টরন্টোয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা ও আকাংখার অপূর্ণতা

Tue, Jun 19, 2018 11:30 PM

টরন্টোয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা ও আকাংখার অপূর্ণতা

খুরশীদ শাম্মী: গত ১০ জুনবাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানাডা আগমন উপলক্ষ্যে টরন্টোর মেট্রো কনভেনশন সেন্টারে আয়োজন করা হয়েছিল এক গণসংবর্ধনার সেখানে উপস্থিত ছিলেন কানাডার বিভিন্ন শহরের আওয়ামী লীগ কমিটির সদস্যবৃন্দ, টরন্টোর বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীগণ, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকমণ্ডলীসহ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত ও কানাডার অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান পণ্ড করার ঘোষণা দিয়েছিলো বাংলাদেশের বিরোধী দলের অনুসারী প্রবাসীরা। তারা নিজেদের চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টাও করেছিল টরন্টোর মেট্রো কনভেশন সেন্টারের সম্মুখে দাঁড়িয়ে মাইকিং করার। কিন্তু তা খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে কেউ আসেনি, নিজেরাই আট–দশজন কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে কোনো প্রকার সুবিধা করতে না পেরে, ব্যর্থ হয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে কঠিন নিরাপত্তার সকল নিয়ম-কানুন মেনেও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মানুষের কমতি ছিলো না, বরং মানুষ প্রবেশ করতে না পেরে বাইরে অপেক্ষা করেছিল। প্রধানমন্ত্রীর জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই মেট্রো কনভেশন সেন্টার ছিলো বাংলাদেশিদের দ্বারা পরিপূর্ণ। এছাড়াও অনুষ্ঠান চলাকালিন সময় উপস্থিত সকলেই বেশ শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের আসনে থেকে অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে নিতে সহযোগিতা করেছিল, যা সত্যিই উদাহরণ হয়ে থাকার মতো।    

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, অনেক চড়াই উরাই পার হয়ে আজ বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ তিনি মনে করিয়ে দেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি যখন জিতেছে তখন আওয়ামী লীগ কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করেনি। তিনি আরো বলেন, দেশ স্বাধীনতার এতগুলো বছর পর বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়েছেজাতির পিতা বেঁচে থাকলে হয়তো স্বাধীনতার পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যেই তা অর্জিত হতো। এরপরই তিনি মনে করেন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টের কথা; তাঁর ছোট ভাই রাসেলের কথা। খুনিরা তাঁর  শিশু ভাইটিকেও মেরে ফেলতে কোনো প্রকার দ্বিধা করে নাই। প্রধানমন্ত্রী জানান, কানাডায় বসবাসরত বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য কানাডার সরকারের সাথে আলাপ চলছে। শুধু নূর চৌধুরী নয়, রাশেদ চৌধুরী আছে আমেরিকায়, ডালিম ও রশিদ আছে পাকিস্তানে, সবাইকেই দেশে ফিরিয়ে নিতে চান তিনি

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ যেদিন থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য শুরু করেছে, সেদিন থেকে বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত হয়েছে- কারণ, বাংলাদেশ অভিশাপ মুক্ত হয়েছে।   

দেশে অর্থ পাঠিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে বাজেট ঘোষণার পরপরই সাধারণ জিনিষপত্রের মূল্য বৃদ্ধি পেতো। কিন্তু এখন আর বাজেটের পর সাধারণ জীনিষপত্রের মূল্য বৃদ্ধি পায় না। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১,৭৫২ মার্কিন ডলার। যা গত বছরের তুলনায় ১৪২ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে এখনও প্রায় দুই লক্ষ গৃহহারা মানুষ আছে, অদূর ভবিষ্যতে একজন মানুষও গৃহহারা থাকবে না- সেটাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য। যানযট কমাতে ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো করতে আণ্ডার গ্রাউন্ড রেল লাইন নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছেবিনিয়োগে নারীদের বিশেষ সুবিধা আছে, স্বল্প সুদে ঋণ দেয়া হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ফোর জি (চতুর্থ প্রজন্ম) টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি সার্ভিস চালু হয়েছেমহাকাশে বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট হয়েছে, যার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু নিজেই ১৯৭৫ সালের ১৪ই জুন বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে। 

প্রধানমন্ত্রী কানাডা প্রবাসী সবাইকে মিলেমিশে থাকার, দেশের কথা মনে রাখার এবং দেশের পাশে থাকবার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর মূল্যবান বক্তব্যে দেশের উন্নয়নের কথা নানানভাবে বলেছেন। আমরা দেশের উন্নয়নের কথা শুনে আনন্দিতও হয়েছি। তবে তাঁর বক্তব্যের পূর্বেই উপস্থাপকের মাধ্যমে কানাডা প্রবাসীদের অর্জিত দু’টো সাফল্যের কথা জানানো হয়েছিলঃ ১। হ্যামিলটন শহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্ট্যাচু নির্মান করার মৌখিক ও লিখিত অনুমতি পাওয়ার খবর। ২। অন্টারিও প্রদেশের সংসদ নির্বাচনে ডলি বেগমের বিজয়ের খবরডলি বেগমের নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা আমাদের কাছে বেশ আনন্দের ও গর্বের একটা বিষয়, কারণ এই প্রথমবারের মতো একজন বাংলাদেশি কানাডার কোনো নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছে। অন্যদিকে নেলসন মেন্ডেলা এবং মহাত্মা গান্ধীর স্ট্যাচুর মাঝে আমাদের বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু নির্মানের অনুমতিও আমাদের বেশ খুশী ও গর্বের বিষয়। আমাদের আকাঙ্ক্ষা ছিলো, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তিনিও তাঁর খুশীর বহিঃপ্রকাশ করবেন। কিন্তু আমাদের আকঙ্ক্ষা অপূর্ণই থেকে গেলো। খুব বড় করে না হলেও, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের কোনো এক মুহুর্তে যদি একটি বারের জন্যও এই দু’টো আনন্দের সংবাদে নিজের মতামত অথবা শুভেচ্ছা জানাতেন, তবে ঐদিন আমাদের আনন্দ আরো এক মাত্রা বেড়ে যেতো। এছাড়াও কানাডার মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা আকতার জানু তাঁর বক্তব্যে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি বৃদ্ধি ও তা দমনে প্রধানমন্ত্রীর নজর দেয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেনপ্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য কালে যদি একটিবারের জন্যও দুর্নীতি দমনে পদক্ষেপ নিবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করতেন, আমাদের আকাঙ্ক্ষা সম্পূর্ণ না হলেও কিছুটা পূর্ণ হতো           


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান