আমার দেশকে এত সীমাহীন অন্ধকার কিভাবে গ্রাস করল?

Mon, Nov 30, 2020 1:40 PM

আমার দেশকে এত সীমাহীন অন্ধকার কিভাবে গ্রাস করল?

মো. ফায়েজুল করীম: করোনাকালীন সময়ে হঠাৎ করেই উৎসুক বশত আমি ফেসবুক ভিডিও এবং ইউটিউবে বাংলাদেশের হযরত, মাওলানা, আল্লামা, মুহাদ্দেস, শায়েখুল হাদিস, মুফতি, মাদানী, হেলিকপ্টার, আহলে হাদিস, আব্বাসী, চরমুনাই, বাগদাদী, জৈন পুরী, দরছে বুখারী, তাহেরী, আজাহারী, কুয়াকাটা, আহলে সুন্নী, কাদিরী, চিস্তি, নকশবন্দি, মুজাদ্দিদী মুহাম্মদী, সাহেব কিবলা, ইত্যাদি নানা রকম বিশেষণ লাগানো হুজুরদের ওয়াজ শুনতে শুরু করি। গত আট-নয় মাসে প্রায় শ’পাঁচেক ওয়াজ বা বক্তব্য শুনলাম। প্রথমে অল্প শুনতে শুনতে ক্রমেই আগ্রহ অনেক বেড়ে গেল। মনে হলো সম্পূর্ণ অজানা এক জগতে ঢুকে  পরলাম। যদিও চৌদ্দ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে আসার পূর্বে কোন কোন বছর গ্রামে ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত থাকতাম। কিন্তু মনে হলো এখনকার গুলি ভিন্ন রকম।

আস্তে  আস্তে আমার প্রতিদিনের বইপড়ার বদ (?) অভ্যাসটাও বাদ পরে গেল। এমন হলো যে গত দুই-তিন মাস যাবৎ কাজে যাতায়াতের (বাস ও সাবওয়ে) চার ঘন্টার  সময়টাতে আগে যে বই পড়তাম এখন প্রায় সময়টাই ওয়াজ শুনি ।

এইসব ওয়াজগুলি কেন আমাকে এত আকৃষ্ট করল যে আমি প্রায় যেন মোহাবিষ্ট হয়ে পরলাম? আসলে আমি হেদায়েত প্রাপ্তির আশা নিয়ে শুনতে শুরু করিনি। হয়ত “নিয়তের উপর কর্মের ফলাফল” এই হাদিস অনুসরণ না করাতেই আজকে আমার এই অধঃপতন বা দুর্গতি।

যাক এতক্ষণ ওয়াজের পর মূল কথায় আসি। অল্প কয়েকজন বাদ দিয়ে সবার বক্তব্য শুনে আমি চিন্তা করি এতগুলি বছর এরা মাদ্রাসা, কওমী মাদ্রাসা, আলীয়া মাদ্রাসা, দওবন্দ, কলেজ বা দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের   কোরআন-হাদিসের উপর  পড়াশুনা করে

এসব কি বলছে? সুন্নতী পোশাক ও লেবাস পরে হাজার হাজার মানুষের সামনে এরা কি ভাবে ধর্মের নামে এসব কথা বলতে পারে? বানানো আজগুবি  গল্প, কাহিনী, মিথ্যাভাষণ, গালাগালি, বিদ্বেষপূর্ণ উক্তি, খুন-হত্যার হুমকি, অন্যকে  চরম অসম্মান করা, অন্য ধর্মের লোকদের প্রতি সীমাহীন ঘৃনা প্রকাশ, সাংসদের তুই তুকারী, দেশের শিক্ষিত মানুষদের মূর্খ বলা, বিশ্ববিদ্যালয় গুলিকে পতিতালয়ের সাথে তুলনা করা, নারীদের নির্ধিদায় পতিতা বা বেশ্যা বলা, এই সব তো খুবই সাধারণ ।  এক একজনের পুরো বক্তব্যের অর্থ আরো মারাত্মক । বর্তমানকালে পৃথিবীর কোন একটি দেশের এতোগুলি ওলামা নামধারী ব্যক্তি এরকম মনোভাব পোষণ  করতে পারে আর তা এইভাবে বিরাট জন সম্মুখে উচ্চস্বরে বলতে পারে তা নিজে না দেখলে বা শুনলে আমি কখনো বিশ্বাস করতে পারতাম না।

আমার দেশকে এত সীমাহীন অন্ধকার কিভাবে গ্রাস করল? এতটা বাস্তবতা বিবর্জিত, সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক, অমানবিক, সাম্প্রদায়িক, রাষ্ট্র বিরোধী, নির্লজ্জ প্রকাশ কি করে সম্ভব? এরই মাঝে আশ্চর্যজনক ভাবে কতিপয় খুবই মার্জিত, ভদ্র ও সুসভ্য । সংখ্যায় এরা কম হলেও সত্যিকার অর্থেই এরা মানবের (পৃথিবীর) কল্যাণকামী ।

চরম অন্ধকারে এইসব ক্ষুদ্রতর বিন্দুসম আলোগুলি দিনে দিনে উজ্জ্বলতর হউক।তা নাহলে তমসাচ্ছন্ন এক ভবিষ্যতের দিকেই যাত্রা অব্যাহত থাকবে।

লেখক: মো: ফায়েজুল করীম, বাংলাদেশ কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (বাকসু) সাবেক ভিপি।

লেখকের ফেসবুক পোষ্ট


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান