বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সোনার পাথরবাটি

Mon, Mar 1, 2021 10:42 PM

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সোনার পাথরবাটি

আহমেদ আবদুল্লাহ চৌধুরী: আইউবের কালাকানুন, চুয়াত্তরের কালো আইন, জিয়া- এরশাদ সামরিক রেজিমের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের গণ্ডা গণ্ডা অধ্যাদেশ, খালেদা- জামাত রেজিমের ৫৭ ধারা হয়ে আজকের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এর সবগুলোই শুধুই অধিকার হরণের নয় প্রাণঘাতী হিসাবেও বার বার দৃষ্টান্ত রেখেছে।

 বাংলাদেশে আসলে গণতন্ত্র কোন কালেই ছিলনা। তবে গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষায় ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁকে আন্দোলন সংগ্রাম “সংঘটিত হয়েছিল। সেইসব এখন শুধুই অতীত স্মৃতি কারো কারো জন্য রোমন্থনের জাবর কাটা.  কারণ দীর্ঘদিন হয়ে গেল গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশে সত্যিকারের গণ সম্পৃক্ত কোন আন্দোলন সংগ্রাম নাই। গণসম্পৃক্ত শক্তিশালী গণ আন্দোলনের কারনেই জনগণ ইতিহাসের কোন কোন সময় কোন কোন ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় কিছু কিছু গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করেছে মাত্র। সেগুলি রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দান ছিলনা, আন্দোলনের তীব্রতা থেকে প্রাপ্তি ছিল। গণ আন্দোলন সফল হওয়ার সাথে সাথে জনগণের সেইসব গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগের সুখসময়েরও  সমাপ্তি ঘটে গেছে। সেটা ৯০ এর সফলতা বলেন বা তারও আগের ৫০, ৬০ দশকের কথা বলেন অথবা ৯০ পরবর্তী ছোট খাটো সব সফলতার কথা বলেন। সবক্ষেত্রেই সফল আন্দোলনের অব্যবহিত পরেই রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সমূহ তাঁর নিপীড়ন মূলক ভূমিকায় দ্রুত ফেরত গেছে।

 মাঝে মাঝে বি এন পি বা তাঁদের পন্থি কেউ কেউ দেখি খেদোক্তি করেন জামাত- বি এন পি শাসনামলে প্রথম আলো এই শিরোনামে সংবাদ করেছিল, সেই শিরোনামে প্রতিবেদন করতে পেরেছিল, অমুক ভট্টাচার্য ওইরকম কার্টুন আঁকতে পেরেছিল তাঁরা এখন কোথায়? এতো এতো কিছু চারপাশে ঘটছে এখন কেন তাঁরা সেইরকম নিউজ, কার্টুন করেনা। আরে ভাই এটা আপনার খালেদা রেজিমের সহনশীল উপহার ছিলনা। তৎকালীন বিরোধী দল একটা আন্দোলন জারী রেখেছিল যাতে কম বেশি জন সম্পৃক্ততা ছিল বলেই প্রথম আলো সহ কিছু সংবাদ মাধ্যম একটু সাহসি (?) আচরণ করতে পেরেছিল। তা না হলে কার্টুন কাণ্ডে  প্রথম আলোর মেরুদণ্ডের অবস্থা মনে করে দেখুন। ২০০৭ সালে উপদেষ্টা মইনুলের নেতৃত্বে বায়তুল মোকারমের খতিবের পায় ধরে ক্ষমা চাওয়ায় আর কার্টুনিস্ট আরিফকে পুলিসের হাতে তুলে দেয়ার সময়।

তাই বলি যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষন আশ, রাষ্ট্র ক্ষমতার জন্য আন্দোলনের সময় জন সম্পৃক্ততা বাড়ান, তাঁদের বিষয় গুলি সামনে নিয়ে আসেন, কপটতা পরিহার করুন। অধ্যাপক হুমায়ূন আজাদ, অভিজিত, দীপন, ওয়াশিকুর বাবু, রাজিব সহ ব্লগার হত্যাকাণ্ডে চুপ থাকবেন, পাহাড়ে সমতলে সংখ্যালঘু নির্যাতনে চুপ থাকবেন, ঘৃণা- বিদ্বেষের বেপারী ওয়াজি মৌলভিদের মেহফিল ভারী করবেন। ধর্মীয় অধিকার বলতে শুধু নিজেরটা বুঝবেন। শুধু মুশতাক, আবরার হত্যায় প্রতিবাদ করবেন, বেছে বেছে কতিপয় গুম খুনের প্রতিবাদ করবেন এ দিয়ে আন্দোলন হয়না জন সম্পৃক্ততা হয়না। সিলেকটিভ প্রতিবাদের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসুন,  আমরা স্বল্পকালীন হলেও কিঞ্চিৎ গণতান্ত্রিক অধিকারের স্বাদ গ্রহণ করি। যদিও জানি, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় আন্দোলনের সফলতার সাথে সাথে অধিকারের ও সমাপ্তি ঘটে যাবে।

লেখকের ফেসবুক পোস্ট থেকে


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান