আপনি কি বিদেশে পড়তে যেতে চান?

Thu, Feb 15, 2018 12:54 PM

আপনি কি বিদেশে পড়তে যেতে চান?

আমিনুল ইসলাম : এই জন্য কি আপনি আপনার আশপাশে যারা বিদেশে পড়তে গিয়েছে কিংবা যাদের এই সম্পর্কে ধারনা আছে, তাদের কাছে সব সময় সাহায্য চেয়ে থাকেন?

তাহলে বলতেই হচ্ছে আপনি আসলে বিদেশে পড়ার জন্য সেই অর্থে যোগ্য নন কিংবা নিজেকে বোকা হিসেবে প্রমাণ করছেন।

আপনি যাদের কাছ থেকে তথ্য জানতে চাইছেন, তারা তথ্য গুলো কই থেকে জানছে?

তারা কি আকাশ থেকে তথ্য গুলো জেনেছে?

আজ থেকে ১৩ বছর আগে আমি যখন সুইডেনে পড়তে যাই, আমি তো ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করেই বিদেশে পড়তে চলে গিয়েছি। অন্য কারো সাহায্যের দরকার হয়নি। ওই সময় তো দেশে ইন্টারনেট ততটা সহজলভ্যও ছিল না।

তাহলে আপনি কেন পারছেন না?

আপনি ফেইসবুক ব্যাবহার করে আপনার পরিচিত মানুষকে বিদেশে পড়তে যাওয়ার ইচ্ছের কথা জানাচ্ছেন, তাদের কাছে সাহায্য চাইছেন। এর মানে দাঁড়াচ্ছে আপনি ইন্টারনেট সুবিধা ব্যাবহার করছেন। তাহলে আপনি নিজে কেন এই তথ্য গুলো জানতে পারছেন না?

ইন্টারনেট মানেই তো ফেইসবুক আর ইউটিউব না।

আমাদের সমস্যা হচ্ছে-আমরা ধরেই নিয়েছি ইন্টারনেট মানে হচ্ছে ফেইসবুক আর ইউটিউব। দিনভর ফেইসবুকিং করবেন, সিনেমা-গান দেখে বেড়াবেন ইউটিউবে, আর রাতের বেলায় অন্যের কাছে সাহায্য চাইবেন- কিভাবে বিদেশে পড়তে যাওয়া যায়!

তো সার্চ ইঞ্জিন গুলো ব্যাবহার করুন না। স্রেফ গুগল ব্যাবহার করুন। এরপর যেই দেশে পড়তে যেতে চান, সেই দেশের ইউনিভার্সিটি গুলো সার্চ দিয়ে খুঁজে বের করুন। এরপর একটা একটা করে ইউনিভার্সিটি গুলোর ওয়েব সাইট থেকে ওদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার তথ্য গুলো জেনে নিন।

জগতের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভর্তির তথ্য গুলো তাদের ওয়েব সাইটে দেয়া আছে। এখন আপনি যদি ওই বিশাল বিশাল তথ্য গুলো পড়তে না চান কিংবা ইংরেজিতে লেখা তথ্য গুলো পড়ে বুঝতে না পারেন! তাহলে তো আপনি আসলে বিদেশে পড়তে যাবার যোগ্যতাই রাখেন না!

আগে তো এই স্টেপ নিজে নিজেই পার হবার চেষ্টা করবেন। চেষ্টা করলে, যে কারো পক্ষে নিজের বাসায় বসেই সেটা সম্ভব।

এরপর যখন একটা ইউনিভার্সিটি থেকে এডমিশন পেয়ে যাবেন, তখন সেই দেশের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। ধরুন আপনি জার্মানির কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছেন।, এরপর আপনার কাজ হচ্ছে জার্মান মাইগ্রেশন অফিসের ওয়েব সাইট থেকে ভিসা বিষয়ক তথ্য জেনে নেয়া। এছাড়া আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে আবেদন করেন, তাহলে বাংলাদেশে জার্মান এমব্যাসির ওয়েব সাইটেও সব তথ্য দেয়া আছে। অন্যান্য দেশ গুলোর ব্যাপারেও তাই।

 

এই সব তথ্য পড়ে যদি না বুঝতে না পারেন, তাহলে তাদের ফোন করুন কিংবা মেইল করুন। তারা আপনার প্রশ্নের উত্তর দিবে। আমাদের মাঝে একটা ধারনা আছে- এমব্যাসি! বিশাল ব্যাপার সেপার! এক ধরনের ভয়ও কাজ করে।

 

আসলে কি তাই? এমব্যাসির একটা সেকশন তো বসেই আছে আপনাকে ভিসা দেয়ার জন্য আর এই বিষয়ে তথ্য দেয়ার জন্য। তাই তাদেরকে ভয় পাবার তো কোন মানে নেই।

এই তো হয়ে গেলো আপনার বিদেশে এডমিশন পাওয়া ও পড়তে যাবার জন্য ভিসা পাবার সহজ উপায়। তাহলে অন্য আরেক জনের সাহায্যের তো আপনার দরকারে হচ্ছে না।

এরপরও বলছি না দরকার হতে পারে না। আপনি নিজে তো আগে সব তথ্য জানবেন। কোথাও যদি না বুঝে থাকেন, তখন না হয় আপনার চাইতে যার অভিজ্ঞতা বেশি তার সাহায্য চাইতে পারেন।

কিছুই জানেন না; কোন দিন তথ্য নেবার চেষ্টাও করেননি; ওয়েব সাইট থেকে কিছু পড়তে চাইবেন না, তাহলে আপনি কি করে বিদেশে পড়তে যাবার চিন্তা ভাবনা করছেন?

দিনভর ফেইসবুকিং করা ইউটিউবিং করার চাইতে নিজেকে বরং আরেকটু সমৃদ্ধ করুন। আমদের সমস্যা হচ্ছে আমরা কখনোই যে কোন প্রজুক্তি কিংবা নতুন কোন কিছুর ভালো দিকটা গ্রহণ করি না। করলেও সেটা সঠিক ভাবে প্রয়োগ করি না।

একটা ছেলে বা মেয়ে রাঙ্গামাটি কিংবা টেকনাফে বসেও যে পুরো পৃথিবী ঘুরে ফেলার যোগ্যতা রাখে, এর জন্য যে আপনাকে ঢাকা, দিল্লী কিংবা নিউইয়র্কে জন্মানোর দরকার হয় না; সেটা আমরা এখনো বুঝে উঠতে পারিনি।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
Designed & Developed by Tiger Cage Technology
উপরে যান