ক্যামেরা সরিয়ে দিয়ে,স্টাফদের সরিয়ে দিয়ে বারো রোহিঙ্গা নারীর নির্যাতনের কথা শুনলেন বব রে

Sun, Nov 5, 2017 1:32 AM

ক্যামেরা সরিয়ে দিয়ে,স্টাফদের সরিয়ে দিয়ে বারো রোহিঙ্গা নারীর নির্যাতনের কথা শুনলেন বব রে

নতুনদেশ ডটকম: ফুল শ্লিভ শার্ট পরে রিফিউজি ক্যাম্পের ভেতর দিয়ে হেটে যাচ্ছেন বব রে। দুদিনের অবস্থানকালে যতোটা বেশি সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করা, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা নিজের চোখে দেখা তার লক্ষ্য। তিনি হাটছেন আর কথা বলছেন, কথা বলছেন আর হাটছেন। হঠাৎ একজন তার সামনে এসে দাড়িয়ে পরে। ‘তুমি কেন এসেছো এখানে?- সোজা প্রশ্নটা ছুড়েঁ দেয় বব রে’র দিকে।

খানিকক্ষণ আগেই তিনি  কানাডার টেলিভিশন চ্যানেল  সিটিভির সাংবাদিক ড্যানিয়াল হামামদজানকে প্রশ্ন করেছিলেন,’পুরুষরা সব গেলো কই? তাদের কি হয়েছে?” এইবার একজন পুরুষই এসে জানতে চাইলো- তুমি কেনো এসেছো এখানে?

প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বিশেষ এসাইনমেন্ট নিয়ে কক্সবাজারে ছুটে গেছেন বব রে। রোহিঙ্গা শিবির কর্মরত আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিরা শনিবার থাঁকে নিয়ে গিয়েছিলেন একটি ক্যাম্পে, যেখানে কেবল নারীরাই আছে, কোনো পুরুষ নেই। পুরুষ নেই মানে  এই নারীদের জীবনে যে পুরুষ ছিলো, তারা চিরতরে হারিয়ে গেছে মিয়ানমারের সেনাসদস্যদের আক্রমনে, নির্যাতনে। বব রে এক এক করে বারোজন নারীর মুখোমুখি হন। এই সময় তিনি ক্যামেরা সরিয়ে দেন, সরিয়ে দেন অন্যদেরও। কেবল দোভাষী একজন সাথে রাখা হয়। তার পর বারো নারীর কাছ থেকে বব রে শুনে যান মিয়ানমারের সেনাসদস্যদের পৈশাচিকতা, বর্বরতার উপাখ্যান। বারোজন নারীই বলে যান, মিয়ানমারের সেনরা সদস্যদের হাতে পৈশাচিকভাবে ধর্ষিত হবার কথা, সেনাবাহিনীর বিমান থেকে গুলি বর্ষন, বোমা নিক্ষেপের কথা, চোখের সামনে স্বামীকে, স্বজনদের জবাই করে ফেলার কথা।

বব রে হেটেছেন কেবল, কথা বলেছেন। ছোটো ছোটো বাচ্চাদের সাথে মাটিতে পায়ের উপর ভর দিয়ে বসে কথা বলেছেন, হাই ফাইভ দিয়েছেন রোহিঙ্গা বাচ্চাদের। কিন্তু তার মধ্যে  কাজ করছিলো প্রচন্ড এক অস্থিরতা।‘ যা শুনেছি, রাখাইনে যা ঘটেছে, আমি তাকে বলতে পরতাম এগুলো কল্পনার অতীত। কিন্তু দু:খের কথা কি জানো, আমরা এখন এমন একটি পৃথিবীতে বসবাস করি, এগুলোর সবই এখানে কল্পনাযোগ্য ঘটনা। তিনি বলে যান,  কাউকে না কাউকে এর দায় নিতে হবে, জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অবস্থাও কি নাড়া দিয়েছে কানাডার সিনিয়র ব্যুরোক্র্যাট, রাজনীতিক বব রে কে?’ জীবন বয়ে যায়, জীবনকে বয়ে যেতে হয়। কিন্তু কি জানো- এই যে অবস্থা, এই অবস্থায় নয়, জীবনকে বয়ে যেতে হয় এর চেয়ে ভালো অবস্থায়।‘ বব রে বলেন, এই যে জায়গাটা, এই জায়গাটাকে আমাদের অন্তত বাসের উপযোগী করতে হবে। এবং এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ক্যাম্পগুলোর দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, যে কোনো মুহুর্তে ভুমি ধ্বসে পড়তে পারে এই ক্যাম্পগুলোতে, পানি এসে প্লাবিত হযে যেতে পারে। আর রোগ মহামারির আশংকা তো আছেই।

সোমবার বব রে ছুটে যাবেন মিয়ানমারে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে তিনি যা শুনেছেন, নিজের চোখে যা দেখেছেন সেগুলো নিয়েই তিনি কথা বলবেন মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের সাথে। বব রে সবচেয়ে বেশি কথা বলছেন, রোহিঙ্গাদের সাথে আর আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে। বাংলাদেশ সরকার বা সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে তার কোনো ধরনের যোগাযোগ বা আলোচনার খবর পাওয়া যায়নি গত দুই দিনে।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান