দুর্নীতির চিত্রটা কেবল পিয়ন, ড্রাইভারের ’ফ্যান্টাসি’ গল্প নয়

Mon, Sep 21, 2020 12:59 AM

দুর্নীতির চিত্রটা কেবল পিয়ন, ড্রাইভারের ’ফ্যান্টাসি’ গল্প নয়

শওগাত আলী সাগর: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ড্রাইভার আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট’ অভিযোগটা কি বোঝার চেষ্টা করছিলাম বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টগুলো পড়ে। সরকারি একটি অফিসের ড্রাইভার কিভাবে এতোটা প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারেন- তার কোনো ইঙ্গিত অত্যন্ত পাওয়া যায় কী না সেদিকেও নজর ছিলো। একটি পত্রিকায়ও বাড়তি কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ’ব্রিফড রিপোর্টের’ বাইরে আর কোনো তথ্য কোনো পত্রিকায় চোখে পড়েনি।

গ্রেফতার হওয়া ড্রাইভার মালেক তার চাকুরী জীবনের  ৩৮ বছরে ঢাকায় যে বিশাল সহায় সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন তার বিবরন প্রকাশ করেছে প্রায় সবকটি পত্রিকাই। সেই হিসাবটা অবশ্যই র‌্যাবের ব্রিফিং এ যা বলা হয়েছে সেই অনুসারে। যদিও মালেকের বোন বলেছেন, ’র‌্যাবের দেয়া হিসাব ঠিক না। মালেকের সহায় সম্পত্তির বিবরণী দুর্নীতি দমন কশিমনে দেয়া আছে।’ তার মানে কি দুদকও মালেকের ব্যাপারে তদন্ত করছে? দুদকের তদন্তে কি পাওয়া গেছে সেই হিসাবটা পত্রিকাগুলো প্রকাশ করতে পারে। দুদকে জমা দেয়া মালেকের হিসাব বিবরণীটাও আলোচনায় আসতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সরকারি একটি সংস্থার সামান্য একজন ড্রাইভার কিভাবে এতো সম্পত্তি অর্জন করেন। এই সম্পত্তি কি তার ড্রাইভারী জীবনের ৩৮ বছরের ফসল? নাকি বিশেষ কোনো একটি সময়ে তিনি এভাবে ফুলে ফেঁপে উঠেছেন? এই যে এতোগুলো ভবনের তিনি মালিক বলে বলা হচ্ছে- সেগুলোর নিশ্চয় অনুমতি নিয়ে বানাতে হয়েছে। যারা এই ধরনের ভবন বানানোর অনুমতি দেন- তারা কি আয়ের উৎস কিংবা বিনিয়োগের উৎস সম্পর্কে  জানতে চান? এতোগুলো ভবন তৈরির পর সেগুলোর প্রয়োজনীয় ট্যাক্স পরিশোধ কি করা হয়েছে? তারা কি এই ভবনগুলোর ব্যাপারে সন্তোষ্ট ছিলেন?

”এত সম্পদের মালিক কি করে হলেন গাড়িচালক? জানতে চাইলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, তিনি বরাবর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ চিকিৎসক নেতাদের আনুকূল্য পেয়েছেন।”- মিডিয়ার এই বিবরন ড্রাইবার মালেক উপাখ্যানের এক  চমকপ্রদ অংশ। একজন ড্রাইভার ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ চিকিৎসক নেতাদের আনুকূল্য পেয়েছেন’ বলে তদন্ত কর্মকতাদের উদ্ধৃতি দিয়ে মিডিয়া আমাদের জানাচ্ছে। সেই উর্ধ্বতন কর্মকতা, চিকিৎসক নেতা কারা? এই প্রশ্নটি মিডিয়া করেছেন বলে কোনো তথ্য কোনো রিপোর্টে পাওয়া যায় নি।তবে এখন তারা এই প্রশ্নটি করতে পারেন। এখন এই প্রশ্নটি করা উচিৎ।

স্বাস্থ্যখাত বা বাংলাদেশের দুর্নীতির  চিত্রটা যে ‘পিয়ন-চাপরাশি আর কেরানীর ফ্যান্টাসি গল্প’ কেবল  নয়- এইটুকু অস্বীকার করলে দুর্নীতিকে সহায়তাই করা হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে পিয়ন চাপরাশির বাইরে আর কোথাও র‌্যাবের  দুর্নীতি বিরোধী অভিযান পরিচালিত হয় না। বিদেশে অর্থপাচারকারীদের কেউ কিন্তু কখনো গ্রেফতার হয় না।

আমরা চাইবো- ড্রাইভার মালেক যে সব চিকিৎসক নেতা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আনুকূল্য পেয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান পরিচালিত হউক,সেই চক্রটার মুখোশ উন্মোচিত হউক।

লেখক: শওগাত আলী সাগর, নতুনদেশ এর প্রধান সম্পাদক।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান