‘কর্পোরেট’ কালচার বনাম ‘সার্বজনীন (!)’ সংস্কৃতি

Wed, Feb 21, 2018 10:19 PM

‘কর্পোরেট’ কালচার বনাম ‘সার্বজনীন (!)’ সংস্কৃতি

সোলায়মান তালুত রবীন: গতকাল( ২০ ফেব্রুয়ারি) অনেক দিন ধরে চলচিত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত একজন বলছিলেন, "সংস্কৃতি কর্মীরা মূলতঃ শান্তির কর্মী। আমরা কোনো বিরোধে নেই।" আমার মতে সংস্কৃতি কর্মীরা রাজনীতির দলা-দলীর বাইরে যে কোন অপকর্মের বা অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে "শান্তির কর্মী" এবং তারা রাজনীতিকে অনেক শক্তভাবে ধারণ করেন। তাই তারা যে কোন ভাল কাজের পক্ষে, মন্দের বিপক্ষে। তারা তাদের নিজ নিজ স্থান থেকে সমাজের সকলের অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতিক আয়োজন করে থাকেন।

একটা কথা খুব প্রচলিত তা হচ্ছে "কর্পোরেট" কালচার; এখানে এর সাথে যুক্ত হয়েছে "সার্বজনীন (!)" যার মানে দাড়াচ্ছে, টরন্টোর অভিজ্ঞতায়, জয় বাংলা বলা যাবে না, প্রভাতফেরীর গান গাওয়া যাবে না, ইত্যাদি। এরা রাজনীতিকে এড়িয়ে যেতে চায়। কিন্তু জানেই না যে, রাজনীতিই একুশের বা ৭১-এর মূল চালিকাশক্তি। রাজনীতি না থাকলে আমরা আমাদের ভাষার যুদ্ধে বা স্বাধীনতার যুদ্ধে জয়লাভ করতে পারতান না। হ্যাঁ, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিবাদ বা কলহ থাকবে কিংবা দলের মধ্যে ঝগড়া/দলাদলি থাকবেই। আমি কোনো কলহে বিশ্বাসী নই কিন্তু দল-মত নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহনে আস্থাবান। কিন্তু কোনোকিছুতে, বিশেষ করে সংস্কৃতির আন্দোলনে রাজনীতি না থাকলে তা "কর্পোরেট কালচারেই" রুপ নেয় আর হয়ে উঠে মুনাফার হাতিয়ার মাত্র।

গতরাতে আমার অভিজ্ঞতা যতটা আনন্দদায়ক, ততটাই আবার কষ্টকর। গতরাতের কিছু কিছু কর্মকান্ড, যা বিভিন্ন জনের অভিজ্ঞতা বর্ণনায় ধীরে ধীরে বের হয়ে আসছে, আমাকে ক্ষুব্ধ ও দুঃখিত করে তুলছে। তবে আমি নিরাশাবাদী নই।এই সময়েই সংস্কৃতি কর্মীদের একত্রিত হয়ে "রাজনীতি" কে মূল্যায়ন করেই যৌথ ভাবে কর্মসূচী নেয়া কর্তব্য বলে মনে করছি।

গতরাতের অনুষ্ঠানে, যা ছিল বাংলাদেশ ফিল্ম ফোরাম - বাংলাদেশ থিয়েটার ফোকস - অন্য থিয়েটার/অন্যস্বর এর যৌথ আয়োজন, উদীচী কানাডাকে আমন্ত্রণ জানানোইয় আমি ব্যাক্তিগতভাবে আয়োজকদেরকে আন্তরিকভাবে "ধন্যবাদ" জানাচ্ছি। এবং এতে আশার আলো দেখতে পারছি।

জয় হোক শুভ চিন্তার আর ঐক্যের!

লেখকের ফেসবুক পোষ্ট


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান