‘শুধু বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে কাজ করার প্রবণতা বাংলাদেশি সমাজকে বৃত্তাবদ্ধ করে রাখছে'

Sun, Dec 3, 2017 11:17 PM

‘শুধু বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে কাজ করার প্রবণতা বাংলাদেশি সমাজকে বৃত্তাবদ্ধ করে রাখছে'

নতুনদেশ ডটকম : ‘যতক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার পরেও নিজেদের এ সমাজের অংশ মনে না করবেন, তত দিন তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার নেতৃত্বে আসতে পারবেন না। আগে যে সমাজে আমাদের অবস্থান, সে সমাজকে কিছু দেওয়ার কাজে নিজেকে যুক্ত করতে হবে। এই যুক্ত হওয়ার কাজটা এখনো ঠিকমতো হচ্ছে না দেখে আমেরিকার মূলধারায় বাংলাদেশিদের কাঙ্ক্ষিত উত্থান ঘটছে না।

আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিরা অংশ নিতে কেন আগ্রহী নয়—এ বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলী রীয়াজ এসব কথা বলেছেন।

২ ডিসেম্বর শনিবার বিকেলে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা কার্যালয়ের এক অনির্ধারিত আড্ডায় যোগ দেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আলী রীয়াজ। আড্ডায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী ফোরামে এবং বৌদ্ধিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ জোরদার করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি মনে করেন, এর একটা উপায় হতে পারে, বিভিন্ন নীতিনির্ধারক প্রতিষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের যুব-তরুণেরা ইন্টার্ন করে নিজেদের অভিজ্ঞ করে তোলা। দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি কংগ্রেসনাল এইড হিসেবে ইন্টার্ন করার কথা বলেন।

আলী রীয়াজ বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে কাজ করার প্রবণতা বাংলাদেশি সমাজকে বৃত্তাবদ্ধ করে রাখছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষ “আমরা” আর অন্য দেশের মানুষেরা “ওরা”—এই পার্থক্য দূর করতে হবে।’ এই আমরা এবং ওরা থেকে যখন আমরা হয়ে ওঠা যাবে, তখনই এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সিভিল এনগেজমেন্ট বাড়ানোর দিকে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে জোর দেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, ইংল্যান্ডের সাদিক খানের দৃষ্টান্ত দিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, তিনি কেবল পাকিস্তানি বা এশীয় কমিউনিটির জন্য কাজ করে মূল ধারায় জায়গা করে নেননি, সাদিক খান সবার হয়ে কাজ করেই নির্বাচিত হয়েছিলেন। রোশনারা আলী বা টিউলিপ সিদ্দিকের বেলায়ও তেমনটি ঘটেছে।

ব্রিটেনের ও আমেরিকার রাজনীতি সম্পর্কে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরতে গিয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘প্রথমে স্বীকার করতে হবে যে বাংলাদেশিদের দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্ম আমাদের মতো হবে না। তাদেরকে এমনভাবে বেড়ে উঠতে দিতে হবে যে তারা যেন এই সমাজে অবদান রাখতে পারে, আবার যেন নিজের পাওনাটুকুও দাবি করতে পারে এই সমাজের কাছে।’

প্রথম আলোর পক্ষে আলী রীয়াজের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরে আহমাদ মাযহার অনানুষ্ঠানিক আড্ডাকে কিছুটা আনুষ্ঠানিকতার দিকে নিয়ে যান। এরপর তাঁকে বক্তব্য রাখতে অনুরোধ করলে অধ্যাপক রীয়াজ উপস্থিত সবার কাছে আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিরা অংশ নিতে কেন আগ্রহী নয়, এই বিষয়ে জানতে চান। উপস্থিত প্রায় সবাই এ বিষয়ে নিজেদের মতামত জানান।

 

যাঁরা কথা বলেন, তাঁরা হলেন রাগীব আহসান চৌধুরী, রওশন জামিল চৌধুরী, ফকরুল ইসলাম রচি, বাবুল নকরেক, খৃস্টিনা রোজারিও, এ বি এম সালেহউদ্দীন, ইশতিয়াক রুপু, গোপাল সান্যাল, বিলকিস রহমান, গোধূলি খান, সেলিনা আক্তার, সাহেদ আলম, লায়লা চৌধুরী, ইব্রাহীম চৌধুরী, তফাজ্জল লিটন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ জিয়াউশ শামস, মামুন উর রশীদ চৌধুরী, হাসিব মোর্শেদ, রওশন হাসান, মনিজা রহমান, মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন, নাজমা পারভীন প্রমুখ।

প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার ব্যুরো প্রধান ইব্রাহীম চৌধুরী সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজের সঙ্গে আড্ডার সমাপ্তি টানেন।

সূত্র: প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা অফিস


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
External links are provided for reference purposes. This website is not responsible for the content of externel/internal sites.
উপরে যান