খান আতাকে নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে

Mon, Oct 16, 2017 2:14 PM

খান আতাকে নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে

আসমা আহমেদ :"এ খাঁচা ভাঙবো আমি কেমন করে"। ৬৮ বা ৬৯ এ জহীর রায়হান পরিচালিত " জীবন থেকে নেয়া অবিস্মরণীয় এ ছায়াছবির একটি গান, যে গানটি প্রতীকী অর্থে বুঝিয়েছিল বাংলার স্বাধীনতাকামী মানুষের অব্যক্ত প্রত্যাশার কথা । গানটি লিখেছিলেন বাংলাদেশের প্রয়াত বহুমাত্রিক চলচিত্র বাক্তিত্ব খান আতাউর রহমান । আমার জানামতে জীবন থেকে নেয়া ছায়াছবিটির সেন্সর ছাড়পত্র কোনোভাবেই মিলছিল না পাকিস্তানি সেন্সর বোর্ডের কাছ থেকে শুধুমাত্র এই গানটির জন্য । জহীর রায়হান আর খান আতা দুজনই লড়েছেন সেন্সর বোর্ডের সাথে ।

সম্প্রতি প্রবাসের এক বাঙালী অনুষ্ঠানে নাসিরুদ্দিন ইউসুফ কিছু কড়া বানী দিয়েছেন খান আতাকে নিয়ে এবং এখন তার পক্ষে বিপক্ষে চলছে নানা কথা । প্রথমত আমার অনেক দিনের প্রবাস জীবনে থাকার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এখানকার আয়োজকরা বাংলাদেশ থেকে কেউ এলে তালে বোতল ফোতল খাইয়ে অস্থির করে ফেলে স্রেফ সেই মেহমান কে খুশী করে ফেলার জন্য। কে নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বা খান আতা অনেকেরই তা জানা নেই। একজন নামকরা কেউ এসেছেন বাংলাদেশ থেকে। তার সাথে একটা ফটো তোলা (আজকাল ত ভিডিও হয়ে যায় নিমিষে) আর স্থানীয়  পত্রপত্রিকায় ছবি ছাপানো এটাই বড় কথা। তাই নাসিরুদ্দিন ইউসুফের কথায় দেখলাম উৎসুক জনতা দাঁত কেলিয়ে উল্লাস করছে এবং তালি বাজাচ্ছে । আর নাসিরুদ্দিন ইউসুফের কি দরকার পড়ল প্রবাসের ওই মফস্বল মার্কা এক অনুষ্ঠানে এ সব গীত গাওয়ার । তো এখন আবার দেখছি অভিনেতা হাসান ইমামও এটা সেটা বলছেন প্রমান করতে যে খান আতাউর রহমান রাজাকার ছিলেন। তিনি বলছেন যে " সাদা আর সবুজের আমার পতাকা " এই গানটি খান আতার লেখা মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে। আর হাসান ইমাম দেখতেন যে খান আতাউর রহমান কোথায় কোথায় যেন লুকিয়ে থাকতেন পাক বাহিনীর ভয়ে আর শিল্পীদের মুক্তিবাহিনীর বিপক্ষে স্বাক্ষর সংগ্রহ করতেন , ইত্যাদি ইত্যাদি। হাসান ইমাম নাকি আরো দেখেছেন যে খান আতা ৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর  শ্যাম্পেইন খেয়ে আনন্দ করছেন।

প্রথমত আমার জানামতে হাসান ইমাম মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই ওপার বাঙলায় চলে গিয়েছিলেন, তো খান আতার পাক বাহিনীর সাথে এতো লুকোচুরি তিনি দেখলেন কোথায়? হ্যাঁ খান আতা এবং জহীর রায়হান অনেক লড়েছেন পাক সেন্সর বোর্ডের সাথে "জীবন থেকে নেয়া" ছায়াছবিটি রিলিজের জন্য । আর সে কারনে জহীর রায়হান আর খান আতার নাম পাক বাহিনীর রোষানলে ছিল, জহীর রায়হান ছিলেন ভারতে কিন্তু খান আতা রয়ে যান দেশে, লুকিয়ে তো তাকে থাকতেই হবে। আর শিল্পীদের স্বাক্ষর সংগ্রহের কথা যদি বলেন জনাব হাসান ইমাম , তাহলে তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি আমার বাবা প্রয়াত অভিনেতা ইনাম আহমেদ শক্তিমান অভিনেতা প্রয়াত গোলাম মোস্তফা এই দুজনের একজনের স্বাক্ষর তো খান আতাউর রহমান নেননি। কারন আমরা আর মোস্তফা চাচারা এলিফেন্ট রোডের এক পাড়ায় থাকতাম । এই দুজন ডাকসাইটে অভিনেতার স্বাক্ষর তিনি নিলেন না কেন তাদের সাথে যথেষ্ঠ সখ্যতা থাকা সত্তেও । বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর যে জাসদ নেতা ট্যাঙ্কের উপর দাঁড়িয়ে উল্লাস করেছিলেন তিনি তো আজ বঙ্গবন্ধু কন্যার মন্ত্রীসভার ডাকসাইটে সদস্য । আর খান আতা বাড়ীতে বসে শ্যাম্পেনই তো খাচ্ছিলেন । হাসান ইমামের তো এটা না জানার কথা নয় যে খান আতার মদ্যপান এর অভ্যাস ছিল । আমি শ্রদ্ধেয় হাসান ইমামকে অনুরোধ করবো উনি যেন বরং নাসিউদ্দিন ইউসুফকে বিদেশ গিয়ে প্রবাসী বাঙালিদের পয়সায় মদ পান করে এসব আউল ফাউল বক্তব্য দেয়ার জন্য ক্ষমা চাইতে বলেন। একজন মুক্তিযোদ্ধার কোনো ক্রমেই এমন বালখিল্য কথাবার্তা গ্রহণযোগ্য নয় ।

লেখক: আসমা আহমেদ, এক সময়কার তারকা সংবাদ পাঠক।


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
External links are provided for reference purposes. This website is not responsible for the content of externel/internal sites.
উপরে যান