স্কুল ছাত্রীর হিজাব কাটা নিয়ে বিতর্ক

Wed, Jan 17, 2018 2:26 AM

স্কুল ছাত্রীর হিজাব কাটা নিয়ে বিতর্ক

মাহমুদ হাসান: ১১ বছর বয়সী এক মুসলিম বালিকা গত শুক্রবার অভিযোগ তুলেছে যে, স্কুলে যাওয়ার পথে এক ব্যক্তি কাঁচি হাতে তাঁকে আক্রমণ করেছে, এবং তাঁর হিজাব কেটে দিতে চেয়েছে। টরন্টো পুলিশ বালিকার অভিযোগ আমলে নিয়ে গত তিনদিন ধরে তদন্ত করেছে এবং গতকাল জানিয়েছে যে, আদৌ এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। বালিকা  'হেইট ক্রাইমের' মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে!

এদিকে গত শুক্রবার এই খবর প্রচার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কানাডার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুমুল সমালোচনার ঝড় ওঠে, অভিযুক্ত ব্যক্তির গ্রেফতার ও যথাযথ শাস্তির দাবী উঠে। সবাই মোটামুটি বালিকাটির এই দাবী বিশ্বাস করে নেন তদন্ত ছাড়াই এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নিজেদের মতামত ও দাবী ব্যক্ত করতে থাকেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছিলেন। পুলিশের তদন্তের পর যখন প্রকাশ হয় যে, বালিকার দাবীটি মিথ্যা, প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি আর। তবে তিনি বলেছেন, যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর, বিশেষত নারীদের উপর, সংঘটিত 'হেইট ক্রাইমের' একটা প্যাটার্ন আছে এবং এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিৎ। 

টরন্টোর সিটি মেয়র জন টেরি অভিযুক্তের বিরূদ্ধে করা মন্তব্য প্রত্যাহার করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, এমন ঘটনার বিবরণ শুনলেই আমি সেটার বিরোধীতা করব। 

টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড, যাঁরা শুক্রবার বালিকা ও তাঁর পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন, পুলিশের তদন্তে ঘটনা মিথ্যা প্রমাণ হওয়ার পর এই বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকে শুধু এইটুকু বলেন যে, ঘটনাটি আসলেই যে ঘটেনি এতেই আমরা খুশি। 

টরন্টো পুলিশের মুখপাত্র হতাশ হয়ে বলেন, আমরা তদন্ত করেছি এবং এমন কিছু পাইনি যেটা বিশ্বাস করতে বাধ্য করে যে বালিকার অভিযোগ সঠিক। এমন মিথ্যা অভিযোগ অনভিপ্রেত। আশা করি অন্য কেউ এমন মিথ্যা অভিযোগ করবেন না, বরং সঠিক অভিযোগ করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করবেন।

কানাডার মুসলিম অরগানাইজেশনগুলোও হতাশা ব্যক্ত করেছে এই ঘটনায়। তাঁরা বলেন, এমন হলে ভবিষ্যতে সত্যিকারের হেইট ক্রাইমও পুলিশ গুরুত্ব দিবে না। এটা দুঃখজনক। যদি এরপর এই মেয়েটির উপর সত্যি সত্যিই ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হামলা হয়, সেটা পুলিশ বিশ্বাস না করার যথেষ্ট কারণ আছে।

এই বিষয়ে ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের চাইল্ড সাইকোলজি বিশেষজ্ঞ ভিক্টোরিয়া ট্যালওয়ার বলেন, ছোটরা মিথ্যা বলেই, তবে সাধারণত এত বড় মিথ্যা বলে না।

উল্লেখ্য যে, স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬তেই এমন ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হামলা হয়েছে ১৩৯টি, এবং ২০১৫তে বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসার সময় এক মুসলিম মহিলাকে দুই ব্যক্তি রাস্তায় নির্দয়ভাবে পিটিয়ে তাঁর সেলফোন ও টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায়।
সূত্র: thespec.com
 


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
External links are provided for reference purposes. This website is not responsible for the content of externel/internal sites.
উপরে যান