এক সূত্রে গাঁথা দুনিয়ার সব  সংস্কৃতি ও ভাষা

Sun, Feb 17, 2019 12:55 AM

এক সূত্রে গাঁথা দুনিয়ার সব  সংস্কৃতি ও ভাষা

মঈনুল আহসান: টিভি সংবাদের বলা হলো সৈয়দ আশরাফ ‘মারা’ গেছেন। কানে লাগলো ‘মারা গেছেন’ কথাটা। মানুষের মৃত্যুর ক্ষেত্রে সাধারণত ‘ইন্তেকাল’ করেছেন  বা ‘পরলোক গমন’ করেছেন বলা হতো। এর মধ্যে আবার ‘পরলোক গমন করেছেন’ কথাটি বেশী শুনেছি বলে মনে হয়। ‘ইন্তেকাল’ শব্দের মধ্যে মুসলিম ভাব থাকাতেই সম্ভবত ‘পরলোক গমন’ কথাটা অধিক ব্যবহৃত হয়ে থাকবে আমাদের মিডিয়াতে। এটা সেক্যুলার থাকার চেষ্টা হতে পারে। কিন্তু সেটাও উচ্ছেদ করে এখন বলা হচ্ছে ‘মারা গেছেন’। বোধকরি পরকাল বলে কিছু নেই বোঝাতেই এটা করা হচ্ছে এবং অতি সচেতন ভাবেই তা করা হচ্ছে। এটা নির্ভেজাল নাস্তিকতা। বোঝা যাচ্ছে যে নাস্তিকতা এখন বেশ ভালো ভাবেই গেড়ে বসেছে আমাদের জাতীয় জীবনে। এমন দুনিয়া সর্বস্ব জীবনের কথা আমাদের বিদগ্ধ কিছু বুদ্ধিজীবী বলে আসছিলেন বহুদিন ধরে। উনারা নিজেদেরকে সব ধর্মের ঊর্ধ্বে বিবেচনা করে থাকেন। সাধারণ গণ-মানুষকেও তারা নিতে চান ধর্ম পরিচয়ের বাহিরে। মূলত তারাই এখন ক্ষমতায়। সৈয়দ আশরাফও ছিলেন তাদেরই একজন। ধর্মহীনতার ব্যাপারে তার কোন রাখ ডাক ছিল না। তিনি প্রকাশ্যেই নিজেকে মুসলিম বা হিন্দু কোনটাই নন বলে ঘোষণা করেছিলেন। সে কারণেই হয়তো তার মৃত্যুকে ‘মারা গেছেন’ বলে প্রচার করা হয়ে থাকবে। অর্থাৎ এদের ধারণা মতে মরণের পর তিনি মিলিয়ে গেছেন মাটির সাথে, শেষ হয়ে গেছে তার মহা জীবন। তাকে আর দেখা যাবে না কখনো, কোথাও।

 

বস্তুত মাটির সাথে চিরতরে মিশে যাওয়ার এই ধারণা সাধারণ ভাবে মাছ-মুরগী ও পশু-পাখীর জন্যে প্রযোজ্য বলে ভাবা হয়। তাই পশু-পাখীর ক্ষেত্রেই আমরা সাধারণত ‘মারা’ যাওয়া শব্দটা ব্যবহার করে থাকি, এতেই আমরা বেশী অভ্যস্ত। মানুষের জন্যে ‘পরলোক গমন’ আর পশু-পাখীর ক্ষেত্রে ‘মারা যাওয়া’র এই বিষয়গুলো এ জগতের সৃষ্টি কালীন বিধি-বিধান তথা ইউনিভার্সাল পলিসির অন্তর্ভুক্ত। সেই পলিসি অনুযায়ী মৃত্যুর পর মানুষকে অবশ্যই শুরু করতে হবে অন্য আরেক জীবন কিন্তু পশু-পাখীরা মরণের পর মিলিয়ে যাবে মাটির সাথে, তাদের জন্যে থাকবে না কোন হিসাব-নিকাশ অথবা অন্য কোন জীবনের ঠিকানা। সৃষ্টির শুরু থেকেই পরম স্রষ্টা মহান আল্লাহ পাক তাঁর এই পলিসির কথা বলে এসেছেন তার নির্বাচিত ধর্ম পবিত্র ইসলামের মাধ্যমে। তাই প্রচার প্রোপাগান্ডা করে এই ধারণাকে পাল্টানো নিতান্তই অসম্ভব। সে কারণেই মানুষের মৃত্যুকে ‘মারা গেছেন’ বলা খুবই অনৈতিক। এরপরও সে চেষ্টা করা হলে অবশ্যই প্রশ্ন উঠবে কেন সম্মানিত মানুষকে পশুর পর্যায়ে নামানো হচ্ছে।  বস্তুত অযৌক্তিক নাস্তিকতার সাথে জড়িয়ে গেলে মানুষ নিজেকে নিজেই যে কিভাবে পদে পদে অপদস্থ করতে থাকবে এটা তারই প্রমাণ। শ্রেষ্ঠত্বের কোন সম্মানই তার আর তখন অবশিষ্ট থাকে না।

 

বলা অনাবশ্যক যে পৃথিবীর হাজার হাজার বিবিধ প্রজাতির পশু-পাখীর ভাষা যেমন তাদের নিজেদের সৃষ্টি নয় তেমনি আমাদের মুখের ভাষাও আসলে আমাদের তৈরি নয়। এমনকি আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী তা বিকশিতও হয় না। হিব্রুর মত সুবিখ্যাত ভাষা এখন মৃত প্রায়। ইসরাইলের সর্বাত্মক দাপটের পরও সেটাকে আর যেন টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। অথচ পশু-পাখীদের ভাষাগুলো কোন রকম চেষ্টা-তদবির ছাড়াই দুনিয়া জুড়ে টিকে আছে সৃষ্টির আদি থেকে এখন পর্যন্ত একই ভাবে। যে ঘুঘুটা দিনরাত ডেকে ডেকে আমাদের লস এঞ্জেলসের পাড়াটাকে সম্মোহিত করে রাখে তার সেই স্বর বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের ঘুঘুদের মত একই, কোন তফাৎ নেই তাদের সেই ভাষায় যদিও তারা কখনো দেখেনি একে অন্যকে। এটা প্রমাণ করে যে ভাষা হলো বিশ্বজনীন মহা ব্যবস্থাপনারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ যা কিনা স্বয়ং সর্ব স্রষ্টা কর্তৃক সৃষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত। এটা খাদ্য শস্য উৎপাদন অথবা জামা-কাপড় তৈরির মতই একটা বিশ্বজনীন প্রক্রিয়ার বিষয়। মানুষের গড়া দেশ, রাজত্ব বা জাতীয়তার সীমানা মেনে মাঠের ফসল হয় না। এজন্যে প্রয়োজনীয় মাটি-পানি বা জলবায়ু হলো বিশ্ব সম্পদ। সেগুলোর সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে পাল্টে যায় ফলনের অঞ্চল। আবার পরনের কাপড় তৈরিতেও দরকার হয় বিভিন্ন অঞ্চলের তুলা, সূতা, রং, যন্ত্রপাতি ও কারিগর। একই ভাবে মানুষের ভাষাগুলোও এমন নয় যা কিনা অন্য ভাষার সাহায্য ছাড়া একক ভাবে চলতে পারে।  

বাংলা ভাষার টেবিল, চেয়ার, ফরাস বা কোর্ট-কাচারির মত শব্দগুলো সবই আসলে বিদেশী শব্দ। যখন  বলা হয় ‘আওয়ামী লীগের মালেক সাহেব হাইকোর্টের উকিল ছিলেন’, তখন সেখানে শুধুমাত্র ‘ছিলেন’ শব্দটা ছাড়া অন্য সবই আমরা বিদেশী শব্দ উচ্চারণ করে থাকি। হাইকোর্টকে বাংলা করতে যে ‘আদালত’ শব্দটি ব্যবহার করা হয় সেটাও আসলে বিদেশী শব্দ। আরবি ‘আদল’ বা ‘আদিল’ই হলো ‘আদালত’ শব্দের মূল। ইংরেজি ‘আপিল’ শব্দটাও আসলে এই ‘আদিল’-এরই ভিন দেশী উচ্চারণ মাত্র। এমনকি ‘বাতায়ন’ অথবা ‘গার’ তথা ‘গর্ত’ -এর মত ‘আপাত খাঁটি বাংলা’ শব্দগুলোও আসলে বাংলা নয়। এই শব্দ দুটোর উল্লেখ দেখা যায় পবিত্র কোরআনের যথাক্রমে সূরা আর-রাহমান ও সূরা ইনফিতার-এর ৫৪ ও ৬ নং আয়াতে। সুদূর আমেরিকার ভাষাগুলোতেও রয়েছে একই রকমের বিশ্বজনীন আন্তঃমিল। আমাদের অঞ্চলের পারিবারিক উপাধি ‘হক’ নেটিভ আমেরিকান ইন্ডিয়ানরাও ব্যবহার করে থাকে তাদের উপাধি হিসেবে। তাদের ‘হক’ (Hawk)-এর বানান ভিন্ন হলেও উচ্চারণ এক। বলাই বাহুল্য যে এই ‘হক’-ও খাঁটি আরবি শব্দ। এভাবে খোঁজ করলে অতি নিশ্চিত ভাবেই দেখা যাবে যে বিশ্বের কোন ভাষারই বস্তুত ক্ষমতা নেই একক ভাবে বেঁচে থাকার। ব্যতিক্রম শুধুই আরবি ভাষা। আরবিই বোধকরি একমাত্র ভাষা যার রয়েছে একক ভাবে টিকে থাকার অনন্য শক্তি। এ থেকে ধারণা করা যায় যে আরবিই সম্ভবত পৃথিবীর প্রথম ভাষা এবং বিশ্বের অন্য সব ভাষার উৎপত্তিই মূলত আরবি থেকে অর্থাৎ আরবিই হলো ‘মাদার অব অল ল্যাংগুয়েজ’ (Mother of All Language)। আর সে জন্যেই অতি আবেগী জাত্যভিমানের ধাক্কায় আরবি-ফারসি-ইংরেজি শব্দগুলোকে ঝেঁটিয়ে বের করতে গেলে আমরা সম্ভবত আমাদের প্রিয় বাংলাকেই হারিয়ে ফেলবো চিরতরে। সে রকম অবস্থা তথা লোম বাছতে কম্বল খোয়ানোর মত পরিস্থিতি কারোই কাম্য হওয়ার নয়।

ভাষার মত বিভিন্ন দেশের বিবিধ সংস্কৃতিও গড়ে উঠেছে বস্তুত সৃষ্টির পরম সত্যগুলোর একক কাঠামোর উপর। তাই সব সংস্কৃতির মধ্যেই দেখা যায় সার্বজনীন সত্যগুলোর আন্তঃমিল। পাপ-পুণ্য, ইহকাল-পরকাল, স্বর্গ-মর্ত, গুরু-শিষ্য           কিম্বা আল্লাহ-খোদা, বিধাতা বা শান্তি হলো সেই সব চিরন্তন সত্য ভিত্তিক আন্তঃমিলেরই উদাহরণ। কিন্তু অতি মাত্রিক জাতীয়তাবাদীরা নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির ধুঁয়া তুলে প্রথমেই বাদ দেয়ার চেষ্টা করে এ ধরণের বিশ্বজনীন সত্যগুলোকে। এ গুলোকে তারা গুলিয়ে ফেলে অন্যান্য মেকি বা ধারণা ভিত্তিক বিষয়ের সাথে। বাদশাহ আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহি ছিল সে রকম উদ্ভট মিশ্রণের অন্যতম সেরা উদাহরণ।  কিন্তু নিখাদ সত্য ছাড়া কোন কিছুই টিকতে পারে না এই মহা বিশ্বে তাই আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহি টেকে নি। একই ভাবে অতি মাত্রিক জাতীয়তাবাদও হালে পানি পায় না কখনোই। তারপরও মাত্রারিক্ত জাতীয়তাবাদী চেতনা নিয়মিতই হানা দেয় বিশ্বের দেশে দেশে। তুরস্কের কামাল আতাতুর্ক কিম্বা ইরানের রেজা শাহ পাহলোভীরা ছিলেন সে রকম অতি মাত্রার জাতীয়তাবাদী। কথিত আধুনিক সভ্যতা ও সংস্কৃতির ধুয়া তুলে তারা বস্তুত অস্বীকার করতে চেয়েছিল পারস্পরিক দেয়া-নেয়ার সহজাত ও সদা চলমান বিশ্বজনীন নিয়ম-পদ্ধতিগুলোকে। রীতিমত যেন যুদ্ধ করেছিলেন সেগুলোর সাথে নিজেদেরকে আলাদা ও অমুখাপেক্ষী জাতি সত্ত্বা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। বিশেষ করে কামাল আতাতুর্কের কারিশমা ছিল চোখে পড়ার মত। তার অতি চটকদার জাতীয়তাবাদী চেতনা আলোড়ন তুলেছিল বিশ্ব জুড়ে। এমনকি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুলও তার উচ্ছ্বসিত তারিফ করে লিখেছিলেন ‘কামাল কিয়া কামাল কিয়া ভাই’-এর মত জনপ্রিয় শ্লোক। কিন্তু তাদের সেই চমক শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়েছে নিতান্তই মরীচিকা হিসেবে। তাই তারা এখন ধিক্কৃতদের দলভুক্ত। ঢাকার রাস্তা থেকেও আতাতুর্ক নামের উচ্ছেদ এখন বোধকরি সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এহেন উগ্র জাতীয়তাবাদী উন্মাদনার এ সময়ের শিরোমণি নিঃসন্দেহে নর্থ কোরিয়া। বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন এ দেশের মানুষের কথা ভাবতে গেলে গা শিউরে ওঠে। এক সময় জাপানের অবস্থাও ছিল তাই। দীর্ঘ চার শত বছর জাপান বিচ্ছিন্ন ছিল বহির্বিশ্ব থেকে। ভাষা ও সংস্কৃতিকে তারা এতটাই সুরক্ষিত রেখেছিল যে সেগুলোকে এখন আর সবার জন্যে গ্রহণযোগ্য করা যাচ্ছে না, সেই ক্ষতি এখনো তারা বয়ে চলেছে জাতীয় ভাবে। বিশ্বায়নের ক্ষেত্রে তাদের ভাষাই এখন প্রধান প্রতিবন্ধক। তাদের কালচারও এতটাই দুরূহ যে নিজ দেশের বাহিরে জাপানিজরা সাধারণত বেশী দিন থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। এ অবস্থা থেকে বেড়িয়ে আসতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা শুরু করে মূলত নব্বইয়ের দশক থেকে। এ সময় তারা বিদেশী ছাত্রদেরকে ব্যাপক হারে টানতে শুরু করে লোভনীয় স্কলারশিপ দিয়ে, ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের অদলে চালু করে ফুটবলের জনপ্রিয় জে-লীগ এবং দেশব্যাপী পাবলিক প্লেসের সাইন বোর্ডগুলোতে শুরু করে ইংরেজি সাব-টাইটেল লিখার চর্চা। কিন্তু তারপরও বিশ্বায়নের পথে তারা এখনো আমেরিকা,  ব্রিটেন বা কানাডার চেয়ে বহু বহু ক্রোশ দূরে। এমনকি ফ্রান্স ও জার্মানিও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে আমেরিকা ও ব্রিটেনের থেকে।

বস্তুত আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেনের মত যারা যত তাড়াতাড়ি উপলব্ধি করেছে বিশ্বজনীন ভাষা ও সংস্কৃতির স্বাভাবিক প্রবাহের সাথে তাল মিলিয়ে চলার আবশ্যকতা তারাই লাভবান হয়েছে তত বেশী। এই দেশগুলো জগতের সৃষ্টিগত চিরন্তন সত্যগুলোকে জানে ও মানে এবং লালনও করে থাকে যত্নের সাথে। তাই তারা তাদের জাতি সত্ত্বা গড়েছে বিশ্বের সবাইকে নিয়ে। সবার সব সত্য মত ও পথই হলো এদের জাতীয়তার ভিত্তি। আর এ কারণেই হলিউডের মত মনোহারি গণ মাধ্যমের সরব উপস্থিতির পরও হলিউড- বলিউডের অসুস্থ সংস্কৃতি এখানে এখনও সর্বগ্রাসী হয়ে উঠতে পারেনি। নাস্তিকতার মিথ্যাচারও এখানে পেরে ওঠে না সত্যনিষ্ঠ সংস্কৃতিগুলোর শক্ত অবস্থানের কারণে। সেজন্যেই এখানে মক্কা, গুরু, শরিফ, কর্ম-কারমা বা আভাটারের মত শত-সহস্র বিদেশী শব্দ মূলধারার মিডিয়া ও সাহিত্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে নির্দ্বিধায় ও নিয়মিত ভাবে। এতে এরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না অথবা হীনমন্যতায় ভোগে না বরং আরও সমৃদ্ধ হয় প্রতিদিন। জগতের সকল ভাব ও ভাষার মধ্যে এমন সতত আদান-প্রদান এবং সংযোজন- বিয়োজনের অনাদিকালের ধারাবাহিক প্রবাহই বস্তুত মানব সংস্কৃতির মূল কাঠামো। পরম সত্যগুলোই শুধু শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে মূল এই কাঠামোতে। অসত্য ও অসুস্থ চেতনা বা ধারণাগুলো সেখানে ক্ষণে ক্ষণে হানা দেয় ঠিকই কিন্তু শেষতক ঝরে পড়ে স্বয়ংক্রিয় ভাবে। এ কারণেই মানুষের সব ভাষা ও সংস্কৃতিতে দেখা যায় পরম সত্যগুলোর সার্বজনীন স্বীকৃতি ও উপস্থিতি। এটা বস্তুত মুসলিম ধারা যা কিনা ইসলামের চিরন্তন প্রাকৃতিক ধর্ম হওয়ার অন্যতম অকাট্য প্রমাণও বটে।

সাংস্কৃতিক বিবর্তনের এই প্রক্রিয়া উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া যায় না। একে জোর করে থামিয়েও দেয়া যায় না। তেমন চেষ্টা অতি ক্ষতিকর। হিন্দির প্রতি আমাদের ঘৃণা পূর্ণ মনোভাব তার সেরা উদাহরণ। এটাকে আমাদের উপর চাপানোর প্রয়াস বহু দিনের। ঘরে ঘরে হিন্দি ও ভিন দেশী সিরিয়াল ঢুকানো হয়েছে সে লক্ষ্যেই, কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো, মানুষের বিরক্তি বেড়েছে আরও। মুখ ঘুরিয়ে মানুষ এখন ছুটছে প্রকৃত সত্য ও শান্তির সন্ধানে। কোরআনের ছায়ায় খুঁজে পাচ্ছে সেই সুখ আর বোরখাতে পাচ্ছে নিরাপত্তা। তাই দেশ জুড়ে ঘটে চলেছে কোরআনিক শিক্ষা আর হিজাব ও বোরখার নীরব বিপ্লব। অতএব সেক্যুলারিজমের মোড়কে নাস্তিকতাকে চাপিয়ে দেয়া যাবে না। সে লক্ষ্যে ভাষা ও সংস্কৃতির স্বাভাবিক সত্যনিষ্ঠ বিবর্তনের পথে বাধা সৃষ্টির চেষ্টাও কখনো সফল হবে না। কোন মুসলিম প্রধান দেশে অন্তত এমন অপচেষ্টা কাম্য হতে পারে না। এ রকম বাস্তবতা বর্জিত জাত্যভিমান নিয়ে যে আল্লাহর দুনিয়ায় টিকে থাকা যায় না তা মুসলমানদের চেয়ে অন্য কারোর ভালো জানার কথা নয়।

 

লেখকের বই পেতে: Search ‘Mainul Ahsan’ at ‘amazon.com’


Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান