যুদ্ধ, বাবা এবং শৈশব-১

Tue, Dec 19, 2017 1:20 PM

যুদ্ধ, বাবা এবং শৈশব-১

মিতা হোসেন: খুব ছোট তখন। প্রথম শ্রেণী শেষ করে দ্বিতীয় শ্রেণীতে সবে উঠেছি। বড়দের আলোচনা থেকে জানতে পারি দেশের অবস্থা নাকি খুব খারাপ। পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ হতে পারে। যুদ্ধ কেমন সেটা না বুঝলেও যুদ্ধ কি সেটা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা ছিল। গল্পের বইয়ে পড়েছিলাম যুদ্ধ হলো, এক দেশের রাজার সাথে আরেক দেশের রাজা আর তাদের সৈন্যরা ঘোড়ায় চড়ে, তলোয়ার হাতে নিয়ে যুদ্ধ করে। তো যখন যুদ্ধ যুদ্ধ শুনছিলাম, আমি সত্যিই ভাবছিলাম ঘোড়ায় চড়ে তলোয়ার হাতে অনেক সৈন্য মারামারি করছে। বাবা, মা টেলিভিশনে খবর দেখেন, সম্ভাব্য যুদ্ধ আর দেশের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন, আর আমি ঘোড়ায় চড়ে সৈন্যরা তলোয়ার হাতে যুদ্ধ করছে, ঐ ছবি দেখার জন্য টেলিভিশন সেটের সামনে যেয়ে উদগ্রীব চোখে তাকিয়ে থাকি।

একদিন হঠাত দেখি আমাদের উপরতলার খালা খালু সপরিবারে আমাদের বাসায় চলে এসেছেন বিছানাপত্র নিয়ে, রাতে থাকবেন। দিনটা খুব সম্ভবত ২৬ মার্চ ছিল। কারণ, শুনেছিলাম ঐদিন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল । আরো শুনেছিলাম আগের রাতে, মানে ২৫ মার্চের রাতে বাংলাদেশের উপর পাকিস্তান আক্রমন করেছে। আমাদের ১২৮ সিদ্ধেশ্বরীর সেই তিনতলা বাড়ীটির কথা এখনো মনে পড়ে। আমরা ছিলাম একতলায়, দোতলায় ছিলেন বাড়ীওয়ালা আর তিনতলায় আরেকটি পরিবার। তো তারা সবাই চলে এসেছিলেন আমাদের বাসায়। মেঝেতে ঢালা বিছানা করা হলো আমাদের বাসার মাঝের রুমে। সবাই পাশাপাশি শোবার আয়োজন করলো। শুধুমাত্র রাতটি যাতে কোনমতে কেটে যায়। যাই হোক, গোলাগুলির শব্দ পাচ্ছিলাম মনে পড়ছে। ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের ওটাই আমার প্রথম স্মৃতি। পরে জেনেছিলাম, এই যুদ্ধ ঘোড়ায় চড়ে হচ্ছেনা। এ যুদ্ধ অন্যরকম!

এর পর থেকে এই চলতে লাগল। প্রতিদিন তাঁরা রাতে আমাদের বাসায় থাকেন, আর সকাল হলে যার যার বাসায় চলে যান। আমরা একতলায় ছিলাম, তাই কারণ হিসেবে জেনেছিলাম এটাই নাকি নিরাপদ। উপরতলায় গোলাগুলির আক্রমণ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। সব স্কুল, কলেজ আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তখন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল, কেউ জানেনা কবে খুলবে! স্কুলে যেতে হচ্ছে না, হোমওয়ার্ক করতে হচ্ছে না, বন্ধুদের সাথে দেখা হচ্ছে না। দিনগুলো রাতারাতি কেমন করে যেন বদলে গেল!

তার উপর আবার আরো সমস্যা। ঘরে বাতি জ্বালানো যেত না, কারফিউ এর কারণ। ঘরের জানালার ঘন সবুজ পর্দাগুলো ভাল করে টেনে ঘর অন্ধকার করা তো হতই, তার উপর আলোও নিভিয়ে রাখতে হতো। বাবা সবগুলো জানালায় লম্বা ফিতার মত কাপড় কেটে আড়াআড়িভাবে আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিলেন। দেখলাম প্রতিবেশীরাও তাই করেছে। বাবা বুঝিয়ে বললেন, যদি কাছাকাছি কোথাও বম্বিং হয়, তাহলে বম্বিং এর সেই ঝাঁকুনিতে জানালার কাঁচগুলো ভেঙ্গে পড়বার সম্ভাবনা থাকবে না। বাবার পেছন পেছন আমরা দু’বোন আটা অথবা ময়দা দিয়ে বানানো সেই আঠার হাড়ি নিয়ে ঘুরছি আর বাবা তাঁর কাজ করছেন। ভয় হতো, কবে বম্বিং হবে আর আমাদের বাড়ীঘর সব চুরমার হয়ে যাবে। আমরাও আর বেঁচে থাকবো না।

রাতের খাবার খুব তাড়াতাড়ি খেয়ে নিয়েই সবাই বিছানায় চলে যেতকিছুক্ষণের মধ্যে প্রতিবেশীরাও চলে আসত ঘুমাতে। তখন আবার আমার কিন্তু ভালই লাগত, কেমন একটা পিকনিক এর আমেজ মনে হত। আর উপরতলার প্রায় সমবয়সী বাচ্চারা আসছে, রাতে থাকবে, মজা লাগত বেশ।  রাতের বেলা খুব ভাল করে জানালার পর্দা টেনে, যাতে এক ফোঁটা আলোও বাইরে না যায়, তারপর টেলিভিশন ছাড়া হতো, মোমের আলো, হারিকেনের আলোয় অথবা অন্ধকারের মধ্যেই। কারণ বড়রা খবর দেখতে চাইতেন, দেশের অবস্থা দেখতে চাইতেন। কখনো কখনো সেটা সম্ভব না হলে রেডিও ছেড়ে সবাই দেশের অবস্থা সম্পর্কে জেনে নিতেন।

গোলাগুলির শব্দ অথবা বম্বিং এর শব্দ যখন কানে আসত, খুব ভয় পেতাম। বাবা, মা এবং বড়দের মুখের দিকে তাকাতাম পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝার জন্য। কারণ তাঁদের চেহারা এবং তাঁদের আলোচনা বলে দিত দেশের অবস্থা কতটা ভয়াবহ! বাবার কপালে ভাঁজ দেখলে বুক কাঁপত। বুকে গুড়গুড় শব্দ হতো। বুঝতাম না কতটা ভয় পাওয়া উচিত, তবুও প্রচন্ড ভয়ের একটা অনুভূতি সবসময় কাজ করতো। একসময় উপরতলার সবাই তাঁদের দেশের বাড়ীতে চলে গেলেন। আশে পাশের বাড়ীর লোকেরাও কোথায় কোথায় চলে গেলেন। পাড়া খালি হতে লাগল। বাবা সিদ্ধান্ত নিলেন আমাদের নানা বাড়ী ভোলায় পাঠিয়ে দেবেন। কিন্তু আমার মন খারাপ হয়ে গেল, কারণ বাবা নিজে থাকবেন ঢাকাতে। আমার মন কিছুতেই মানতে চাইছিল না যে, বাবাকে রেখে আমরা নানা বাড়ীতে থাকবো এই যুদ্ধের সময়ে।

বাঁধা হলো হোল্ড-অল (বিছানা পত্র নেবার বড় ক্যানভাসের ব্যাগ), গোছানো হল স্যুটকেস, আমরা চলে গেলাম নানাবাড়ী। বাবা আমাদের পৌঁছে দিয়ে আবার ঢাকা ফিরে গেলেন। আমি ক্লাশ টু তে পড়ি, ছোটবোন দীপা ক্লাশ ওয়ান এবং ছোট ভাই রানা তখন খুব ছোট, কথা বলতে শেখার বয়স। যার মুখের বুলি ছিল ‘দয় বাংলা’ (জয় বাংলা)। টেলিভিশনে হয়ত দেখেছে। আমাদের সবচেয়ে ছোটভাই শুভ যুদ্ধের বেশ পরে জন্মেছিল এক ২৬শে মার্চ এর দিনে। তো রানা লোকজন দেখলেই বিকট জোরে বলে উঠত ‘দয় বাংলা’ তারপর দিত একটা হাসি। নানা বাড়ীতে যাবার জন্য স্টিমারে যখন উঠেছি, সে কেবিনের জানালা দিয়ে মুখ বের করে বার বার বলতে লাগলো ‘দয় বাংলা’, ‘দয় বাংলা’। মা তাকে তাড়াতাড়ি ওখান থেকে সরিয়ে নিয়ে নিজের কাছে বসিয়ে রেখেছিলেন মনে আছে। না, দয় বাংলা বলেছে বলে নয়, পড়ে যাবার ভয়ে।

শুরু হলো আমাদের আরেক জীবন নানা বাড়ীতে। স্কুলে যেতে হচ্ছেনা, শুধু আনন্দ। কাজিনদের সাথে, সমবয়সী বন্ধুদের সাথে মজা করা। কাজের মধ্যে ছিল সারাদিন টই টই করে ঘুরে বেড়ানো এ পাড়া থেকে ও পাড়া। আমার মায়ের এক মামাত বোন ছিল, আমার চাইতে অল্প বড়। ওর নাম টিঙ্কু। এই নামটি আমার বাবা নাকি তার প্রথম সন্তানের জন্য ঠিক করে রেখেছিলেন। কিন্তু টিঙ্কু আগে জন্ম নেয়াতে বাবা ওকে এই নামটি দেন। এই গল্পটি টিঙ্কুর কাছেই শুনেছিলাম। আমরা যখনই নানাবাড়ীতে যেতাম, টিঙ্কুও চলে আসত ওর ফুপুর বাড়ীতে, মানে আমার নানা বাড়ীতে। এই টিঙ্কুর সাথে ছিল আমার প্রচন্ড সখ্যতা। আমরা যতদিন নানা বাড়ীতে থাকতাম, ও তখন বেশীরভাগ সময়ই আমাদের সাথেই থাকত ওর ফুপুর বাড়ী। টিঙ্কু তখন খুব সম্ভবতঃ তৃতীয় অথবা চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। সে আবার ছিল বিশেষ কিছু প্রতিভার অধিকারী। গাছের উপর থেকে ঝাঁপ দিত পুকুরে। পুকুরের এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত পার হয়ে যেত সাঁতরিয়ে, আর আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে দেখতাম। ও ছিল বলতে গেলে আমার গুরু। পটাপট গাছে উঠে যেত। পেয়ারা, জামরুল এগুলো পেড়ে নিয়ে আসতো আমার জন্যে। সারাদিন ওর সাথেই ঘুরে বেড়াতাম। আমার শৈশবের অনেকটা অংশ জুড়ে ওর স্মৃতি। এবং হয়ত বিধাতার ইচ্ছা ছিল, সে এখন এই নিউ ইয়র্কেই আছে।

যুদ্ধের এই সময়টা ছাড়াও, যখনই নানা বাড়ীতে বেড়াতে গেছি, ওর সাথেই সময় কাটাতাম। আরো ছিল মায়ের চাচাত ভাইয়ের মেয়েরা। ওরা পাশের বাড়ীতেই ছিল। কাজেই সবসময় একটা হুল্লোড় আর পিকনিকের আমেজ থাকত। বড়রা যখন দেশ নিয়ে, দেশের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন, আমরা ছোটরা তখন নিজেদের আনন্দ খুঁজতে ব্যস্ত।

কিন্তু বেশীদিন এত আনন্দ স্থায়ী হলনা। হঠাত একদিন দেখি একজন এলেন বাসায়, ধুতি পরা, সাদা পাঞ্জাবি। মা ডেকে পরিচয় করিয়ে দিলেন, উনি হলেন আমাদের প্রাইভেট টিউটর। কি আর করা! প্রতিদিন সকালের দিকে তিনি আসতেন, আর তাঁর কাছে ২/৩ ঘন্টা পড়তে বসতে হতো। শুনেছিলাম তিনি ছিলেন চৌকষ একজন শিক্ষক। নামটাও মনে আছে, ‘শ্রী প্রফুল্ল দে’। এখনো তাঁর চেহারাটা ভাসে আমার চোখে। সাদা ধুতি আর সাদা পাঞ্জাবী পরে তিনি আমাদের পড়াতে আসতেন। আমরা নানা বাড়ীতে আসবার সময় মা যখন স্যুটকেস গুছিয়েছিলেন, ঘুণাক্ষরেও তখন ভাবিনি তিনি আমাদের বইগুলোও সাথে করে নিয়ে আসবেন। তাই ফান্ডামেন্টাল ইংলিশ, ডেস্কওয়ার্ক টু, রেডিয়েন্ট ওয়ে বুক টু, অথবা ফোর রুলস অফ নাম্বারস আর সবুজ সাথী দ্বিতীয় ভাগ, কিছুই বাদ গেল না। আনন্দ করবার পাশাপাশি বইয়ে মুখ গুঁজে হোমওয়ার্কও করতে হতো। সকালবেলাটা প্রফুল্ল দে স্যার এর কাছে পড়ে, তারপর ছিল আমাদের ছুটি।

