। কিচ্ছু ভালো লাগে না আমার।

লক্ষ্য করেছি, রহস্যজনক কারণে আমাদের প্রশাসন বরাবরই ধর্ষক এবং যৌন নির্যাতনকারীর পক্ষে অবস্থান নেয়। কোনো প্রশাসন কিংবা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেনো ধর্ষকবান্ধব হয় সেটা একটা অজানা রহস্যই বটে। অতীতে আমরা দেখেছি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদবীধারী কোনো কুলাঙ্গারের বিরুদ্ধে নম্বর বাড়ানোসহ নানান ফাঁদে ফেলে ছাত্রীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ যখনই উত্থাপিত হয়েছে তখনই সেই ধর্ষক কুকুরটিকে বাঁচাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৎপর হয়ে উঠেছে। শুধু শিক্ষক নয় ছাত্রনামধারী ধর্ষকদের ব্যাপারেও সেই একই আচরণ আমরা প্রত্যক্ষ্য করেছি। জাহাঙ্গীরনগরের কুখ্যাত 'সেঞ্চুরি মানিক'-এর কথা নিশ্চয়ই মনে আছে? কতো বিশাল আন্দোলন গড়ে উঠেছিলো তখন ওই ধর্ষক ছাত্রটির বিচারের দাবিতে! কিন্তু জাবি প্রশাসন কী করেছিলো তখন? অভিযুক্ত কুলাঙ্গারটিকে শাস্তির আওতায় না এনে নির্ভিঘ্নে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিলো প্রশাসন। কারণ সেই রত্নটি সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের সদস্য ছিলো। ভেবে পাইনা 'সরকার সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের সদস্য' হওয়ার কারণে একজন ধর্ষককে বাঁচাতে কেনো তৎপর হয়ে উঠবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সরকার এবং রাষ্ট্রযন্ত্র! ছাত্রসংগঠনটির কোনো কর্মী ধর্ষক হলে সেটা কী এমন গৌরব বয়ে আনে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলটির জন্যে? কেনো একটি রাজনৈতিক দল একজন ধর্ষকের দায় কাঁধে তুলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে! ছাত্রলীগ তকমাধারী কেউ ধর্ষণ করলে আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রদল তকমাধারী কেউ ধর্ষণ করলে বিএনপি সেই ধর্ষককে বাঁচাতে এতো উন্মাদ হয়ে ওঠে কেনো?

 

ভিকারুন্নেসা স্কুলের ছাত্রী ধর্ষণকারী শিক্ষকপদবীধারী কুলাঙ্গার পরিমলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের পর প্রিন্সিপাল ম্যাডামপদবীধারী মহিলাটি প্রথমে ঘটনাটিকে 'মিউচুয়াল' সম্পর্ক হিশেবে পাশ কাটিয়ে যেতে চেয়েছিলো! লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরও আরেক শিক্ষক লুৎফর ঘটনা ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে উঠেছিলো। এই নিয়ে সাধারণ ছাত্রী ও অভিভাবকরা আন্দোলন শুরু করলে স্কুল কমিটির কর্তাব্যক্তি সাংসদ রাশেদ খান মেনন ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসের আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন--'আন্দোলনকারীরা পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুন তৈরি করার টাকা কোথায় পেলো? কারা টাকা দিয়েছে? এটা নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে।' অথচ আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম একজন অভিভাবক হিশেবে তিনি বলবেন--ঘটনার তদন্ত ও বিচার হবেই হবে। নো মার্সি ফর ছাত্রী ধর্ষক। কারণ তিনি তো কেবল সাংসদ নন, একজন পিতাও। ধর্ষিতা মেয়েটিকে তিনি নিজের মেয়ের জায়গায় বসাতে পারলেন না! আপনি ধর্ষককে বাঁচাতে চাইলে, তাকে আড়াল করতে চাইলে ফাঁকে আপনার বিরোধী রাজনৈতিক দল তো পোস্টার ছাপানোর পেছনে টাকা ঢালবেই! পোস্টার ছাপানোর টাকা কোথায় পেলো জিজ্ঞেস করার আগে তো ধর্ষককে শাস্তি পেতেই হবে বলে আপনার দাঁড়ানো উচিৎ ছিলো ভিক্টিমের পাশে! পোড়ার দেশের হায় রে রাজনীতিবিদ!

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করলো গরিব দর্জি কিশোর বিশ্বজিৎকে। ঘটনার পর প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সামনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর তার প্রথম এপিয়ারেন্সেই জোর গলায় দাবি করলেন--হত্যাকারীদের কেউই ছাত্রলীগ করে না। কেনো তিনি এরকম নির্লজ্জভাবে বাঁচাতে চাইলেন একদল ঘাতককে? পরে তো প্রমাণিত হয়েছে যে ওরা প্রত্যেকেই ছাত্রলীগের কুলাঙ্গার সদস্য!

যে ঘাতক সে ঘাতকই। যে কুলাঙ্গার সে কুলাঙ্গারই। ছাত্রলীগ বা ছাত্রদলের সদস্য হলেই কোনো ঘাতক বা কুলাঙ্গারকে 'পুতপবিত্র' চরিত্রের একজন সুফী হিশেবে প্রতিষ্ঠিত করার এই অপচেষ্টা কখনো কি সফল হয়েছে? হয়নি। একবারও হয়নি।কলঙ্কতিলকটি ঠিক ঠিক দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে ছাত্রসংগঠনটির প্রশস্ত কপালে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সেইসব ডামাডোলে কখনো কখনো পার পেয়ে গেছে সেই ধর্ষক বা কুলাঙ্গার, কোনো রকম শাস্তি ছাড়াই। আর সে কারণেই বারবার ঘটে প্রায় একই রকমের ঘটনা। কারণ অপরাধী জানে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে রাজনৈতিক নেতা নামের আরেক কুলাঙ্গার। এগিয়ে আসবে কোনো রাজনৈতিক দল। এগিয়ে আসবে প্রশাসন। চিহ্নিত অপরাধীর একটি পশমও ছিঁড়তে পারবে না কেউ।

আমরা স্মরণে আনতে পারি--পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ ১৪২২ উদযাপনের আনন্দে কালিমা লেপন করে দিয়েছিলো কিছু কুলাঙ্গার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি এলাকায় কুলাঙ্গাররা প্রকাশ্য দিবালোকে বস্ত্রহরণ করেছিলো একাধিক মেয়ের! দলবদ্ধ কুলাঙ্গারদের যৌন হামলা রুখে দিতে মাত্র তিনটি তরুণ এগিয়ে এসেছিলো! তাদের মধ্যে আহত একজন লিটন নন্দীর কথা শুনেছিলাম পত্রিকায়, ফেসবুকে এবং টেলিভিশনে। আহারে! মেয়েগুলোকে রক্ষা করতে কতো চেষ্টাই না করেছে ওই ছেলে তিনটা। বন্ধুদের সহায়তায় কয়েকটি কুলাঙ্গারকে ধরেও ছিলো ওরা। ধরে সোপর্দ করেছিলো পুলিশের হাতে। কিন্তু পুলিশ ওদের ছেড়ে দিয়েছে। কেনো ছেড়ে দিয়েছে? লাখ টাকার প্রশ্ন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমজাদ আলীকে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনা জানিয়েও লাভ হয়নি। তিনি ইন্টারনেটে দাবা খেলায় ব্যস্ত ছিলেন। ৭১ টিভিতে দেখেছিলাম প্রক্টর আমজাদ ঘটে যাওয়া ঘটনার কোনো প্রমাণ নাকি পায়নি। আমজাদের ভাষ্য--লিটনের একার অভিযোগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। আর কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই। তাছাড়া সে যে সত্যি বলছে সেটাই বা মেনে নিতে হবে কেনো? ১৯ টা সিসিটিভি চেক করে দেখা হচ্ছে কিন্তু যৌন সন্ত্রাসের কোনো আলামত পাওয়া যায় নি।

 

প্রক্টর আমজাদ আলীর জন্যে করুণা হচ্ছিলো তখন! প্রক্টর পদটি তাকে হয়তো একটি বাড়ি একটি গাড়ি এবং কিছু প্রশাসনিক সুবিধে দিয়েছিলো। আর সেটার বিনিময়ে লোকটা নিজের শিক্ষা-ব্যক্তিত্ব-মর্যাদাবোধ-মনুষ্যত্ব- বিবেক-সুরুচি সব কিছু বিসর্জন দিয়ে বসেছিলো! লোকটা কথা বলেছে অপরাধীদের পালিত চাকর-বাকরের মতো!

আচ্ছা এই আমজাদ আলী নামের মানুষটার কি স্ত্রী ছিলো? কোনো কন্যা ছিলো? পুত্র ছিলো? স্ত্রী-পুত্র-কন্যাদের সামনে এই লোকটা মাথা উঁচু করে দাঁড়া তো কী ভাবে তখন!

 

তৎকালীন ভিসিরও(আরেফিন স্যার?)কোনো জোড়ালো ভূমিকা দেখিনি সেই সময়।কিন্তু কেনো? ভিসি তো কেবল নির্দিষ্ট একটি ছাত্রসংগঠনের ছেলেমেয়েদের দেখভালের জন্যে নন! বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্রছাত্রীরই তো তিনি প্রধান অভিভাবক!

কিন্তু বাস্তবে আমরা কী দেখি? ব্যক্তিত্বহীন ভিসির নমঃ নমঃ ভঙ্গি দেখলে আমাদের মনে সন্দেহ জাগে--রাষ্ট্রপ্রধান তাঁর নিয়োগ কর্তা নন। তাঁর বস হচ্ছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের 'পোলাপানগণ'!

০২

অনেকেই ধর্ষককে 'কুকুর' কিংবা 'শুয়োর' কিংবা অন্য কোনো পশুর সঙ্গে তুলনা করেন। আমি ধর্ষককে 'কুকুর' কিংবা 'শুয়োর' বলতে পারি না, কারণ--

 

কোনো কুকুর কোনো বাচ্চা কুকুরকে ধর্ষণ করে না।

কোনো শুয়োর কোনো শুকরছানাকে ধর্ষণ করে না।

কোনো গরু কোনো বাছুরকে ধর্ষণ করে না।

কোনো ছাগল কোনো ছাগলছানাকে ধর্ষণ করে না।

পশুদের মধ্যে কেবল মানবরূপধারী আশরাফুল মুখলুকাতরাই মানবশিশুকে ধর্ষণ করে।

আশ্রাফুল মুখলুকাতরা পাঁচ বছরের শিশুকেও ধর্ষণ করে!

আশ্রাফুল মুখলুকাতরা তিন বছরের শিশুকেও ধর্ষণ করে!

আশ্রাফুল মুখলুকাতরা এক বছরের শিশুকেও ধর্ষণ করে!

এমনকি

আশ্রাফুল মুখলুকাতরা ধর্ষণ করে দুই/তিন মাস বয়েসী কন্যাশিশুকেও!

 

ধর্ষণের জন্যে ভিক্টিম মেয়েটির পোশাক দায়ি বলে একদল কুলাঙ্গার হামলে পড়ে ফেসবুকে। কয়েকমাস বয়েসী একটি শিশুর আবার পোশাক কী রে আশ্রাফুল মুখলুকাতের বাচ্চা?

মনে আছে সাইদুলের কথা? সাইদুল নামের পঁয়তাল্লিশ বছর বয়েসী এক আশ্রাফুল পূজা নামের আট বছর বয়েসী ছোট্ট একটা বাচ্চাকে ধর্ষণ করার সুবিধার্থে বাচ্চাটার যোনী ব্লেড দিয়ে চিঁড়ে নিয়েছিলো! সেই সাইদুলের কি কিছু হবে? আমার সন্দেহ, কিছুই হবে না। কারণ সে আইনের কাঁধে সওয়ার হয়ে নিরাপদে আছে। এবং আমাদের অজান্তেই সাইদুল একদিন বীরদর্পে খালাস পেয়ে যাবে আদালতের রায়-এ।

নিকট অতীতে একাত্তর টিভিতে ফারজানা রূপার একটি প্রতিবেদনে দেখেছিলাম--ভজন নামের এক পুলিশ সদস্য একটি বাসে যাত্রী হিশেবে ওঠা একটি মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে ড্রাইভার ও তার তিনসহযোগিসহ মোট চারজন কুলাঙ্গারকে হাতেনাতে ধরে সোপর্দ করেছিলো আদালতে। কিন্তু আদালতে বিচারকের আসনে বসে থাকা 'ধর্ষণোন্মুখ এক আশ্রাফুল মুখলুকাত' সেই চারজনকে মুক্ত করে দিয়েছিলো!!

আমাদের আদালতগুলোয় বিচারকের আসনে বসে থাকে একেকটা ধর্ষক!

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনের উচ্চপদে অধিষ্ঠিত থাকে একেকটা ধর্ষক!

আমাদের পরিবারগুলোয় হিংস্র শ্বাপদের মতো বিকশিত হয় অগুন্তি ধর্ষক!

অজস্র অগণন ধর্ষক কিলবিল করে আমাদের ফেসবুকের অলিতে গলিতে!

 

০৩

অতিসম্প্রতি মুনমুন শারমিন শামস-এর একটা স্ট্যাটাসে একটি জরীপ দেখেছিলাম। ওই জরীপ অনুসারে এবছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি-মার্চ এই তিনমাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধর্ষিত হয়েছে ১৭৬ জন কণ্যাশিশু। ২০১৭ সালের শেষ তিন মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলো ১৪৫টা বাচ্চা। গেলো বছরের তুলনায় ধর্ষণের হার বেড়েছে ১৮ শতাংশ। জরীপের তথ্য অনুযায়ী ১৭৬টি শিশুর মধ্যে ২০জন শিশু হয়েছে গণধর্ষণের শিকার। প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষিত হয়েছে ১৮জন! ২৫টা শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছে ৩টা বাচ্চা! আহারে!

 

সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, আজ ফেসবুকে আনম রফিকুর রশীদের একটা স্ট্যাটাস মারফত জানা হলো আরেকটি বীভৎস শিশুহত্যা ও ধর্ষণকাণ্ডের তথ্য। টেকনাফের বাহারছড়ায় উত্তর শীলখালি বাড়িতে আট বছর বয়েসী সাদিয়া সুলতানাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে বনের মধ্যে লতাপাতায় পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিলো। সাদিয়ার বাবা শফিউল্লাহ কন্যার লাশের পাশে বসে আহাজারী করছেন। আহারে অসহায় পিতা! ছবিটার দিকে তাকানো যায় না।

 

০৪

অবশেষে একটি আনন্দসংবাদ--''কলারোয়ায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণে অভিযুক্ত ধর্ষক সোহাগ ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে।

২২ এপ্রিল রবিবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের গয়ড়া-হিজলদী রোডের ঘোজের বটতলা নামক স্থানে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে সে নিহত হয়।নিহত ধর্ষক সোহাগ সরদার (২৬) উপজেলার কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের উত্তর বোয়ালিয়া গ্রামের সামছুর দফাদারের পুত্র।

জানা গেছে- উপজেলার কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ৯বছর বয়সী এক মেয়েকে ২১ এপ্রিল শনিবার দুপুরের পর বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে গেলে তাকে একা পেয়ে পুকুর পাড়ে ধর্ষণ করে সোহাগ। সেসময় মেয়েটির চিৎকারে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রক্তক্ষরণ অবস্থায় প্রথমে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার আরো অবনতি হওয়ায় পরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।

মেয়েটির মা জানায়- ‘মেয়ের খুব রক্তক্ষরণ হচ্ছে, উঠে দাঁড়াতে পারছে না।’

কলারোয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.শফিকুল ইসলাম জানান- ‘রাত সাড়ে ৩টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। গুলি নিহতের মাথার বাম কান দিয়ে ঢুকে ডান কান দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে।’ গ্রামবাসীরা জানান- ‘লম্পট সোহাগের ২টা স্ত্রী ও ১টি সন্তান আছে। ঘটনার পর সোহাগের বাবা সোহাগকে টাকা দিয়ে বাড়ি থেকে পালাতে সাহায্য করেছিলো।’

এই ক্রসফায়ার আমি সমর্থন করি।

 

০৫

নারী ও শিশু ধর্ষকদের বাঁচিয়ে রাখার বিপক্ষে আমি। ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড এমনকি রাষ্ট্রপতিও যেনো রহিত করার অধিকার প্রাপ্ত না হন।

আমি চাই, প্রতিটা ধর্ষককে বগলদাবা করে র্যা ব-পুলিশের দুর্দান্ত ও দুর্ধর্ষ নায়কেরা গভীর রাতে অস্ত্র উদ্ধারে যাক। তারপর রচিত হোক একটি করে ক্রস ফায়ারের গল্প।মানবাধিকার বেপারিরা এই বিষয়ে জ্ঞান বিতরণ করতে আসবেন না।

ধর্ষকের কোনো মানবাধিকার নেই। থাকতে পারে না।

অটোয়া ২৩ এপ্রিল ২০১৮


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান