কুইবেকের ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা’ আইন: এতো বিতর্কের কারন কি?

Sat, Oct 21, 2017 12:13 AM

কুইবেকের ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা’ আইন: এতো বিতর্কের কারন কি?

শেখ শামসুন্নাহার ইতি : আহা! চিলে কান নিয়েছে ? আসেন চিলের পিছে দৌড়াই...

আহা! চিলে কান নিয়েছে ? আসেন চিলের পিছে দৌড়াই...

Religious Neutrality Bill 62... বিষয়টা যে শুধু "নিকাবের" না ; সবার "নিরাপত্তার" এটা আমরা কবে বুঝব?

হ্যাঁ বলছি, কানাডার "কুইবেক" প্রদেশের " আইনটির নাম রিলিজিয়াস নিউট্রালিটি বিল" । এই নিয়ে মুসলিম সমাজে তুমুল তোড়পাড় !!! একে বারে বোরকা ধরে টান... কিন্তু , কেউ কি এক বারের জন্যও এই আইনের কথা গুলো পড়েছেন? নাকি আমরা ভাবার্থ করবো নিজের মতো করে ? আচ্ছা তবে আইনেই আসি?

Bill 62

"An Act to foster adherence to State religious neutrality and, in particular, to provide a framework for religious accommodation requests in certain bodies":

EXPLANATORY NOTES

The purpose of this bill is to establish measures to foster adherence to State religious neutrality. For that purpose, it provides, in particular, that personnel members of public bodies must demonstrate religious neutrality in the exercise of their functions, being careful to neither favour nor hinder a person because of the person’s religious affiliation or non-affiliation. However, this duty does not apply to personnel members who, in certain bodies, provide spiritual care and guidance services or are in charge of providing instruction of a religious nature.

Under the bill, personnel members of public bodies and of certain other bodies must exercise their functions with their face uncovered, unless they have to cover their face, in particular because of their working conditions or because of occupational or task-related requirements. In addition, persons receiving services from such personnel members must have their face uncovered. An accommodation is possible but must be refused if the refusal is warranted in the context for security or identification reasons or because of the level of communication required.

The bill establishes the conditions under which accommodations on religious grounds may be granted as well as the specific elements that must be considered when dealing with certain accommodation requests.

It specifies that the measures it introduces must not be interpreted as affecting the emblematic and toponymic elements of Québec’s cultural heritage, in particular its religious cultural heritage, that testify to its history.

Lastly, special measures with respect to educational childcare services are introduced to ensure that, among other considerations, children’s admission is not related to their learning a specific religious belief, dogma or practice and that the activities organized by subsidized childcare providers do not involve learning of a religious or dogmatic nature.

আমি শুধু এই টুকুনই জানতে চাই , এখানে কোন লাইনে লিখা আছে বোরকার কথা ? আইনে নেকাব বা বোরকার কোনো উল্লেখ নাই। সেখানে বলা হয়েছে সরকারি সেবা নেওয়ার সময় মুখ আবৃত রাখা যাবে না; সেবা প্রদান বা গ্রহনের সময় উভয় পক্ষেরই মুখ অনাবৃত থাকতে হবে অর্থাৎ মুখ ডাকা নিষিদ্ধ । সেটা কাপড় দিয়ে হউক বা অন্যকিছু দিয়েই হোক। এমন কি কালো সানগ্লাসও এর আওতায় পরে। পাবলিক বাসের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হবে। ইস্কুল, ডে-কেয়ার ও এর আওতায় পরে।

Religious Neutrality Bill 62 যা "মুখ  ঢাকা নিষিদ্ধ" করার বিষয়টি আইন সিদ্ধ করেছে । এতে নারী - পুরুষ সবার জন্য একই আইন। তবে পেশাগত কারনে যদি মুখে মাস্ক পরতে হয় তবে সেটা সেই পেশা অনুযায়ী ব্যাবস্থা হবে।

হ্যাঁ , খুব সত্যি, এই বিল এ কোথাও নিকাব এর কথা বলা হয় নাই; কিন্তু মুখ অনাবৃত রাখার জন্য নিকাব পড়া যাবে না । কিন্তু, এর সাথে বোরকার কি সম্পর্ক ? বোরকার মত শীতের জ্যাকেট তো বরফ পরলে কানাডায় সবাইকেই বছরের ৭ মাস পরতে হয় আর মাথায় স্কার্ফ তো শীত কালে সবাই পরে, তাহলে সারা বছরে দোষ কই?

এই আইনে কোথাও তো বলে নাই যে মাথায় স্কার্ফ পড়া যাবে না !

শুধু তাই না, যে কোন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মুসলিম নারী তার ইচ্ছে মত নিকাব পরতে পারবে। ব্যক্তিগত জীবনেও পারবে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবা দান বা গ্রহনের ক্ষেত্রেও পারবে।

তবে এই আইন নিয়ে এতো অপব্যাখ্যা কেন করছি আমরা ?

এবার আসি নিরাপত্তার বিষয়ে , আচ্ছা Immigration office এ বা অন্য সমস্ত সরকারী জায়গায় যদি মুখ আবৃত থাকে তাহলে কি দিয়ে identification হবে মানুষ আসল না নকল ? জালিয়াতির খবর তো কমবেশি সবারই জানা। বহুবার এই নিয়ে অনেক সমস্যা হয়েছে। এই আইন করা হয়েছে যাতে আইনের স্বচ্ছতা , এবং সুষ্ঠ কার্যকারিতা ও প্রয়োগ হয়। এতে সমস্যা কোথায়?

ডে-কেয়ার এ আপনি কি কাউ কে না দেখে বিশ্বাস করে আপনার বাচ্চা দিয়ে নিশ্চিন্তে বসে থাকতে পারবেন? আর আপনি পারলেই অন্যকে তা পারতে হবে এ কথা কেন আশা করেন ?

কিন্তু, সব চাইতে বড় কথা, আমার মুসলিম বোনদের নিকাব পরে যে দুষ্কৃতকারীরা দুষ্কৃতি করবে না , এই Guarantee কে দিবে ??? আপনি দিবেন ? জানেন, যারা হিজাব বা নিকাব পরেন তাদের মনের অবস্থা তখন কি হয় ? খোদ মসজিদেও এক অচেনা নারী আরেক অচেনা নারী কে অনেক সময় সন্তান নিয়ে ভরসা করতে ভয় পায় , এমন ঘটনাও দেখেছি...। ১০ বছর কানাডার জীবনে অনেক সময় মসজিদ থেকেই বলে দিয়েছে, অচেনা কারো ভরসায় বাচ্চার খেয়াল না রেখে , ইবাদত নিয়ে ব্যাস্ত না হতে। যার যার বাচ্চার দায়িত্ত তার তার । তাই বলে নিকাব পরবে না তা কেন ? মসজিদে পরতে তো  কনো দোষ নেই। আমি বলতে চাচ্ছি , যখন বিষয়টা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার তখন এই নিয়ে সমস্যা কি?

Airport এ সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সমস্যা হয় এই নিকাব নিয়ে। আমি তো মনে করি দুষ্কৃতকারী দের দুষ্কৃতীর দায়ভার ডালাও ভাবে যে কারো উপর পরার হাত থেকে আর সবার নিরাপত্তার জন্য এই আইন কারো কনো ক্ষতি করছে না।

সব শেষে যে কথা না বললেই নয়, সব সামাজিক, ধর্মীয় আঘাত কেন নারীর উপরেই আসবে ? মহান আল্লাহ পাকের ঘরে হজ্জ করতে গিয়ে নারী যদি নিকাব ছাড়া হাজ্জ করতে পারে তাহলে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য নারীর উপর এই নিকাব পরানোর বাধ্যবাধকতা কেন ? আর এই নিয়ে আমরা কেন রঙ চড়িয়ে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাইছি। এই অপপ্রচার কার স্বার্থে ?

অন্যের কথায় চিলের পেছনে না ছুটে ; আগে ভাল করে জানুন সত্যটা কি ?


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
External links are provided for reference purposes. This website is not responsible for the content of externel/internal sites.
উপরে যান