এই একটা হনুমানের আগুনে লঙ্কা পুড়ে ছাই হবে?

Mon, Dec 11, 2017 11:48 PM

এই একটা হনুমানের আগুনে লঙ্কা পুড়ে ছাই হবে?

সোহেল মাহমুদ: সন্দ্বীপে বাড়ি। মুছাপুর ইউনিয়নে। হায়াত মোহাম্মদের বাড়ি। কারো কাছে সে বাড়ির নাম ভূটান বা বোতান তালুকদারের বাড়ি। সেভাবেই জানছি। আরো নাম থাকতে পারে।

সে বাড়ির মৃত সানা উল্লাহর ছেলে আকায়েদ উল্লাহ। ডাক নাম সপু। যেটুকু তথ্য এ পর্যন্ত পেয়েছি, ক্রস চেক করেছি। নিশ্চিত হয়েছি যে, সপু ২০ বছর বয়স পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকলেও খুব পরিচিত নয় এলাকায়। কারণ, তার বেড়ে ওঠা ঢাকার হাজারিবাগে। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ২০১১ সালে। বৈধভাবে।

বাবা নেই দু'বছর। মারা গেছেন। সপুকে 'চিনি' বলতেও ব্রুকলিনে এখন অনেকের ভয়। তার আত্মীয় পরিজন তদন্ত জালে। অপরাধ না থাকলে কিছুই হবে না তাদের। হয়রানি হবেন, এমন বিশ্বাসও আমি করি না।

সারাদিন চেষ্টা তদবির করে যা জেনেছি, তাতে বোঝা গেছে, সপুর বড় ভাই অপু এসেছেন তার মামাদের আবেদনে। অপুর আবেদনে এসেছেন তার বাবা মা, ২ বোন আর ২ ভাই। এ সংখ্যা আর তাদের অভিবাসন-মাধ্যম সম্পর্কে এ তথ্য আড়াআড়ি-তল্লাশির সুযোগ কম পেয়েছি, সময়ের অভাবে।

 

নিউ ইয়র্কে সন্দ্বীপীদের যে বিশাল কমিউনিটি, সেখানে আকায়েদ মোটেও পরিচিত নয়। তার পরিবারের কেউও নন। তার মামাদের কেউ কেউ চেনেন। এই কমিউনিটির সাথে তাদের ওঠাবসা নেই। চার্চ-ম্যাগডোনাল্ড এভিনিউ এলাকার আশপাশে সন্দ্বীপীদের যে ঘনবসতি, সেটি থেকে প্রায় ৪ মাইল দূরে ফ্লাটল্যান্ডস এভিনিউ এলাকায় এক বাড়িতে তদন্ত দল আজ দিনভর তল্লাশি আর জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সেই বাড়িতে সপু থাকছিলো পুলিশের কাছে এমন তথ্য ছিলো। তল্লাশি হয়েছে ব্রুকলিনের আরো কয়েকটি জায়গায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাউকে কাউকে সাথে করে নিয়ে গেছে তদন্ত দল। এদের মধ্যে মহিলাও রয়েছেন। তাকে নেয়া হয়েছে চার্চ-ম্যাকডোনাল্ডের কাছাকাছি ওশান পার্কওয়ে এলাকার একটি ছয়তলার বাড়ি থেকে।

 

সপুকে নিয়ে সন্ধ্যায় কিংবা রাতে পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য আমি পাইনি। ফ্লাটল্যান্ডসে যে ব্লক দু'দিক থেকে আটকে দেয়া হয়েছিলো সকাল থেকে, রাতে সেটি খুলে দেয়া হয়েছে। এখানে মূলধারার গণমাধ্যম কর্মীদের অনেকেই এখন সপুর সাথে সম্পর্কগুলো খুঁজে চলেছেন। তারাও তথ্য-আকালে। এর কারণ, সপুর হামলা কি বিকৃত কিংবা উন্মাদমস্তিষ্কজাত, নাকি পরিকল্পিত, সেটি বলে ফেলার সময় আসেনি।

 

তদন্ত চলছে জয়েন্ট টেররিজম টাস্কফোর্সের জিম্মায়। সপু আহত হলেও কথা বলতে পারছেন। আরো যে তিনজন আহত হয়েছিলেন, তাদের অবস্থাও গুরুতর নয়। রাতারাতি এ তদন্ত শেষ হবার নয়। পুলিশের দাবি, সপু তাদের জানিয়েছেন তার অনুপ্রেরণার মূলে রয়েছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। ভাবুন, এমন বক্তব্যের পর এ হামলার ঘটনা সাধারণ ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করবে কিনা তদন্ত দল।

নিউইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক সোহেল মাহমুদের ফেসবুক পোষ্ট


External links are provided for reference purposes. This website is not responsible for the content of externel/internal sites.
উপরে যান