সাংবিধানিক পরিচয় সংকটে ‘মুক্তিবাহিনী, মুক্তিফৌজ, মুক্তিযোদ্ধা’!

Thu, Jan 25, 2018 9:56 AM

সাংবিধানিক পরিচয় সংকটে ‘মুক্তিবাহিনী, মুক্তিফৌজ, মুক্তিযোদ্ধা’!

ফারুক ওয়াহিদ :পবিত্র সংবিধানে লেখা আছে: “আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া ২[জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের] মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি;”
-এখানে একবারের জন্য উচ্চারণ করা হলো না মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিবাহিনী, মুক্তিফৌজ। তার মানে কি ধরে নিব বাংলাদেশে কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয় নাই! বাংলাদেশে কোনো সশস্ত্র যুদ্ধ হয় নাই?
অথচ বাংলা একাডেমির ‘ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে’-এই পবিত্র সংবিধানের ‘মুক্তি সংগ্রাম’ শব্দটার অর্থ আছে এভাবে- ‘মুক্তিসংগ্রাম’- “স্বাধীনতা ও সামাজিক মুক্তির জন্য যে আন্দোলন” -এখানে একবারও যুদ্ধে বা সশস্ত্র যুদ্ধের কথা বলা হয় নাই। অর্থাৎ ‘মুক্তিসংগ্রাম’ হলো মুক্তির জন্য আন্দোলন কিন্তু সেটা যুদ্ধ নয় বা সশস্ত্র যুদ্ধ নয়।
আবার বাংলা একাডেমির একই অভিধান অর্থাৎ ‘ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে’-এ  ‘মুক্তিবাহিনী, মুক্তিফৌজ, মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দের অর্থ আছে এভাবে- ‘মুক্তিবাহিনী, মুক্তিফৌজ, মুক্তিযোদ্ধা’- “দেশের মুক্তির জন্য যাঁরা যুদ্ধ করেন; দেশকে হানাদার মুক্ত করার জন্য যাঁরা যুদ্ধে রত হন; বাংলাদেশকে পাকিস্তানি হানাদারদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য যাঁরা ১৯৭১-এ লড়াই করেছিলেন।” এখানে স্পষ্ট করে ‘যুদ্ধ’ এবং ‘লড়াই’ কথাগুলো উল্লেখ আছে। এমনকি বাংলা একাডেমি ‘মুক্তিবাহিনী, মুক্তিফৌজ, মুক্তিযোদ্ধা’-দের সম্মান করতে একটুও ভুলেননি- এখানে ‘যাঁরা’-তে চন্দ্রবিন্দু দিতেও ভুল করেনিনি- এমন কি ‘করেছিলেন’ এভাবে সম্মানিত করেছেন- একেই বলে বাংলা একাডেমি। বাংলা একাডেমিকে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি- স্যালুট বাংলা একাডেমি!
তাহলে পবিত্র সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশে যদি কোনা ‘সশস্ত্র যুদ্ধ’ না হয়ে থাকে তাহলে আমরা ‘মুক্তিবাহিনী, মুক্তিফৌজ, মুক্তিযোদ্ধা’-রা কারা? কী আমাদের পরিচয়? মুক্তিবাহিনীতো ভারতে সশস্ত্র ট্রেনিং নিয়ে হানাদার পাকিস্তানিদের সাথে সশস্ত্র যুদ্ধ করেছে এবং শেষের দিকে মিত্রবাহিনীর সাথে মিলিত হয়ে সশস্ত্র যুদ্ধ করে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করিয়েছে। ভারতের বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারে ‘মুক্তিবাহিনী, মুক্তিফৌজ, মুক্তিযোদ্ধা’-দের সশস্ত্র ট্রেনিং এর দলিলপত্র এফ.এফ নং এবং মুক্তিযোদ্ধার ছবিসহ ভারতে সযত্নে সংরক্ষিত আছে- এমনকি বাংলাদেশ সরকারের কাছেও সেই ঐতিহাসিক দলিলপত্রের কপি পাঠানো হয়েছে। এমনকি ভারত সরকার ভারতে ট্রেনিংপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের বৃত্তি দিয়ে যাচ্ছেন- এমনকি প্রতিবছর ভারতে ট্রেনিংপ্রাপ্ত উল্লেযোগ্য সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাকে ভারতে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন- এমনকি ভারেত ট্রেনিংপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভারত ভ্রমণের জন্য পাঁচ বৎসরের জন্য মাল্টিপোল ভিসার ব্যবস্থা করেছেন- এমনকি ভারতে ট্রেনিংপ্রাপ্ত সকল মুক্তিযোদ্ধাকে পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা ও সম্মানিত করা হবে ঘোষণা দিয়েছেন- এমন কি ভারতে ট্রেনিংপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের আর কীভাবে সম্মানিত করা যায় এবং যথাযথ মর্যাদা দেওয়া যায় সেটাও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক পরিচয় সংকটের প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারবেন না বা ইচ্ছে করেই দিবেন না। মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক পরিচয় সংকটের প্রশ্নে বাংলাদেশে একমাত্র একজন শুধু একজনই এই প্রশ্নের উত্তর ও সমাধান দিতে পারবেন তিনি হলেন ‘মুক্তিবাহিনী, মুক্তিফৌজ, মুক্তিযোদ্ধা’-দের একমাত্র অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।
Farouk Waheedলেখক: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা(২ নং সেক্টর বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া)


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
External links are provided for reference purposes. This website is not responsible for the content of externel/internal sites.
উপরে যান