হায়েফা ও ডা. রুহুল আবিদের মানবসেবা

Sun, Sep 20, 2020 1:30 PM

হায়েফা ও ডা. রুহুল আবিদের মানবসেবা

ওমর শাহেদ : কয়েক বছর ধরেই নোবেল পুরস্কার নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক। বিতর্কের ঝাঁজ এবার যেন আরও বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়ায়। বিশ্বজুড়ে এই খবর নিয়ে বেশ তোলপাড় হলেও বাংলাদেশিদের জন্য আশার খবর নিয়ে এসেছেন একজন বাংলাদেশি। চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়া ২১১ জনের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি-মার্কিন চিকিৎসক রুহুল আবিদ। বিভিন্ন সময় মানবসেবায় অবদান রাখা এই মানুষটিকে নিয়ে বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা এ বছর কিছুটা বেশি বলা যায়।

রুহুল আবিদের ডাক নাম লিখন। পাবনার ছেলে হলেও বড় হয়েছেন চট্টগ্রাম ও ঢাকায়। বাবা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। কলাবাগানে থাকার সূত্রে স্কুলপর্ব চুকিয়েছেন ধানমণ্ডি বয়েজ স্কুলে। ১৯৭৯ সালে ঢাকা কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি শেষ করে স্বপ্ন পূরণের পথে হাঁটেন। খুব একটা মসৃণ পথ না হলেও পিছু হটেননি কখনোই। ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। সেদিনই শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের মানুষের মনে আশার আলো জাগানোর স্বপ্ন।

হায়েফা

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার কথা দেশের মানুষ ভোলেনি। দুর্ঘটনার শিকার পরিবারগুলোর দুর্দশার দিন ফেরেনি। সেই দুঃসহ ঘটনায় আপনজন হারানোর স্মৃতি এখনো তাদের তাড়া করে ফেরে। এই দুর্ঘটনা রুহুল আবিদকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। পোশাক শ্রমিকদের সাহায্য করার জন্য সংগঠন তৈরির কথা ভাবেন তিনি। ২০১১ সালে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে পড়ার সময় ডা. রোজমেরি দুদার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। ২০১২ সালে গড়ে তোলেন ‘হায়েফা’ (হেলথ অ্যান্ড এডুকেশন ফর অল)। উত্তরায় এই সংস্থার একটি অফিসও রয়েছে। পোশাক শ্রমিকদের ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিস, অপুষ্টি, প্রেগন্যান্সি, টিউবারকোলোসিসের মতো বিভিন্ন অসুখ নিয়ে হায়েফা কাজ শুরু করে। কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকদের সহায়তায় বেশ কয়েক বছর আগে হায়েফা নিয়ে আসে ‘নীরোগ’ নামের একটি ডিজিটাল উদ্যোগ। এই উদ্যোগটি তৈরিতে সাহায্য করেছিল ঢাকার সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি ‘অ্যাপ্রোসফট’। এর নকশা করেছিলেন ডা. আবিদ ও তার দল। সৌরবিদ্যুৎ পরিচালিত, অফলাইনে ব্যবহার করা যায় এমন মোবাইল ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড (ইএমআর) সিস্টেম। এই সিস্টেমের সাহায্যে রেজিস্ট্রেশন, উচ্চতা ও ওজন, উচ্চ রক্তচাপ এবং আঙুলের সাহায্যে ব্লাড সুগার ও হিমোগ্লোবিন মাপার জন্য হায়েফা চারটি স্টেশন তৈরি করে। প্রতিটি স্টেশন আলাদাভাবে ইএমআর দিয়ে পরিচালনা করা হতো। নীরোগের মাধ্যমে প্রতি রোগীর আলাদাভাবে তথ্য সংগ্রহ করা যেত। সবার জন্য আলাদা বারকোডসহ একটি ডিজিটাল হেলথ কার্ড সিস্টেম চালু করা আছে। এক কথায় পোশাক শ্রমিক রোগীদের বিশাল এক ডাটাবেজ গড়ে তুলেছে নীরোগ। এসব তথ্য ক্লাউডের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো জায়গায় দেওয়া যেত। প্রতিষ্ঠার মাত্র ১ বছর পরেই হায়েফা ২৫,০০০ পোশাক শ্রমিকের তথ্য সংগ্রহ করে নীরোগ-এর মাধ্যমে। গত তিন বছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ত্রিশ হাজার পোশাক শ্রমিককে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। এর পাশাপাশি নয় হাজারের কাছাকাছি নারী ও পোশাক শ্রমিকের জরায়ু ক্যানসার স্ক্রিনিং ও চিকিৎসাসেবা দিয়েছে হায়েফা। পোশাক শ্রমিকদের জন্য নীরোগ-এ আরও আধুনিক প্রযুক্তি যোগ করা হয়। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা বেড়ে গেলে হায়েফা সেদিকে মনোযোগ দেয়। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানকারী মানুষদের বিভিন্ন অসুখে চিকিৎসা প্রদান শুরু করে।

 

হায়েফা শুরু হয়েছিল রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর। শুরুতে ৩টি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। কাজ করতে গিয়ে নানা বিরূপ অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে হায়েফার সদস্যরা। দেখেছে কীভাবে কারখানার মালিকরা খারাপ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শ্রমিকদের কাজে বাধ্য করে। শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য সমস্যা ক্রমেই বাড়ছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করলেও তাদের মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছিল না। বদ্ধ জায়গায় কাজ করতে গিয়ে শ্বাসকষ্ট ও কানেও দেখা দিচ্ছিল নানা সমস্যা। না বোঝার কারণে তারা চিকিৎসা নিতেও আগ্রহী হয় না। ফলে না বুঝেই তাদের আক্রান্ত হতে হচ্ছে দীর্ঘদিনের অসুখে। অথচ এসব সমস্যার সমাধান রয়েছে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা উপকরণের বাধ্যতামূলক ব্যবহার ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায়। তাদের নিয়মিত চিকিৎসা দিয়ে হায়েফার চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো জানিয়েছেন ও সমাধানে উদ্বুদ্ধ করছেন। কাজ করতে গিয়ে তারা জেনেছেন পোশাক খাতের ৬৫ ভাগই নারী শ্রমিক, মোট শ্রমিকের ২ শতাংশের শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে, ৩ শতাংশ ডায়াবেটিসে ভোগেন, ৮ শতাংশের রোগটি হতে চলেছে এবং ৭ শতাংশের উচ্চ রক্তচাপ আছে। প্রতি মাসে ডা. আবিদের অলাভজনক সংগঠনটি গড়ে একশ’র বেশি মানুষের চিকিৎসা করে।

 

শুধু পোশাক শ্রমিকই নয়, রিকশাওয়ালাদের নিয়েও কাজ করেছেন ডা. আবিদ। ২০১৬ সালে কাজ করতে গিয়ে জেনেছেন কেবল ঢাকাতেই রয়েছে নিবন্ধিত ৮০ হাজার রিকশা। প্রতিটিতেই কাজ করছে ২/৩ জন শ্রমিক। অন্তত দুই লাখ মানুষের এ খাতে সাধারণ সংক্রামক ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগের চিকিৎসা করতে সে বছরের নভেম্বরেই একটি প্রকল্প হাতে নেয় হায়েফা। তাদের বিনা খরচে স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি আছে ইলেকট্রনিক হেলথ কার্ড বিতরণ। প্রায় ১২শ’ রিকশাওয়ালা কার্ডের মাধ্যমে সেবার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

 

এই বছরের শুরুর দিকে এসে ব্রাউন ইউনিভার্সিটি আর আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা ‘হোপ’-এর সঙ্গে মিলে কাজ শুরু করেছে হায়েফা। করোনা মোকাবিলায় এ পর্যন্ত দেড় হাজারেরও বেশি মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে হায়েফার পক্ষ থেকে, সাহায্য করা হয়েছে ১২০০ এর বেশি মানুষকে। এছাড়াও পিপিই, কেএন-৯৫ মাস্ক, পালস অক্সিমিটার ও ইনহেলার সংগ্রহ করতেও কাজ করেছে হায়েফা। এসব কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ডা. আবিদ এবং হায়েফা ২০১৮ সালে গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জস কানাডার ‘স্টারস ইন গ্লোবাল হেলথ’ পুরস্কারও পেয়েছে।

 

স্বাস্থ্যসেবায় নানা কাজ

 

বিদেশে থাকলেও দেশকে কখনোই ভুলে যাননি ডা. আবিদ। হায়েফা ছাড়াও আরও বেশ কিছু কাজ করেছেন তিনি। এক কথায় রোগসংক্রান্ত নানা সেবায় তিনি পৌঁছেছেন দেশের দরিদ্র মানুষদের কাছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানী হওয়ায় হৃৎপিন্ডের রক্তনালির নানা রোগ ও অসংক্রামক রোগ নিয়েই কাজ করেছেন বেশি। রুহুল আবিদ ডা. ডুডার সঙ্গে মিলে হৃৎপিন্ডের রক্তনালি, স্তন ও জটিল ক্যানসার রোগের ওপর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, বিএসএমএমইউ’র দি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজে বক্তব্য ও সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। মানুষদের সচেতনতার কাজ করেছেন দীর্ঘদিন ধরে। এ দেশের না হয়েও ডা. আবিদের সঙ্গে থেকে বাংলাদেশের বিষয়গুলোকে সব সময় গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন ডা. ডুডা। বারডেমে রোগীদের সচেতনতা ও চিকিৎসা নিয়ে বক্তৃতাও দিয়েছেন তিনি। দুজনে মিলে এমনভাবে স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করেছেন যেন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রকল্পগুলো নিজেরাই চলতে পারে।  

 

শিক্ষা ও ভালো স্বাস্থ্যের মাধ্যমে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছেন ডা. আবিদ। শিল্পশ্রমিক ও বস্তির মানুষদের জীবনযাপনের মান উন্নত করছেন। ছোট ছোট পুষ্টি ও স্বাস্থ্য শিক্ষা দিয়ে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের জীবনযাপনে স্থায়ী উন্নতি ঘটাচ্ছেন। কাজের স্থানে স্বাস্থ্যসেবা, মোবাইল ফোন নির্ভর এম-হেলথ (মাতৃস্বাস্থ্যসেবা), ইএমআর সফটওয়্যারে বিভিন্ন টেস্টের ফলাফল ও সেবার সমন্বয় করছেন তিনি। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকরা যেন ভালো বোধ করে সেজন্য কাজের সুস্থ পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছেন, মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করছেন, পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুস্থ জীবনের প্রতি আগ্রহ তৈরি করছেন। উভয়পক্ষকেই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, সুস্থ কর্মশক্তি কর্মদক্ষতা বাড়ায়, মালিকের ক্ষতি কমায়। কাজ করেছেন ময়মনসিংহের বাকুলিয়ার এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেড, গাজীপুরের কলম্বিয়া গার্মেন্টস লিমিটেড, আভান্ট গার্মেন্টস লিমিটেড ও অন্যান্য শিল্পকারখানাগুলোতে। সর্বশেষ তারা ২০১৯ সালে সাভারের আমান গার্মেন্টসের ২ হাজার ৪৭৩ জন কর্মীকে বিনা খরচে রোগের পরীক্ষা, চিকিৎসা ও ফলোআপ করেছেন। কোন ধরনের সমস্যায় শ্রমিকরা বেশি আক্রান্ত হন সেসব বিষয়ে তথ্যাবলি সংগ্রহের ফলে পরবর্তী সময়ে সে অনুযায়ী কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প শুরু করতে তাদের সুবিধা হবে।

 

শরণার্থীদের জীবনে শান্তির দূত

 

২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে রোহিঙ্গাদের মধ্যে কাজ করছে হায়েফা। এজন্য প্রথমে ম্যাসাচুসেটসের একটি মসজিদ থেকে ৭ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান পেয়েছিল তারা। এ টাকায় একমাস চলবে এমন হিসাব করে কক্সবাজারে একটি বাঁশের ঘর বানিয়ে ১টি ও পরে আরও ১টি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করেছেন তারা। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ১১ জনের দুটি দল থাকে কুতুপালং ও বালুয়াখালীতে। এই কাজের জন্য তাদের আছেন মোট ৪ জন চিকিৎসক, ৬ জন নার্স ও প্যারামেডিকস, ৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২ জন আইটি সহযোগী। প্রতি মাসে গড়ে মোট ৭ হাজার রোগীকে চিকিৎসা দেন তারা। সপ্তাহে আড়াইশ থেকে ৩শ’ রোগী দেখেন। ২০২০ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ৪৫ হাজার রোগীর চিকিৎসা করেছে হায়েফা। তাদের জন্যও আছে নীরোগ-এর মাধ্যমে এএমআর ব্যবস্থায় চিকিৎসাদান, বিনা খরচে সব ধরনের চিকিৎসা ও ওষুধ। করোনাভাইরাসের চিকিৎসাও দেন এখানে হায়েফার স্বেচ্ছাসেবীরা।

 

ডা. আবিদের পেশাজীবন

 

মেডিকেল থেকে পড়ালেখা শেষ করে পেশাজীবনে ছিলেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। ১৯৮৬ সালে উচ্চ রক্তচাপের রোগগুলোর ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণসহ ডক্টর অব মেডিসিনে ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বিশ্বজুড়ে পিএইচসি (প্রাইমারি হেলথ কেয়ার) প্রকল্পের দেশীয় প্রধানও ছিলেন তিনি। গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছেন দেশের মানুষের হৃৎপিন্ডের রক্তনালিগুলোর চিকিৎসা ও মাতৃস্বাস্থ্য যতেœ। ১৯৯৩ সালে জাপান গিয়ে মলিক্যুলার বায়োলজি ও বায়োকেমিস্ট্রিতে ডক্টরেট ডিগ্রি নেন। ১৯৯৭ সালে আণবিক জীববিদ্যা ও প্রাণরসায়নে পিএইচডি লাভ করেন জাপানের নাগোইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব সায়েন্স থেকে। ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। স্তন ক্যানসারের ওপর পোস্ট ডক্টরাল প্রশিক্ষণ নেন যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ‘এলএসইউ মেডিকেল সেন্টার’ থেকে। যোগ দেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল স্কুলে। এখানে ‘ইন্সট্রাক্টর’ পদে যোগ দিয়ে ২০০২ সালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে সত্যিকারের পেশাজীবনের শুরু হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা শিক্ষা হাসপাতাল ‘বেথ ইসরায়েল ডিকোনেস মেডিকেল সেন্টার’ থেকে মানবদেহের রক্তনালির ওপর ফেলোশিপ করেন। ২০০৬ সালে সহকারী অধ্যাপক হন। ডা. আবিদ ২০১১ সালে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্রাউন মেডিকেল স্কুল’-এ সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এখানেই বর্তমানে ব্রাউন ইউনিভার্সিটি অ্যালপার্ট মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক হিসেবে কার্ডিওভাসকুলার নিয়ে কাজ করছেন। ২০১২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত স্কুলের মেডিকেল ফ্যাকাল্টি এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল (চিকিৎসা শিক্ষকদের নির্বাহী কমিটি)’র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রুহুল আবিদ রোড আইল্যান্ড হাসপাতালের কার্ডিওভাসকুলার রিসার্চ সেন্টারের কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি বিভাগের প্রধান গবেষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ‘সিভিআরসি’ বিভাগে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ভাসকুলার বায়োলজি’ (জীববিজ্ঞানের রক্তনালি শাখা)।

 

ডা. আবিদের পেশাজীবন বিস্তৃত ভাসকুলার বায়োলজি, কার্ডিওভাসকুলার (হৃৎপি-ের রক্তনালি) রোগ ও স্নাতক এবং মেডিকেলের ছাত্রছাত্রীদের পড়ানোর ক্ষেত্রগুলোতে। বিজ্ঞানের মৌলিক শাখাগুলোর মধ্যে মেশিনিজম অব করোনারি সার্কুলেশনে গবেষণাতেও তার বেশ আগ্রহ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে গরিবের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানে নানা কাজ ও শিক্ষার্থীদের পড়ানো মিলিয়ে পেশাজীবন সমন্বয় করেছেন। গবেষণা করেছেন হৃৎপি-ের রক্তনালির শিরাগুলোর চিকিৎসা প্রদান নিয়ে। কাজ করেছেন ভাসকুলার এনডোথিলিয়াল সেলে সিগন্যাল ট্রান্সডাকশন ও অক্সিজেন উৎপন্ন করা প্রজাতিগুলোর ভাসকুলার বা এনডোথিলিয়াস কার্যক্রম, নতুন রক্তনালির উন্নয়নে তাদের প্রভাব বিষয়ে। গবেষণা কার্যক্রমের ভিত্তিতে নতুন ও মৌলিক অসংখ্য গবেষণাপত্র তার ক্ষেত্রের অনেকগুলো জার্নালে প্রকাশ করেছেন।

 

ডা. আবেদের কাজ যেন থেমে না যায় সেজন্য ২০০৪ সাল থেকে বিখ্যাত আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ও এনআইএইচ থেকে নিয়মিত গবেষণা অনুদান পান তিনি। ২০০৫ সালে রক্তনালিতে জমাট বাঁধা নিয়ে অনন্য গবেষণায় লাভ করেছেন ‘সিক্সথ অ্যানুয়াল ইয়ং ইনভেস্টিগেটর অ্যাওয়ার্ড’। জীববিদ্যার রক্তনালির শাখায় তার অনন্য গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১১ সালে পুনরায় আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মর্যাদাপূর্ণ ‘ওয়ার্নার রিসাও নিউ ইনভেস্টিগেটর অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছেন। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন, অ্যাসোসিয়েশন ফর ইন্টারন্যাশনাল ক্যানসার রিসার্চ (এআইসিআর) ও এনএইচএসের (অ্যাডহক-ভিসিএমবি) শিক্ষা সম্পর্কিত বিভাগগুলোর তিনি বিভাগীয় সদস্য। ২০০৮ সাল থেকে পূর্ণ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ‘লিপিডস, থ্রমবোসিস অ্যান্ড ভাসকুলার বায়োলজি-ক্লিনিক্যাল (এলটিভিডব্লিউবি-ক্লিনিক্যাল)’র শিক্ষা বিভাগে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে তার ব্যাপক ও বিস্তৃত অভিজ্ঞতা গবেষণা ও প্রশিক্ষণের জ্ঞান ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাডভান্স কার্ডিওভাসকুলার বা হৃৎপিন্ডের রক্তনালিগুলোর অগ্রসর চিকিৎসা প্রদান ও গবেষণায়। অনেক আবাসিক চিকিৎসক, পোস্ট ডক্টরাল ও স্নাতকের ছাত্র-ছাত্রীদের পথপ্রদর্শক শিক্ষক তিনি।

সূত্র: দেশরুপান্তর


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান