অস্বাভাবিক পরিবেশে স্বাভাবিকতা অবলোকন

Mon, Jun 1, 2020 11:57 PM

অস্বাভাবিক পরিবেশে স্বাভাবিকতা অবলোকন

রোমেনা হক রুমা: সারা পৃথিবীর মানুষ লকডাউনে বন্দি। পৃথিবীকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হবার আগে মানুষজাতিকে খাঁচায় বন্দি করা ছাড়া সৃষ্টিকর্তার উপায় ছিলনা। সৃষ্টিকর্তার একটি ফুঁ যেন অবয়বহীন এক ভয়ঙ্কর ভাইরাস। কোন যুদ্ধ বিমান নয়, কোন পিস্তল, বা আগ্নেয়াস্র নয়, শুধু একটি ফুঁ। করোনার মতো বিপর্যয় দিয়ে  প্রকৃতি মাতা  মাঝে মধ্যেই চ্যালেঞ্জ করেন, প্রমান করে দেখান  মানুষ আসলে শেষ পর্যন্ত কতোটা অসহায়। যেন বুঝাতে চান তার বিশালতা ও মহিমা। জেনেটিক কোড বদলে ভাইরাস তৈরির নীলনকশা এক এক দেশে এক এক রকম। তবে ভাইরাসটির পরিবর্তনের সাথে সাথে ব্লু প্রিন্টের সূক্ষভাবে পরিবর্তন ঘটে বিভিন্ন রোগীদের কাছ থেকে করোনা ভাইরাস জেনেটিক কোড সিকোয়েন্সিং গবেষকরা ভাইরাস কীভাবে ছড়াচ্ছে তার একটি চিত্র তৈরি করে। মহামারীর বিশ্বায়নে দেশগুলো নিজ নিজ বাউন্ডারির মধ্যে দরজায় তালা মেরে আছে। করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন বের লেও কঠিন সত্য হচ্ছে, একবার ছড়িয়ে পড়লে তা স্বমূলে নির্মূলের কোন উপায় নেই, পৃথিবীব্যাপী ভাইরাসগুলো থেকে যাচ্ছে বাস্তবতা হল প্রকোপ কমে যাবে, নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিন্তু একেবারে নির্মূল হবে কিনা সন্দেহ। হয়তো এক পর্যায়ে আমরা এই ভাইরাসের সংগে  বসবাসে অভ্যস্ত হয়ে যাব

বিশ্বের নিজস্ব আত্মরক্ষার উপাদান রয়েছে, প্রকৃতি ভাইরাসের মাধ্যমে মানুষের মাঝে নানাভাব নানান কার্যক্রমে নানান বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টারত যেন বার্তা দিতে চাচ্ছে মানুষকে একটি শৃংখলার মধ্যে রাখার জন্য। মানুষ যে তাঁর আদেশ নিষেধের ধার ধারবেনাপ্রাণঘাতী এইভাইরাস দিয়ে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর দিকে চ্যালেন্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে, তছনছ করে দিচ্ছে তাদের উন্নত  চিকিৎসাব্যবস্হা। ভেঙ্গে যাচ্ছে তাদের স্বাস্হ্য সেবা, সরকার দেশে দেশে দিশেহারা অবস্হায় হিমশিম খাচ্ছেপ্রকৃতিমাতা অস্বাভাবিক পরিবেশ বানিয়ে আমাদেরকে স্বাভাবিক জিনিস অবলোকনের সুযোগ করে দিয়েছে। শুদ্ধ হয়ে যাতে শুদ্ধি অভিযান চালাতে উনুপ্রানিত করছে। সৃষ্টিকে রক্ষার প্রয়োজনে ঘরের খাঁচায় বন্দি করে শেখাচ্ছে যে ঘরের  মানুষই  সবচেয়ে  আপন, ঘরণীই  সব সম্মান প্রাপ্য কিছহুভাল দিক হোল শিশুরা মাতৃদুগ্ধ পাচ্ছে, মা কাছে পাচ্ছে সন্তানকে, স্বামীকে। প্রযুক্তির যুগে মানুষের মন, চিন্তাশীলতা অতিমাত্রায় বর্হিমূখী হয়ে পড়েছিল।

বৃক্ষ নির্জীব, জড় কিন্তু প্রান আছে। হয়তো  তার আবার ভাষাও আছে। বিশ্বের বৃক্ষ নিধনে অক্সিজেন ঘাটতি হয়েছে ব্যপক। সেটিও একটি অন্যতম বার্তা। যে যে অঞ্চল দূষিত বাতাস আর কার্বন মনোক্সাইডে বিষাক্ত, সেখানেই করনার প্রভাব বেশী। পৃথিবীতে সৃষ্টির পর সৃষ্টিকর্তা উদ্ভিদ সৃষ্টি করেছে, এ সত্য প্রমানিত তারপর অন্য প্রানি ও মানুষ বা অন্যান্য জীব সৃষ্টি করেছেন। উদ্ভিদ  সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে, অক্সিজেন ত্যাগ করে। পরিবেশ থেকে মানুষ শ্বাস গ্রহণের মাধ্যমে বায়ু থেকে সেই অক্সিজেন গ্রহণ  করে বেঁচে এ পর্যায়ে পৌঁছেছে । উদ্ভিদ সব মানুষ ও জীবজন্তুর জন্য খাদ্য সরবরাহ করে। উদ্ভিদ বেঁচে থাকার জন্য দূষণমুক্ত পরিবেশ দরকার। প্রকৃতি মাতার নিজেকে সুস্থ করে তোলার নিশ্চয়ই নিজস্ব কিছু পদ্ধতি রয়েছে। যা আমরা জানিনা বা বুঝিনা। বিজ্ঞনীরা প্রমান করেছেন যে আর্কটিকে দশ লাখ স্কয়ার কিলোমিটার প্রশস্ত ওজোন স্তরের গর্ত আর দেখা যায় না। কভিড-১৯ লকডাউনের কারনে দূষিতকরণ কমেছে, ভাল প্রভাব ফেলেছে। অনেকে ভাবছ আমরা মানুষই হয়তো পৃথিবীর মূল ভাইরাস, মূল সমস্যা ছিলাম। কবে  মুখোশ  খুলে  মুক্ত বাতাসে  শ্বাস  নিবো,  একে  অপরকে  আনন্দে  জড়িয়ে  ধরবো? আমরা জানি পূর্বের সেইদিন আর হয়ত ফিরে পেতে সময় লাগবে। আপাততঃ  প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করেই বাঁচতে হবে। লড়াই করার জন্যে ইমিউনিটি অর্জন করতে হবে। আর এই ইমিউনিটি শক্তি অর্জনের মূল উৎস প্রকৃতি।

সব কিছুই আমরা পর্যাপ্ত পরিমানে পাই প্রকৃতি থেকে, যে প্রকৃতি তার দানের অপার ভান্ডার অবারিত করে দিয়ে যাচ্ছে আমাদেরকে সেই প্রকৃতিকে রক্ষা করতে হবে, যত্ন করতে হবে। কোনভাবে ধ্বংস করা যাবেনা। প্রকৃতি বিরুপ হলে আমরা বাঁচব না। প্রকৃতিকে রক্ষা  করলে রক্ষা পাবে মানুষ প্রকৃতি ধ্বংস করলে বিভিন্নভাবে মানুষ করোনার মত লক্ষ কোটি জীবাণু দ্বারা বিপর্যস্ত হতে পারত। হয়ত মানবজাতি ধ্বংস হয়ে যাবার সম্ভাবনা ছিল অবাক হলেও চরম সত্য যে, বিশ্বময় করোনার তান্ডবে মানুষ যখন অসহায় হয়ে ঘরে বন্দী, প্রকৃতি তখন ফেলছে স্বস্তির নি:শ্বাস। প্রকৃতি হয়ত প্রতিশোধ নিতে নয় বরং প্রতিরক্ষা জন্যই বা প্রাণীকুলকে বৃহত্তর ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে ক্ষুদ্রতর ক্ষতি করে শিক্ষা দিল। পৃথিবী শুধু আমাদের বা মানুষের একার নয়, সব জীব জন্তু বৃক্ষ লতা পাতার। আমরা প্রাচীর দিয়ে, প্রতাপ দিয়ে প্রতিপত্তি দিয়ে সীমিত করে দিয়েছি। প্রচুর জীব খাবারের সন্ধানে খুঁজে খাবার পায়না, সর্বত্র মানুষের পদ চারণায় অন্যান্য প্রাণী কূলের ত্রাহি অবস্থা। কছছপ বালুতীরে বাসা বাঁধতে বা দিম দিতে পারেনা, ডিম দিলেও তীর থেকে বাচ্চা কচ্ছপগুলো বেড়িয়ে সমুদ্রের পানি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনা। এলবারটার বানফের পাহাড়ে বা রকি পর্বতমালায় গ্রিজলী বেয়ারগুলো খাবার না পেয়ে লোকালয়ে ছুটে আসে। তাঞ্জানিয়ের ফিমেল সিংহ আজ বিলুপ্তির পথে। বল পাইথন রপ্তানি বেড়েছে। ঘরে ঘরে পালা হচ্ছে বেল পাইথন আর বানিজ্যিক ব্যাবহারে মাথা কুটছে। এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে পোষা পাইথনগুল নিজস্বতা হারাচ্ছে। অনেক প্রানি বিলুপ্তপ্রায় আফ্রিকার ফিমেল সিংহ দেখা যায়না। অ্যামেরিকার ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল  পার্কে গ্রিজলি বেয়ারের বিচরণ বেড়েছেঅনেক প্রজাতির জীবজন্তু, ভাল্লুক, মৌমাছি, সামুদ্রিক তীরে বাস করা প্রাণী, সবার অবাধ বিচরণ সীমিত।

এই বৈশ্বিক ইকোসিস্টেম চোখে পোলার ভরট্যাক্সেও নানান বৈচিত্র পরিলক্ষিত হয়। লকডাউনের  কারণে  চীন সহ নানান দেশে  বাতাস  পরিষ্কার  হয়ে আসছে  বাংলাদেশের পরিবেশ দূষণের মাত্রাও কমেছে করোনা  থামিয়ে দিয়েছে  চিরচেনা কর্মচাঞ্চল্য, পৃথিবীর ভারসাম্য নষ্ট করছি বুঝি আমরা মানুষরাই। আর সেই ভারসাম্য বা হিলিং করছে পৃথিবী যেন তেন বা কোনোভাবে। লকডাউনের ফলে  বাতাসের  মান  উন্নত মানুষ  ব্যাপকভাবে  অনলাইন  যুগে  ঢুকছে দোকানদারদের  কাছ থেকে বাজার  চলে  যাবে -কমার্স  দুনিয়ায় মানুষের  জীবন-যাপন ভোগের  ধরনও  পাল্টে যাবে  বেশকিছু ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া যেমন সমুদ্রের নীল জলে উচ্ছসিত প্রাণীকূল। বাতাসে হু হু করে দূষণ কমছে, আকাশে নেই কার্বনযুক্ত স্তর, আছে মেঘ মুক্ত খোলা আকাশ। গাছে গাছে ফুল ফুটছে, প্রকৃতি যেন বহুকাল পরে আপন আলোয় ফিরেছে। পাণ্ডা দশ বছর পর উত্তরাধিকারের জন্ম দিচ্ছে। হিমালয় পর্বত পরিবেশ  দূষণের ফলে পূর্বে দৃষ্টিগোচর হতনা। এখন হিমালয় পর্বত দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। আচমকা করোনা  ঝড়ের  তিক্ত  অভিজ্ঞতা  বদলে  দিবে  মানুষের  ভবিষ্যত  জীবনধারা  বদলে যাবে  মানুষের  অর্থনীতি,  রাজনীতি    সংস্কৃতির  গতিপথ এসব  অভ্যস্থতা  মানুষকে  ব্যাপক পসিটিভ  পরিবর্তন  আনতে  উৎসাহিত  করবে অরগানিক খাবারের  দিকে মানুষের  আগ্রহ  বাড়ছে  হোটেল- রেষ্টুরেন্টের  খাবারের  প্রতি  আগ্রহ  কমিয়ে যে সব  খাবার  রোগ  প্রতিরোধ  ক্ষমতা  বাড়ায়  সে দিকে  বেশি  গুরুত্ব  দিচ্ছে বাংলাদেশে  বাতাস  পরিষ্কার  হয়ে  আসছে, স্বচ্ছ বাতাস, গাছভর্তি ফুল, পাখির কিচির মিচিরে ভরপুর চারিদিকে। Air Quality Index (AQI) বা  বাতাসের  মানের  সূচকের মান বাড়ছে। পৃথিবীর ওজোন স্তরের ফাঁকা স্থান অদ্ভুতভারে পূর্ণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।  অদ্ভুত প্রশান্তিতে প্রকৃতিতে বসে থাকা যায়, মোবাইল ফোন, সঙ্গী, টেলিভিশন ব্যাতিতও চলা যায় কিছু সময়।

