কানাডায় কেউ চাকরি দিতে পারে না, তবে চাকরি হয়

Mon, Mar 12, 2018 12:19 PM

কানাডায় কেউ চাকরি দিতে পারে না, তবে চাকরি হয়

বি জামানা মুকুল: ‘কানাডাতে ইমিগ্রান্টদের ভালো চাকরি হয়, হচ্ছে এবং হবে, তবে কেউ কাউকে চাকরি দিয়ে দেয় না বা দিতে পারে না।‘

উপরোক্ত কথাটি বলতে পারেন ৯৯% সত্যি। তবে হাঁ, আমরা নেটওয়ার্কিং বা কানেকশন এর কথা বলি কারণ কেউ কাউকে চাকরি পাওয়ার বিষয়গুলিতে সহায়তা করতে পারেন। আমি নিজে যেমন একজন সাধারণ মানুষ তেমনি আমি সাধারণ মানুষের চাকরও বটে কারণ তাদেরকে সার্ভিস দেওয়ার জন্যই তো আমি চাকরি করছি। অতি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করা তাই আমার চাকরিটাও মোটামুটি সাধারণই বলা যায়। তবে এই সাধারণ জায়গাতে পৌঁছাতে যে যে জিনিসগুলি ভুল ছিল, আবার যেই জিনিষগুলি ঠিক ছিল সেগুলির উপর আমার বিগত দিনের অভিজ্ঞতাকে শেয়ার করে কিছু কথা বলে থাকি বা লিখে থাকি। এবং এই একই কথাগুলি সবাইকেই বলি কিন্তু অনেকের কাছে সেগুলি তেমন গুরুত্বপূর্ণ বা অনুসরণ করার মতো কিছু মনে হয় না তাই তারা এক কান দিয়ে শুনে আর এক কান দিয়ে বের করে দেয়। আবার অল্প কিছু সংখক লোক আছে যারা ওই কথাগুলিকেই অতি গুরুত্বপূণ মনে করে সেটাকে ভিত্তি করে নিজের মতো করে পরিকল্পনা তৈরী করে আগাতে থাকেন এবং তারা সময়মতো তাদের লক্ষ্যে পৌঁছে যান, আর আমার লেখা " success story" তে তাদের কথাই উঠে আসে।

এদেরকে আমি অন্যদের থেকে বিশেষ কোনো কিছু বলি না, তাই অনেক সময় যখন কেউ ওই সমস্ত সাকসেস স্টোরি শুনে আমার সাথে যোগাযোগ করেন সেই সময় আমি যখন একই ধরণের কথা বলি তখন তারা মনে করেন এগুলি দিয়ে কি হবে। তারা আশা করেন আমি তাদেরকে কাউকে বলে চাকরি দিয়ে দেই, বা আমার প্রতিষ্ঠানে ঢুকিয়ে দেই অথবা আমিই তাদের রেসুমি লিখে দেই এবং পারলে আমিই তাদের জব সার্চটা করে দেই বা ইন্টারভিউটা দিয়ে দেই। আমরা তো ভাই শুধুমাত্র অনুঘটক, কাজটি তো আপনাকেই করতে হবে।

আবার কিছু মানুষ একটি জবের খোঁজও যদি দিয়ে দেই, তারপরেও আশা করে জব পোস্টিংটিও যেন আমি নিজে পড়ে তাদের বলি কি আছে ওখানে।

আমি যাদের কথা লিখি এবং যারা তাদের লক্ষে পৌঁছেছেন তাদের সাথে হয়তোবা মাত্র ঘন্টা দুই/এক আলাপ করেছি, তার পর মাঝে মধ্যে follow up ছাড়া আর তেমন যোগাযোগ হয় না, তবে হটাৎ একদিন খবর পাই তাদের ইন্টারভিউ হয়েছে এবং চাকরি হয়েছে। এখানে আমার তরফ থেকে ছোট খাটো কিছু পরামর্শ ছাড়া কোনো কিছুই আমি করি না, আমার কাজ তাদেরকে মোটিভেট করা তাদের নিজের কাজের জন্য; তাছাড়া আমার সেই সময়ও নেই। এরা নিজেরাই করেন সমস্ত কিছু, তাদের শুধু দরকার একটু নির্দেশনা ! আর যারা এর থেকে বেশি বেশি আশা করেন তাদেরকে নিয়ে আগানো কঠিন। আর আমি যে কথাগুলি বলি বা শেয়ার করি সেই ধরণের কথা বলার বা তার থেকেও ভালো কথা বলার অনেক অনেক দেশি ভাই বোন এখানে আছেন, তাদের সবার কাছেই আমাদের যাওয়া উচিৎ।

 

যেমন ছোট একটি উদাহরণ, আমার লেখা পড়ে আমার সাথে মাত্র একদিন দেখা করে এক ছোট ভাই শুরু করে দেন তার যাত্রা। এর পর নিজেই বের করে নেন তার পথ। আনন্দের বিষয় এই যে আমি নিজেই তার কাছ থেকে বেশ কিছু রিসোর্স জানতে পেরেছি। কয়েক মাসের মধ্যে সে তার প্রফেশনে চাকরি পেয়ে গেছেন এবং বর্তমানে Royal Bank এ কাজ করছেন। আশ্চর্য এই যে, ঠিক উনি আমার যে লেখাটি পড়েছিলেন এবং উনাকে যে কথাগুলি বলেছিলাম সেই একই লেখা পড়ে এবং একিই কথা শুনে আর এক ভাই নাকি তার থেকে তেমন কিছুই খুঁজে পাননি। সবার সব কিছু কাজে লাগবে তাও ঠিক না তবে আমার কথা মাত্র একজনের কাজে লাগলেওতো একটি লোকের বেকারত্ব ঘুচ্ল এবং কিছুটা হলেও সুখের মুখ দেখলেন, আর এই ধরণের ২/১টি মুখের হাসি দেখার জন্যই নিজের অতি মূল্যবান অবসর সময় ব্যায় করে আপনাদের কাছে পাশে দাঁড়ানো।

আমার কথায়, কাজে বা লেখায় যদি আপনাদের কোনো কাজে আসে তাহলে বিনিময়ে আমি আপনাদের কাছে তেমন কিছু চাই না, চাই শুধু দুটি জিনিস।

১. আমার প্রয়াত বাবা মার জন্য দোআ করবেন।

২. আর দয়া করে পারলে অন্তত একজন দেশি ভাই/বোনকে সহযোগিতা করবেন যাতে করে কোনো একদিন তাদের মুখে শুনতে পারি আপনার নামটি এবং সেটিই হবে আমাকে দেওয়া আপনার তরফ থেকে সব থেকে বড়ো উপহার !

 

আপনারা ভালো থাকবেন, একা একা চিন্তা করে হতাশ হবেন না, ভালো মনের মানুষের (অনেক আছে এখানে) সাথে কথা বোলুন, আর যেই অবস্থায়ই থাকুন না কেন, জীবনের অতি ক্ষুদ্র পসিটিভ জিনিসকে উপভোগ করুন এবং সেটাকে সেলিব্রেট করুন। আমি কোনো এক জায়গায় লিখেছি, আমার যখন মা মারা যান আমি তখন right away দেশে যেতে পারি নি, আমার এখানকার অবস্থান তেমন ভালো ছিল না, সব মিলিয়ে অতি করুন অবস্থা, আমি পার্শবর্তী এক শহরের আত্মীয়ের বাসায় যেতে গিয়ে বাস মিস করি, তারপর মনে খারাপ করে হাটতে হাটতে কোনো এক লেকের কাছের আপস্ট্রিমএ গিয়ে স্যামন মাছের আপস্ট্রিমএ যাওয়ার লাফা লাফি দেখে খুব ভালো লেগেছিলো তাই আত্মীয়র বাসাতে যাওয়া ডিলে করে নেমে পড়েছিলাম পানিতে ভলেন্টিয়ারদের সাথে মাছকে উপরে উঠতে সাহায্য করার কাজে। তাই যত কষ্ট বা frustrationই থাক না কেন সৃষ্টিকর্তা এবং নিজের উপর আস্থা রাখুন, নিজেকে ক্ষমা করতে শিখুন এবং সঠিক পথে আগান, দেখবেন আপনি সফলকাম হবেনই।

 

আমি যেমনটি বলেছি, একা একা চিন্তা করে হতাশ হবেন না তাই মেহেদী হাসানের সেই প্রিয় গান দিয়েই শেষ করি।

"তানহা তানহা মত্ সোচা কার, মার্ জায়েগা"

My decade- long experience in working with the people living with mental illness says isolation is one of the major causes that trigger any kind of mental illness tremendously!!! So, if you find life leaves you hanging please reach out and hold your hope!!!!

লেখকের ফেসবুক পোষ্ট


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান