‘দু:খী মানুষের জন্য কনসার্ট’: চলছে  ভিন্ন কিছু করার প্রস্তুতি

Thu, Oct 19, 2017 12:03 AM

‘দু:খী মানুষের জন্য কনসার্ট’: চলছে  ভিন্ন কিছু করার প্রস্তুতি

 নতুনদেশ ডটকম: আয়োজকরা নাম দিয়েছেন ‘কনসার্ট ফর জার্নি অব হোপ’। সেই নাম ছাড়িয়ে কনসার্টটি পরিচিতি পেয়ে গেছে ‘দু:খী মানুষের  জন্য কনসার্ট’ হিসেবে। হ্যাঁ, দু:খী মানুষের জন্যই তো এই কনসার্ট। বন্যার্ত মানুষ আর নিজ বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য যে গানের আয়োজন সেটি তো অবশ্যই ‘দু:খী মানুষের জন্য  কনসার্ট।’ সেই কনসার্ট নিয়ে দৌড়ঝাঁপের অন্ত নাই। তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে এই কনসার্টের উদ্যোগ হলেও আয়োজকরা দৌড়াচ্ছেন কমিউনিটিকে একটি স্মরণীয় সন্ধ্যা উপহার দেওয়ার আকাংখা নিয়ে। একটি সন্ধ্যাকে স্মরণীয় করে তোলার প্রত্যয় থেকেই কনসার্টটিকেও তারা সেরা আয়োজন হিসেবে উপহার দিতে চাচ্ছেন।

 কানাডার বাংলাদেশিদের সংগঠন ‘বাংলাদেশি কানাডীয়ান ফাউন্ডেশনের (বিসিএফ) এর ফেসবুক গ্রুপ ‘বাংলাদেশি কানাডীয়ান কানাডীয়ান বাংলাদেশি’ (বিসিসিবি)  এই কনসার্টের আয়োজক। আগামী ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে চারটা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত  ১৯০ রেলসাইড রোডের টরন্টো প্যাভিলিয়নে হবে এই কনসার্ট।

কনসার্টে কারা গান গাইবেন- আয়োজকরা তার ঘোষনা দেননি। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের খ্যাতিমান প্রায় সব শিল্পীই সংযুক্ত হয়েছেন এই কনসার্টের সাথে। এককভাবে তো ভাবেই, শহরের যে কটা ব্যান্ড দল আছে, তারাও আছেন এই কনসার্টে। ‘দু:খী মানুষের’ পাশে দাড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে শহরের সেরা সব শিল্পীরা গাইবেন এই কনসার্টে। মজার ব্যাপার, শিল্পীরাও চান- কনসার্টটি সেরা আয়োজনের স্বীকৃতি পাক। ফলে তারা নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন অনুশীলনে। তারকা শিল্পী আশিকুজ্জামান টুলুর নির্দেশনায় অনুশলীনও চলছে বিরতিহীনভাবে ।

‘কনসার্ট ফর জার্নি অব হোপ’ এর সঙ্গীত পরিচালক শিল্পী আশিকুজ্মামান টুলও যেনো মন প্রাণ ঢেলে দিয়েই সাজাচ্ছেন সব আয়োজন। তিনিও চান ব্যতিক্রম কিছু উপহার দিতে। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো- শহরে তো অনেক কনসার্টই হয়, এই কনসার্টটাকে আমরা আলাদা বলবো কেন? ব্যতিক্রমটা কি করবেন আপনারা?

শিল্পীর পরিষ্কার জবাব- “ অনুষ্ঠান যখন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যের উর্ধ্বে  গিয়ে মানবিক কারনে ঘটে এবং যেখানে নিগৃহীত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর আহবান থাকে, যেখানে শিল্পী, কলাকুশলী, আহবায়ক এবং দর্শক শ্রোতা  সবাই একটা মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে যায় , কোন পারিশ্রমিক না নিয়ে বরং নিজের প্রাপ্য পারিশ্রমিককে সেই মহতী অনুষ্ঠানের জন্য দান করে, তখন সেই অনুষ্ঠানকে অবশ্যই ব্যাতিক্রমি অনুষ্ঠান না বলার কোন কারনই থাকেনা

তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠানে এই শহরের বহু শিল্পী অংশগ্রহণ করছেন সেচ্ছায়, ভালোবাসার তাগিদে, দুঃখী মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর জন্য সুতারাং একে আপনি কি বলবেন?? তবে এই অনুষ্ঠানের সব চাইতে বড় ব্যতিক্রমটা হচ্ছে এটা অনুষ্ঠান কম কিন্তু পারিবারিক একাত্মতার মিলনমেলা বেশী এখানে আমরা একটা বিরাট পরিবার কাজ করছি যারা সবাই এই শহরের আনাচে কানাচে বাস করেন। এখানে আমাদের কাউকে টাকা দিয়ে দেশ থেকে নিয়ে আসতে হয় নাই এখানে আমরাই একশো এখানে আমরা হোলাম “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে”র দল আমাদের বিশ্বাস আমাদের ডাক শুনে এই শহরের বহু মানুষ আসবেন আমাদের হাতে হাত মিলিয়ে মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর জন্য

শিল্পী বলেন, এক প্যাকেট চাইনিজ ফ্রাইড রাইস আর সাথে একটা চিলি চিকেন কিনলেই তো চলে যায় ২০ ডলার, একদিন না হয় আমরা না খেলাম ঐ চাইনিজ ফ্রাইড রাইস আর চিলি চিকেন, তার চেয়ে একটা পরিবার না হয় দুই বেলা পেট ভরে ভাত আর ডাল খাক আমার ঐ ২০ ডলার দিয়ে এখন আপনি বলেন এটা কি ব্যতিক্রমি অনুষ্ঠান নয়।

প্রশ্ন করা হয়েছিলো -  কারা গাইবেন আসলে এই কনসার্টে?  শিল্পী আশিকুজ্জামান টুলুর জবাব,

আমাদের অনুষ্ঠানে নাই কোন নামকরা শিল্পী, নাই কোন নামকরা যন্ত্রী, নাই কোন রঙবেরঙের পোস্টার, নাই কোন ঢাকঢোল তবে যেটা আছে সেটা আর কোথাও আপনি পাবেন না, আর সেটা হলো প্রান খুলে, গলা খুলে গান গাওয়ার কতগুলি মানুষ, যারা আপনাদের ভালোবাসা দিয়ে পাগল করে দিবে বলে আশা রাখি যারা সিন্সিয়ারলি আপনাদের অনেক ভালো ভালো গান শোনাবেন এবং এরা প্রত্যেকে অসাধারণ গাইয়ে হয়তোবা অনেকের ভিড়ে এরা চুপচাপ থাকেন, একটু ইনট্রোভাট টাইপের, বেশী হইচই করেন না কিন্তু এদের একেকজনের ভিতর অনেক আগুন, অনেক প্রতিভা

কনসার্টকে সামনে রেখে শ্রোতাদের  কি কোনো বার্তা দিতে চান ‘কনসার্ট ফর জার্নি অব হোপ’ এর সঙ্গীত পরিচালক? চটপট জবাব, চলেন আমরা দুঃখী মানুষের পাশে গিয়ে দাড়াই

এ তো গেলো গানের আয়োজন নিয়ে কথকতা। এর বাইরেও তো নানা প্রস্তুতি আছে। সেগুলো দেখছেন স্বপন গাজী। তিনিও ছুটছেন আনুষঙ্গিক অন্যান্য প্রস্তুতির কাজ নিয়ে।

দু:খী মানুষের জন্য কনসার্টের আয়োজক প্রতিষ্ঠান বিসিসিবির প্রধান রিমন মাহমুদের মাথায়ও সর্বক্ষণই যেনো কনসার্ট। নতুনদেশের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, বিসিসিবি একটি ভিশন দ্বারা পরিচালিত, তার সব আয়োজনেই একটা ভিশন থাকে, এই কনসার্টেও আছে। আমরা মানুষের পাশে আছি, মানুষের জন্য আছি- এটাই আমাদের ভিশন। তিনি বলেন, কনসার্ট ফর জার্ণি অব হোপ এর টিকেট ধরা হয়েছে ২০ ডলার। এই ডলারটা আসলে দু:খী মানুষের জন্য । একটা ব্যাপার লক্ষ্য করবেন, কনসার্টে আমরা দর্শক শ্রোতাদের মধ্যে শ্রেণী বিভাজন করিনি। ভিভিআইপি, ভিআইপি, সাধারন- এমনতর বিভক্তির রেখা টেনে দেইনি শ্রোতাদের মধ্যে। আমাদের কাছে প্রতিটি দশূক শ্রোতাই ভিভিআইপি, প্রত্যেকেই সমান।

বিসিসিবির কনসার্টের প্রস্তুতির কথা কমিউনিটিতেও যেনো ছড়িয়ে পড়েছে।‘একটা কিছু হবে- ভালো কিছু হবে’- এই বিশ্বাস নিয়েই সবাই অপেক্ষা করছেন- কনসার্টের জন্য।  সেই অপেক্ষার সময়টায় শিল্পী আশিকুজ্জামান টুলুর কথাটাই না হয়- সবাইকে  আবারো মনে করিয়ে দেই- “এক প্যাকেট চাইনিজ ফ্রাইড রাইস আর সাথে একটা চিলি চিকেন কিনলেই তো চলে যায় ২০ ডলার, একদিন না হয় আমরা না খেলাম ঐ চাইনিজ ফ্রাইড রাইস আর চিলি চিকেন, তার চেয়ে একটা পরিবার না হয় দুই বেলা পেট ভরে ভাত আর ডাল খাক আমার ঐ ২০ ডলার দিয়ে


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
External links are provided for reference purposes. This website is not responsible for the content of externel/internal sites.
উপরে যান