 

২ -বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ১ লাখের উপরে মানুষ করোনায় আক্রান্ত। যুক্তরাষ্ট্র পরিনত হয়েছে মৃতের নগরীতে, অর্থনীতি বিপর্যস্ত। বুশ, ওবামা, ট্রাম্পের ভূমিকা কি ছিল? কি জবাব দিবে? যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃতের সংখ্যা এক লক্ষের মাইল ফলক অতিক্রমের রেকর্ড কোন সুখকর রেকর্ড নয়। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের আক্রান্তের সংখ্যা অনেক হলেও আমি এটিকে বিশেষ সম্মানের সঙ্গে ভালো জিনিস হিসেবে দেখি, কারণ এর অর্থ আমাদের পরীক্ষা অনেক ভালো। কথাটি যদিও সত্য নয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক তথ্য অনুযায়ী, করোনা পরীক্ষার দিক থেকে ষোল নম্বরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।  

 

এক সময় আমেরিকানগন সাদ্দাম হোসেন ইরাকে ব্যাপক বিধ্বংসী জীবানু অস্ত্র রয়েছে বলেও প্রচারনা চালায়। সেই “ কাল্পনিক ও অদৃশ্য মানব বিধ্বংসী জীবানু অস্ত্র”  তৈরি যা মানব সভ্যতার জন্য হুমকি বলে ধোঁয়া তুলে অভিযুক্ত করে ও ব্যাপক প্রচার ও বিমান, নৈা, স্থল বাহিনী দিয়ে বেআইনি ও অমানবিকভাবে হামলা চালিয়েছিল। ব্যাপক মানব বিধ্বংসী জীবানু অস্ত্র খুঁজে পায়নি তারপরও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে গিয়েছে বছরের পর বছর। সাদ্দাম হোসেনকে জীবানু অস্ত্রের খোঁজার উছিলায় গোটা দুনিয়া এক হয়ে একদা ইরাকে হামলা করেছিল। উলেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বন্ধু থেকে  পরবর্তীতে শত্রু হয়ে সাদ্দাম হোসেনকে প্রহসনমূলক বিচারে ফাঁসির দন্ড প্রাপ্ত হয়। আজ অদৃশ্য এক ভাইরাস সমগ্র বিশ্ব কাঁপিয়ে দিচ্ছে। এই “ কাল্পনিক ও অদৃশ্য মানব বিধ্বংসী জীবানু অস্ত্র” ভাইরাসই কী তাহলে অতীতে খুঁজছিল? বৃটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার পরবর্তীতে এক ইন্টারভিউতে স্বীকারক্তি করেন '' ইরাক আক্রমনের ক্ষেত্র তৈরির কারনে ইরাকের জীবানু অস্ত্রের মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মৃতের সংখ্যা লাখের ঘর অতিক্রম করল। আমরা সব সময় মানবতার পক্ষে, ধর্ম বর্ণ জাতী নির্বিশেষে। মনে দাগ কেটে আছে অমানবিক সেই ঘটনাগুলো। অসহায় আমরা, হাতের কলমই আমাদের সম্বল। কাজেই সেটি দিয়েই আনাগোনা।! লাদেনকে ধরার উছিলায় ধ্বংসমৃত্যুপুরি বানানো হয়েছিল গোটা আফগানিস্থানকে আজ দিশেহারা গোটা বিশ্ব, কিছু মানুষের পাপের মাসুল সবাইকে দিতে হচ্ছে

সিরিয়ার যুদ্ধের নবম বছর চলছে প্রায় ছয়, সাতলাখ মানুষ মারা গেছে। দেশের এক চতুর্থাংশ মানুষ গৃহহীন, দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে লাখ লাখ অসহায় বাচ্চা, নারী আশ্রয় নিয়েছে। এতকিছুর পরও মাত্র কিছুদিন আগেও বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইন বিরোধী এক মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানি!সে হত্যাও নীতিবহির্ভূত। ২০১৮ সালের অক্টোবরে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে।  সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রথমে এই হত্যকাণ্ডের কথা অস্বীকার করেছিল। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। সেখাও নেয়া হয়নি সঠিক পদক্ষেপ। ইয়েমেন হাজার মানবসন্তান অনাহারে মারা যাচ্ছে, সেখানেও কিছু উন্নত দেশের পরোক্ষ অনুমোদনেই সৌদি সরকার দুর্নীতিতে যুক্ত হয়ে বেআইনি হামলা বাস্তবায়ন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের  পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ  থিওডর রুজভেল্ট। আজব যে এত দূর পানিতে, সেখানেও অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়ছিল করোনা ভাইরাস অসংখ্য জনসংখ্যার শহর উহান  আড়াই মাস আটকে রেখে চায়না করোনা ঠেকিয়ে দিয়েছে। তবে অ্যামেরিকার নিউ ইয়র্কে কেমন খাবি খাচ্ছে। অবাক কাণ্ড যে এখনও হাজারের উপর প্রতিদিন জীবন দিচ্ছে। রাজকীয়ভাবে বাস করা সৌদি রাজ পরিবারের সদস্যরাও নাকি পনের হাজারের মত আক্রান্ত হয়েছিল। সব মানুষের সমান অধিকার বিশ্বে বেঁচে থাকার। বিশ্বের আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, চীন, ইউরপের কিছু দেশ নিজেদেরকে ঈশ্বরের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল যেন। লাখ লাখ মানুষ হত্যা সৃষ্টিকর্তার সহ্য হয়নি। জনগনের দায় রয়েছে কাকে দেশের ভার বা সর্বোচচ ক্ষমতা দিবে। জনগণ জীবন দিয়ে বা ধুঁকে ধুঁকে তাঁর মূল্য পরিশোধ করছে। বাংলাদেশে তাদের  ছোট্ট  একটা  রুম  এই  গরমে / জন ঠাসাঠাসি করে  অনিশ্চয়তার   দূর্বিসহ জীবন কাটাচ্ছে  তাছাড়া  প্রান্তিক  মানুষরা কৃষি কাজ করে যাচ্ছে সেখানে খুব একটা করোনার হানা দেখা যায়নি। আরো ভয়াবহ কিছু পরিস্থিতি হয়তো অপেক্ষা করছে, বা বাংলাদেশ মাপও পেতে  পারে। বাংলাদেশে বেশ কিছুব্যাক্তি  বিত্তশালী ছিল। তাদের মতো দুই তিনজন উদ্যোক্তা চাইলেই দেশের পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পাল্টে দিতে পারতেন। অনেকেই এখন করনাক্রান্ত হয়ে সুচিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছে কিন্তু  বুঝতে পারে নি যে কাড়ি কাড়ি টাকা ঢাললেও সিঙ্গাপুর-থাইল্যান্ডের দরজা খুলবে না! তবে অনেকেই চার্টার প্লেন নিয়ে দেশ ছাড়ছেন। এ বিশ্বের সব সম্পদ, সৌন্দর্যের প্রতি সবার সমান দাবি, যে যেখানেই জন্মাকনিউজিল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রীকে পূর্বে দেখানো সেই মসজিদে হামলার সময়ের মতই নেতৃত্বের সুপ্রভাব দেখিয়ে দিয়েছে। উন্নয়নশিল দেশ হয়েও লাখ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বংলাদেশ স্থান দিয়েছে। সিরিয়া, আফগানিস্থান, সুদান, মায়ানমার, সোমালিয়া হতে হাজার হাজার রিফুজিকে আশ্রয় দিয়েছে রক্ষা করে চলছে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, হাঙ্গেরি, সুইডেন। ভিয়েতনামের মত অনেক দেশ ঠেকিয়ে দিয়েছে করোনাকে। মানবতা হল প্রথম শর্ত। যেখানে যেভাবেই মানুষ বাস করুক। কি নির্মম এই কর্মফল বা প্রকৃতি প্রতিশোধ শব্দটি। সবার প্রশ্ন, সব অপকর্ম কি এমনি ছাড়া পাবে ?

 আল্লাহ্‌ বা সৃষ্টিকর্তা একসাথে সব ধর্মীয় উপাশনালয়ের পথ বন্ধ করেছে। উপাশনালয়ে যাওয়ার চেয়েও বড় কিছু হয়তো আমরা পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিলাম। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখালেন। যারা নিজ নিজ কাজে অবহেলা করেছে তাদেরকে অনেক মুল্য দিত হল, করোনা  পরবর্তী বিশ্বে  ব্যাপক পরিবর্তন  আনতে  উৎসাহিত করবে তবে করোনা আসলে কি শিক্ষা দিচ্ছে মানব জাতিকে? অস্র সংগ্রহের  চেয়ে  একজন  ডাক্তার  তৈরী  করা যে  কত বেশি  গুরুত্বপূর্ণ তা  করোনা  ঝড়ে  সকল  দেশই  হারে হারে  টের পেয়েছে  এই  করোনা  ভাইরাস  সংক্রমণের  সময় এখনও পর্যন্ত নগ্ন-বাস্তবতা হচ্ছে, করোনা আক্রান্ত  এবং  মারা যাবার তালিকায় প্রায় সবার উপরে জি৭ এর পাঁচটি দেশ। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স,জার্মানি, ইটালি, জাপান অনেক শেষে কানাডা। এরাই অর্থের ভিত্তিতে একটা এলিট ক্লাব বানিয়েছহে মাঝেমধ্যে বিশ্ব সমস্যা নিয়ে গালগল্প করে আর ভালো ভালো কথা বলে। কানাডা আর জাপান বাদ দিলে ক্লাবের উপর করোনার ব্যাপক প্রভাবঅ্যামেরিকার তুলনায় কানাডা অনেক নিরাপদ আছে। বিশ্বজুড়ে করোনার  ভয়াবহ  বিস্তারের  সাথে সাথে  বদলে  যেতে  শুরু  করেছে  এই  চির চেনা  পৃথিবীর  অনেক কিছুই ধর্ষণ নেই,  হত্যা নেই,  দলে দলে আড্ডা নেই,  মিছিল-মিটিং নেই  ঘরে  ঘরে  চলছে  বেঁচে  থাকার  প্রার্থনা চুমোচুমি বা আলিঙ্গন সে অপরিহার্য বিষয়টি এখন মরনাস্র যেন কাজেই যৌনকর্মীদের কর্ম কমে গিয়েছে। আমস্টারডামের, থাইল্যান্ডের বিশেষ শপগুলোর খরিদ্দার কম। জমজমাট মদ, ক্যাশিনোর আসর ম্রিয়মাণ, লাস ভেগাসের আকাশ আগের মত আলো ঝলমলে নেই, স্তব্ধ নিঝুম। এ এক নতুন পৃথিবী।  করোনা থামিয়ে দিয়েছে  চিরচেনা কর্মচাঞ্চল্য ঘরে ঘরেও কড়াকড়ি, একে  অপরকে  আনন্দে  জড়িয়ে  ধরা নিষিদ্ধ। সব বার, ক্লাব, ব্রথেল, নাইট ক্লাব, কনসার্ট একদম মুক্ত বাতাস নিতেও মানুষ ভুলে যাচ্ছে, সব কিছুই আটকে গিয়েছে চার দেয়ালের গণ্ডিতে। পুরো বিশ্ব লকডাউনের নামে গৃহ খাচায় বন্দি।


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান