করোনা সংকট : বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় কিন্ডারগার্টেনের চালচিত্র

Wed, May 6, 2020 12:29 AM

করোনা সংকট : বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় কিন্ডারগার্টেনের চালচিত্র

আবদুস সোবহান বাচ্চু: এদেশে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের যাত্রা শুরু হয়েছিল সেই ১৯৫২ সালে ভিকারুন্নেসা নূন স্কুলের মাধ্যমে। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে যার বিস্তৃতি ঘটেছে নিতান্তই প্রয়োজনের উপর ভর করে। যদিও এখন কতটি কিন্ডারগার্টেন আছে বাংলাদেশে? এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেবার মত কোন সংস্থা নেই, এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। তবে এটুকু নিশ্চিত, এ সংখ্যা অর্ধ লক্ষাধিক।

নিতান্ত প্রয়োজনেই কেন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের বিস্তৃতি ঘটেছে দেশে? তার উত্তর খুব সহজ। আপনি মিলিয়ে নিন। বাংলাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৭,৬৭২টি। জেনে দেখবেন, এর মধ্যে ৩৫ হাজারেরও বেশি স্কুল স্বাধীনতাপূর্বকালে স্থাপিত। যখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি। সেই  থেকে আজ পর্যন্ত বিদ্যালয় বিহীন এলাকায় নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয় ৬৩৪টি। তার মানে গত ৪৮ বছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়েছে প্রায় তিন হাজার। আর জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় দশ কোটি। সাড়ে সাত কোটি জনসংখ্যার দেশে যদি ৩৫ হজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরকার হয়, তবে পরবর্তী সময়ে দশ কোটি জনসংখ্যার জন্যে কিভাবে তিন হাজার স্কুল দিয়ে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ধারা বহাল রাখা সম্ভব?

এ সময়ে কি দেশের শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিল? না, এ সময়েই সারা দেশে একে একে প্রয়োজনের তাগিদে তৈরি হয়েছে ব্যক্তি উদযোগে কিন্ডারগার্টেন স্কুল। সচল রেখেছে দেশের প্রাথমিক শিক্ষধারা। ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত নতুন জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৫,২৪০টি। যা এই কিন্ডারগার্টেন উদ্যক্তাদের মত কেউ না কেউ প্রতিষ্ঠা করে, খেয়ে না খেয়ে বহুদিন সচল রেখেছিল। অব্যাহত রেখেছিল দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ধারা।

এখানে খুব সাধারণ প্রশ্ন, তবে বিগত দিন থেকে আজ পর্যন্ত সকল সরকার পর্যাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরি  করেন নাই, এটা কি ব্যর্থতা? না কি কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো ছিল বলেই, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজন অনুভব করেন নাই? যদি তা ই হয়ে থাকে, তবে দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর অবদান ও গুরুত্ব অপরিসীম।

অনেকেই মনে করেন, এসব কিন্ডারগার্টেন স্কুল আসলে শিক্ষা নির্ভর একটি সফল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আসুন আজ আপনাকে এ ব্যবসার অংশীদার করে নেই।

আপনি জানেন কি হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাংলাদেশে প্রায় ৯৯ শতাংশ কিন্ডারগার্টেন ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত হয়? আপনি যখন একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের জন্যে বাড়ি ভাড়া নিতে চাইবেন, তখন অনেক বাড়ির মালিক তা দিতে রাজি হন না। আবার যারা রাজি হন, তারা অযৌক্তিভাবে দেড় থেকে দ্বিগুন ভাড়া ও আগাম দাবি করে বসে থাকেন। তাদের সেই অযৌক্তিক দাবির কাছে নতি স্বীকার করেই যাত্রা শরু হয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের। এখানেই শেষ নয়, আছে ফি বছর ইচ্ছেমত ভাড়া বাড়ানোর করুণ ইতিহাস। আমাদের দেশের বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন এখানে একেবারেই অন্ধ ও অসার।

আছে বাণিজ্যিক রেটে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের বিল। আয়কর, পৌরকরসহ নানাবিধ চাঁদার খড়গ। আছে হাফ ফ্রি, ফুল ফ্রি’র আবেদন। আছে অনাদায়ি অসংখ্য বকেয়া। এক পয়সা সরকারি অনুদান বা সাহায্য ছাড়াই বছরের পর বছর তবুও চলছে দেশের কিন্ডারগার্টেনগুলো। চেষ্টার সবটুকু ঢেলে দিয়ে নামমাত্র বেতনে শিক্ষকতা করছেন লাখো শিক্ষক। গড়ে তুলছেন দেশের আগামী প্রজন্মকে। সহযোদ্ধা হিসাবে সবার অলক্ষ্যে, অস্বীকৃতিতে, হাসিমুখে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতকে। লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দূর করছে নামের সাথে থাকা বেকার অপবাদটি।

নিজেদের অজ্ঞতার কারণে দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় কিন্ডারগার্টেন স্কুলগলোর অবদানকে অনেক সময় অনেকে কলঙ্ক ও অপযশের কালিমা মেখে দেন কোচিং বাণিজ্য নামে। কেন করতে হয় কোচিং? সারাদিন শিক্ষার্থীদের সাথে কাটিয়ে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের কি কোন বিশ্রাম, বিনোদনের দরকার নেই? টাকার লোভোই কি তারা আবার বিকেলে কোচিং খুলে বসেন? না, বন্ধু! কিন্ডারগার্টেনগুলোর আয়ের একমাত্র উৎস হচ্ছে শিক্ষার্থী বেতন। আগেই বলেছি, বাড়ির মালিকদের আগ্রাসী আব্দার, বাণিজ্যিক রেটে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের বিল। আয়কর, পৌরকরসহ নানাবিধ চাঁদার খড়গসহ নানাবিধ স্টাবলিস্টমেন্ট কস্ট সামাল দিতেই একান্ত অনিচ্ছায়, বাধ্য হয়েই অনেককে স্কুলের সাথে খুলতে হয় কোচিং, যুক্ত করতে হয় সরকারি বাইয়ের বাইরে প্রকাশনার বই।

উন্নত দেশেগুলোতে এসব স্কুলের শিক্ষকদের বেতন হয় কমিউনিটির চাঁদা থেকে। যেমনটি আমাদের দেশের মসজিদ-মন্দিরের খাদিম-পুরোহিতদের বেতন হয়। আফসোস, এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাহায্য বা অনুদানও যে সদগায়ে জারিয়া হতে পারে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ তা মানতে নারাজ। তাই তাদেরও অনুদান অনুপস্থিত থাকে এসব খাতে। তবুও সেই তাদের ছেলেমেয়েদেরকেই আমরা পরম আদর-যত্নে পড়িয়ে-শিখিয়ে মানুষ করার দায় নিয়েছি স্বেচ্ছায়, সানন্দ চিত্তে।

এই শিশু শিক্ষার সাথে আমার ওতোপ্রোতো বিচরণ আজ ৩৭ বছর। কিন্ডারগার্টেন স্কুল ভিত্তিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেবার কারণে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোর সাথে আমার আত্মীক সম্পর্ক রয়েছে। আমাকে জানতে হয়েছে, অনেক স্কুল প্রধানদের নিজের গয়না বন্ধক রেখে স্কুল সচল রাখার ইতিবৃত্ত। যা সাধারণের জানার কথা নয়। এ যে লজ্জার, এ যে হেরে যেতে যেতে জিতে যাবার স্বপ্নের উপাখ্যান।

গত ১৬ মার্চ থেকে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে বন্ধ রয়েছে, দেশের সকল কিন্ডারগার্টেনগুলো। সেই সাথে বন্ধ রয়েছে তাদের সকল আয়ের পথ। বকেয়া হয়ে গেছে বাড়ি ভাড়া, শিক্ষক-কর্মচারির বেতনসহ সবকিছু। মানবেতর জীবন যাপন করছেন এর সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষক-কর্মচারি ও তাদের পরিবারবর্গ। মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপে পথে বসার আতংকে রয়েছেন এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা পরিচালকবৃন্দ।

কীভাবে পরিশোধ করবেন বাড়ি ভাড়া, শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন? কীভাবে এই করোনাত্তোর সময়ে নিজ প্রতিষ্ঠানকে আবার সচল করে তুলবেন তা ভেবেই অনেকে দিশেহারা। ইতোমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান পরিচালক তাদের হাতে থাকা শেষ অর্থটুকু ব্যয় করে নিঃশ্ব হয়ে বসে আছেন।

আবার অনেক বাড়ির মালিক আছেন, যাদের আয়ের উৎস এই বাড়ি ভাড়া। তারা কি অবস্থায় আছেন? আমরা তো বাড়ি ভাড়া দিতে পারছি না। স্কুল না খোলা পর্যন্ত পারবোও না। আবার যদি সরকারি নির্দেশে খুলে যায়, তবে বকেয়া ভাড়া কত দিনে, কীভাবে পরিশোধ করা যাবে এ নিয়ে ভাববার বিষয় আছে। আশংকা করছি, এই বকেয়া বাড়িভাড়া নিয়ে অনেক বাড়ির মালিকের সাথে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে অনাকাঙ্খিত কান্ড বেধে যেতে পারে।

স্কুল বন্ধের তিন মাস হয়ে যাচ্ছে। মানে তিন মাসের বাড়ি ভাড়া বকেয়া। তিন মাসের শিক্ষক-কর্মচারি বেতন বকেয়া। এই বকেয়ার বোঝা না বাড়িয়ে যদি কেউ বাড়ি ছেড়ে দিতে চায়, তবে তারা তাদের আসবাব নিয়ে কোথায় দাঁড়াবে? স্কুলের আসবাব তথা চেয়ার টেবিল বেঞ্চ এর রিসেল ভ্যালু নেই বললেই চলে। আমাদের কাছে যা অনিবার্য অনুসঙ্গ, বাজারে তা নিছক ভাঙ্গারী।

এমতাবস্থায় দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় সাহায্যকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে এ কিন্ডারগার্টেনগুলোকে এবং এর সাথে সম্পৃক্ত সকল শিক্ষক-কর্মচারিদের বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন এর সাথে সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় প্রাথমিক শিক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ এ খাতটি মুখ থুবরে পড়বে। ভেবে দেখুন অর্ধ লক্ষাধিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের হুট করে জায়গা দেবার মত সরকারের হাতে কি পর্যাপ্ত সুযোগ আছে? দেশের মন্ত্রীদের মত রূপকথার হাতি আকাশে উড়ালে, আছে। দলকানাদের মত কথার ফুলঝড়ি ফোটালে, আছে। হলুদ মিডিয়ার সংবাদ শিরোনামে হলে, আছে। কিন্তু আসলেই কি আছে?

এ ক্ষেত্রে একটি কথা উল্লেখ করতে চাই। প্রতিদিন পত্রিকায়, সংবাদে ভেসে আসে, কাউকে না খেয়ে মরতে দেয়া হবে না। প্রমাণ আছে, ছবি আছে, স্বাক্ষর আছে, কোটি কোটি ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ১৬ মার্চ থেকে আজতক ৬০দিন পার হয়ে গেল। কারো কারো ঘরে প্রধান মন্ত্রীর উপহার হিসাবে পৌঁছে গেছে খাদ্য সামগ্রী। কি রয়েছে তাতে? দশ কেজি চাল। সাথে ২ কেজি ডাল, ৩ কেজি আলু, দুটো মিনি প্যাক সাবান। কোন পরিবারে যদি ৩ ছেলেমেয়ে ও মা-বাবা মিলে ৫ জন হয়ে থাকে, তবে এই দশ কেজি চাল দিয়ে তাকে তিন মাস ঘরে থাকতে বললে, প্রতি বেলায় মাথাপিছু ক’গ্রাম চাল হয় হিসেবটা আপনিই কষে দেখুন। কি বলবো এটাকে, তামাশা না উপহাস?

 

 

 

দেশজুড়ে লকডাউনে ছোট যানবাহন, বাজার-ঘাট, অনেক আফিস-আদালত-ব্যাংক, শিল্প কারখানা, বিপনী বিতান খোলা রেখে লাখো মানুষকে ঘরের বাইরে রেখে কেবলমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে,দফায় দফায় সাধারণ ছুটি বৃদ্ধি করে আমরা আসলে কি করতে যাচ্ছি?

শিশুদের নিরাপদ রাখতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। কিন্তু শিশুর বাবা-মা যখন জীবন জীবিকার জন্যে প্রতিদিনই বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। অফিস করে বাড়ি ফিরে তার শিশুদের সাথেই থাকছেন, সেখানে স্কুল বন্ধ রেখেই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে যায় কীভাবে? গালভরা বুলি ‘অন লাইন ক্লাস’। এই অনলাইন ক্লাস রিসিভ করার মত ডিভাইস আমাদের কতভাগ শিশুদের আছে? যারা এসি রুমে বসে এসব ভাবেন, যারা কথায় কথায় এদেশকে সিঙ্গাপুর, কানাডার চেয়ে উন্নত মনে করেন, তাদের কাছে এসব প্রশ্ন করা মানেই নিজের বিপদ ডেকে আনা। আসলে তারা না জানেন নিজের দেশ সম্পর্কে, না জানেন সিঙ্গাপুর-কানাডা সম্পর্কে। তাই আপনাকে বলছি প্রিয় পাঠক, আপনি ভেবে দেখুন, কোন উদ্ভট উটের পিঠে চলছি আমরা!

আজ একান্ত বাধ্য হয়ে, আক্ষেপ করে বলছি, হয়তো আমরা দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে স্বপ্রণোদিত হয়ে সহায়তা করতে গিয়ে নিজের অজান্তে মহা অন্যায় করে ফেলেছি। যে কারণে আমাদের প্রতি কারো কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। বহুবার দেখেছি, সোস্যাল মিডিয়ায় কোন বিরূপ মন্তব্য করলে মূহুর্তের মধ্যে তাকে হামলা-মামলা-জেল-জরিমানা-হয়রানির স্বীকার হতে হয়। অথচ একটি মানবিক আবেদনে সারা দেবার বেলায় সবাই উদাসীন।

আমরা রাস্তায় নেমে লাইনে দাঁড়াতে পারছি না। কারো কাছে হাত পাততে পারছি না। বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায় আয় করবো, সে পথও বন্ধ। ছেলেমেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে কথাও বলতে পারছি না। যেন কেউ হাত-পা বেঁধে দিয়ে অথৈ সাগরে নিক্ষেপ করেছে আমাদের। সর্বগ্রাসী ক্ষুধা, সীমাহীন হতাশায় প্রতিদিন একটু একটু করে জীবনি শক্তি হারিয়ে মৃত্যুর দিকে হেঁটে চলেছি। প্রায়শঃই মনে হয়, ক্ষুধায়-লজ্জায়-অপমানে ধুকে ধুকে মরার চেয়ে করোনায় মৃত্যু গৌরবের। আমাদের স্বাস্থ্যখাত আমাদের রক্ষায় কতটুকু উপযুক্ত তা টের পেয়েছি ইতোমধ্যে। চিকিৎসকদেরই যেখানে নিশ্চয়তা নেই, সেখানে আমরা সাধারণ মানুষ কোন ছাড়। তাই খুব বিনয়ের সাথে বলছি- হয় আক্ষরিক অর্থে লকডাউন কার্যকর হোক। দেশের সকল কিন্ডারগার্টেন ও তার শিক্ষক-কর্মাচারিদের পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁচার মত প্রণোদনা দেয়া হোক। নয়তো সব কিছুর মত সীমিত আকারে ঈদের পরে আমাদেরকেও স্কুলগুলো খোলার অনুমতি দেয়া হোক। শিশুরা থাক নিরাপদে তার বাবা-মা’র সাথে আপন গৃহে। আমরা আমাদের চেয়ার-টোবিল-বেঞ্চ আঁকড়ে ধরে মাতম করে মনের কষ্ট দূর করি। তবে, বুভুক্ষ বাবা-মাকে প্রতিদিন করোনার হাটে যেতে বাধ্য করে তাদের শিশুদের রক্ষা করা যায় কি? এগুলো কি মানুষের জীবন নিয়ে নিছক তামাশা নয়? নয় কি মানুষের অসহায়ত্বের চরম উপহাস?

লেখক: আবদুস সোবহান বাচ্চু,সাধারণ সম্পাদক, বরিশাল কিন্ডারগার্টেন ফোরাম, admin@nipobon.net


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান