রোহিঙ্গা সমস্যাকে আন্তর্জাতিক  করার বিপক্ষে চীন

Sun, Oct 8, 2017 4:06 PM

রোহিঙ্গা সমস্যাকে আন্তর্জাতিক  করার বিপক্ষে চীন

নতুনদেশ ডটকম: চীন রোহিঙ্গা  সমস্যার সমাধান চায়, তবে তারা বিষয়টিকে খুব আন্তর্জাতিক করার পক্ষে নয়। -এই অভিমত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সদস্য ফারুক খান এর। ঢাকার দৈনিক প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি এই অভিমত প্রকাশ করে বলেছেন, চীন এরই মধ্যে প্রস্তাব দিয়েছে যে শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার পর তাদের পুনর্বাসনে সব ধরনের সহায়তা দিতে দেশটি প্রস্তুত রয়েছে।

ফারুক খানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি চীন সফর করে এসেছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম আলো  রোহিঙ্গা ইস্যূতে চীনের ভূমিকা ও মনোভাব জানতে ফারুক খানের মুখামুখি হয়।

ফারুক খানকে প্রশ্ন করা হয়- রোহিঙ্গা ইস্যুতে আপনারা চীন সরকারকে কী বার্তা দিয়েছেন? তাদের মনোভাব কী বুঝলেন?

জবাবে ফারুক খান বলেন,  আমরা চীনের নেতাদের এটা বোঝাতে চেয়েছি যে রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হলে শুধু বাংলাদেশ নয়, এই অঞ্চলের শান্তি নষ্ট হতে পারে। তারাও বিষয়টি স্বীকার করেছে। তারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া ও আমাদের মানবিক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তারা বলেছে, আমাদের সমস্যার ব্যাপারে চীন সজাগ ও সচেতন রয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আমরা কত তাড়াতাড়ি শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন চাই। আমরা বলেছি, আগামী বর্ষার আগেই তা করতে চাই।

প্রশ্ন করা হয়-  রোহিঙ্গা সংকটকে এবার বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরেছে। কিন্তু আমরা দেখছি, সেখানে সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমারকে বাধ্য করা যায়নি। শরণার্থীরা এখনো আসছে। এমনকি রোহিঙ্গা প্রশ্নে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধুদেশগুলোকে সেভাবে পাশে পাচ্ছি না। তাদের অবস্থান স্পষ্টতই মিয়ানমারের পক্ষে। এটাকে অনেকেই কূটনৈতিক সামর্থ্যে ঘাটতি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

জবাবে ফারুক খান বলেন,  কূটনৈতিক সাফল্য বা ব্যর্থতার প্রশ্ন কখন আসে? যখন বিষয়টির কোনো সুরাহা না হয় তখন। কূটনৈতিক উদ্যোগ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এখনই এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তে আসার সুযোগ আছে কি? দেখুন, আমরা বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গেছি। জাতিসংঘে তুলেছি, এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে এ নিয়ে দুই দফা আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। দেশটির এক মন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। মিয়ানমারকে এটা বলতে হয়েছে যে তারা তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে প্রস্তুত আছে। চীন, ভারত বা রাশিয়ার অবস্থান নিয়ে অনেকে কথা বলছেন। কিন্তু দেখুন, এই দেশগুলোও কিন্তু আরাকানে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বা সেখানকার সংকটের কথা স্বীকার করে। শরণার্থীদের কারণে বাংলাদেশ যে চাপে পড়েছে, সেটাও তারা মানে। চীন ও রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দেয়নি। বিশ্বরাজনীতিতে নানা বিবেচনা থাকে এবং কূটনীতিরও নানা পর্যায় রয়েছে। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে দেশটি সন্ত্রাসী হামলার শিকার বলে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, সেটা অনেক দেশ বিবেচনায় নিয়েছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, বাংলাদেশ কোনো দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। কূটনীতি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, আমরা নানা পর্যায়ে কাজ করছি। ফলে এখনই সাফল্য বা ব্যর্থতার প্রশ্ন তোলার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না।

সাক্ষাতকারের বিস্তারিত পড়ুন:  মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
External links are provided for reference purposes. This website is not responsible for the content of externel/internal sites.
উপরে যান