দুপুরবেলা সবার খাওয়া-দাওয়া হয়ে গেলে ঐ সময়টা আমাদের অ্যাডভেঞ্চার শুরু হতো। এই দুপুরবেলাটায় আমার জন্য আরেকটি আকর্ষণীয় বিষয় ছিল, তাহলো, দুপুরে আমার নানী, যাকে আমরা ছোট নানু ডাকতাম (নানাকে ডাকতাম বড় নানু), তিনি প্রতিদিন পুকুরে ছিপ বড়শী নিয়ে বসতেন মাছ ধরবার জন্য। ঐ সময়টায় ওখানে আমাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। নানা বাড়ীর পেছনের আঙ্গিনা ঘেষে বিরাট পুকুরের একটি অংশ ঘের দেয়া ছিল বাড়ীর মেয়েদের ব্যবহার করবার জন্য, ওখানেই আমার ছোট নানু বসে মাছ ধরতেন। বিকেলে দেখা যেত রান্না ঘরে একটি বড় হাড়িতে নানু’র ধরা মাছেরা ঘোরাফেরা করছে।

এই মাছ ধরার বিষয়টা আমাকে এত আকর্ষণ করতো তখন! লুকিয়ে লুকিয়ে নানুর মাছ ধরা দেখতাম। মাছ ধরা হয়ে গেলে নানু তাঁর ছিপ বড়শী নিয়ে রেখে দিতেন তাঁর নামাজের ঘরে। আমি আর টিঙ্কু প্রায়ই ঐ ছিপ বড়শী লুকিয়ে নিয়ে অন্য পুকুরে যেয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করতাম। তারপর বড়শীগুলো আবার এনে জায়গামত রেখে দিতাম, নানু টের পাবার আগেই। এই ব্যাপারটিতে টিঙ্কুর অবদানই বেশী ছিল। এই কাজটি করতে হত নানুর মাছ ধরার সময়ের বাইরে। মাছ ধরার হাতেখড়ি আমার ঐ সময়েই। ছোট নানুর দেখাদেখি, আর টিঙ্কুর পরামর্শে আমরা ময়দা মেখে ছোট ছোট বল এর মত করে বড়শীর কাঁটার মুখে লাগিয়ে দিতাম, ওগুলো ছিল মাছের খাবার। মাছেরাও যেন বুঝতো আমরা ছোট মানুষ, বেশ খেলতো আমাদের সাথে। ধরা দিয়েও ধরা দিত না। কিন্তু তাতে আমাদের কোনই আক্ষেপ ছিলনা। মাছ ধরার চেষ্টা করছি, সেটাই আনন্দ। তবে এক সময় আমাদের এই প্রচেষ্টা সার্থক হয়েছিল। কখনো দু’ একটি মাছ ধরতে সফল হয়েছিলাম। কিন্তু সমস্যা ছিল এই যে, ওগুলোকে আবার পুকুরে ছেড়ে দিতে হতো। কারণ বাসায় নিয়ে গেলেই বের হয়ে যাবে কে মাছ ধরেছে, আর তার পরে কি হতে পারে, সেই সম্ভাবনার কথা আমরা কেউ উড়িয়ে দিতে পারতাম না। এভাবে লুকিয়ে মাছ ধরতে যাবার কথা আজো কেউ জানেনা।

বড়শী দিয়ে মাছ ধরা ছাড়াও পুকুরের কিনারে দেখা যেত ছোট ছোট এক ধরণের মাছ সব সময় ঘোরাফেরা করছে। ওগুলো কে হাত দিয়েই ধরে ফেলা যেত। হাতে করে উঠিয়ে পানি ভর্তি একটি পাত্রে কিছুক্ষণ রেখে, ওদের সাথে খেলা করে, আবার পানিতে ছেড়ে দিতাম। এভাবে আমরা অনেক ব্যাঙ্গাচিও ধরেছি। আমরা গোসলও করতাম পুকুরের ঐ ঘের দেয়া জায়গাটিতে, আমাদের এক খালার তত্ত্বাবধানে।

সকালবেলা প্রফুল্ল দে স্যার এর কাছে পড়ে, গোসল খাওয়া সেরে, পাড়া বেড়িয়ে বাড়ী ফিরে, অথবা দুপুরে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে, বিকেলে হাত-মুখ ধুয়ে কখনো উঠোনে খেলতাম। কখনো হয়ত হাঁটতে যেতাম দূরে কোথাও। সন্ধ্যায় হোমওয়ার্ক করে প্রায় প্রতিদিনই নানার বিছানায় গিয়ে বসতাম। এই নানা-নানুর কাছে এই বিছানাতেই রাতে আমি ঘুমাতাম। নানা বাড়ীতে দুটো বিশাল পালঙ্ক ছিল। বিশাল ঐ পালঙ্কের একটিতে নানা নানুর সাথে আমি ঘুমাতাম। আর মা ঘুমাতেন আরেক পালঙ্কে আমার বোন আর ভাইকে সাথে নিয়ে।

নিউইয়র্ক


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান