প্রবাসে বসে বাংলাদেশি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট কিভাবে পাবেন

Fri, Dec 1, 2017 5:50 PM

প্রবাসে বসে বাংলাদেশি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট কিভাবে পাবেন

মাসুম চৌধুরী : কানাডায় নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন সংক্রান্ত আইন “বিল সি-৬  (Bill C-6)” পাস হয়েছে বেশ কয়েক মাস হল। এর ফলে কানাডায় অভিবাসীরা দেশটির নাগরিকত্বের জন্য দ্রুত এবং আগের চেয়ে আরও সহজে এখন আবেদন করতে পারবেন। আগে যেখানে পারমানেন্ট রেসিডেন্সি পাওয়ার ৪ বছর পর কানাডার সিটিজেনশিপ বা নাগরিকত্বর জন্য আবেদন করা যেত সেখানে ৩ বছর পরই আবেদন করা যাবে। তাছাড়া যারা স্ট্যাডি পারমিট বা ওয়ার্ক পারমিট তথা টেম্পোরারি রেসিডেন্ট হিসেবে ছিলেন তারা ১ বছর পর্যন্ত ক্রেডিট পাবেন। তার মানে পিআর পাবার ২ বছর পরেই তারা কানাডার সিটিজেনশিপ বা নাগরিকত্বর জন্য আবেদন করতে পারবে।

এখন এই সিটিজেনশিপ বা নাগরিকত্বর আবেদনের জন্য অনেকেরই বাংলাদেশের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এর দরকার হয়। কানাডায় বসে বাংলাদেশে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এর আবেদন করা আসলেই বেশ ঝামেলার। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এই প্রসেসটাকে কিছুটা সহজ করে দিয়েছে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। যদিও বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর হাই কমিশন থেকেই তাদের প্রবাসিরা কোন ঝামেলা ছাড়াই একদিনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট তুলে নিতে পারে সেখানে এখনও আমাদের ১২০০০ কিলোমিটার দূরের এক থানা থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ইস্যু করা হয়। যতদিন না যথাযথ কর্তৃপক্ষের এই ব্যাপারে টনক না নরছে ততদিনের জন্য কানাডায় বসে “বাংলাদেশি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পাওয়ার পন্থা নিম্নরূপঃ

 

১) পাসপোর্টের ফটোকপি অটোয়াস্থ বাংলাদেশি হাই কমিশনের দ্বারা এটাস্টেড করাতে হবে। খরচঃ সাধারণ ৪০ ডলার, ইমারজেন্সি ৬০ ডলার।

২) http://pcc.police.gov.bd/en/ সাইটে গিয়ে নিজের ইমেইল আর বাংলাদেশি একটা ফোন নম্বর দিয়ে একটা আইডি রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

৩) “Apply” তে ক্লিক করে পাসপোর্টের ইনফরমেশন দিয়ে এটাস্টেড করা পাসপোর্ট এর স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। ফাইল সাইজ অবশ্যই ১৫০ কিলোবাইটের মধ্যে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে এই ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করতে পারেনঃ https://pdfresizer.com/resize

৪) পাসপোর্টে এড্রেস যেভাবে আছে সেভাবে প্রেসেন্ট আর পার্মানেন্ট এড্রেস লিখতে হবে। দেশে বর্তমানে আপনার পরিবার যেখানে থাকে সেটা প্রেসেন্ট এড্রেস এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করবেন। মাঝে মাঝে পুলিশ বাড়িতে যায় ভেরিফিকেশনের জন্য, তাই বাড়ির এমন কারো ফোন নাম্বার ব্যবহার করবেন যে মোটামুটি সবসময় বাসায় থাকে এবং ফোন করতে তাকে পাওয়া যায়। পার্মানেন্ট এড্রেস গ্রামের বাড়ি হলে সমস্যা নাই, সেখানে পুলিশ ভেরিফিকেশনে যাবে না।

৫) ভোটার আইডি কার্ড থাকলে সেটা অথবা জন্ম নিবন্ধন এর সনদ/Birth Certificate এর স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে।

৬) দেশন্থ পরিবার বা আত্মীয় মারফত দেশের যেকোনো অনুমোদিত সোনালি ব্যাংক অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকে ৫০০ টাকার একটা মানি অর্ডার/ড্রাফট আপনার নাম ও বাংলাদেশের বর্তমান ঠিকানায় পরিশোধ পূর্বক তার স্ক্যান কপি আপনাকে ইমেইলের মাধ্যমে পাঠাতে বলবেন। শেষ ধাপে সেটা আপলোড করতে হবে।

৭) এপ্লিকেশন সাবমিট করার ৭ দিনের মধ্যে পুলিশ বাংলাদেশি ফোন নম্বরে কল করে বা বাসায় গিয়ে ভেরিফিকেশন করে আপনার মহামূল্যবান “পুলিশ ক্লিয়ারেন্স হস্তান্তর করবে। এই পর্যায়ে টাকা খাওয়ার জন্য কিছু পুলিশ নানা ভুল ও অজুহাত দ্বার করাবে। সেক্ষেত্রে একটা ৫০০ বা ১০০০ টাকার নোট (বাড়ির অবস্থান এবং ডেকোরেশন ভেদে) সকল ভুল ত্রুটিকে ম্যাজিক করে নাই করে দিতে পারবে। (বিঃদ্রঃ এখানে ঘুষ প্রোমোট করা হচ্ছে না)

লেখকের ফেসবুক পোষ্ট


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
External links are provided for reference purposes. This website is not responsible for the content of externel/internal sites.
উপরে যান