৮ময় বর্ষ সংখ্যা ৫০ | সাপ্তাহিক  | ২৩ আগস্ট ২০১৭ | বুধবার
কী ঘটছে জানুন, আপনার কথা জানান

প্রানের মিলনমেলা, মন মাতানো বাংলা উৎসব

আনিনা তাহিন

গত ৯ জুলাই হয়ে গেলো বাংলাদেশ এসোসিয়েশন আয়োজিত বর্নাঢ্য উৎসব “কানাডা ডে বাংলা উৎসব”। মেলা মানেই আনন্দ, একে অন্যকে জড়িয়ে গানে গানে হারিয়ে যাওয়া, বাহারি পোশাকে ও সাজে সকলের স্বতঃস্ফুর্ত আগমনে সেই চিরাচরিত বাংলার রূপই যেন ধরা পরছিলো। আকাশে মেঘের ঘনঘটা যদিও বার বার এসে মেলায় যোগ দিতে চাইছিলো! তবে, সেই মেঘ দেখে আক্ষরিক অর্থেই কেউ ভয় পায়নি। বরং, আরো দ্বিগুন আনন্দে মেতে উঠেছিলো সকলের মন। মেলায় উপস্থাপক তানবির কোহিনূর যখন সজোর উচ্ছ্বাসে মঞ্চে উঠে সবাইকে বললেন- ‘বৃষ্টি আসলে আসুক। আমরা আমাদের মেলা উপভোগ করবোই! বৃষ্টিতে ভিজে হলেও মেলার আনন্দ পন্ড হবে না‘ এই কথায় যেন দর্শকের আনন্দের পালে লাগলো পাগল হাওয়া। মেলাতে আসা প্রতিটি বাঙালীর সেই অমায়িক হাসি আর আনন্দের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছিলো মেলার প্রতিটি কোণা। মেলার মঞ্চ উপস্থাপনায় দর্শকদের হাসি কথায় ভুলিয়ে রেখেছিলেন টরেন্টো`র প্রিয় মুখ  উপস্থাপিকা অজন্তা এবং সদা হাসিমুখ উপস্থাপক তানবির কোহিনুর।

মেলার শুরুতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের মাননীয় রাষ্ট্রদূত জনাব মিজানুর রহমান। তিনি বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব টরেন্টো-এর সভাপতি প্রকৌশলি রেজাউর রহমান, সাধারন সম্পাদক ডঃ করিরুল মোল্লা সহ উপস্থিত সকল সম্মানিত কার্যকরি পরিষদের সদস্যেদের সাথে বেলুন উড়িয়ে, বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত এবং কানাডা’র জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যে দিয়ে  মেলার যাত্রা শুরু হয়।এই মেলার অন্যতম আর্কষনীয় আয়োজন ছিলো সম্ভবত ছোটদের প্রাণ দোলানো নাচ। প্রতিটি বাচ্চাদের নাচে উঠে এসেছে প্রানের বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য। টরেন্টোর তিনটি স্বনামধন্য নৃত্য প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা মাতিয়ে তুলেছিলো মেলায় আসা প্রতিটি মানুষকে। নাচের তালে তালে বাঙ্গালীর মন চলে যাচ্ছিলো আমাদের সূর্যোদয়ের দেশে। এই তিনটি নৃত্য প্রতিষ্ঠান হলো- সুকন্যা নৃতাঙ্গন, নৃত্যকলা কেন্দ্র এবং নৃত্যালোক। এর সাথে মহা আনন্দে যোগ দিয়েছিলো সাম্পান আর্ট স্কুল। প্রবাসী শিশুদের বাংলাদেশের চেতনায় জাগিয়ে তোলার এই প্রয়াসে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন কাজ করে যাচ্ছে নিরলস। প্রতিটি বাঙ্গালী পিতা মাতার কাছে এই বার্তাই বয়ে আনুক এক টুকরো বাংলাকে তাঁর সন্তানের জন্য।

 

মূল অনুষ্ঠানে গানের সুরে একে একে মঞ্চ মাতিয়েছেন টরেন্টো`র প্রিয় কণ্ঠ শিল্পী রীনা, আসিফ, ঝুমা, যুথিকা, লিমা, আইরিন। গানের জলসায় আরো ছিলেন জনপ্রিয় শিল্পী সুজানা এবং আর্শিনা প্রিয়া। শিল্পীদের গানের সুরে সুরে গুনগুন করে উঠছিলো বার্চমাউন্টের চারপাশ। ঝালমুড়ি, বিরিয়ানি, হালিম,বারবিকিউ চিকেন, শিঙাড়া, পেয়াজুর মতো মুখরোচক সব খাবারের স্টল। পেট পূজা করতে করতে কেউ কিনছে গয়না,চুড়ি,শাড়ি। আবার কেউ ছুটছে নিপুণ কারুকাজে তৈরি পোশাকের স্টলে।

এরইমাঝে সবার মনেই ছিলো সেই ক্ষণের অপেক্ষা - কখন মঞ্চে উঠবেন বাঙলার কিংবদন্তী গায়ক রথিন্দ্রনাথ রায়। এরই মাঝে অনেকেই ক্যামেরা হাতে এগিয়ে গিয়েছেন এই কিংবদন্তীর সাথে একটা ছবি তুলতে। হাসিমুখে ভালোবেসে গুণী শিল্পী কাছে টেনে নিয়েছেন তার ভক্তদের। ফারহার

করিওগ্রাফিতে মঞ্চ ঝলমল করেছে চমৎকার এক ফ্যাশন শো। বাংলার আরেকটি রূপ তুলে ধরেছেন তার দেশীয় শাড়ি আর সাজের মধ্যে দিয়ে।

 

বৃষ্টির লুকোচুরি খেলার মাঝেই দ্বিগুন আনন্দে বৃষ্টিকে হার মানাতেই ব্যস্ত ছিলো বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের প্রাণবন্ত কর্মীরা। কখনো বা দৌড়ে আনছে টেন্ট, আবার রোদ উঠলে হাসিতেই ফেটে পড়েছে আগত দর্শকগন কর্মীদের সাথে। আরো ছিলো র‍্যাফেল ড্র।

 

ওকি ও বন্ধু, কাজল ভ্রমরা রে...

অতঃপর, সেই শুভক্ষণ এলো। মঞ্চে উঠে এলেন সবার প্রিয়, একুশে পদকপ্রাপ্ত, স্বাধীন বাংলা বেতারের শ্রদ্ধেয় শিল্পী রথিন্দ্রনাথ রায়। তাকে দেখেই যেন ঝড় বৃষ্টির কথা ভুলে গেলো সবাই। গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মাঝেই শুরু করলেন ভরাট কণ্ঠে গান! চারপাশে তখন গমগম করছে রথিন্দ্রনাথ রায়ের কন্ঠ! সবাই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেই যাচ্ছে একে একে জনপ্রিয় সব গান। কখনোই কারো মনে হয়নি বাড়ি যাওয়ার কথা। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব টরেন্টো প্রমাণ করে দিয়েছে ভালো শিল্প চর্চার জন্য তাদের অক্লান্ত সাধনা। 

একটা বিশাল মেলাকে সার্থক করার পিছে থাকে বহু মানুষের চিন্তা, চেতনা ও শ্রম। আর এই "কানাডা ডে বাংলা উৎসব"-কে যারা সার্থক করতে উদার চিত্তে যারা হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা হচ্ছেন- টাইটেল স্পন্সর- এম ডি আনোয়ার কামাল, ওমার রেজওয়ান আহমেদ,আবু তাহের খাঁন, ডায়মন্ড স্পন্সর-রিয়েলটর রাসেল সিদ্দিকীএবং কে এন এস কানাডার সভাপতি সাহিদ খন্দকার টুকু, প্লাটিনাম স্পনসর -রিয়েলটর এবং বিল্ডার শান দে এবং আহমেদ বিল্ডার্স প্রিমিয়াম স্পনসর-  রিয়েলটর ফারাহ খাঁন ও গোল্ড স্পন্সর -  মর্টগেজ ব্রোকার আসাদউদ্দিন খাঁন, রিয়েলটর এবাদ চৌধুরী , রিয়েলটর মানিক চন্দ , বারিস্স্টার জয়ন্ত কে সিনহা,মর্টগেজ এজেন্ট মস্তোফা হক, রিয়েলটর বিবেক সেন, বারিস্স্টার মোঃ আব্দুর রাজ্জাক , বারিস্স্টার এ এসএম তোফাজ্জাল হক, পথিক পাল( নিশিতা ফুড,বারিস্টার চয়নিকা দত্ত, রিয়েলটর আলম মোড়ল,আব্দল জলিল( ইজি ইনসিওর),ইউপ টি ভি , বাংলাবাজার,এবং জনাব পারভেজ (আই পি ডাব্লিউ )।স্পন্সরদের অমায়িক ভালবাসা ও সরব উপস্থিতিতে উৎসব পেয়েছে অনন্য মাত্রা। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব টরেন্টো তার স্পন্সরদেরকে পাশে পেয়ে আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিলো।

 

সবশেষে ছিলো র‍্যাফেল ড্র। তখম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে অনেকেই জিতে নিয়েছে আকর্ষণীয় সব পুরষ্কার।  এরই মাঝে যারা রাফেল ড্র পর্যন্ত থাকতে পারেন নি। তারা বাংলাদেশ এসোসিয়েশন এর কনভেনার শান দে`র সাথে যোগাযোগ করে সংগ্রহ করে নিতে পারেন জিতে যাওয়া পুরস্কারটি। বিজয়ী নাম্বার গুলো নিম্নে দেওয়া হলো।

 

একটা মেলার প্রান হচ্ছে তার আয়োজক, কর্মী ও সংগঠক। মেলার প্রতিটি মুখ ছিলো আনন্দে হাসিতে মুখর। বাঙালীর শিল্প, সংস্কৃতিতে ভরপুর ছিলো রোদ বৃষ্টি মাখা সময়। এই আনন্দের মিলন মেলা একটি ক্ষুদ্র প্রয়াসের বিশাল ফলাফল। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব টরেন্টোর যাত্রায় এই উৎসব ছিলো একটি সফলতার পালক। আগামীতে আরো ভালো কিছু করার অঙ্গীকার নিয়েই বাংলাদেশ এসোসিয়েশন নিরলস কাজ করে যাবে। যেমনটি করে এসেছে বিগত বছরগুলোতে।

সংঘবদ্ধ হোক প্রতিটি বাঙালী, প্রতিটি শুভ চিন্তার হোক মেলবন্ধন। এভাবেই এগিয়ে যাক বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব টরেন্টো।  

পাঠকের মন্তব্য

শ্রেণীভুক্ত বিজ্ঞাপন

জন্মদিন/শুভেচ্ছা/অভিনন্দন


শ্রেণীভুক্ত বিজ্ঞাপন

কাজ চাই/বাড়ি ভাড়া


শ্রেণীভুক্ত বিজ্ঞাপন

ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন/অনুভূতি


 
 
নিবন্ধন করুন/ Registration