৭ই মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা

Mon, Mar 12, 2018 6:36 PM

৭ই মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা

নতুনদেশ ডটকম : গত ১১ই মার্চ রোববার কানাডা আওয়ামী লীগ, অন্টারিও আওয়ামী লীগ ও কানাডা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ডেনফোর্থ রোডের ক্যাফে ডি তাজ রেস্টুরেন্টে  ৭ই মার্চ উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কানাডা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগের ওবায়দুর রহমান, অন্টারিও আওয়ামী লীগের তাজুল ইসলাম, মাসুদ আলী,  কানাডা আওয়ামী লীগের আশিষ নন্দী, নিতাই ঘোষ, নওশাদ উদ্দীন রতন ও শেখ জসিম উদ্দিন। ৭ই মার্চকে নিয়ে রচিত কবি নির্মলেন্দু গুনের ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হল’ কবিতাটি  আবৃত্তি করেন অন্টারিও আওয়ামী লীগের সোহেল শাহরিয়ার।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের সোহেল রানা,মেহেদী হাসান, মোঃ রুবেল আহম্মেদ, শাকিল আহম্মেদ,  কানাডা আওয়ামী লীগের এডভোকেট রাধিকা রঞ্জন চৌধুরী  ও নজরুল আহমদ। ৭ই মার্চের ভাষণ সম্প্রতি ইউনেস্কো কর্তৃক ‘বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্যর’ স্বীকৃতি প্রাপ্তিতে এবারে ভিন্ন আঙ্গিকে পালিত হয়।

বক্তাদের বক্তব্যে ৭ই মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট, গুরুত্ব ও তাৎপর্য উঠে আসে। ১৯৭১ এই দিনে রেসকোর্স ময়দানের বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই ঐতিহাসিক ভাষণটি প্রদান করেন। মাত্র ১৮ মিনিটের এই ভাষণে বঙ্গবন্ধু তিনি পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক শোষণ-বঞ্চনা ও বাঙ্গালী জাতির সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন। অপরদিকে এই ভাষণে জাতিকে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনাও প্রদান করেন। অধিকন্তু ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রকারান্তরে স্বাধীনতার অনানুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করেন। বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠ নিঃসৃত বাণীতে উজ্জীবিত বাঙ্গালী জাতি পরবর্তীতে ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে আমাদের প্রেরণার উৎস। তাই মুখে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ও হৃদয়ে স্বাধীনতার স্বপ্ন ধারণ করে বাংলার দামাল ছেলেরা শত্রুর মোকাবেলা করে নয় মাসের রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। ভাষণটি ছিল যেমন ছন্দময় ও কাব্যিক তেমনি ছিল হৃদয়গ্রাহী ও মর্মস্পর্শী যা কয়েক যুগের ব্যবধানেও এখনও আমাদের হৃদয় শিহরণ জাগায়।

ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি পৃথিবীর সাড়া জাগানো ভাষণগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে বিবেচিত। এই ভাষণটি ২০১৭ সালের ৩০ শে অক্টোবর ইউনেস্কো কর্তৃক ‘বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃত হয়ে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’ রেজিষ্ট্রিভুক্ত হয়। ফলে আজ এই ভাষণ শুধু বাঙালি জাতির সম্পদ নয়, বিশ্ব-সম্পদে পরিণত হয়েছে। জাতি হিসাবে এটা আমাদের জন্য এক পরম পাওনা। বিজ্ঞপ্তি।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান