ছুটির নোটিশ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি এবং হাই কমিশনের বাড়তি দায়িত্ব পালন

Tue, Nov 14, 2017 1:56 AM

ছুটির নোটিশ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি এবং হাই কমিশনের বাড়তি দায়িত্ব পালন

নতুনদেশ ডটকম: ছুটির নোটিশ নিয়ে ভুল বোঝবুঝির কারনে সরকারি ছুটির দিনেও সারাদিন অফিস করতে হলো অটোয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তাকে।  সোমবার ‘রিমেমবারেন্স ডে’তে এই ঘটনা ঘটে।

প্রসঙ্গত, ‘রিমেমবারেন্স ডে’কে প্রতীকী অর্থে  ফেডারেল স্ট্যাটুটুয়ারি ছুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১৭ সালে হাউজ অব কমন্স  ‘রিমেমবারেন্স ডে’কে কানাডা ডে ও  ভিক্টোরিয়া ডের সমান মর্যাদা দিয়ে একটি বিল পাশ করে। এই দিনটিকে ফেডারেল স্ট্যাটুটিয়ারি  হলি ডে হিসেবেও  ঘোষনা করা হয়। কিন্তু ফেডারেল সরকার কানাডাব্যাপী কোনো ছুটি ঘোষনা করতে  পারে না। এটি প্রভিন্সের এখতিয়ার। অন্টারিও,কুইবেক, নোভাস্কশিয়া , নর্থওয়েষ্ট টেরিটরি ছাড়া অন্যান্য প্রভিন্স এটিকে  ছুটি হিসেবে গ্রহন করেছে।

সোমবার ছুটির দিনে কানাডার বিভিন্ন শহর থেকে বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি কনস্যুলার সেবা নিতে যান অটোয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশনে। সেখানে গিয়ে দেখেন হাই কমিশন বন্ধ এবং ছুটির নোটিশ টানানো আছে। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন কয়েক জন।  নতুনদেশ এর ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ বিভাগ জন সম্পৃক্ততা বিবেচনা করে ফেসবুকের একটি প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে।

ততক্ষণে হাই কমিশনের কর্মকর্তারাও জেনে যান ঘটনা। হাই কমিশনের প্রথম সচিব ( পাসপোর্ট ও ভিসা)  সাখাওয়াত হোসেন অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে ছুটে  যান  হাই কমিশনে। অপেক্ষমান সেবা গ্রহিতাদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা দেওয়া শুরু করেন তিনি। সেবা না নিয়ে কেউ ফিরে গেছেন কি না তারও খোঁজ খবর নিতে শুরু করেন তিনি। নির্ধারিত অফিস টাইমের পরও তিনি সহকর্মীদের নিয়ে অফিসে ছিলেন। সন্ধ্যা ৬টায় নতুনদেশ এর পক্ষ থেকে টেলিফোন করা হলে তাঁকে অফিসে পাওয়া যায়।

ঘটনা সম্পর্কে নতুনদেশ এর পক্ষ থেকে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথম সচিব (বাণিজ্য)  দেওয়ান মাহমুদ বলেন, অটোয়ার বাংলাদেশ হাই কমিশনের একটি অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ আছে। সেই পেজে সোমবার যে হাই কমিশন বন্ধ থাকবে সেটি প্রচার করা হয়েছিলো। আমাদের জানামতে কানাডার বিভিন্ন শহরের বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি এই ফেসবুক পেজ অনুসরন করেন। ফলে হাই কমিশন বন্ধ থাকার তথ্যটি যথেষ্ট প্রচার পেয়েছে বলে আমাদের মনে হয়েছিলো।

তিনি বলেন, তারপরও ছুটির দিনে অনেকেই হাই কমিশনে চলে এসেছেন জেনে  প্রথম সচিব (পাসপোর্ট ও ভিসা)  সাখাওয়াত হোসন অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে হাই কমিশনে ছুটে গেছেন এবং উপস্থিত সবাইকেই প্রয়োজনীয় সেবা দিয়েছেন।

 ছুটির দিনে হাই কমিশনে যারা গেছেন, তাদের অনেকেরই  সোমবার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিলো এবং তারা হাই কমিশনের ওয়েবসাইট দেখে হাই কমিশনে গেছেন বলে ফেসবুকের পোষ্টে উল্লেখ করেছেন। । এ ব্যাপারে প্রথম সচিব (পাসপোর্ট ও ভিসা)  সাখাওয়াত হোসেন নতুনদেশকে বলেন, ১১ নভেম্বর রিমেমবারেন্স ডে হিসেবে সেই দিনটিই ছুটির তালিকায় ছিলো। কিন্তু ১১ নভেম্বর শনিবার হওয়ায় কানাডার ফেডারেল সরকার সোমবারকে ছুটির আওতায় এনেছেন। সেটি করা হয়েছে অনেক পরে। ফলে আমাদের  ওয়েবসাইটে ছুটির তথ্যটি হাল নাগাদ করা যায়নি।

তিনি বলেন, সোমবার যারা হাই কমিশনের সেবার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছেন, সেটিও করা হয়েছে বেশ আগেই। কানাডা সরকারের ছুটি সংক্রান্ত আপডেটটি শেষ মুহুর্তে হওয়ায়  সেগুলো আর পরিবর্তন করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। প্রথম সচিব সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি যেনো ছুটির দিনেও কেউ সেবা না নিয়ে ফিরে না যান।

ছুটির দিনে হাই কমিশনে গিয়ে অফিস বন্ধ পাওয়া নিয়ে ফেসবুকের পোষ্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিনভরই আলোচনা হয়েছে। হাই কমিশনের সমালোচনার পাশাপাশি তাদের কর্মনিষ্ঠা, আন্তরিক সেবা দেওয়ার তথ্যও অনেকে উল্লেখ করেছেন। অটোয়ায় গিয়ে  স্বল্পতম সময়ে এবং আন্তরিক পরিবেশে কনস্যুলার সেবা পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন অনেকেই। ফেসবুকের মন্তব্য ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় পুরো বিষয়টিকে একটি ভুল বোঝাবুঝি হিসেবেও মনে করছেন অনেকে। ‘ছুটির দিনেও সেবা দিনে হাই কমিশন কর্মকর্তাদের  দিনভর অফিসে থাকা’কে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে তার প্রশংসাও করেছেন অনেকে।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
External links are provided for reference purposes. This website is not responsible for the content of externel/internal sites.
উপরে যান