বেগম খালেদা জিয়ার জন্য  অভ্যর্থনা  কেন?

Sun, Oct 15, 2017 8:13 PM

বেগম খালেদা জিয়ার জন্য  অভ্যর্থনা  কেন?

শওগাত আলী সাগর: তিন মাস লন্ডনে কাটিয়ে আগামী বুধবার দেশে ফিরছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি লন্ডন গিয়েছিলেন মূলত: চিকিৎসার জন্য। দল থেকে অন্তত তাই জানানো হয়েছিলো। তবে সেই চিকিৎসাটা ‘মারাত্মক’ কিছু যে ছিলো না- তাও আমরা জেনেছি। গত ১৬ জুলাই  তিনি লন্ডন যান। সেখানে তার পা, হাঁটু ও চোখের চিকিৎসা করানো হয় বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো। সেই চিকিৎসা শেষে তিনি এখন দেশে ফিরছেন।

বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে  দেশে ফেরার দিন বেগম খালেদা জিয়াকে তারা অভ্যর্থনা জানাবে। এজন্য আগামী বুধবার (১৮ অক্টোবর) বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত অবস্থান নেবে দল ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।  ঢাকার বাংলা ট্রিবিউনে এই সংবাদটা পড়তে পড়তে মনে প্রথমেই প্রশ্ন জাগলো – কেন এই অভ্যর্থনা? বেগম খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতেই বা  হবে  কেন?

বাংলা ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চেয়ারপারসনকে অভ্যর্থনা জানাতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। তার দেশে ফেরা উপলক্ষে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আমাদের পক্ষ থেকে লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার বলেন,‘মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত রয়েছে। আমার বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত জনস্রোত তৈরি করতে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ 

তাও ভালো বিএনপি সংবর্ধনা শব্দটি ব্যবহার করেনি। তারা বলছে- তারা বেগম জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাবে। দলের নেত্রী বিদেশে চিকিৎসাশেষে দেশে ফিরবেন, তাকে দলের নেতা কর্মীরা অভ্যর্থনা জানাতেই পারেন। কিন্তু বিমান বন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত লক্ষাধিক লোকের অবস্থান নিতে হবে কেন? রাস্তায় জনসমাবেশ ঘটিয়ে অভ্যর্থনা জানানোর মতো কি ‘অর্জন’ করে তিনি দেশে ফিরছেন?

এমনিতেই ঢাকা শহরের যানজট নাগরিক জীবনকে প্রতিমুহুর্তে বিড়ম্বনায় ভোগায়। বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত লক্ষাধিক লোক না হউক, ৫০ হাজার লোক অবস্থান নিলে জনভোগান্তি কোথায় গিয়ে দাড়াবে? একটি রাজনেতিক দল তার নেতা বিদেশ থেকে ফিরছেন বলে এই জনভোগান্তি তৈরির কর্মসূচী কেন দেবে?

জানি, কেউ কেউ বলবেন, প্রধানমন্ত্রীকেও তো বিশাল সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। কথা ঠিক।আমরা এই তূলনাটারও বিপক্ষে। আমরা চাইবো, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মতো করে ভাববে। নিজেদের মতো সিদ্ধান্ত নেবে। আর কেউ কোনো একটা কিছু করলেই অন্যদলকেও সেটা করতে হবে- এই প্রবণতার বিপক্ষে আমরা।

 প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনাকে ঘিরে যে জনভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছিলো তা নিয়ে দলের সমর্থকরাও কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। সংবর্ধনার আগে দলের সমর্থকদের অনেকেও সংবর্ধনা কর্মসূচী বাতিল করার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোষ্ট দিয়েছেন। আমরাও সেই সংবর্ধনার সমালোচনা করেছি। প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনার বিপক্ষে অন্তত দলের সমর্থকরাও প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার অভ্যর্থনার বিপক্ষে বিএনপির কোনো সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী কথা বলেছেন বলে আমাদের নজরে পরেনি। এই জায়গায়টায় আওয়ামী লীগের সমর্থকরা অবশ্যই বিএনপির চেয়ে অগ্রসর অবস্থানে আছেন।

আমরা মনে করি, বিএনপি কর্মীদের এটা বাড়াবাড়ি। বিএনপি নেতা কর্মীরা বিমানবন্দরে দলীয় নেতাকে সাদরে বরন করে নেবেন- তাতে কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত রাস্তায় অবস্থান নিয়ে অভ্যর্থনা জানানোর কর্মসূচী যুক্তিহীন এবং অগ্রহনযোগ্য। বিএনপি এই কর্মসূচী বাতিল করে বিমানবন্দরে তাদের নেত্রীদের অভ্যর্থনা জানাক- তাতে কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু রাস্তায় অবস্থান নিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে নেতাকে অভ্যর্থনা জানানোর বিপক্ষে আমরা।

সংবর্ধনা, অভ্যর্থনার এই সংস্কৃতি থেকে রাজনৈতিক দলগুলো বেরিয়ে আসুক। বিএনপি রাস্তায় অবস্থান নিয়ে অভ্যর্থনার কর্মসূচী বাতিল করুক। এটাই আমাদের চাওয়া।

শওগাত আলী সাগর, নতুনদেশ এর প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক

আরো পড়ুন: আমরা কি এই ‘সংবর্ধনা সংস্কৃতি’ থেকে বেরিয়ে আসতে পারি না?


সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
External links are provided for reference purposes. This website is not responsible for the content of externel/internal sites.
উপরে যান