স্মৃতিচারণ: আমার জীবন আমার বার্তা-২

Tue, Nov 14, 2017 12:57 AM

স্মৃতিচারণ: আমার জীবন আমার বার্তা-২

দেলোয়ার জাহিদ : আশির দশকে কুমিল্লা জেলায় কুমিল্লা প্রেসক্লাব ও কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়ন গঠনের পর একপ্রকার সাংগঠনিক মেরুকরণ শুরু হয়। সমাজে নিপীড়ন, নিগ্রহ, বাধা, বিপত্তি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমারা সাংবাদিক সমাজ রুখে দাড়াতে শুরু করি. যদিও তখন প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক যে এটা কি আমাদের কাজ? নাকি আমরা কোন ভাবে পেশাদারীত্বের সীমা লংঘন করছি? কারন তখন আমাদের শক্তি, সাহস ও প্রেরনাকে কোনভাবেই অগ্রাহর্য্য করার উপায় ছিলোনা। তাই এ পেশাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের জ্ঞাতে অজ্ঞাতে প্রশাসনের আনুকুল্য গ্রহনের পরিবর্তে আমরা সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতে  শুরু করেছিলাম।

জেলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের সাথে আমাদের পেশাগত সংযোগ তখন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে নানা কারনে দ্বন্ধ ও সংঘাত শুরু হয়. আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে মিডিয়াগুলির যোগাযোগের পার্থক্য সৃষ্টি হতে থাকে বা কেউ কেউ সাংবাদিকতা পেশার ভিতর থেকে একে সীমাবদ্ধ করার জন্য সাহায্য করে।

মুক্তিযোদ্ধা মালিক খসরু তখন পুলিশ সুপার হয়ে কুমিল্লায় আসেন এবং কুমিল্লা প্রেসক্লাব ও কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাথে সহযোগিতার হাত বাড়ান।

পুলিশ এর পেশাদারীত্ব কিছুকিছু ক্ষেত্রে যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ হয় এমনিতর পরিস্থতিতে তার সহযোগিতা  পাওয়া যায় এগুলোর প্রতিকরে.। পুলিশ এর গুটি কয়েক সদস্যের জন্য পুরো বিভাগের বদনম হয়! একটি উন্নত দেশের পুলিশী ব্যবস্থা এবং  আইনের শাসন এর বিষয়ে তুলনা করলে সে ব্যবধান টুকু সহজেই চোখে পড়বে। অধ্যাপক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শ্রমজীবি ও কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র সহ নানা পেশার মানুষ কে নিয়ে আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষন কর্মশালা শুরু করি।

গণতান্ত্রিক ও নির্লোভ নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে আমরা তখন সফল হতে থাকি।আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে নিয়মিত সাক্ষাত্কারে মালিক খসরু কুমিল্লায় কর্মজীবনের বেশ কিছু সময় কাটিয়েছেন, এবং তিনি দেখেন যে পুলিশ ও প্রেসের মধ্যে সম্পর্ক সবসময় একটি সাবধানী মেরুতে অবস্থান করে। যদিও লোকে একে একটি সুযোগ হিসেবে দেখেন, তথাপি একে অপরের কাজে অর্থাৎ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং মিডিয়াগুলির মধ্যে যোগাযোগের পার্থক্যকে সীমাবদ্ধ করার জন্য ভাল প্রশিক্ষন দরকার। কুমিল্লায় পুলিশ-মিডিয়া সম্পর্ক উন্নয়নে বেশ অগ্রগতি হতে থাকে।

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের মতো একটি প্রতিষ্ঠান এ প্রয়োজন মেটাতে অগ্রগামী ভুমিকা পালন করে।

সাংবাদিকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্দিষ্ট  কতগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। সে হিসাবে নীতি, নৈতিকতা এবং নীতিমালার  মানদণ্ডগুলোকে অনুসরণ করতে হয়। ঐতিহাসিকভাবে এবং বর্তমানে, মিডিয়া নীতিমালা  ব্যাপকভাবে  সাংবাদিকদের পেশাদারীত্বের কোড বা "সাংবাদিকতার কামান  হিসাবে পরিচিত।

সাংবাদিকতার পাঁচটি  মূলনীতি থেকে আমরা যেন কোনভাবে বিচ্যুত না হই এর জন্য শক্ত সাংগঠনিক ভীত গড়তে থাকি।

১. সত্য এবং যথার্থতা: সাংবাদিকতায় 'সত্য' নিশ্চয়তার গ্যারান্টি দেয়া খুবই কঠিন বিষয়, কিন্তু সত্যিকারের তথ্য পাওয়ার অধিকার সাংবাদিকতার প্রধান নীতি। আমাদের সর্বদা নির্ভুলতার জন্য কষ্ট ও সংগ্রাম করতে হয়, সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য একত্রিকরণের  তা নির্ভুল নিশ্চিত করার মধ্যদিয়ে কেবল এর যথার্থতার দাবি করা যায়।

২. স্বাধীনতা

সাংবাদিকদের অবশ্যই স্বাধীন কণ্ঠস্বর হতে হবে; আমাদের রাজনৈতিক, কর্পোরেট বা সাংস্কৃতিক বা বিশেষ আগ্রহের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করা উচিত নয়। আমাদের সম্পাদকরা - অথবা শ্রোতাদের - আমাদের রাজনৈতিক সংযুক্তি, আর্থিক ব্যবস্থা বা অন্য ব্যক্তিগত তথ্য যা সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে তা ঘোষণা করা উচিত।

৩.  নিখুঁততা এবং নিরপেক্ষতা: অধিকাংশ গল্প অন্তত দুটি পক্ষ আছে। প্রতিটি অংশে প্রতি পক্ষকে উপস্থাপনের কোন বাধ্যবাধকতা নেই যদিও, গল্পগুলি সুষম হওয়া উচিত এবং প্রসঙ্গ যোগ করা উচিত।

৪. মানবতা: অবিবেচনা প্রসুত কারনে সাংবাদিকদের দ্বারা যেন কোনও ক্ষতি  সাধিত না হয় এর প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।

৫. দায়বদ্ধতা: পেশাদার  সাংবাদিকতায় দায়ীবদ্ধতা নিশ্চিত করা জরুরী। নিজেকে দায়বদ্ধ রাখার ক্ষমতা, এবং যখন ভুল ক্রটি হয় তা সংশোধন করা এবং আমাদের আন্তরিক অনুতাপের অনুভূতি অবশ্যই থাকতে হবে।

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের মতো একটি সরকার নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান  তৎসময়ে আইনমান্যতা ও  সাংবাদিকতার কলা কৌশল রপ্ত করতে প্রশিক্ষন কর্মশালা সংগঠন সহ বেশ উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালন করেছে।

লেখকঃ  দেলোয়ার জাহিদ, সভাপতি, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব আলবার্টা, কুমিল্লা প্রেসক্লাব ও কুমিল্লা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি।

আরো পড়ুন :আমার জীবন আমার বার্তা -১ 


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান