কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে  সহশিক্ষা সপ্তাহ-২০১৮ পালিত

Sun, Feb 11, 2018 11:30 PM

কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে  সহশিক্ষা সপ্তাহ-২০১৮ পালিত

নতুনদেশ ডটকম: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজে অন্যান্য বছরের মত এবারও অত্যন্ত জাঁকজমপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে বার্ষিক সহশিক্ষা সপ্তাহ-২০১৮। প্রতিবারের মতো এবারও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন ইভেন্টে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, হাম্‌দ-নাত-ক্বেরাত সহ অন্যান্য প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং বিজয়ী প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে চূড়ান্ত পর্বের অনুষ্ঠানের ১ম দিনে আয়োজিত হয় বার্ষিক মিলাদ এবং বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে এর শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানসহ সমগ্র দেশবাসীর কল্যান কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রতিষ্ঠানের ইসলাম ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক জনাব মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। আগত অতিথিবৃন্দ, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অন্যান্য সকলের মাঝে মিষ্টান্ন বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে চূড়ান্ত পর্বের অনুষ্ঠানের শেষ দিনে আয়োজিত হয় বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এর সমাপনী ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। সারাদিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের প্রথম ধাপে প্যারেড, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে, ‘একাডেমিক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক পুরস্কার বিতরণঅনুষ্ঠিত হয় এবং দ্বিতীয় ধাপে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সুচনা করা হয়। ৬২ জন শিক্ষার্থীর ১টি চৌকষ দল প্যারেড প্রদর্শন করে। ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা...গানের তালে তালে ৫৬ জন প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীর একটি দল ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। তারা লাল সবুজের শাপলা ফুল তৈরি করে এবং লাল সবুজের তরঙ্গে সারা বাংলার মানুষের একটি প্রতিচিত্র তুলে ধরে। চলো বাংলাদেশ চলো বিশ্ব উঠানে...গানের তালে তালে ২১ জন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীর আরেকটি দল ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। গান ও নৃত্যে লাল-সবুজের বাংলার প্রতিরূপ বিমূর্ত হয়ে ওঠে। সকলকে করে ফেলে অভিভূত-নির্বাক। পিন-পতন নিরবতা বিরাজ করে ঘটনা-দৃশ্যের চমৎকারিত্বে।  

ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় শিক্ষার্থীদের নৈপুন্যতায় মুগ্ধ হন উপস্থিত সকলে। অনুষ্ঠানে আগত অতিথি ও গভর্নিং বডির সদস্যদের ২০ টি ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া পিইসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫০ জন শিক্ষার্থীকে একাডেমিক স্বীকৃতিস্বরুপ ৫০ টি ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। একাডেমিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হয় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. রহমত উল্লাহ্ রচিত শিশুতোষ গ্রন্থাদিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত লেখকদের লেখা শিশু ও শিক্ষার্থীদের উপযোগী মানসম্মত শিক্ষামূলক প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকার বই। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মহোদয় বরাবরই ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বই উপহার দেয়াকে উৎসাহিত করে আসছেন কেননা এতে জ্ঞানের দ্বার উন্মোচিত হয়। ক্রীড়া প্রতিযোগীতার পুরস্কার হিসেবে দেয়া বিভিন্ন মূল্যবান দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রী।

প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি জনাব আলহাজ মো: সলিম উল্লাহ্ সলু এর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রণায় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এম. পি.।

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ জনাব মো. রহমত উল্লাহ্‌ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি শিক্ষা খাতে বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন শিক্ষা খাতে বর্তমান সরকারের সাফল্যের ছোঁয়া কিশলয়েও পৌছেছে। তিনি তাঁর বক্তব্যে কিশলয়ের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ‘এটি মোহাম্মদপুরের সবচেয়ে প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। কিশলয়ের নিজস্ব ভুমি আছে, ভবন আছে, স্লোগান আছে, শপথ আছে, সুষ্ঠু পাঠদানের অনুকুল পরিবেশ আছে। কিশলয় সবদিক থেকেই সমৃদ্ধ। নারী শিক্ষার প্রাসারে ১৯৬০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি তার স্বকীয় স্লোগানের মাধ্যমে দেশকে শ্রেষ্ঠ মাতা ও শ্রেষ্ঠ জাতি উপহার দিয়ে আসছে। কিন্তু এই এলাকার মেয়েরা সরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিতই রয়ে গেছে। সবশেষে তিনি কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ-কে জাতীয়করণের জন্য জোড় দাবী উত্থাপন করেন এবং আগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখে প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির কৃতি শিক্ষার্থী রচনা বাড়ৈ। সে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৮ এর থানা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ৮৮% নম্বর পেয়ে মোহাম্মদপুরের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীর গৌরব অর্জন করেছে। সে তার বক্তব্যে শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলে, ‘এ গৌরবের  পিছনে যাদের  অনুপ্রেরণা, দিক নির্দেশনা ও  সহযেগিতা  কাজ  করেছে তারা  হলেন তার  মা-বাবা, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমন্ডলী, বন্ধুপ্রতীম সহপাঠী, সর্বোপরি কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ জনাব মো. রহমত উল্লাহ্। তাদের প্রেরণা, সাহস, উৎসাহ তার জীবন পথের পাথেয় বলে বিশ্বাস করি। আমাদের অধ্যক্ষ স্যার প্রতিষ্ঠানের যে শ্লোগান শ্রেষ্ঠ মাতা, শ্রেষ্ঠ জাতিনির্ধারণ করেছেন সেই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সুশিক্ষা অর্জন করে পরিবার, সমাজ, দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে চাই।বক্তব্যের শেষে রচনা বাড়ৈ বলে, ‘মোহাম্মদপুরে মেয়েদের জন্য কোন সরকারি স্কুল নেই। আমাদের সকলের প্রাণের প্রতিষ্ঠান কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ-কে জাতীয়করণ করার জন্য অনুরোধ করছি।

প্রধান অতিথি জনাব এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এম. পি. তাঁর ভাষণে শ্রেষ্ঠ মাতা, শ্রেষ্ঠ জাতিস্লোগানটি নির্ধারণের জন্য অধ্যক্ষ মহোদয়কে ধন্যবাদ জানান। তিনি শিক্ষাখাতে বর্তমান সরকারের সাফল্য ও সার্বিক কর্মকান্ড তুলে ধরেন। এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হওয়ায় বিদ্যালয়ের অনুকূল পাঠদানের পরিবেশের প্রশংসা করেন। শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী তৈরী করতে পারায় তিনি কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ সহ প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সদস্যদের সাধুবাদ জানান। প্রতিষ্ঠানের উত্তোরত্তর উন্নতি কামনা করেন। প্রতিষ্ঠানের উন্নতিকল্পে শিক্ষার্থীদের উপদেশমূলক বক্তব্য রাখেন। সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

 

আরও বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব আলহাজ্ব সাদেক খান, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব আলহাজ্ব শেখ বজলুর রহমান, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব অধ্যক্ষ এম.এ. সাত্তার, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মতিউর রহমান মিয়া চাঁন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জনাব আলহাজ্ব মো: নূরুল ইসলাম রতন। এই অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

বিকালে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের বই পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠানের এই পর্বে শিক্ষার্থীরা সংগীত, নৃত্য, অভিনয়, কৌতুক, আবৃতি, ফ্যাশন শো ইত্যাদি পরিবেশন করে বাঙালী সংস্কৃতির স্বরুপ তুলে ধরে। মনমাতানো পারফরমেন্স দেখতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় সামলানো কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। অবশেষে রাত ১০ টায় অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান