সিরিয়ায় মার্কিন মিত্রদের একযোগে আক্রমণ

Sat, Apr 14, 2018 12:21 AM

সিরিয়ায় মার্কিন মিত্রদের একযোগে আক্রমণ

নতুনদেশ ডটকম: সিরিয়ার পূর্ব গৌতায় বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত সর্বশেষ শহর দৌমায় ‘রাসায়নিক হামলার জন্য বাশার আল আসাদের বাহিনীকে দায়ী করে দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন স্থাপনায় একযোগে আক্রমণ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।

রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার প্রথম প্রহরে হোয়াইট হাউজ থেকে এই আক্রমণ ‍শুরুর ঘোষণা দেন, যার হুঁশিয়ারি তিনি আগেই দিয়ে রেখেছিলেন। 

তিনি বলেন, “কিছুক্ষণ আগে আমি যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীকে সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদের রাসায়নিক অস্ত্রের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর নির্দেশ দিয়েছি। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে এই আক্রমণ চলছে।” 

ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পরপরই সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে বড় ধরনের বিস্কোরণের শব্দ পাওয়া যায়।

যুক্তরাষ্ট্র আর তার পশ্চিমা মিত্রদের এই পদক্ষেপের মধ্যে দিয়ে সিরিয়ায় গত সাত বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গত ৭ এপ্রিল বিভিন্ন আন্তর্জতিক সংবাদমাধ্যম সিরিয়ায় উদ্ধার ও চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত কয়েকটি দাতব্য সংস্থার বরাত দিয়ে দৌমায় রাসায়নিক হামলার খবর প্রকাশ করে।

এরপর বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সেখানে ৪৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেজানায়, লক্ষণ দেখে বিষয়টি বিষাক্ত রাসায়নিকের হামলা বলেই মনে হয়েছ।

দৌমায় আরও পাঁচশতাধিক মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।

 এ বছর জানুয়ারি থেকে সিরিয়া ও তাদের মিত্রবাহিনীগুলো বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত পূর্ব গৌতায় সেনা অভিযান শুরু করে। তাদের আক্রমণে বেশিরভাগ বিদ্রোহীগোষ্ঠী পিছু হটতে বাধ্য হয়।

কিন্তু দৌমার জইশ আল ইসলাম বিদ্রোহীরা এলাকা ছাড়তে রাজি না হওয়ায় প্রচণ্ড বিমান হামলা শুরু করে আসাদ বাহিনী। তার মধ্যেই রাসায়নিক হামলার খবর প্রকাশ পায়।

 

এ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অসন্তোষের মধ্যেই গত সোমবার সিরিয়ার হোমস নগরীর নিকটবর্তী সামরিক বিমানঘাঁটি তিয়াসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে অন্তত চারজন ইরানের নাগরিক বলে জানায় দেশটির আধাসরকারি ফারস নিউজ এজেন্সি।

 

 সিরিয়া শুরুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করলেও পরে ইসরায়েলি জঙ্গিবিমান থেকে ওই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করে। ইসরায়েল বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার- কোনোটাই করেনি।

হামলার পর লেবাননে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জাসিপকিন বলেছিলেন, সিরিয়াকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে তা গুলি করে ভূপাতিত করা হবে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের স্থানে পাল্টা হামলা চালানো হবে।

এরপর পাল্টা হুঁশিয়ারিতে এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া প্রস্তুত হও, আরও ক্ষেপণাস্ত্র যাচ্ছে, সেগুলো নতুন আর আধুনিক। গ্যাস দিয়ে নিজের জনগণকে হত্যা করে তা উদযাপনকারী পশুর সঙ্গী হওয়া উচিত হয়নি আপনাদের ।”

 সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান