ওমানে কিছু বাঙালী আমাদের শোষন করে খাচ্ছে

Sat, Sep 30, 2017 1:04 PM

ওমানে কিছু বাঙালী আমাদের শোষন করে খাচ্ছে

আওলাদ হোসেন, ওমান : আমি একজন ওমান প্রবাসী। নাম আওলাদ হোসাইন, বয়স ২২। আমার দেশের বাড়ি গাজীপুর। কালীগঞ্জ ছুপাইর হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও পূবাইল আদর্শ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর আমি ওমানে আসি। সবার মতো অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমিও প্রবাসে পাড়ি জমাই।

ওমানে আসতে ভিসা ও টিকেট বাবদ প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়। এখানে এসে দেখি ফ্রি ভিসা কোন কোম্পানির ভিসা নয়। আর ওমানে ফ্রি ভিসায় অনেক সমস্যা। যারা আসে শুধু তারাই জানে। আসল কারণ এখানে ফ্রি ভিসায় আপনি বাইরে কাজ করতে পারবেন না। পুলিশের হাতে ধরা পড়লে জেল, দেশে পাঠিয়ে দেবে। আসার তিন মাস পর কাজ দেবে বললেও আমি কাজ পাইনি।

আমাকে যে ওমান এনেছে তার নাম মাসুদ। তার কাজ হচ্ছে এটাই, দেশ থেকে নানা মিথ্যা কথা বলে মানুষ আনা। আর এখানে আসার পর সব উল্টা। যে তিনটা মাস আমি কাজ ছাড়া বসেছিলাম, ঠিকমতো খাবার দেয় নাই সে।

তারপর একদিন এক সাপ্লাই কোম্পানিতে নিয়ে কাজ দিলো। বলেছিলো দুই মাস পর বেতন দেবে। যা হোক, কাজে লাগলাম। অনেক কষ্টের কাজ, এমন কাজ আমি জীবনে প্রথম করি। কী করবো! টাকার টেনশন করি।

এভাবে দুই মাস চলে গেলো। বাংলাদেশ থেকে আসার সময় হাত খরচের জন্য পাঁচ রিয়াল দিয়েছিলো, তা কোনরকম এক মাস চলে গিয়েছিলো। দুই মাস পর ফোন দিলাম বেতনের জন্য। মাসুদ বলে আগামী মাসে দেবে। এভাবে আগামী মাস বলে বলে ছয় মাস চলে গেলো, আমাকে একটা টাকাও দিলো না।

এখন আমি বলি আর কাজ করবো না। কাজ করে লাভ কী? নিজে কষ্ট করি, দেশের বাড়িতে পাওনাদারেরা এসে টাকা চায়। তা নিয়ে অনেক ঝামেলা।

তারপর সাত মাস পর এক মাসের বেতন দিলো। তখন কোম্পানির কাজ ফেলে চলে আসলাম ওই মাসুদের কাছে। এখন সে খাবার দেয় দিনে একবেলা, বেতনের কোন নামই নাই। এভাবেই চলছে আমার জীবন।

শুধু আমি একা নই, এখানে আমার সঙ্গে আরও অনেক বাংলাদেশি লোক আছে যাদের একই অবস্থা। দয়া করে আমার এই কথাগুলো নিউজ করে দেবেন, যাতে মানুষ জানতে পারে আমারা কতটা কষ্টে আছি। আর এদেশে কিছু বাঙালি আমাদের শোষণ করে খাচ্ছে, তাদের মুখোশটা খুলে দেন।

 

আল্লাহর কাছে অনেক দোয়া করি, আল্লাহ যেন এই দুষ্ট মানুষগুলোর বিচার করে। আমারা এদেশে পঞ্চাশ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাজ করে এতো কষ্ট করে একটা টাকাও পাই না। আমারা যতটা কষ্টে আছি তার চেয়ে বেশি কষ্টে আছেন আমাদের মা-বাবা, কারণ বাংলাদেশে অনেক টাকা দেনা করে প্রবাসে এসেছি।

লেখকের ই-মেইল: mdawolad30@gmail.com


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
External links are provided for reference purposes. This website is not responsible for the content of externel/internal sites.
উপরে যান