মোস্তফা ফারুকীর সিনেমা  ‘ডুব’ এবং আত্মঘৃনা

Mon, Oct 23, 2017 3:15 AM

মোস্তফা ফারুকীর সিনেমা  ‘ডুব’ এবং আত্মঘৃনা

সাহাবুদ্দিন  লাল্টু : হুমায়ুন আহমেদ যত বড় লেখক, আমার মতে, নিজের একটি সাজানো পরিবারকে পদদলিত করে নিজের মেয়ের বন্ধু শওনকে বিয়ে করে তিনি তার চেয়ে অনেক বড় একটি ভুল কাজ করেছেন! আমার বয়স পন্চাশ ছুঁই ছুঁই। কোন এক সুন্দরী রাজী হলেই আমি এ বয়সে এসে তাকে বিয়ে করতে পারি না। কেননা, আমার ১৪ বছরের একটি ছেলে আছে। তার একটি ভবিষ্যত আছে। ক'দিন পর বিয়ে করার বয়স তো তারই এসে যাবে।

শাওনও ভালো একজন অভিনেত্রী। তারপরও আমি বলবো, "শাওন শুধু মাত্র ধন-সম্পদ আর খ্যাতিতে ভাগ বসাতে আর লেখক হিসেবে হুমায়ুন আহমেদের ক্ষমতা ব্যবহার করে রাতারাতি উপরে উঠে যেতেই তার বন্ধুর বাবাকে বিয়ে করেছিলেন!" আমাদেরও কোন একটা সময় যৌবন টগবগ করতো। আর তাই আমরাও জানি, কোন বয়সের ছেলে মেয়েরা প্রেম কিংবা বিয়ে করার জন্য কোন বয়সের কেমন পুরুষ কিংবা মেয়ে মানুষ খোঁজেন। যাই হোক, হুমায়ুন আহমেদ একবারও কি ভেবে দেখেন নি তার স্ত্রী, কন্যা, ও পুত্রের মানসিক অবস্থা কোথায় গিয়ে দাড়াবে? কিভাবে সমাজে তারা চলবেন? হুমায়ুন আহমেদ কিংবা অভিনেত্রী শাওনকে তাদের এ অবিবেচনা প্রসূত কাজের জন্য ঘৃনা করতে মন চাইলো। কিন্তু করলাম না। কারণ, এত বড় লেখক কিংবা অভিনেত্রীকে ঘৃনা আমি করি কিভাবে? কিন্তু মনের কষ্ট লাঘবে ঘৃনাতো কাউকে না কাউকে করতেই হয়। বাধ্য হয়ে তা করার জন্য নিজেকেই বেছে নিলাম!

কিছুদিন আগে ডুব ছবিকে কেন্দ্র করে শাওন থানায় এর নায়কের নামে মামলা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, সে নায়ক তাকে নানা ভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। এর ২/১ দিন পরই হঠাৎ একদিন আমার ফেইসবুক ওয়ালে কোন একটি নিউজ পোর্টালের একটি ভিডিও লিংক খুঁজে পেলাম। পেয়ে সেটি ক্লিক করে দেখলাম। সেটি ছিলো ডুব ছবির কথিত সে নায়কের। তিনি নিজেই সেটি ভিডিও করে তার আইডিতে সম্ভবত: আপলৌড করেছিলেন। কোন মানুষ যে এতটা নোংরা ভাষায় ও অংগ-ভংগীতে দেশের শাওন নামের একজন অভিনেত্রীকে গালাগাল করতে পারেন, তা বিশ্বাস করতে পারলাম না। তিনি শাওনের নামে যেসব কথা বলেছেন, সেসব যদি সত্যিও হয়ে থাকে, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, তিনি ঐভাবে একজন মেয়ে মানুষকে বলতে পারেন না। অবাক হয়ে ভাবলাম, মোস্তফা ফারুকীর মত এমন একজন গুনী নির্মাতা ঐ রকম একজন মানুষকে ডুব ছবির নায়ক বানানোর কথা ভাবলেন কি করে! তার স্ত্রী তিশাও দেশের একজন নামীদামী শিল্পী। এই তিশাই বা ঐরকম একজন মানুষকে তার নায়ক হিসেবে পছন্দ করলেন কিভাবে? এবার মোস্তফা ফারুকী, তিশা এবং ঐ লোকটিকে ঘৃনা করতে ইচছা হলো। কিন্তু এসব গুনী মানুষকে ঘৃনা আমি করি কি করে? তাই এবারও ঘৃনার জন্য নিজেকেই বেছে নিলাম।

নিজেকে বেছে নিলেও মনে মনে ভাবলাম, ঐ লোকের সেই ভিডিও লিংকটি দেখার পর মোস্তফা ফারুকী এবং তিশা কিছুতেই তাকে ডুব ছবির নায়ক আর বানাবেন না। শাওনও মামলা যেহেতু করেছেন, তিনিও তার শেষ দেখে নেবেন। কিন্তু দেখলাম, শেষ পর্যন্ত ঐ লোকই নায়ক হলেন। থানা থেকে ঐ লোকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাও নিতে শুনলাম না। শাওনও এ নিয়ে পিনপতন নিরবতায় চলে গেলেন। উপরন্তু আনিসুল হকের মত এত বড় একজন লেখকের ফেইসবুক ওয়ালে শোভা পেল ডুব ছবির বিভিন্ন লিংক যেখানে দেখা গেল কথিত নায়কের বেহায়া এক মুখমন্ডল! এবার মন ভরে আনিসুল হককে ঘৃনা করতে ইচছা করলো। এবারও ঐ রকম একজন লেখককে ঘৃনা করতে মন সায় দিলো না। ঘৃনা করার জন্য তাই তৃতীয়বারও নিজেকেই বেছে নিলাম!

কিন্তু আমার প্রশ্ন: এভাবে কি সারা জীবন নিজেকে ঘৃনা করেই যাবে? আত্মঘৃনা করবো আর কত কাল?

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাহাবুদ্দিন  লাল্টুর ফেসবুক পোষ্ট


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
External links are provided for reference purposes. This website is not responsible for the content of externel/internal sites.
উপরে যান