৮ময় বর্ষ সংখ্যা ৪২ | সাপ্তাহিক  | ২১ জুন ২০১৭ | বুধবার
কী ঘটছে জানুন, আপনার কথা জানান

মেয়র এবং তাঁর দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা

ড, সুলতান আহমদ

আজ (৮-৫-২০১৭) সকালে নিউজ 24 চ্যানেলে ঢাকা উত্তরের মেয়র জনাব আনিসুল হক এবং দেশ বরন্য কয়েকজনের আলোচনা অনুষ্ঠানটি শুনছিলাম। আলোচনাটি ছিল খোলামেলা ও উপভোগ্য। আলোচনায় উঠে এসেছে মেয়রের নিকট জনগনের প্রাপ্তি, প্রত্যাশা, হতাশা এবং ব্যর্থতার কথাও।

 

প্রথমেই মেয়রকে নগর পিতা বলা আমার আপত্তির কথা জানিয়ে রাখি। নগর হল একটা abstract জিনিষ, তার পিতা মানুষ হতে পারে না। বাংলা কোন পন্ডিত এ প্রতিশব্দটি আবিষ্কার করেছেন, তা আমার জানা নেই। নগর পিতা বলে তাঁর ঘাড়ে সব বোঝা চাপিয়ে দিয়ে অন্যরা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করেই খোশমেজাজে থাকে। কারন দায়িত্ব মেয়রের। বদনাম যা হবার তাঁরই হবে।

 

দেশের ইউনিয়ন কাউন্সিল নির্বাচন আগে হত অরাজনৈতিকভাবে। এবার আইন করে তা করা হয়েছে দলীয় প্রতীকসহ দলীয়ভাবে। এ নিয়ে অনেক বিতর্কের পরও, শেখ হাসিনা ও তাঁর অধীনস্থ নেতা, এমনকি দলীয় অনুগত গবেষক অধ্যাপক আবদুল মান্নানসহ অনেকেই কলাম লিখে এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছিলেন এ অজুহাতে যে, আমেরিকা, কানাডা ও বৃটেনসহ সব গনতান্ত্রিক দেশেই দলীয়ভাবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভাল কথা। ঐ নির্বাচনে দেশে ১৩০ টির মত লোক নিহত হয়েছে। তাতে সিদ্ধান্ত গ্রহনকারি রাজনৈতিক দল ও তার দলীয় অনুগতদের কোন অনুশোচনা প্রত্যক্ষ করলাম না। ভাবখানা যেন এই, মরেছেত তাতে আমাদের কি, আমাদের কেউ ত আর মরেনি।

 

বিদেশের শুধু নির্বাচন ব্যবস্থাই দেখল, ঐ সব দেশের স্থানীয় সরকারগুলোর কাজের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি দেখার প্রয়োজনই আমলে নিল না।

আমেরিকা, কানাডায় স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরাই শুধু নয়, এমনকি পুলিশ প্রধান, বিচারক পর্যন্ত নির্বাচনের মাধ্যমে ঠিক করা হয়। সেখান সর্বনিম্ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার হল `কাউন্টি`, যা আমাদের `ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ডের` সমতুল্য। আর আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, পয়ঃনিষ্কাশনসহ সব সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় নির্বাচিত প্রতিনিধির তত্ত্ববাধানে। কাউন্টি থেকে মেয়র, কংগ্রেস, এমনকি সিনেটরও নমিশন পায় স্থানীয় ভাবেই। দলীয় প্রার্থীরা স্থানীয়ভাবে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েই নির্বাচনে প্রার্থী হয়। আমাদের ঐ সব দেশের গনতন্তের মূল পার্থক্যটা এখানেই।

 

আমরা স্বার্থ হাসিলের অপকৌশল হিসাবেই শুধু নির্বাচন পদ্ধতিটিকেই গ্রহন করেছি, আর কোন কিছুই কিন্তু নয়। এখানে ইউনিয়ন কাউন্সিল হতে আরম্ভ করে সংসদ পর্যন্ত প্রার্থী বাছাই এর মালিক দলীয় প্রধান। সব ক্ষমতা একজনের হাতে। ক্ষমতার অংশিদারিত্ব কোন ক্রমেই ভাগ বসানো যাবেনা। হয় মান, না হয় সরে পড়। সুরসুর করে সবাই মেনে চলে আদেশ-নির্দেশ।

 

ক্ষমতার এ দাম্ভিক ধারাবাহিতায়ই মেয়র হতে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সব সেবা প্রতিষ্ঠানকে সরকারের কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছে। ফল যা হবার তাই হচ্ছে। মেয়রগন ফুটপাথ, যাত্রীছাউনি যেদিন দখলমুক্ত করেন. পরদিনই দলীয় সন্ত্রাসী ক্যাডাররা আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর মদদে (হারাম ভাগাভাগিতে) আবার তা দখল করে। মেয়রদের দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া কিই বা করার আছে?

মনে পড়ে মরহুম হানিফের নেতৃত্বে তৎকালীন মেয়রগন সেবা সংস্থাগুলোকে তাদের তত্ত্বাবধানে দেয়ার সঠিক দাবিটি তুলেছিল। কিন্তু কে শুনে ভাল জিনিষের কথা। বর্তমান মেয়রগন কী দলীয় একক ক্ষমতাভোগকারী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে দাবিগুলো ছিনিয়ে আনতে পারবেন? ভরসা পাচ্ছিনা!

email: ahmaddrsultan@gmail.com

পাঠকের মন্তব্য

শ্রেণীভুক্ত বিজ্ঞাপন

জন্মদিন/শুভেচ্ছা/অভিনন্দন


শ্রেণীভুক্ত বিজ্ঞাপন

কাজ চাই/বাড়ি ভাড়া


শ্রেণীভুক্ত বিজ্ঞাপন

ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন/অনুভূতি


 
 
নিবন্ধন করুন/ Registration