জনগণ ব্যক্তি পূজা রাজনীতির অবসান চায়

Mon, Jan 29, 2018 12:35 PM

জনগণ ব্যক্তি পূজা রাজনীতির অবসান চায়

মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু: বর্তমানে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে আমার সম্পর্ক নেইl করি সুইডেনের মূলধারার রাজনীতিl ফলে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা দলীয় নেতৃত্বকে তোষামোদি করার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করি নাl তবে জনভূমি বাংলাদেশকে নিয়ে অবশ্যই চিন্তা করিl চাই বাংলাদেশ তার দরিদ্রতা থেকে কাটিয়ে উঠুকl একটি স্বনির্ভর দেশ হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াকl যুগ যুগ ধরে এই স্বপ্ন দেশ ও প্রবাসে বসবাসকারী কোটি কোটি বাঙালির মনের মাঝে বিরাজ করছেl এই স্বপ্ন একদিন দেখেছিলেন আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানl কিন্তু  বাংলাদেশ এখন আছে কোথায়?

 

বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষে বঙ্গবন্ধু  বাকশাল গঠন করেছিলেনl শোষিতের গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশ ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষে বঙ্গবন্ধু বাকশালের কর্মসূচি শুরু করার পূর্বেই সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের ষড়যন্ত্রে তাকে স্বপরিবারে জীবন দিতে হয়েছেl বাকশালের আদর্শ বাস্তবায়নের অংকুরেই তা শেষ করে দিয়ে হত্যাকারী ও তাদের সমর্থকেরা বলে দেশে নাকি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছেl অথচ বাকশালের একদলীয় শাসন ছিল মূলত সাধারণ জনগণের পক্ষে, শোষিতের গণতন্ত্রের পক্ষেlসমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতার পক্ষেl বাকশালের ফলাফল দেখার আগেই  জাতি  বঙ্গবন্ধুকে  হারিয়েছেl  এখন প্রশ্ন হলো বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি চলছে কোন পথে? বঙ্গবন্ধুর আদর্শ শোষিতের গণতনতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র না পুঁজিবাদী গণতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র  ও একনায়কতন্ত্র? 

 

আমি তো বলবো বাংলাদেশের রাজনীতিতে চলছে  এখন  টাকার  খেলাl  বাংলাদেশের বর্তমান বর্জুয়া গণতন্ত্রে প্রার্থী হতে হলে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দিতে হয়l তার পরও রয়েছে অন্যান্য খরচl এধরণের নির্বাচনে তারাই অংশগ্রহণ করতে পারেন যাদের আছে বিশাল সম্পদl সম্প্রতি ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন এমনি একজন  ধনশালী বেক্তিl এর আগেও যিনি ছিলেন তিনিও ছিলেন ধনীl এধরণের নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের প্ৰতিনিধিত্ব সৃষ্টি করে নাl এই জন্যই বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন রাজনৈতিক পরিবর্তনl যে পরিবর্তনে নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে কোনো অর্থের প্রয়োজন হয় নাl খরচ বহন করবে রাজনৈতিক দলl যেমনটি করে সুইডেন সহ ইউরোপের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলl সংসদে থাকবে সকল শ্রেণীর মানুষের প্রতিনিধিত্বl কিন্তু আজকের সংসদ কি চলছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথে? বর্তমান সংসদে এমন কেউ কি আছেন যিনি অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী নন? বর্তমান সংসদে এমন কেউ কি আছেন যিনি সরাসরি সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব  করেন ?

 

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে শুধু ক্ষমতার লড়াইl একক নেতৃত্বl বর্তমান রাজনীতিতে নেতা নেতৃত্ব নির্বাচিত হয় না, হয় নিযুক্তl ঠিক যেমনি দীর্ঘদিন থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে বসিয়ে রেখে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে করেছেন মহাসচিবl এজন্য কোনো সম্মেলনের প্রয়োজন হয় নাইl খালেদা জিয়া যা বলবেন তাই দল ও দলের কর্মী নেতাদের মানতে হবেl না মানলে বহিষ্কারl বিএনপি নেতারাও প্রকাশ্যে মিডিয়াতে বলেন ম্যাডামের একক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তl সম্প্রতি সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ব‌লে‌ছেন, দেশে গণতন্ত্র তিরোহিত হয়েছে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে আন্দোলন চলছে তাতেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে। তার মানে? তিনি কোন গণতন্ত্রের কথা বলছেন? যে রাজনৈতিক  দলের ভেতরে কোনো গণতন্ত্র নাই সেই দল আবার গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলে কি করে?

 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও তো গণতান্ত্রিক নিয়মে নির্বাচিত ননl দলের মহাসচিব হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক অগনণতান্ত্রিক পথেl নির্বাচিত না হয়ে হয়েছেন সরকারি কর্মচারীদের মতো নিযুক্তl তিনি এখন কোন গণতন্ত্রের কথা বলছেনl বিএনপির মহাসচিব নিজে যদি গণতান্ত্রিক নিয়মে নির্বাচিত না হয়ে সরকারী চাকুরীর মতই বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক নিযুক্ততা পান তাহলে সেই দলীয় নেত্রী কর্তৃক দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে কি করে? যে রাজনৈতিক  দলে কোনো গণতন্ত্র নাই সেই দল আবার গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলে কি করে? যে নেত্রী ক্ষমতায় থাকাকালীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে পরিবারের ঐশর্যতা বৃদ্ধি করেছেন তার নেতৃত্বে আবার কিসের আন্দোলন?  ফখরুল বলেন, আসুন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে আন্দোলন, সে আন্দোলনে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ি। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো। এ কোন ধরণের রাজনীতি? এ কোন ধরণের গণতন্ত্র? বাংলাদেশের মানুষ কি এতই বোকা?

 

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অবস্থা অনেকটা এক না হলেও বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার একক নেতৃত্বে চলছে দলl তবে বিএনপির মতো গুলশানের  ঘরে  বসে  কমিটির  নাম  ঘোষণা  না করে শেখ হাসিনা সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটির নাম প্রকাশ করে থাকেনl ঢাক ঢোল বাজিয়ে সম্মেলন করলেও সেখানেও রয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যার একক  নির্দেশl এখানেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসতে হলে শেখ  হাসিনার শুভ  দৃষ্টির  প্রয়োজন রয়েছেl শেখ হাসিনা চাইলে দলীয় কোনো নেতাকে উঠাতেও পারেন আবার নামাতেও পারেনl জানিনা এধরণের গণতন্ত্রে বাংলাদেশকে আর কতদিন বন্দি হয়ে থাকতে হবেl  বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্র অনেকটা মাকাল ফলের মতোl

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করার পর দীর্ঘ ২১ বৎসর এবং পরবর্তীতে ও এখন পর্যন্ত দেশে কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের মুক্তির লক্ষে শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়নিl অথচ এই শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েই বঙ্গবন্ধুকে নিজের জীবন দিতে হয়েছেl বাংলাদেশের রাজনীতি এখনও পুঁজিবাদী ও ধনিক শ্রেণীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিতl ফলে দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার এখন  দেশের চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছেl  যার আছে অর্থ একমাত্র সেই হতে পারে নির্বাচনের প্রার্থীl সংসদ এখন ধনিক শ্রেণীর হাতে নিয়ন্ত্রিতl সংসদ এখন ধনিক শ্রেণীর হাতে বন্দিl এভাবে বাংলাদেশ আর কতদিন চলবে?

বাংলাদেশে এখন কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে  নাই গণতন্ত্রl চলছে একনায়কতন্ত্রl চলছে পুঁজিবাদী ও একটি বিশেষ শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষার রাজনীতিl জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শোষিতের গণতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতার আদর্শ এখানে ম্লানl একমাত্র অর্থ ও শক্তি থাকলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যায়l এভাবে চলতে থাকলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন শোষিতের গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা কোনো দিনই বাস্তবায়িত হবে নাl কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের প্রতিনিধিত্ব কোনো দিনই জাতীয় সংসদে আসার সুযোগ পাবে নাl রাজনীতি চলবে শুধু নেতা নেত্রীদের ছবিকে সামনে রেখেl কি এক অদ্ভুত ধারায় চলছে বাংলাদেশের রাজনীতিl বাংলাদেশের জনগণ এধরণের ব্যক্তি পূজা রাজনীতির অবসান চায়l

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাইলে এধরণের চাটুকারদের হাত থেকে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে রক্ষা করতে পারেনl ইউরোপীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মতো গণতান্ত্রিক কাঠাময় আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারেl একটি রাজনৈতিক দলের মেরুদন্ড হলো তার আদর্শl আর এই আদর্শ আওয়ামী লীগের মধ্যে আছেl আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলl মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দলl কোনো জেনারেলের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত দল নয়l আওয়ামী লীগ জনগণের রাজনৈতিক দলl জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতীক আওয়ামী লীগকে পরিবারতন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবেl শেখ হাসিনা ইচ্ছা করলেই আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে সামনে নিয়ে আসতে পারেনl কারণ আওয়ামী লীগের ভবিষ্যতের চাবিকাঠি এখন মাননীয়  প্রধানমন্ত্রীর হাতেl

দেশের বর্তমান উন্নতির গতিশীল ধারাকে আরো ব্যাপক ভিত্তিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন শোষিতের গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে শেখ হাসিনাকে আরো কঠোর হতে হবেl মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তি এখনো শেখ হাসিনার পেছনে আছে l কিন্তু তাদেরও একটা ধর্যের সীমা আছেl অন্য কোনো কিছু চিন্তা না করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে শুধু একবার  ভাবতে হবে, দেখতে হবে, অনুসন্ধান করতে হবে, দেশের এতো উন্নতি করার পরও জনগণের এক বিরাট অংশ কেন অন্যদিকে? 


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান