রোহিঙ্গা প্রশ্নে কানাডা সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার কর্মীরা

Sat, Oct 7, 2017 10:51 AM

রোহিঙ্গা প্রশ্নে কানাডা সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার কর্মীরা

নতুনদেশ ডটকম: মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের ইস্যূতে কানাডার ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। ‘রোহিঙ্গা প্রশ্নে কানাডা  'ঘরে এক, বাইরে আরেক’- এই নীতি অবলম্বন করছে কি না তা নিয়েও মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে।

মিয়ানমার সরকারের ব্যবস্থাপনায় সেখানে কর্মরত ১৯ জন কূটনীতিকের সঙ্গে মিয়ানমারে কানাডার রাষ্ট্রদূত ক্যারেন ম্যাকার্থার অংশ নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই প্রশ্ন তুলেছে।

গত সোমবার মিয়ামার ভিত্তিক  ১৯ জন কূটনীতিক রাখাইনের প্রত্যন্ত অঞ্চল পরিদর্শনে যান। মিয়ানমারে কানাডার রাষ্ট্রদূত ক্যারেন ম্যাকার্থার ওই কূটনীতিকদের একজন সফরসঙ্গী ছিলেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, কানাডা এই সফরে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে মিয়ানমার সরকার কূটনীতিকদের এই সফরকে ‘রাখাইনে মানবাধিকার লংঘন হয়নি’ মর্মে তাদের প্রচারনার ‘হাতিয়ার’ হিসেবে  ব্যবহার করতে পারে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কানাডার পরিচালক ফরিদা দিয়েফ সাংবাদিকদের  বলেছেন, যেই পুলিশ এবং আইনশৃংখলা রক্ষী বাহিনী রোহিঙ্গাদের হত্যা নির্যাতন করেছে, তাদের বাড়ী ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে এমনকি নারী ধর্ষন করেছে, তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কূটনীতিকদের সফর কোনোভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়।

তবে কানাডা সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, রাখাইনে কূটনীতিক ,সাংবাদিকদের প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। কাজেই তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সফরে অংশ নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিলো না।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কানাডার সেক্রেটারি জেনারেল আলেক্স নিভি  সাংবাদিকদের বলেছেন,কূটনীতিকরা সবসময়ই সরকারি চ্যানেলে কাজ করেন। কাজেই এই ধরনের ট্যুরে অংশ নেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

কানাডা সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন, মিয়ানমার সরকারের এই ট্যূরের প্রস্তাব গ্রহন করার আগে তারা এর নানা দিক চুলচেরা বিশ্লেষন করেছেন। কূনীতিকরা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং জার্মানীর রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারের সরকার এবং সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সঙ্গে দেনদরবার করেছে। তারা প্রত্যন্ত কোনা গ্রামে যাবে, তাদের একা ওই এলাকা ভ্রমন ও লোকদের সাথে কথা বলতে দিতে হবে। তাদের সাথে কথা বলার জন্য কারো উপর নিপড়ন করা যাবে না। কূটনীতিকদের এইসব শর্তে মিয়ানমার সম্মতি দেওয়ার পরই তারা এই সফরে গিয়েছেন।

জানা যায়, সরেজমিন পরিদর্শন এবং রোহিঙ্গাদের কথা বললেও ১৯ জন কূটনীতিকের দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তার কোনো প্রতিফলন ছিলো না।

হিউম্যান ওয়াচ কানাডার পরিচালক ফরিদা দিয়েফ বলেছেন, কানাডা সরকার সাম্প্রতিক সময়ে যে বিবৃতি দিয়েছে কূটনীতিকদের বিবৃতির অবস্থান সম্পুর্ণ ভিন্ন এবং কানাডার রাষ্ট্রদূত তাতে স্বাক্ষর করেছেন।

ফরিদা দিয়েফ বলেন, এতে মনে হচ্ছে কানাডা সরকার বক্তৃতা বিবৃতিতে যে কঠিন অবস্থানের ঘোষনা দিয়েছেন সেটি আসলে কানাডার জনগনের কাছে তাতের অবস্থান তুলে ধরার জন্য। মিয়ানমারের সংগে তাদের সম্পর্ক একই রকম আছে।  তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বার্তা দেয়।

তবে কানাডা সরকার বলছে, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কূটনীতিকরা রোহিঙ্গা ব্যাপারে কোনো বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে স্পর্শকাতর থাকেন। কারন তাদের সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে কাজ করতে হয়।

 


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
External links are provided for reference purposes. This website is not responsible for the content of externel/internal sites.
উপরে যান