বাংলাদেশের রাজনীতির বিভাজন

Thu, May 14, 2020 2:39 AM

বাংলাদেশের রাজনীতির বিভাজন

ইমতিয়াজ মাহমুদ:  বাংলাদেশের রাজনীতি এখন দুইভাগে বিভক্ত। এক প্রান্তে আছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত এবং অন্যান্য এরশাদজাত ও ইসলামপন্থী দলগুলি। আরেক প্রান্তে আছে সিপিবি এবং এর সঙ্গী অল্প কিছু সেক্যুলার লিবারেল দল, গ্রুপ ইত্যাদি। ভুল করবেন না, ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখেন, হিসাব কষে দেখেন। কিভাবে এটা করবেন?

একটা সাদা কাগজ নিয়ে সেটার মাঝ বরাবর লাইন টেনে বামপাশে লিখবেন ধর্মনিরপেক্ষ, বাজার অর্থনীতির বিপরীতে গণমুখী সমাজতান্ত্রিক বা সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক বা স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলির মত গণমুখী অর্থনীতি চায় এবং সার্বজনীন গণমুখী সেক্যুলার শিক্ষানীতি চায় এবং নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় এরকম দলগুলির নাম লেখেন। আর ডানপাশে লেখেন অন্যসব দলের নাম যারা কোন না কোনোভাবে রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডে সংখ্যাগুরুর ধর্মের প্রভাব বজায় রাখতে চায়, বাজার অর্থনীতির নামে লুটপাটের অর্থনীতি বজায় রাখতে চায় ইত্যাদি। তাইলেই আপনার হিসাবটা মিলে যাবে।

 

কথা হচ্ছে আপনি রাষ্ট্রের কি চরিত্র দেখতে চান। এইসব প্রশ্নে আপনি আপানর নীতি পরীক্ষা করে দেখুন। আপনি কি সংখ্যাগুরুর ধর্মীয় নীতির ভিত্তিতে আওরঙ্গজেব স্টাইলের বাংলাদেশ চান? আপনি কি এমন অর্থনীতি চান যেখানে ধনিকের লুটপাট বজায় থাকবে আর ধনিকের লুটপাটকৃত বৈভব থেকে কিছু কিছু বিত্ত নানাভাবে চুইয়ে পড়বে (ট্রিকল ডাউন) যেটা দিয়ে গোটা দেশের উন্নয়ন হবে? আপনি কি চান যে দেশের শিক্ষা ব্যাবস্থায় বৈষম্য বজায় থাকুক? তাইলে আপনি ডানদিকের যে কোন একটা দলে সুবিধামত ঢুকে পড়েন। আর যদি সেটা বা চান তাইলে আপনাকে বামদিকেই থাকতে হবে।

 

কেউ কেউ মাথা ঝাঁকিয়ে বলতে পারেন, আওয়ামী লীগ বিএনপি জামাত এরশাদ সবাইকে আমি একপাশে রাখছি কেন? এরা তো একে অপরকে পারলে মেরে ফেলে কেটে ফেলে খুবলে গায়ের মাংস তুলে নেয় এইরকম শত্রু। এরা এক লাইনের এক নীতির এক গ্রুপের দল কি করে হল। হ্যাঁ এদের নিজেদের মধ্যে শত্রুতা রয়েছে। অনেক পুরনো গভীর দুশমনি আছে, জাতীয়তাবাদী প্রশ্নে মতপার্থক্য আছে। সেগুলি ঠিক। কিন্তু রাষ্ট্রের চরিত্র প্রশ্নে এদের মধ্যে এখন আর কোন মতপার্থক্য নাই। বরং এখন এদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলে- কে কত দক্ষতার সাথে লুঠপাটের অর্থনীতি কায়েম করতে পারে ও সেটা বজায় রাখতে পারে। সংখ্যাগুরুর ধর্মের প্রতি কে কত অনুগত।

 

(২)

এ যেন বুড়ো মাড়ওয়ারির প্রেম লাভের জন্য তার একাধিক রক্ষিতার মধ্যে প্রতিযোগিতা কামড়াকামড়ি চুলোচুলি। এ যেন জাহাঁপনার হেরেমের মধ্যে বাঁদিদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ষড়যন্ত্র পাল্টা ষড়যন্ত্র ইত্যাদি। একে অপরকে এরা পারলে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিবে, কিন্তু ওদের লক্ষ অভিন্ন- লুটেরা ও ধর্মীয় গ্রুপগুলির আস্থা অর্জন।

 

এই মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক স্থিতাবস্থাটা কি? আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা লুঠেরাদের আস্থা অর্জন করেছে, বিএনপির অতীত কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বের চারিত্র্যের কারণে ওদের জোটের উপর লুটেরাদের আস্থা অপেক্ষাকৃত লঘু। আর সাম্প্রদায়িক যে গ্রুপগুলি হিস্টরিক্যালি আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করতো, ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি ত্যাগ করে আওয়ামী লীগ ওদের সাথে একরকম একটা শান্তিপূর্ণ বলেন বা আত্মসমর্পণমূলক বলেন এরেঞ্জমেন্ট করে ফেলেছে। ফলে আওয়ামী লীগ যদি ছলে বিলে কৌশলে আরও বহু বছর ক্ষমতায় টিকে থাকে তাতে লুটেরা এবং সাম্রপদায়িক শক্তি দুইয়ের কারোই আপত্তি নাই।

 

বরং লুটেরারা চায় যে আওয়ামিল লীগ আরও বহু বছর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকুক। কেননা বাজার বা লুটপাট দুইই স্থিতিশীলতা চায়। ওদের জন্যে আরও সুবিধার হয় রাষ্ট্র যদি রাজনীতিবিদদের হাত থেকে আমলাতন্ত্রের হাতে থাকে। পারলে ওরা প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে একটি এমবিএকে এনে তাকে রাষ্ট্রের সিইও বানাবে। রাষ্ট্র সরকার এরা স্থিতিশীল থাকবে, মানুষকে পিটাবে, শান্ত রাখবে। আর ওরা দেশকে বলাৎকার করতে থাকবে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল ওরা চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে ওদেরকে শেষ করে দিতে। আর আওয়ামী লীগ অপেক্ষাকৃত বুদ্ধিমান, ওরা চাইছে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করে দিতে।

 

শিক্ষিত মধ্যবিত্ত আর বুদ্ধিজীবীদের কি হাল? এদের একটা অংশ একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের শান শক্ত শক্তি সামর্থ্য দেখত, দুনিয়াব্যাপি সমাজতান্ত্রিক শক্তির বিকাশ দেখে আশা করতো দেশেও একসময় সমাজতন্ত্র কায়েম হবে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এরা চুপসে গেছে। আর এরা তো স্বাভাবেই ঐরকম, ফলে এখন ওরা আওয়ামী লীগের ক্যাম্পে গিয়ে ঢুকে প্রমাণ করতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে কে বেশী আওয়ামী লীগের অনুগত। আওয়ামী লীগ কেন? কারণ আওয়ামী লীগ ঐটিতে একসময় সেক্যলার ধরণের দল ছিল, মুখে সমাজতন্ত্রের কথা বলতো একসাথে যুদ্ধ করেছি ইত্যাদি।

 

(৩)

তাইলে কি এই অবস্থাই চলতে থাকবে? না, আমি তো চাই না এই অবস্থা চলতে থাকুক। আমার মত আপনিও সম্ভবত চান না যে এই অবস্থা চলতে থাকুক। এই জায়গাটায় আমার এবং আপনার ধরে নেন চিন্তার ঐক্য আছে। কিন্তু যখন প্রশ্ন আসবে হাউ টু গো এবাউট ইট, তখন নানারকম ভিন্নমত হবে। এইজন্যে আমি আমার মতামতটা বলি, দেখেন আপনার সাথে মিলে কিনা। আমার মতে সিপিবির নেতৃত্বে মানুষের সমাবেশ ঘটানো ছাড়া এই অবস্থা থেকে ইতিবাচক উত্তরণের পথ নাই। আপনি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে ফেলে দিয়ে বিএনপিকে নিয়ে আসতে পারবেন, আবার বিএনপিকে ফেলে দিয়ে আওয়ামী লীগকে- কিন্তু সেগুলি কোন ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে না।

 

বলবেন যে, সিপিবি আর ওর মিত্ররা মিলে মানুষ হয়না একশজন, ওরা আওয়ামী লীগ আর বিএনপি এইরকম শক্তিধর দুইটা ক্যাম্পকেই ধ্বংস করে দিবে? পাগল নাকি? কিন্তু এছাড়া তো আমাদের আর কোন পথ নাই। সুতরাং এই পথেই কিভাবে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় সেইটাই তো আমাকে চিন্তা করতে হবে। নাকি? এই পথেই কিভাবে তীরে পোঁছাবেন?

 

সিপিবির নিজের শক্তি বৃদ্ধি আর তার মিত্রদের নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি আর তার সাথে জেতা করতে হবে নানা দলের মতের শ্রেণীর ও পেশার মানুষের সাথে ন্যুনতম কয়েকটা নীতির ভিত্তিতে ঐক্য তৈরি করা। ন্যুনতম হলেও নীতিগুলি শক্ত করে আনুসরন করতে হবে- কেননা এইসব নিতিত থেকে যদি আপনি সরে যান তাইলে আওয়ামী লীগ বিএনপির সাথে আপনার আর কোন পার্থক্য থাকবে না, এবং তখন লোকে আর আপনার উপর কোন ভরসা করার কোন যুক্তি পাবে না।

 

মোটা দাগে নীতিগুলি কি? আমি যেগুলি দেখি সেগুলি হচ্ছে, অসাম্প্রদায়িকতা বা ধর্মনিরপেক্ষতা বা ইহজাগতিকতা বা সেক্যুলারিজম এইটা একটা। দ্বিতীয়টা হচ্ছে সমাজতন্ত্র। কিন্তু সমাজতন্ত্র তো দীর্ঘ যাত্রার পথ, এই মুহূর্তে আপনি সেই পথ ছাড়া নড়বো না বললে তো আশু সমস্যার সমাধান হবে না। সুতরাং এই মুহূর্তে সমাজতন্ত্র বলতে আপনাকে বাজার অর্থনীতির উপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা ও সেটার মাধ্যমে গণকল্যাণ ও গণমুখী বিকাশের কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা এইটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এটা সম্ভব, বাজার অর্থনীতি পুরো না ভেঙেও এটা অর্জন করা সম্ভব। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রসঙ্গে নীতিগুলি আপনার অর্থনৈতিক নীতির সাথে একই রেখায় চলে আসবে। শিক্ষা ও চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার আর সবার জন্যে সমান চিকিৎসা ও শিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। আর গণতন্ত্র- সেখানে ফার্স্ট পাস দ্য পোস্ট এর পরিবর্তে সঙ্খানুপাতিক প্রতিনিধত্বের ব্যাবস্থা করা। গণতন্ত্র না হলে আপনার ঐসব নীতি বাস্তবায়ন করতে পারবেন না।

 

(৪)

এই লক্ষ্যে ঐক্য গড়েন। এবং এই লক্ষ্যেই জমায়েত করতে হবে। নীতিগুলির প্রশ্নে অনড় থাকতে হবে। কেন? এইসব নীতির প্রশ্নে অনড় থাকতে হবে? এইসব কঠিন সব নীতি সরিয়ে রেখে ইমিডিয়েটলি আওয়ামী লীগকে ফেলে দেওয়ার জন্যে কর্মসূচীভিত্তিক ঐক্য আমরা কেন করবো না? কেন আমার আওয়ামী লীগ বিরোধী সকল শক্তির সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব না? কারণগুলি সেরকম জটিল কিছু না।

 

আওয়ামি লীগ বিএনপির মধ্যে একজনকে সরিয়ে আরেকজনকে ক্ষমতায় বসানো তো আমার লক্ষ্য হতে পারে না। মনে করেন আপনাকে কেউ প্লেটে করে কুত্তার গু খেতে দিয়েছে। আপনি কি বলবেন যে না, আমাকে কুত্তার গু সরিয়ে মানুষের গু খেতে দাও? বা ছাগলের বা গরুর গু? না। সেটা তো হবে না। আপনি স্বাস্থ্যকর সুস্বাদু খাবার খেতে চান। আর যদি পুষ্টিকর সুস্বাদু খাবার না মিলে তাইলে অন্তত মানুষের ভোজনযোগ্য কোন খাবার তো চাইবেন? আমি তো মনে করি আওয়ামী লীগ বিএনপি এই দুইটা কোনটাই মানুষের ভোজ্য নয়। আপনি এদের মধ্যে নানারকম উপযোগিতা দেখতে পারেন, কিন্তু মানুষের ভোজ্য এরা নাই। আপনি যদি নীতি ভুলে বিএনপি জামাতের সাথে ঐক্য করেন, তাইলে ঐটাই হবে। কোনটা? সেটা বলে দিতে হবে?

 

আর কিছু দল আছে ও গ্রুপ আছে ওরা বিএনপি জামাতের সাথে নেই বটে, কিন্তু নীতিতে সাম্প্রদায়িক। ওদের সাথেও আপনি ঐক্য করতে পারবেন না। এমনকি ঐসব দল বা গোষ্ঠী যখন আপনার সাথে এসে নানারকম সামাজিক রাজনৈতিক ইস্যুতে আপনার সাথে একই দাবীতে একই কর্মসূচী করতে চাইবে তখনও না। কেন? কারণ আপনি তো অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চাইছেন। আর এই অসাম্প্রদায়িকতা বা ধর্মনিরপেক্ষতা সেটা তো কেবল কথা কথা বা বায়বীয় হাওয়াই নীতি নয়। এর বাস্তব প্রয়োগ আছে এবং সেই প্রয়োগ কেবল লোকজনের নামাজ রোজা পূর্বজা অর্চনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সাথে আপনার অর্থনৈতিক নীতিমালা, শিক্ষা সংস্কৃতি সবকিছুই জড়িত। সংক্ষেপে বলতে হচ্ছে, সাম্প্রদায়িকতা মানেই হচ্ছে বৈষম্য এবং সাম্প্রদায়িকতা মানেই হচ্ছে পশ্চাৎপদটা। ওদের সাথে আপনি ঐক্য কিভাবে করবেন?

 

এইখানে একটা হাসির কথা মনে পড়লো। এক পণ্ডিত নাকি বলেছে একটি সংগঠন ইসলামী নীতির উপর ভীতি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েই নাকি সেটাকে সাম্প্রদায়িক বলা যাবে না। তিনি নিশ্চয়ই বিশাল পণ্ডিত! নয়? আরেক পণ্ডিতের ফেসবুক পোস্ট দেখলাম, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের ঘোষণাপত্র পড়ে দেখে তারপর নাকি তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এই সংগঠনটি সাম্প্রদায়িক হ্যাঁ কি না। ইনার ক্ষুরেও দণ্ডবৎ হই। কত বড় পণ্ডিত রে বাউ! ওরা দলের নাম দিয়েই বলে দিচ্ছে ওরা ইসলামী শাসনতন্ত্র চায়, ওরা মিটিং মিছিল করে বলছে ওরা ইসলামী শাসনতন্ত্র চায়- কিন্তু পণ্ডিত মশাই ওদের ঘোষণাপত্র না দেখে বলতে পারছেন না ওরা সাম্প্রদায়িক কিনা। করোনাকালের কৌতুক আরকি!

 

(৫)

সংক্ষেপ করছি।

 

সমাধানটা ঐখানে এবং কাজ করতে হবে সেই লক্ষ্যেই। সিপিবি এবং তার মিত্রদের যে জোটটা হয়েছে, ওদের জমায়েত বাড়ানোর চেষ্টা করেন। ওদের জমায়েত যত বাড়বে, বিদ্যমান দম বন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে আপনি ততোই মুক্তি দিকে যেতে থাকবেন। এমনকি আওয়ামী লীগ বিএনপির বিপরীতে নির্বাচনে জিতে আসার মত পরিস্থিতি তৈরি করা পর্যন্ত আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে না। আপনি যদি মোটামুটি ভাল একটা জমায়েতও তৈরি করতে পারেন সিপিবি এবং এর মিত্রদের সমাবেশে তাইলেই দেখবেন দেশের নানা নীতিতে পরিবর্তন আসা শুরু হয়েছে। সরকারের কিছু কিছু অতি মন্দ কাজ দেখবেন বন্ধ হয়ে যেতে থাকবে। কেন?

 

কেননা এখন তো সরকার যে কোন নীতিগত সিদ্ধান্তের আগে আপনার ইচ্ছা অনিচ্ছা পছন্দ অপছন্দ এইসবের কথা চিন্তা করার প্রয়োজন মনে করে না। কেন করবে? ওরা তো জানে যে আপনি ওদের প্রতি অনুগত, যাই করুক আপনি টু শব্দ করবেন না। আর করলেও আপনাকে ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা করে দেওয়া যায়। আপনার পক্ষে লোক নাই। কিন্তু যখন আপনার কথাটির পক্ষে লোকসমাগম হবে, তখন পরিস্থিতি হবে ভিন্ন। দেখেন না? এখন সরকার কাদের কথা মাথায় রেখে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়? কাদের কথা গুরুত্ব দেয়? কেন?

 

আর জমায়েতের সাথে মানুষের আস্থার একটা সম্পর্ক আছে। এখন আপনার কথাটি যত সুন্দরই হোক না কেন, লোকে বলবে যে না, উনি কথাটা বলছেন হক কথা, কিন্তু লাভ কি, উনারা কিছু করতে পারবেন না। অর্থাৎ? অর্থাৎ আপনার উপর আস্থা নাই। কেন আস্থা নাই? কারণ আমরা মানুষ কম আমাদের হাঁকডাক কম, ক্ষমতায় যেতে পারি বা ক্ষমতাকে কাঁপিয়ে দিতে পারি সেরকম শক্তি মনে হয় না। জমায়েত যত বাড়বে, আস্থাও ততো বাড়বে।

 

সবই তো বুঝলাম, কিন্তু সিপিবি ও এর মিত্রদের জমায়েত বাড়ানোর প্রাথমিক কাজটা কিভাবে হবে?

 

(৬)

এইটাই আসল কথা। এইখানেই আপনার দায়িত্ব। সিপিবি ও তার মিত্রদের জমায়েত বাড়ানোর জন্যে কাজ করুন। ছোটখাটো মতপার্থক্য পছন্দ অপছন্দ বিরাগ বিতৃষ্ণা আপাতত তুলে রাখুন। ফোকাসটা আসল জায়গায় করুন, সিপিবির সমালোচনা করার সময় অনেক পাবেন। আর সিপিবির জোটের পক্ষে না থেকে, ফইত্যকদিন বেইন্যাবেলায় সিপিবিরে সমালোচনা করি সিপিবিরে তিনখান গালি দিয়া ফেসবুক শরিফে পোস্ট দিবেন আর ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সাথে ঐক্য কইরবার লাই বলি দশ ইঞ্চি লম্বা সেই ফেসবুক শরিফেই পোস্ট লেইখবেন- বাউ রে, আমনে যে কাজটা কইরতেছেন হিয়া আওয়ামী লীগ বিএনপির পক্ষের কাজ। চিন্তা করি চন।

 

সিপিবির সমালোচনা করবেন না কেন, আপনার মনে সমালোচনা থাকলে সেটা তো করবেনই। সিপিবির সাথে যারা জোট করেছেন ওরা তো কেউই সিপিবির অন্ধ সমর্থক নয় আরকি। ওরা সকলেই মনে করেন যে সিপিবি ভুল পথে আছে। কিন্তু ন্যুনতম কয়েকটা নীতির ভিত্তিতে ওরা ঐক্যটা গড়ছেন, সেটার গুরুত্ব বুঝবার চেষ্টা করুন। আর যদি মনে করেন হেতারগো জোট ফোটে কাম হইত ন, ইসলামী আন্দোলন লাইগব- তাইলে ওদের সাথেই গিয়ে মিছিল করেন। তখন সিপিবিকে আরও খোলাসা করে আরও তীব্র কণ্ঠে সমালোচনা করতে পারবেন আরকি।

 

আর যদি আপনি লিস্টের বাম দিকে থাকতে চান, তাইলে আপনাকে আপাতত মতানৈক্যগুলি নিয়েই সিপিবি ও তাদের জোটের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। আপনি আসলেই জমায়েত বড় হবে, জমায়েত একটু বড় হলে মানুষের একটু আস্থা বাড়বে- বাকিটা দেখেন কি ভাবে কি হয়। কিন্তু আপনার উপস্থিতি জরুরী। সিদ্ধান্তটা আপনাকে নিতে হবে, আপনি কি লস্টের বাম দিকে থাকবেন, নাকি আওয়ামী লীগ বিএনপি জামাত ও এরশাদের দিকে থাকবেন।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান