তখনো ছিলাম এখনো আছি

Fri, Mar 9, 2018 1:29 PM

তখনো ছিলাম এখনো আছি

(ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল। দেশের রাজনীতিকে উল্টোমুখো করে দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিরোধ হিসেবেই জন্ম নিয়েছিলো সংগঠনটি। না, রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, সংস্কৃতি দিয়ে দেশ এবং রাজনীতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে ধরে রাখার প্রত্যয় নিয়ে এই সংগঠনের যাত্রা। তার পর তো ইতিহাস। স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তো এই সংগঠনটি হয়ে উঠেছিলো অপরিহার্য্য শক্তি।

সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলকে যারা গড়ে তুলেছেন, বিভিন্ন সময়ে এই সংগঠনটির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে ছিলেন, তাদের ভাবনাগুলো, স্মৃতিকথাগুলোকে গ্রন্থিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন সংগঠনের পক্ষে  আহমেদ হোসেন। টরন্টোতে বসবাসরত সাংস্কৃতিক সংগঠক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলের প্রতিষ্ঠালগ্নের উদ্যোগের সাথে ছিলেন, এখনো চেতনায় সেই স্পিরিটকেই ধারন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল নিয়ে বিভিন্নজনের স্মৃতিগাঁথাগুলো গ্রন্থিত হয়ে পাঠকের হাতে যাবার আগে সেগুলো ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করবে নতুনদেশ । আপনাদের মতামতকেও আমরাও সাদরে গ্রহন করবো।– বিভাগীয় সম্পাদক, নতুনদেশ।)

খাইরুল ইসলাম পাখী : তবে শুরু হোক ক্ষনিক পূর্ব হতে। স্কুল কলেজে আমার ফলাফল আহামরি কিছু ছিল না। কোন মতে দৌড়ে টিকে থাকা আরকি। আমাকে হরেক রকম প্রলোভন আর ভীতি দেখিয়ে পাঠে মনোনিবেশ করানো হতো। তবে নাটক, কবিতা, গান আর খেলাধুলা এসবে সেকি অপার টান। এর সাথে কৈশোরের আর নব যৌবনের অগুনতি নিষিদ্ধ আর গর্হিত কর্মকান্ড তো ছিল নিত্যসঙ্গী। কিনা করেছি, জেলে যাবার বা পুলিশে ধরা পরার মত অপকর্মও করেছি অঢেল। কিন্তু কোন না কোনভাবে ফাঁক ফোঁকর গলিয়ে বেঁচে গেছি বহুবার। আমার ভাই কবি ও আবৃত্তিকার ইস্তেকবাল হোসেন ( সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক, সুলতান- মনসুর পরিষদ) অনেক বাউণ্ডুলেপনায় আইডল ছিলেন বটে।যাই হোক প্রসংগ পাল্টানো জরুরী মনে করছি।

মূর্খের মতো রাজনীতি করেছি কলেজ জীবনে, ছাত্র সংসদেও ছিলাম। অন্যদের গুষ্টি উদ্ধার করে সেকি জ্বালাময়ী ভাষণ। শেষটায় আমার স্বজনদের আমাকে লাইনে আনার অক্লান্ত চেষ্টার ফলে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চৌকাঠ মাড়াতে কোনক্রমে সমর্থ হয়েছিলাম। তার আগে মেট্রিকে ভর্তি দৌড়েও কোনমতে উতরে যাই। আমার এই দুই ভর্তি যুদ্ধের সফলতা আত্মীয় বন্ধুদের মাঝে তোলপাড় ফেলেছিলো। আমি কি করে পারলাম? নিশ্চয়ই কোন ঘাপলা আছে। এতদিন পরে এসে কি লাভ আর মিথ্যে বলে। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি ছিলো আমার মূল পরীক্ষাগুলোর চাইতেও বেশী ভাল ছিলো। কেননা আমাকে মন্ত্র হিসেবে বলা হতো যদি তুমি ভাল শিল্পী বা খেলোয়াড় হতে চাও তবে ভাল কলেজে ভর্তি হতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতে হবে। এমন দাওয়াই হয়তো কাজ করেছে টনিক মতো।

১৯৮৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস হওয়ার পূর্বেই আমার বড় ভাইয়ের এক সুহৃদ আমাকে কবি জসীমউদ্দিন হলের ২১৬ নং কক্ষে একটি সিংগেল বেডে তুলে দিয়েছিলন। আমি বাক্স- পেটরা রেখেই খোঁজ নিতে ব্যস্ত হলাম কোথায় নাটক, কবিতা এসব চর্চা হয় কিংবা খেলার মাঠ কোন দিকে। কি আশ্চর্য কোথায় ক্লাস হবে, কোথায় লাইব্রেরী এসব যেন গৌণ। তারপর আমার আশ্রয়দাতা ভাইটি টিএসসি আর জিমনেশিয়ামের বিবরণ দিয়ে আমাকে যেন আনন্দ ভেলায় চড়িয়ে দিলেন। আর পায় কে আমাকে যেন পাল তোলা নৌকায় হাল ধরিয়ে দিয়ে বাতাসের অনুকুলে ভাসিয়ে দেয়া হল। সেই বিকেলেই ভয় পায়ে পায়ে টিএসসিতে হাজির।গেটের কাছেই দেখি একজন আরেকজনকে দেদার কিলঘুষি মারছে আর তোতলানো ভঙ্গিতে গালাগাল করছে। অবস্থা দেখে আমি তো তাজ্জব। আর চারপাশে অনেকেই দর্শক, কেউ কিছু বলছে না আর আমি তো নয়া, ভয়ে কুয়াশাচ্ছন্ন। কিন্তু টিএসসি তো শিল্পের শুদ্ধ চর্চা হয় এসব কি অশুদ্ধ কাজ কারবার। অগত্যা কয়েকজন এসে রনক্লান্ত বীরকে নিবৃত্ত করলেন। এই ভগ্ন বীরের নাম তকদির হোসেন জসীম। ছাত্রদল করেন এবং পরবর্তিতে সড়ক দ্বীপের " ডাস" এর মালিক।

প্রথমদিন টিএসসির এহেন প্রীতিহীন দৃশ্য আজো অম্লান। তারপর একসময় ভয়ে ভয়ে টিএসসির ভেতরে যাই, দোতলায় যাই। এদিক ওদিক তাকাই। বাহ আমি এখন যেন মূল দৃশ্যের সামনে। এখানে গান হচ্ছে তো ওখানে কবিতা, অন্যপাশে নাটক কিংবা নৃত্য। একপাশে খন্ডে খন্ডে আড্ডা হাহা হিহি। অনেকেই জোড়ায় জোড়ায় প্রেমভাবে আঁটোসাঁটো বসা। দেয়ালে নানান চিত্র আর চিত্রকলা। কতই না রঙিন। আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে। মনটা ক্রমশ ভরপুর হচ্ছে। আমি যেন এক মহামেলার মধ্যিখানে দাঁড়িয়ে। চারপাশে সাজানো হাজারো পশরা।

 

মেইনগেটের পাশে তিনচারজন ছেলেমেয়ে দুই টাকা করে বিবর্তন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর ফর্ম বিক্রি করছে- নাটক, আবৃত্তি ও সংগীত শাখায় কর্মশালার মাধ্যমে সদস্য করা হবে। কিনে ফেললাম একটা ফর্ম - সেই বিকেলের বাদামের বাজেটটা সংস্কৃতি চর্চায় উৎসর্গ করলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর আগেই শুরু হলো কর্মশালার কাজ। তার ক'দিন পরেই যুক্ত হলাম " মুক্তকন্ঠে ( আবৃত্তিকার কাজী আরিফের গড়া আবৃত্তি সংগঠন)। প্রতিদিনই কয়েকবার করে টিএসসিতে যাই আমি।

 

'দিনবাদে ক্লাস শুরু হলো। হঠাৎ একদিন চোখে পড়ে " ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল" এ বিভিন্ন শাখায় সদস্য নেয়া হবে। এর আগে এ দল সম্পর্কে তেমন কিছু জানতাম না, তাও মনে হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি আর এই সংগঠনের সদস্য হব না? এটা তো হতে পারে না। ফর্ম নিয়ে ফেললাম। আবৃত্তি বিভাগে ইন্টার্ভিউ দিলাম এবং সুযোগ হলো। আনিসুজ্জামান মানে আনিস ভাই আমাদের নতুনদের দেখভাল করার গুরুভার নিলেন। আবৃত্তির তালিম দেন। আহা কি অসাধারণ মধুর গলা। মধু ঝরে যখন কিছু পাঠ করতেন।

মুক্তকণ্ঠ আর এদিকে আনিস ভাইয়ের সান্নিধ্যে এসে বুঝলাম স্কুলে কলেজে কবিতা পড়ে যে হাততালি পেতাম তা নেহাত কপালে! কত কি শেখার বাকি আছে।

আনিস ভাইয়ের কোন খবর জানতাম না অনেকদিন। মাঝে একবার শুনেছিলাম কিছুটা মানসিক অসুস্থতা ভর করেছে, কিছুটা ছন্নছাড়া। অনেক দেরীতে জেনেছি অভিমানী মন অসাধারণ আবৃত্তিকার আনিস ভাই অকালে আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। নিশ্চয় ঈশ্বর তাঁকে ভাল রেখেছেন।

সাংস্কৃতিক দলে গান, আবৃত্তি, নৃত্য এসবের মহড়া হতো আলাদা আলাদা কিন্তু যখন কোন বড় প্রোগ্রাম হতো তখন সবকিছু মিলেই হতো মূল পরিবেশনা। কোন অনুষ্ঠানের কিছুদিন আগে থেকেই সব বিভাগের একসাথে অনুশীলন। তখনি মহা তৎপরতায় মোহাচ্ছন্ন থাকতেন দলের শিরোমণি লিয়াকত আলী লাকী, আমাদের প্রিয় লাকী ভাই।

দলের ঢোকার শুরুর দিকে লাকী ভাই আমাদের নতুনদের সমাবেশে দল সংক্রান্ত নানাকিছু নিয়ে একটা উন্মুক্ত আলোচনা করেছিলেন। সেদিন তার কথোপকথনের মূল বিষয় ছিলো ভাল সংস্কৃতি কর্মী হতে হলে ভাল করে সাহিত্য পড়তে হবে। এর আর কোন বিকল্প নেই। তার সেই ভাষন আমাকে বেশ আকৃষ্ট করেছিলো। এর পর থেকে আমি রুটিন করে একটু আধটু করে সাহিত্য পাঠ্যে ব্রত হই। আজ আমি কিঞ্চিত যা কিছু জানি তার অনেক কিছুই শেখা আমার এই প্রিয় দল আর দলের সকল ছোটবড় ভাইবোনদের কাছ থেকে।

 

একবার আবৃত্তি বিভাগ ছড়ার প্রোডাকশন করবে। আহমেদ হোসেন মানে আহমেদ ভাই এবার গুরু হলেন। আমার কিঞ্চিত সংশয় হলো এমন ছোটখাটো গুরু। মন ভরলো না। ভাংগা মন নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম। মহড়া চলছে। যত দিন যায় তত আকর্ষণ বাড়ে ছোট্ট গুরুর প্রতি। রিহার্সালে না এসে তো পারিই না বরঞ্চ সময়ের আগেই পৌঁছে যাই। আহমেদ ভাই কি যে এক নেশা ধরিয়ে দিয়েছেন সে নেশার ঘোর আজো কাটে নি। অনেকগুলো শো করেছিলাম আমরা সেই এনায়েত হোসেন রচিত আহমেদ হোসেন নির্দেশিত "পালাবদলের ছড়া" আবৃত্তি উপস্থাপনাটির। ষ্টেজে উঠার আগে "তুই" সম্বোধনে বলতেন, " যাও একদম ফাটিয়ে দে"। এমনিভাবে শুধু আবৃত্তি বিভাগ না - নৃত্য, সংগীত, নাটক সব বিভাগেই সাজ সাজ রব উঠতো কোন অনুষ্ঠানের আগে আগে। টিএসসি যেন নাচতো। সরগরম আর কাকে বলে সেটা দেখেছি তখন। অংশ নিয়েছি প্রযোজনায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলের কোন অনুষ্ঠান মানেই এক এলাহি কান্ড। যেন যুদ্ধ আর যুদ্ধ জয়ের মহড়া।

শুনেছিলাম ইতিপূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে " র‍্যাগ ডে " পালন করা হতো। কিন্তু র‍্যাগ ডে পালনের নামে চলতো নাকি নানান অনভিপ্রেত কর্মকান্ড। সেই উশৃংখলা বন্ধ করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলের প্রস্তাবে " ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস" চালু হয়। আহা কি সুন্দর আর নান্দনিক সংযোজন। সারা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা মুখরিত গানে, কবিতায়, নৃত্যে আর নাট্যানুষ্ঠানে। চলছে ছবি আঁকা, শোভাযাত্রা, পুতুলনাচ, বানর খেলা, লাঠিখেলা, বন্দুক দিয়ে বেলুন ফোটানো। আরো যে কত কি! চটপটি, ঝালমুড়ি, চানাচুর মসলা ভাজা, পেয়াজবড়া, সিংগারা, আচার, ছোলা বুট মুড়ি, বেগুনি, বাদাম, হাওয়াই মিঠা, আইসক্রিমসহ শত ধরনের খাবার। পেয়ারা, আমড়া, কামরাঙা, জলপাই, জাম্বুরা, বড়ুই, বেল, আখ, আখের রস কি নেই তখন সব ছিলো উৎসবে। বাঁশীওয়ালা হেটে হেটে বাঁশী বাজায় আর বিক্রি করে। পতাকাওয়ালা লাল সবুজের পতাকা ফেরি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরাও সাজে রংবেরঙ এর সাজে। এইদিনে তাদের অনেক আত্মীয় স্বজন ক্যাম্পাসে আসে, আসে অন্যান্য নানান পেশার মানুষেরা। জনতার ঢল থাকতো পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে। চলে আড্ডা, হাসিতামাসা, ঘোরাঘুরি, ছবি তোলা আর মনভোলানো আনন্দ। এ এক আনন্দমুখর দিন। সবাই মুখিয়ে থাকে এই দিনের অপেক্ষায়। আর সেকি প্রস্তুতি। বিষয়টা এমন হয়ে যেতো শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক দলের কর্মীরাই প্রস্তুত হতো না, প্রস্তুত হতো সকল শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের নিমিত্তে। তবে এটাও সত্য এই দিবসের প্রবর্তক ও নেতৃত্ব দানকারী হিসেবে গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিতাম আমরা দলের ছেলেমেয়েরা যাতে করে শৃঙ্খলা অটুট থাকে। সুর তাল লয় যেন ছন্দ না হারায়। তাইতো আমাদের ক্লান্তিহীন, নির্ঘুম আর গলদঘর্ম সময় কাটতো ঘোরের মাঝে। লাকী ভাইয়ের সম্মোহনী যাদু সবাইকে কেমন নিরলস পরিশ্রমী সৈনিক বানিয়ে দিত আমাদের।

এত বড় আয়োজন, একই সময়ে বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠান। অথচ সব ঠিকঠাক চলতো। লাকী ভাই পুরো প্রোগ্রাম এক সুঁতোয় গেঁথে দিতেন। টানটান সব প্রোগ্রাম ছিল। যার যার দায়িত্ব ভাগ করা থাকত। আবার সার্বক্ষণিক আদান প্রদান থাকত কেন্দ্রের সাথে। তুমুল তৎপরতা সবার মাঝে, এ লড়াই জিততে হবে। পাথর থেকে চুন খোঁসলে হবে না। এক সময় সব ক্লান্তি মুছে যেত যুদ্ধ জয়ের আনন্দে। দিনভর আড্ডা, খাওয়া, স্মৃতিচারণ আর যুদ্ধের জয়ের বর্ননার ঘনঘটা। মাঝে মাঝে লাকী ভাই গাল উঠিয়ে মৃদু হেসে ধন্যবাদ দিয়ে দু'চারটি রস গল্প মারতেন আর হাসি দিতেন সশব্দে, সাথে সাথে হাসির কোরাস, টিএসসির দোতলার যেন কাঁচ ফেটে যাবে। হাসি না মিলিয়ে যেতেই হারমোনিয়াম টেনে গান ধরতেন, " শরৎবাবু খোলা চিঠি দিলাম তোমার কাছে......" ।

 

আহা কি অপূর্ব ছিল সেসব দিন। ছিল কি তরতাজা ; কত না সুখের সম্মিলন। কত জেনেছি কত শিখেছি। জীবনটাই পরিশুদ্ধ হলো। সমৃদ্ধ হলো। ভাল লাগে ভাবতে আমরা যে যেখানে আছি না কেন যেন একাকার হয়ে আছি।যখন যেখানে যার সাথেই দেখা বা কথা হয় আমরা একাকার হয়ে যাই। হৃদয়ের ভেতরে কেমন শিরশির করে উঠে। মনে হয় এই এরাই আমার আপনজন। ছেড়ে যেতে মন কাঁদে।

'মাস আগে লন্ডন থেকে নিউ ইয়র্ক এসেছিলেন সুনীতা'দি। আবার চলে গেল কয়েকদিন থেকেই, কেন যে চলে যায়। তারপর আল্পনা ফোন করলো নিউ ইয়র্ক আসছে দেখা হবে করে করে দেখা হয়নি। সুনীতা'দি এলে আহমেদ ভাই এলো। আমরা লম্বা করে আড্ডা দিলাম। আমাকে বুকে টেনে নিল গহীন টানে। লাকী আসলেন সেদিন সব কাজ ফেলে ছুটে যাই কোন এক নাড়ির টানে। কিভাবে যে জড়িয়ে ধরলেন জোর টানে, মনে হলো বলছে, কি দরকার ছিল পরবাসে?

লাকী ভাই যখন এলেন তখন দেখা হলো মুনিরউদ্দিন আহম্মদ অর্থাৎ মুনির ভাইয়ের সাথে। দীর্ঘদিন লং আইল্যান্ডে আছেন জানতামই না। অনেকদদিন পর দেখেই তার চোখ ছলোছল। উল্টো আমার স্ত্রীকে কিছু বলতে না দিয়েই বলছে পাখী কিন্তু আমার ছোট ভাই। এর আগে তিনি আমার স্ত্রীকে উনি দেখেন নি কোনদিন। বন্ধু সাবরিনা লাকী মাঝে মাঝেই কানাডা থেকে ফোন করে চেঁচিয়ে বলে, দোস্ত কবে দেখা হবে তোর সাথে?

বলি, দেখা হবে বন্ধু। অবশ্যই দেখা হবে বেঁচে আছি যখন। কিন্তু গুরু আনিস ভাই, সাজু ভাই আর শিবাজীর সাথে আর দেখা হবে না।

বন্ধু শ্যামা জার্মানি থেকে ক্ষণে ক্ষণে ফোন করে বলে আয় ঘুরে যা জার্মানি।

কি মোহ আর মায়া সবার সবার প্রতি! এই প্রীতি মমতা সবাইকে আবদ্ধ রাখুক সবসময়। আমি, আমরা চাই, যেভাবে আমরা সুন্দরের অতন্দ্র প্রহরীরা বিচরণ করেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলে সেভাবেই যেন থাকি আমরা জগতময়, বিশ্বময়।  

 

আরো পড়ুন : কোথাও থামেনি তোমার পথচলা , আনিস ভাই


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান