স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বিশেষ ক্যাডার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব

Sun, Jun 14, 2020 12:57 AM

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বিশেষ ক্যাডার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব

নতুনদেশ ডটকম:  ”দেশের স্বাস্থ্যখাতে গতিশীলতা আনতে ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক স্বতন্ত্র ক্যাডার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছেন, চিকিৎসকদের একই যুগপৎ চিকিৎসা সেবা এবং ব্যবস্থাপনা না রেখে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এই  ক্যাডারের হাতে দেয়ার চিন্তা করা দরকার। চিকিৎসকরাও  নিজ পছন্দে সেই ক্যাডারে যেতে পারেন।”

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন ফোরাম এর উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বাজেট নিয়ে  আয়োজিত আলোচনায় সাবেক অর্থ সচিব ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক বিকল্প নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ তারেক এর এই প্রস্তাবের সঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান, যুক্তরাজ্যের লিভারপুল স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের সিনিয়র হেলথ ইকোনোমিস্ট ড. জাহাঙ্গীর খানও সহমত প্রকাশ করেন।

বিশ্ব্যাংকের সিনিয়র হেল্থ  স্পেশালিষ্ট ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের সঞ্চালনায় স্বাস্থ্য বাজেট নিয়ে এই আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হকও বক্তব্য রাখেন।শনিবার ভার্চ্যুয়াল ব্যবস্থায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় যা সরাসরি ফেসবুকে সম্প্রচারিত হয়।

ড. মোহাম্মদ তারেক তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে মেডিকেল কলেজ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বে থাকেন একজন প্রশিক্ষিত চিকিৎসক।তাঁরা কিন্তু কেউই ব্যবস্থাপক নন, তাঁরা সবাই দক্ষ চিকিৎসক। তিনি প্রশ্ন করেন- একজন চিকিৎসক কি প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষিত? প্রকল্প ব্যবস্থাপনা তাদের কি কোনো দক্ষতা আছে?  তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক একজন চিকিৎসক। মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তিনি কি রোগী দেখবেন? নাকি প্রশাসন দেখবেন? না কি প্রতিষ্ঠান সুপারভাইজ করবেন।

 ড. মোহাম্মদ তারেক বলেন, বিশ্বের প্রায় সবদেশেই স্বাস্থ্যখাতের ব্যবস্থাপক (হেল্থ কেয়ার ম্যানেজার) আছে, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে তাঁরা থাকেন। অনেক দেশেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  হেল্থ কেয়ার ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স ডিগ্রী দেয়া হয়। তারা স্বাস্থ্যখাতের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন। একজন ‘ক্লিনিক্যাল ডাক্তার’কে দিয়ে সব কিছু করাতে পারবেন না।

সাবেক অর্থসচিব ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক বিকল্প নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ তারেক বলেন, বেসরকারিখাতে যত্রত্তত্র ক্লিনিক খুলে একটা অরাজক অবস্থার তৈরি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই অরাজকতা কিন্তু কোনো আমলা করেনি, ডাক্তাররাই করেছেন। আমরা যে মেডিকেল কলেজগুলোর অনুমতি দিয়েছি কিসের ভিত্তিতে তা দিয়েছি।

তিনি দেশের স্বাস্থ্য সেবাখাতে পেশাজীবীদের সংখ্যাকে স্বাস্থ্যসেবার জন্য অসম্পূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ডাক্তার, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর অনুপাত  ১:৩:৫ হ্ওয়া উচিৎ। অথচ বাংলাদেশের এই অনুপাত ১:.৫:.২৫ । স্বাস্থ্যখাতের কর্মীদের এই অনুপাত দিয়ে  স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যাবে না।

অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান ড. মোহাম্মদ  তারেকের  প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের উচিৎ ‘স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা’কে বিশেষ খাত হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে গ্রহন করা।

 ড. জাহাঙ্গীর খান তার বক্তৃতায় নতুন পেশ করা বাজেটকে গতানুগতিক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মোট বাজেটে  স্বাস্থ্যসেবায়  সরকারি ব্যয়ের কোনো তারতম্য হয়নি। বছরের পর বছর থেকে এটি ৫ শতাংশের কোটায়ই ঘুরপাক খাচ্ছে। ২০১৬ সালে যেখানে  স্বাস্থ্য সেবায় ৫.১ শতাংশ ছিলো এবারও তাই রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই সরকার স্বাস্থ্যখাতে সবচেয়ে কম ব্যয় করে।

তিনি বলেন, অপরদিতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে নাগরিকদের নিজেদের পকেট থেকে  ব্যয়ের  পরিমান ক্রমশ বাড়ছে। চরতি বছরে হিসেবে  চিকিৎসা সেবায় একজন নাগরিকের নিজের পকেট থেকে খরচ ৭৪ শতাংশে পৌঁচেছে।  দক্ষিণ এশিয়ায় এই হার সবচেয়ে বেশি বলে তিনি উল্রেখ করেন।

 

অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্রুর রহমান বলেন, সারা বিশ্বে কোভিড মহামারী চললে্ও বাজেটে বরাদ্দের  বিবেচনায় এটি কোনো গুরুত্বই পায়নি। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বাজেটে  ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দের কথা  উল্লেখ করে তিনি বলেন, জরুরী প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য এই ধরনের বরাদ্দ বাজেটে রাখা হয়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের মোকাবেলায় কোথায় কোথায়  কি হারে ব্যয় করতে হবে এই চিত্রটি কি  গত ৩/৪ মাসেও আমাদের চোখে  অষ্পষ্ট রয়ে গেছে?

 ড. হোসেন জিল্লুর বলেন, আগামী ২ সপ্তাহে না হোক  ২ মাসের মধ্যে  ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রকল্পঅনুসারে একটা বিন্যাস দিতে হবে। না হলে থোক বরাদ্দ দুর্নীতি এবং অপচয়ের উৎস হয়ে যেতে পারে।

সঞ্চালক ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, স্বাস্থ্যখাতে  দক্ষতা বাড়ানো জরুরী হয়ে পরেছে।  আমাদের যে অর্থ আছে তার দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে  আরো বেশি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান