যে কারণে করতে হবে ইবাদত

Sat, Jan 27, 2018 12:17 AM

যে কারণে করতে হবে ইবাদত

মঈনুল আহসান: দেহের জন্যে যেমন খাদ্য দরকার তেমনি অন্তর বা আত্মাকে বাঁচাতেও লাগে  বিশেষ খাদ্য। অন্তরের সেই খাদ্যই আল্লাহ পাকের ইবাদত। পরিপূর্ণ সুস্থতার সাথে টিকে থাকতে মানুষের জন্য এই দুই খাদ্যই নিয়মিত দরকার। দেহের খাবারের সাথে দরকার আত্মার জন্যে নিয়মিত ইবাদত, এর কোন বিকল্প নেই। কারণ মানুষ শুধুই একটা দেহ মাত্র নয়। পুরোপুরি মানুষ হতে দেহে ভেতর থাকতে হয় একটা উজ্জীবিত অন্তরও। অন্তর যেখানে মৃত সেই দেহ বস্তুত অকেজো। এমন মৃত অন্তর নিয়ে জীবনের সহস্র অর্জনও ভোগ করা যায় না। এই শ্রেণীর মানুষেরা জীবনের কোন অর্থই খুঁজে পায় না, জীবনের কোন বোধই থাকে না এদের মধ্যে। জীবিত হয়েও এরা থাকে মৃতের মত কারণ তাদের দেহ জুড়ে থাকে মরা অন্তর। এরাই পা বাড়ায় আত্মহননের দিকে। এদের আদর্শ উদাহরণ মাইকেল জ্যাকসন ও হুইটনি হিউসটনের মত বিখ্যাত কিন্তু কথিত সব সফল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের সবই ছিল। ছিল আকাশ ছোঁয়া অর্থ, যশ, খ্যাতি কিন্তু ছিল না মনের শান্তি, ছিল না চিত্তের তৃপ্তি। মৃত অন্তর সর্বস্ব দেহে অবশিষ্ট ছিল না শান্তি-প্রশান্তির অনুভূতিগুলো, সেই স্থান দখল করে নিয়েছিল হতাশা আর সীমাহীন ক্লান্তি। 

অন্তরের জন্যে অত্যাবশ্যক যে ইবাদত তা মানুষ নিজের ইচ্ছা মত বানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা রাখে না, যেমন সে পারে না তার ফসলের ফলন নিজের ইচ্ছা মত করতে। বস্তুত জন্ম মাত্রই আমরা এগুলো পেয়ে থাকি রেডিমেড। এতটাই রেডিমেড যে তার কোনটাতে কিছুমাত্র পরিবর্তনের চেষ্টাও ভয়ানক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় আমাদের জন্যে। এ কারণেই নিজেদের বিদ্যা-বুদ্ধি দিয়ে যে দু’একটা জিএম ফুড তৈরির চেষ্টা করেছে মানুষ সেগুলোও গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না মানুষের নিজের কাছেই। এতে বুঝা যায় যে পৃথিবীতে নিজের ইচ্ছা মত টিকে থাকার কোন সুযোগই মানুষের নেই। এখানে থাকতে হলে পরম স্রষ্টা আল্লাহ পাকের পুরোপুরি অধীনতা মেনেই থাকতে হবে, এছাড়া কোন পথ নেই। জিএম ফুডের মতই অন্তরের খাদ্য যে ইবাদত তার নিয়ম-কানুন ও পদ্ধতির মধ্যেও নতুন উদ্ভাবন কিম্বা তার মূল সূত্রে কোন পরিবর্তন বা পরিবর্ধনের সুযোগ নেই মানুষের জন্য, সেই ক্ষমতা মানুষকে দেয়া হয়নি। এজন্যেই আল্লাহ পাকের তৈরি বিশুদ্ধ বা অরগাণিক খাবার খোঁজার মতই আমাদেরকে খুঁজতে হবে এবং বুঝতে হবে ইবাদতের বিশুদ্ধ নির্দেশনা ও পদ্ধতিগুলোকে। দেহ ও মনের পূর্ণ সুস্থতা নিয়ে বাঁচতে হলে এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যাবশ্যক।  

বস্তুত এ বিষয়ে বিস্তারিতই জানিয়েছেন আল্লাহ পাক স্বয়ং। তাঁর সৃষ্ট খাদ্য ভাণ্ডার যেমন অসীম ও অফুরান তেমনি তাঁর ইবাদতের ভাণ্ডারও অন্তহীন ও অফুরান। মানুষ যেমন এক জীবনে দুনিয়ার সব খাদ্য-শস্য ও ফলফলাদির স্বাদ নিয়ে শেষ করতে পারবে না তেমনি পারবে না এক জীবনে আল্লাহ পাকের দেয়া সব ইবাদত-বন্দেগীকে অনুশীলন করে শেষ করতে। খাদ্যবস্তুর মতই ইবাদতের মধ্যেও কিছু রয়েছে নিয়মিত আবার কিছু রয়েছে বিশেষায়িত বা স্পেশালাইজড। সবগুলোই থরে থরে সাজানো রয়েছে পবিত্র আল কোরআন এবং হাদিস শরিফ জুড়ে। সাজানো আছে ব্যবহারিক উদাহরণ সহ যাতে মানুষের পক্ষে তা বুঝতে কোন অসুবিধা না হয় এবং নিজের জীবনে প্রয়োগ করতেও কোন কষ্ট না হয়।

আল্লাহর ইবাদতের মূল ভিত্তি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। তার পরপরই রয়েছে রোজা, যাকাত ও হজ্জ। এগুলোই ইবাদতের সিলেবাস বা ফরম্যাট। যথা সময়ে নিয়ম মেনে এই সিলেবাস অনুশীলন করতে আমরা বাধ্য। তবে নির্ধারিত পরিমাণের বাহিরেও এই ইবাদতগুলো করা যায় নিজের ইচ্ছা মত যত খুশী তত এবং তা করেও থাকেন অনেকেই। বস্তুত নির্দিষ্ট পরিমাণের বাহিরে বাড়তি নামাজ, রোজা ও দান- খয়রাত করা যে কোন আল্লাহ-প্রেমী বুজুর্গের জন্যেই একটা নিয়মিত বিষয়। সামর্থ্যে থাকলে তাঁরা হজ্জও করে থাকেন একাধিকবার। 

আল্লাহ পাকের নবীরা সে ভাবেই শিখিয়ে গেছেন এবং উৎসাহিত করেছেন মানুষকে আল্লাহ পাকের নিরবচ্ছিন্ন ইবাদতের পথে। তাঁরা দেখিয়ে দিয়ে গেছেন যে আল্লাহ পাকের নিরাপদ আশ্রয়ই আমাদের বাঁচার একমাত্র পথ। এজন্যে দরকার নিয়মিত নামাজে যত্নশীল হওয়া, বিপদের সম্ভাবনা মাত্রই হাজতের নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া আর নিশ্চিত করা প্রয়োজন তর্ক হীন ইবাদতময় পরিবেশ। যাদের আস্থা নেই হাদিসের ছয়টি সহি গ্রন্থ ‘সিহা সিত্তায়’ এবং শ্রদ্ধা নেই ইসলামের সম্মানিত ইমাম, আলেম ও বুজুর্গদের উপর তারা সবচেয়ে ক্ষতিকর ইবাদতময় জীবনের জন্য। দূরে থাকা দরকার এদের থেকে। নিবিড় সম্পর্ক গড়া প্রয়োজন পবিত্র কোরআনের সাথে। এতে আল্লাহ হয়ে যাবেন বন্ধু। এই বন্ধু কখনো ছেড়ে যায় না, তাই একাকীত্ব বলে কিছু থাকবে না জীবনে। আগ্রহ বাড়বে সার্বক্ষণিক ইবাদতের প্রতি, মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ধরা যাবে দ্রুত, জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া যাবে সহজে এবং ইবাদতের সামান্যতম সুযোগও তখন হাত ছাড়া করতে চাইবে না মন। এতেই ইনশাআল্লাহ বাঁচবে ইবাদত আর গড়ে উঠবে ইবাদতময় সফল জীবন। আমিন।

লস এঞ্জেলস থেকে

লেখকের বই পেতে: Search ‘Mainul Ahsan’ at ‘amazon.com’


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান