টরন্টোয় বাংলাদেশী তরুনদের কেন এতো অকাল মৃত্যু?

Fri, Mar 2, 2018 7:32 PM

টরন্টোয় বাংলাদেশী তরুনদের কেন এতো অকাল মৃত্যু?

ইমামউদ্দিন:একজনের নাম ফাহমি। অন্যজনের ফাহিম। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোতে পড়তো ফাহমি। ফাহিম পড়তো ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে। ফাহমি আর ফাহিম দু’জনেই সম বয়সী। ফাহমী’র জানাজা হয় গত বছর মার্চে। আর আজ ২রা মার্চ বাঙালী কমিউনিটি জানাজা পড়লো ফাহিমের। বেচেঁ থাকলে ফাহমীর বয়স হতো ২২ বছর। ২৮ ফেব্রুয়ারি মিসিসাগায় ১১ তলার বাসা থেকে পড়ে ফাহিমের মৃত্যু হয়। আর ফাহমীর লাশ পাওয়া যায় লেক ওন্টারিওতে গত বছর মার্চে। দু’জনের শুধু নাম নয়, অনেক কিছুতেই কি অদ্ভুত মিল। গত চার/পাঁচ বছরে টরন্টোর বাঙালী কমিউনিটি শুধু এই দুজন তরুনকে নয়, আরও বেশ কয়েকজনকে অকালে হারিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে টরন্টোয় বাংলাদেশী তরুনদের কেন এতো অকাল মৃত্যু?

শুধু ফাহমি বা ফহিম নয়। সাবিদ খোন্দকারসহ আরও অনেকেরই টরন্টোতে এভাবে অকাল মৃত্যু হয়েছে। তরুনদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ২০১৬ সালে পরিচালিতেএক গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় ওন্টারিওতে প্রায় ৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থী মানসিক সমস্যায় ভুগে। যার মধ্যে ১৩% আত্মহত্যা করে। কানাডিয়ান মেন্টাল হেলথ্ এসোসিয়েশনের মতে কানাডায় ১ থেকে ২৪ বছর বয়সের তরুনদের মধ্যে ১৫ লাখ মানসিক সমস্যায় ভুগছে। বিষয়টি খুবই উদ্বগজনক নিঃসন্দেহে। এটি প্রতিটি পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

ফাহিমের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারকে এই দুঃসময়ে বাসায় নিয়ে রেখেছেন টরন্টোর রিয়েলেটর Naima Nazara Rahman তাঁর ফেসবুকে এক স্ট্যটাসে লিখেছেন, “এই মৃত্যু আমার জন্য আরেকটি ওয়েক আপ কল”। এই ওয়েক আপ কলটা হওয়া উচিত প্রতিটি পরিবারের জন্য। বিশেষ করে যাঁদের সন্তান আছে।

 

টরন্টোর হোমিওপ্যাথিক ডা. Md. Md Jahirul Islam বলেন, “আমাদের সন্তানদের ব্যাপারে আরও সচেতন হতে হবে। ছেলে-মেয়েরা একা একা রুমে সময় কাটায়। এটা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কোনো মতেই ভাল নয়।” টরন্টোর বাঙালী কমিউনিটি সংগঠন বেঙ্গলি ইনফরমেশন এন্ড এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস (বায়েস) গত ২৭ ফ্রেব্রু য়ারি আয়োজিত এক কর্মশালায় বলা হয়, স্নেহ-মমতা ও ভালবাসা দিয়ে মানসিক সমস্যার সমাধান করতে হবে। প্রবাসে সন্তানদের একাকীত্ব দূর করতে হবে।

টরন্টোয় প্রবাসী বাংলাদেশী তরুনদের এভাবে এতো অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের এব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। সন্তানদের জন্য প্রতিটি ক্ষণই করে তুলতে হবে আনন্দময়। এতে অভিভাবক হিসেবে পিতা-মাতার যেমন দায়িত্ব আছে। একইভাবে সক্রিয় হতে হবে টরন্টোর বাংলাদেশী কমিউনিটির সবাইকে। ফাহমি কিংবা ফাহিমের মতো আমরা আর এমন অকাল মৃত্যু চাই না।

ছবি:ফাহিম, আর ফাহমি

লেখকের ফেসবুক পোষ্ট


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান