গণতান্ত্রিক বনাম সামরিক একনায়কতন্ত্র

Fri, Oct 20, 2017 1:30 PM

গণতান্ত্রিক বনাম সামরিক একনায়কতন্ত্র

ড. সুলতান আহমদ : নির্বাচনের ২ বৎসর আগ থেকেই নির্বাচন নিয়ে টকশো, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর  নানা জাতীয় সব রোগ দেখা দেয়। কারন নির্বাচনের ফলে কে সেই একক ক্ষমতার অধিকারীর আসনে বসবে সেটা নির্ধারিত হয়। ৭২ এ দেশের যে সংবিধানটি রচিত হয়েছিল, তার মূল চেতনাই ছিল ঐ আসনটি।

৭২ এর সংবিধান প্রনেতাদের মধ্যে ড. কামাল হোসেন ১৯৯০ এর নির্বাচন নিয়ে সত্য কথা বলায় আওয়ামী লীগ (পুনরুজ্জীবিত) ছাড়তে বাধ্য হন। অপর সংবিধান প্রনেতা ব্যারিষ্টার আমীরুল ইসলাম ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পক্ষে মত দেয়ায়, উনিও ড. কামাল হোসেনের ছোট আঙ্গুলের সমান হবার যোগ্যতা যাদের হয়নি, তারা যে নোংরা ও অশালীন ভাষায় এ দু'জনকে খিঁচুনি দিয়েছে, তাতে যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে বলে মনে করি।

সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করেন। যারা এ বিষয়টি অস্বীকার করে, তারা তাদের বর্তমান রাজনৈতিক দলীয় অবস্থানকেই অস্বীকার করে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক শাসন হিসাবে মোটামোটি ৭২ এর সংবিধানেই ফিরে গেছে।

ফলে আবারো একনায়কতান্ত্রিক শাসনে ফিরে গেছে। এ শাসন পদ্ধতিতে যে দল নির্বাচনে জয়ী হয়, সে দলের প্রধানই একনায়ক প্রধানমমন্ত্রী হয় ও সরকার গঠন করে। ফলশ্রুতিতে, সরকার দলে বিলীন হয়ে যায়। দলীয় নেতা, পাতি নেতা, তৈস্য নেতা কেন্দ্র হতে সর্বনিন্ম পর্যায় পর্যন্ত সবাই নিজেদেরকেই সরকারি লোক বলে মনে করে। এর ফলে, দলীয় অগণিত অঙ্গ সংগঠনগুলো সব পর্যায়ে লুন্ঠন, দখলবাজি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, খুন, চাঁদাবাজি বিনা বাধায় চলতে থাকে দেশব্যাপি, আর জনগনের জীবন হয়ে পড়ে এদের অত্যাচারে ওষ্ঠাগত। সরকারি নিয়ন্ত্রনাধীন আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী এ সব অন্যায়-অপরাধে শুধু চোখ বুজেই থাকেনা, অধিকাংশ সময় সহযোগীতা করে। এ সুযোগে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীও বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে জনগনের উপর 'মরার উপর খড়গের ঘা' হিসাবেই অবতীর্ন হয়।

এখন প্রশ্ন, গণতান্ত্রিক বনাম সামরিক একনায়কতন্ত্র – কোনটা জনগনের জন্য সুবিধাজনক। আমার মতে সামরিক একনায়কতন্ত্র। কারন, (১) IGP হতে আরম্ভ করে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর নেতৃবৃন্দের রাজনৈতিক দলের নেতাদের মত বক্তব্য দেয়া বন্ধ হবে।(২) গণতান্ত্রিক একনায়কতন্ত্রে অগণিত অঙ্গ সংগঠনগুলো সব পর্যায়ে যে লুন্ঠন, দখলবাজি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, খুন, চাঁদাবাজি করে, তা বন্ধ হবে।

(৩) রাস্তায় দাঁড়িয়ে, জণগনের -এমন কি মুমূর্ষ রোগীদের চলাচল ঘন্টার পর ঘন্টা বন্ধ রেখে, নেত্রী নামক একনায়কদেরকে সম্বর্ধনার অত্যাচার বন্ধ হবে। আর কি চাই?

টকশোর আলোচকসহ রাজনৈতিক  নেতাদের কাছে গণতন্ত্র মানেই নির্বাচন। ওদের কাছে নির্বাচন হল গণতন্ত্রের পরিপূরক। অথচ নির্বাচন হবার কথা ছিল, গণতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কারা পাবে, তা নির্ধারন করা।

বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক  ব্যবস্থা চালু করার আগে শর্তগুলো হল: রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন নিষিদ্ধ করা, দলের ভিতর গণতান্ত্রীক রাজনীতির চর্চা বাধ্যতামূলক করা, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যদের ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি করা। এর জন্য সংবিধানের অনেক গুরুত্বপূর্ন সংশোধন দরকার।কোন রাজনৈতিক দলইএ সব পরিবর্তন করতে রাজি নয়।

E-mail: ahmaddrsultan@gmail.com


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
External links are provided for reference purposes. This website is not responsible for the content of externel/internal sites.
উপরে যান