আমরা কি এই ‘সংবর্ধনা সংস্কৃতি’ থেকে বেরিয়ে আসতে পারি না?

Fri, Oct 6, 2017 5:55 PM

আমরা কি এই ‘সংবর্ধনা সংস্কৃতি’ থেকে বেরিয়ে আসতে পারি না?

শওগাত আলী সাগর: প্রতিবছরই জাতিসংঘের সাধারন পরিষদ অধিবেশন চলাকালেই ‘গ্লোবাল সিটিজেনশীপ এওয়ার্ড’ নামে সম্মানজনক একটি পুরষ্কার দেওয়া হয়।এ বছর এই পুরষ্কারটি পেয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

‘গ্লোবাল সিটিজেনশীপ এওয়ার্ড’ নিয়ে যখন জাস্টিন ট্রুডো নিউইয়র্ক থেকে নিজ দেশে ফেরেন- তার জন্য কোনো সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়নি। সংসদে, দলে কিংবা মিডিয়ায়ও এ নিয়ে কোনো উচ্ছাস চোখে পড়েনি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারন অধিবেশনে বক্তৃতা করে, কিছুদিন অবকাশ কাটিয়ে আজ দেশে ফিরছেন। তার জন্য বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত লোকসমাগম করে সংবর্ধনা দেবে। বাড়ীর গৃহকর্তা নিজ বাড়ীতে ফিরবেন- তাকে সংবর্ধনা দিতে হবে কেন? সংবর্ধনা ছাড়াও তো তিনি বাড়ীর কর্তাই।

সংবর্ধনার জন্য যানজটের শহর ঢাকায় বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেলে শহরের অবস্থাটা কি হবে? নাগরিকদের কি অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হবে- সেটা কি সংবর্ধনার আয়োজকরা বিবেচনায় নিয়েছেন? শুনেছি, ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জনগনের দুর্ভোগ না করে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। কি ভাবে সেটা সম্ভব? সংবর্ধনার কারনে দুর্ভোগের শিকার হওয়া মানুষগুলোর মুখ থেকে শেখ হাসিনার জন্য কোনো ধরনের বিরক্তিও যদি বেরিয়ে পরে, সেটিও তো কাম্য নয়।

গত কয়েকদিনে আমাদের সিনিয়র সাংবাদিকদের কেউ কেউ ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে প্রত্যাশা করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হয়তো এই সংবর্ধনা বন্ধ করতে বলবেন। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ফলে ধরেই নেওয়া যায়, সংবর্ধনা হচ্ছে এবং নাগরিকরা  দুর্ভোগের মুখোমুখিও হবেন। এ থেকে যেনো আমাদের কোনো পরিত্রান নেই।

তবু বলি, আমরা কি এই ‘সংবর্ধনা সংস্কৃতি’ থেকে বেরিয়ে আসতে পারি না?

লেখক: শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান