৮ময় বর্ষ সংখ্যা ৫০ | সাপ্তাহিক  | ২৩ আগস্ট ২০১৭ | বুধবার
কী ঘটছে জানুন, আপনার কথা জানান

মুসলিম শূন্য বিশ্বের পথে

মঈনুল আহসান, লস এঞ্জেলস থেকে

[এক] কয়েক বছর আগে দুনিয়া আক্রান্ত হয়েছি সোয়াইন ফ্লুতে। সময়টা দু’হাজার আট,নয় হবে। মিডিয়াতে তার ভয়াবহতা প্রচার হচ্ছিল ব্যাপক ভাবে। আতংকিত হয়ে পড়েছিল বিশ্ব। এমন পরিস্থিতিতে সময় হলো হজ্জের। ফ্লুর কারণে ছিল বাড়তি সতর্কতা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও কাজ করছিল একত্রে। খবরগুলো মিডিয়াতে আপডেট হচ্ছিল নিয়মিত। তারপরও প্রায় চল্লিশ লাখ লোকের ঐ মাহা সমাবেশের ব্যাপারে অতি মাত্রায় উদ্বিগ্ন ছিল পশ্চিমা দুনিয়া। সেই উদ্বেগের প্রকাশ দেখা গেল আমেরিকার এবিসি টেলিভিশনে। বিষয়টার উপর তারা একটা চুলচেরা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ তুলে ধরলো তাদের জনপ্রিয় সান্ধ্যকালীন ওয়ার্ল্ড নিউজে।

তাদের তরুণী জীবাণু বিশেষজ্ঞ বললেন, হজ্জ হতে পারে সোয়াইল ফ্লু ভাইরাসের জন্য একটা পেট্রি ডিশ (petri-dish) বিশেষ। উল্লেখ্য পেট্রি ডিশ হলো এক ধরণের প্লেট যার মধ্যে জেলির মত খাবার রেখে ইচ্ছা মত জন্মানো যায় ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস। অর্থাৎ হজ্জের মাঠে লক্ষ লক্ষ মানুষকে একত্রে পেয়ে সোয়াইন ফ্লুর জীবাণু পেয়ে যাবে অবাধ বংশ বিস্তারের মোক্ষম সুযোগ। দ্রুত ছড়িয়ে পরবে একজন থেকে অন্য জনে এবং হজ্জ শেষে দেশ থেকে দেশান্তরে ফেরা হাজিদের সাথে সোয়াইন ফ্লুর ভাইরাসও ছড়িয়ে পরবে জগত জুড়ে। বিশ্ব আক্রান্ত হবে ফ্লুতে। হবে সোয়াইন ফ্লুর মহামারী। সভ্যতার জন্যে সৃষ্টি হবে বাঁচা-মরার অবস্থা। সেই মহা দুর্যোগ ঠেকানো যাবে না কোন ভাবেই।

খুবই সহজ তাত্ত্বিক হিসাব। কোন ভুল নেই ঐ হিসাবে। ভাইরাসের যা জীবন চক্র তাতে ঠিক তা-ই হওয়ার কথা। কিন্তু হজ্জ শেষে সেই হিসাব গেল পাল্টে। কিছুই হলো না কোথাও। এমনকি হজ্জের মাঠেও কেউ মারা যাননি সোয়াইন ফ্লুতে। কি হলো, কিভাবে হলো এবং কেন এমন হলো তা আর কেউ বিশ্লেষণ করলো না। আশায় ছিলাম এবিসির একটা ফলোআপ প্রতিবেদন দেখার। কিন্তু সে বিষয়ে তাদেরকে আর কথা বলতে দেখা গেল না। কথা নিশ্চয় বলতো যদি হাজীরা ফ্লুতে মারা যেত। স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছিল যে হজ্জের প্রতি মমতা থেকে নয় বরং হজ্জকে বহুবিধ বৈশ্বিক সমস্যার উৎস প্রমাণ করাই ছিল ঐ প্রচারণার উদ্দেশ্য।

তারও বেশ কয়েক মাস আগে ঐ এবিসি টিভিরই বিখ্যাত সাংবাদিক ডায়ান সয়্যার একটা প্রতিবেদন করেছিলেন তার সৌদি আরব সফরের উপর। সফরের আপাত উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকানদের কাছে সৌদি জীবন ধারা সহজ করে তুলে ধরা। সফরের এক পর্যায়ে ডায়ান সয়্যার কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের সাথে। এক ছাত্রকে জিজ্ঞেস করা হয় পাঠ্য পুস্তকের বর্ণিত একটা বিশেষ হাদিসের বিষয়ে। বিখ্যাত ঐ হাদিসে বলা হয়েছে যে কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত হবে না যে পর্যন্ত ইহুদীদের সাথে মুসলমানদের একটা যুদ্ধ হবে যে যুদ্ধের এক পর্যায়ে যুদ্ধ ক্ষেত্রের গাছ-পাথরও মুসলিম যোদ্ধাদেরকে ডেকে ডেকে তাদের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ইহুদীদেরকে ধরিয়ে দেবে।

সৌদি তরুণের কাছে প্রতিবেদকের প্রশ্ন ছিল স্কুলের বইতে এধরনের বিবরণী থাকায় তাদের মনে শিশু কাল থেকেই ইহুদি জাতির প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হচ্ছে কিনা এবং এ ধরণের পাঠ্যক্রমকে সে বিদ্বেষ মূলক মনে করে কিনা। সৌদি তরুণ শুরু করেছিল উত্তর দেয়া কিন্তু সেই উত্তর শেষ অবধি প্রচার করা হয়নি, মাঝ পথে কথা কেটে দিয়ে হঠাৎ পাল্টে ফেলা হয়েছিল প্রসঙ্গ। যেন হাতে সময় নেই তাই পুরো ব্যাখ্যা প্রচার করা গেল না। বুঝতে অসুবিধা হয়নি সৌদিরা যে আসলে কতটা ইসলামিক এবং সেই ইসলামে পশ্চিমাদের ধারণায় কি কি ভুল বা বিদ্বেষ আছে সেটা তুলে ধরাই ছিল ঐ আয়োজনের পেছনের উদ্দেশ্য, বিস্তারিত জানা বা বুঝার কোন আগ্রহ তাদের ছিল না।

ঐ তরুণের বক্তব্য পুরো প্রচার করা হলে নিশ্চিত ভাবেই জানা যেত যে নবীজী সা:-এর হাদিসগুলো যেনতেন কোন কথামালা নয়। সেগুলো হলো ‘প্রফেসি’(Prophecy) এবং কোন প্রফেসিকেই কখনো পরিবর্তন করা যায় না। সেই সুযোগ কখনোই ছিল না,এখনো নেই। সেই ক্ষমতাও কারো নেই। প্রফেসির ব্যাখ্যায় থাকতে পারে ভিন্নতা,বিশ্লেষণও হতে পারে বিভিন্ন।  কিন্তু সেগুলো শেখার সময় প্রতিটি অক্ষর ঠিক রেখেই শিখতে হয়, সাথে জানতে হয় সম্ভাব্য ব্যাখ্যাগুলোও। এর অন্যথা হলে মানুষ হারাবে প্রকৃত তথ্য ও জ্ঞানের অপার্থিব ঐশ্বরিক সূত্র আর তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে মানুষ নিজেই। এসব কথা জানে পশ্চিমা দুনিয়া। তারা বরং অনেক মুসলমানের চেয়েও ভাল জানে। কারণ সব তথ্য ভাণ্ডারই এখন তাদের হাতে এবং সব ধরণের গবেষণাতেই তারা এখন অগ্রগামী।

উল্লেখ্য যে নবীজী সা:-এর পর যেহেতু আর কোন নবী আসবেন না তাই মানুষের কাছে দুনিয়ার শেষ অবস্থা খুলে বলা ছিল উনার দায়িত্ব ভুক্ত। দুষ্টের সাথে শিষ্টের সদা চলমান সংঘাত যে দিনে দিনে চরমে পৌঁছাবে তা বলার অপেক্ষে রাখে না। সেই পরিস্থিতির কথাই বলা হয়েছে উল্লেখিত হাদিসে। ঐ সময়ের দুষ্ট জন হবে ইহুদীরা। বস্তুত সব কালের ইহুদী নেতৃত্বই ছিল দুষ্ট চক্রে আবদ্ধ। শেষ সময়ে তা পৌঁছাবে চরমে এবং তাদের হাতে শোষণের শিকার হবে মুসলিম জনগোষ্ঠী। আর সব সংঘাতেই শেষ বিজয়ী হয়ে থাকে শোষিত জনগণ, তা সেই জনগণ যত দুর্বল বা যত ছোটই হোক না কেন। এটাই বিশ্ব স্রষ্টার চিরন্তন নীতি। কারণ তিনি নিজে সদা ন্যায়নিষ্ঠ তাই তিনি সহ্য করেন না কোন অন্যায়, অনিষ্ট। সেইটাই ঘটবে দুনিয়ার শেষ সময়ের জাতিগত সংঘাতেও এটাই ঐ হাদিসের মূল বক্তব্য। পুরো ইহুদী জাতিকে ঘৃণা করার কোন নির্দেশনা সেখানে নেই। তাই এর আলোচনায় ঘৃণা- বিদ্বেষের প্রসঙ্গ টেনে আনা ছিল নিতান্তই অযৌক্তিক। বস্তুত ওটা ছিল পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাঁধানোর একটা অপচেষ্টা, একটা দুরভিসন্ধি মাত্র।

ঘটনা দুটো সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু আসলে তা ভাসমান হিমবাহের ছোট্ট চূড়া মাত্র। একটা দুটো করে এমন ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বিশ্ব জুড়ে বহু দিন ধরে বিবিধ পদ্ধতিতে। আর এখন তা পরিণত হয়েছে যেন একটা উৎসবে। হেন উপায় নাই যা প্রয়োগ করা হচ্ছে না মুসলমানদেরকে হেনস্তা করতে। মুসলমানদের বেশ-ভূষায় দোষ। তাদের দাঁড়িতে, টুপিতে দোষ। তারা শরীর দেখায় না, তাতেও দোষ। তাদের কিতাব, পুস্তক, পত্রিকায় দোষ। মসজিদ-মক্তবে দোষ। তাদের গরু খাওয়াতে দোষ, শুয়োর না খাওয়াতেও দোষ। শুধু ব্যক্তিই নয় অনেক সরকারও এ ব্যাপারে বিশেষ নাখোশ। এদের ভাবটা যেন ‘সবার উপরে গরুই সত্য তাহার উপর নাই’। আর তাই গরুর সম্ভ্রম রক্ষায় মানুষ পিটিয়ে মেরে ফেলতেও এদের বাঁধে না। কোরবানির সময় তাদের সেই মর্ম যাতনা পৌঁছে চরমে।

দুনিয়া জুড়ে মানুষ গোশত খায় কিন্তু খাওয়ার সময় কেউ চিন্তা করে না যে কিভাবে পশু-পাখিগুলোকে মারা হলো আর কিভাবেই-বা গোশত এলো টেবিল পর্যন্ত। সেই চিন্তা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে মুসলমানদেরকে কোরবানি দিতে দেখলেই। এমন দুশ্চিন্তা বস্তুত প্রমাণ করে যে মানুষের মধ্যে প্রাণীর প্রতি সত্যিকারের মমত্ব সৃষ্টিতে নিজ হাতে পশু কোরবানির কোন বিকল্প নেই। উপরন্তু কোরবানি মানুষকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় এই জীবনের অনিবার্য পরিণতি, মানুষ সুযোগ পায় নতুন করে ভাবার। যে পশুটা কোরবানি হয় তাকে যে কোন ভাবে এক সময় জবাই-ই হতে হতো। এমনকি গরু সুরক্ষায় যারা দিগবিদিগ জ্ঞানশূন্য তারাও গরু হত্যায় বাধ্য হবে যখন গরুর সংখ্যা সীমা ছাড়িয়ে পরিবেশকে করবে দূষিত। পরিবেশ রক্ষায় তেমন আয়োজন করে পশু হত্যার বহু নজির রয়েছে বিশ্ব জুড়ে। এতকিছুর পরও কোরবানিকে অন্যদের যেনতেন প্রাণী উৎসর্গের সমতুল্য বিবেচনা করা অবশ্যই উদ্দেশ্যমূলক।   

শুধু কোরবানিই নয় মুসলমানদের নামাজ রোজার মত রুটিন ইবাদতগুলোও যেন অনেকের চক্ষুশূল। কারণ সেসবে উপাসনা করা হয় শুধুমাত্র এক আল্লাহর। সেখানে মানা হয় না এক আল্লাহ ছাড়া শক্তির অন্য কোন উৎসকে। একারণেই মুসলমানরা মানতে পারে না খেলাধুলার মধ্যে স্পিরিটের প্রতীক হিসেবে মশালকে, স্যালুট করতে পারে না আগুনের শিখাকে, মসজিদে রাখতে পারে না সরকারি ছবিও। আর তাই মুসলমানরা যা-ই করে সেটাই হয়ে যায় অন্তর্জাতিক আইনের বরখেলাফ। তারা যে ভাবেই চালাতে চায় সেটাই হয়ে পড়ে বর্বরতা নয়তো অমানবিকতা। 

অথচ মুসলমানরা কখনো কোন দেশ দখল করে রাখেনি। কোন দেশ থেকে সেখানকার অধিবাসীদেরকে অস্ত্রের মুখে উচ্ছেদ করে উদ্বাস্তু বানায় নি। কাউকে ধর্ম বদলে বাধ্য করে নি বরং সব সময়ই সুরক্ষা দিয়েছে অন্যদের ধর্ম ও আচারকে। তারা কোন বিশ্ব যুদ্ধ শুরু করেনি। কোন শহরকে তারা বোমা মেরে পলকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়নি। তাদের কারণে বিশ্বে কোন আণবিক-পারমানবিক বিপর্যয় ঘটেনি। এমনকি আমেরিকার মত নিত্য খুনোখুনির দেশেও পরিসংখ্যান অনুযায়ী মুসলমানদের অপরাধের মাত্রা সব চাইতে কম।

দুনিয়াতে এখনো এমন সমাজ আছে যেখানে নারীরা দিন শেষে ঘরে ফেরা স্বামীদেরকে সেজদা করে অভ্যর্থনা জানিয়ে থাকে ধর্ম ও সমাজের কারণে। এমনও ধর্ম আছে যেখানে পৈতৃক সম্পত্তিতে নারীর কোন অধিকারই কখনো স্বীকৃত ছিল না, এখনো নেই। সেসব ক্ষেত্রে সবাই চুপ, যেন সেগুলো সবই আইন সম্মত এবং মানবিকতায় পূর্ণ। শুধু মুসলমানদের সব কিছুতেই অপরাধ। মুসলিম ওলামা, মওলানা মানেই নারী বিদ্বেষী, নারী লোলুপ। কিন্তু বাস্তবতা বলে অন্য কথা। দেশের কঠিন নারী নির্যাতন আইনের আওতায় প্রতিদিনই জেল-হাজত হচ্ছে যেসব পুরুষের সেখানে ইমাম, মওলানা, মাদ্রাসা ছাত্রে সংখ্যা শূন্য। ব্যাপারটা চোখে পড়ার মত। এটা প্রমাণ করে ইমাম,    মওলানাদের পরিবারে রয়েছে সেই শান্তি যা সমাজের অন্যত্র অনুপস্থিত। তারপরও এদের ঘাড়ে নারী বিদ্বেষের দায় চাপানো নিতান্তই ইসলাম বিদ্বেষী পঙ্গু মানসিকতা ছাড়া কিছু না।

মুসলমানদের নামে আরো যা কিছু ঘটেছে বা ঘটছে বলে প্রচার করা হয় তা ক্ষোভ আর আক্রোশের ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কেন্দ্রিক অনিয়ন্ত্রিত প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। কিন্তু সেটাও নিশ্চিত নয় কারণ সেগুলো যে কোন বিশেষ শক্তির বিশ্বজনীন কোন মহাপরিকল্পনার অংশ নয় তাও সন্দেহাতীত নয়। বিশেষ করে যে প্রক্রিয়ায় মুসলিম দেশগুলোতে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং যে ভাবে ডা জাকির নায়েকদের মত জ্ঞানীদের নিষিদ্ধ করা হচ্ছে তাতে ইসলাম বিরোধী বহুজাতিক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব  দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ফেসবুক লাইকের কারণে কেউ অপরাধী সাব্যস্ত হলে দুনিয়ার বহু নেতা-নেত্রীরই এখন জেলে থাকার কথা। কারণ টরেন্টোর মসজিদ ম্যাসাকারে জড়িত যুবক সহ সব বর্ণবাদী উগ্রপন্থীরাই তাদের প্রকাশ্য ফ্যান, তাদের মতাদর্শে প্রত্যক্ষ ভাবে উজ্জীবিত।

উপরন্তু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী আক্রোশ থেকে দুর্ঘটনা পৃথিবীতে কোন বিরল বিষয় নয়, বিশ্ব জুড়েই তা অতি সাধারণ। সহায়-সম্পদ, আত্মীয়-পরিজনসহ সর্বস্ব হারানো হতাশ ব্যক্তিদের এমন উন্মত্ততার সাথে পশ্চিমা দুনিয়া খুবই পরিচিত। কিন্তু এজন্যে কখনো অপরাধীর ধর্ম বা পুরো জাতিকে দায়ী করা হয় না। অথচ ঠিক সেটাই করা হচ্ছে মুসলমানদের ক্ষেত্রে। এটা যেন একটা অঘোষিত আন্তর্জাতিক আইন যার মূল কথা হচ্ছে দুনিয়াতে ঘটনা যাই ঘটুক তার জন্য দায়ী মুসলমান আর তাদের ধর্ম ইসলাম। এই ধারা এখন এমনই চরমে পৌঁছেছে যে পাবলিক প্লেসে ইনশাআল্লাহ, মাশাআল্লাহ বলতেও ভাবতে হচ্ছে। অচিরেই হয়তো সালাম-কালাম করাও বন্ধ করতে বলা হবে।

 

[দুই]

একেকটা ঘটনা ঘটছে আর সাথে সাথে কালার করা হচ্ছে মুসলমানদেরকে। কাউকে ধরতে হলে এভাবেই কালার করে নিতে হয়। এতে ধরাধরিটা পোক্ত হয়। এটা কমন ফর্মুলা। রাস্তার ছিচকে চোর থেকে শুরু করে সিন্ডিকেটেড মাফিয়া পর্যন্ত সবাই ব্যবহার করে এটা। এমনিতে কালার হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে কৌশলে ফাঁদে ফেলে তা করতে হয় যেমন করেছিলেন হিটলার। বলা হয় তিনি নিজের লোকদের পোলিশ বাহিনীর পোশাক পড়িয়ে অপকর্ম করিয়ে বদলা নেয়ার অজুহাতে ট্যাংক নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন পোল্যান্ডে, শুরু হয়েছিল তার কাঙ্ক্ষিত যুদ্ধ। একেই বলে পানি ঘোলা করে স্বার্থ উদ্ধার। সেই একই খেলা যেন চলছে এখন।

এখন কালার করা হচ্ছে মুসলমানদেরকে। যেনতেন ভাবে সন্ত্রাসের রংয়ে রাঙ্গানো হচ্ছে তাদেরকে। অপরাধী বানানো হচ্ছে গায়ের জোরে, বিনা প্রমাণে। তা না হলে জাকির নায়েকদেরকে থামানো যাচ্ছে না। পরম সত্যের চরম প্রকাশ ঠেকানো যাচ্ছে না। নিজেদের জাড়ি জুড়িও ঢেকে রাখা যাচ্ছে না। বিষয়টা বুঝতে পারছে সবাই। তাই সাধারণ মানুষের সহানুভূতি অবারিত হচ্ছে ভিকটিম মুসলমানদের জন্যেই। টেক্সাসের পুড়ে  যাওয়া মসজিদ তার প্রমাণ। ঘটনার সাতদিনের মধ্যে মসজিদ ফান্ডে জমা পড়েছে মিলিয়ন ডলার, যার প্রায় পুরোটাই দিয়েছে অমুসলিমরা। আমেরিকার মসজিদে মসজিদে আসছে অসংখ্য চিঠি, পাঠাচ্ছে অমুসলিমরা। চিঠিগুলোর ভাষা মর্মস্পর্শী, বক্তব্য হৃদয়গ্রাহী। সব বক্তব্যের মূল কথা, ‘আমিও তোমাদেরই একজন’।

কিন্তু পাবলিকের ভাবনা আর ক্ষমতার হিসাব এক জিনিস নয়। পাবলিক শুধুই ভোটার মাত্র, ক্ষমতায় যাওয়ার অদৃশ্য সিঁড়ি বিশেষ। কিন্তু ক্ষমতার প্রাসাদে স্বার্থের যে মারপ্যাঁচ সেখানে তাদের মতামত মূল্যহীন, প্রয়োজন শূন্য। সেই মারপ্যাঁচের জন্য রয়েছে ধূর্ত সব খেলোয়াড়। তারা থাকে আড়ালে কিন্তু তারাই আসল শাসক, শাসন করে বিশ্ব। আমরা আমজনতা শুধুই দর্শক, খেলার ফলাফল দেখে নিজ আসনে শুধু নড়েচড়ে বসতে পারি মাত্র, কিন্তু কিছুই করতে পারি না। সেই দর্শক হিসেবে বর্তমানে আমরা যা দেখছি তাতে স্পষ্টই বুঝতে পারছি যে চলমান এই মুসলিম বিরোধী প্রচারণা ও প্ররোচনার একমাত্র উদ্দেশ্য ইসলাম ও মুসলিম বিহীন বিশ্ব।

নেপথ্য ক্ষমতাধরেরা চায় দুনিয়া থেকে ইসলামের উচ্ছেদ কিন্তু মুশকিল হচ্ছে যে তাদের অনেক ক্ষমতা থাকার পরও এ বিশ্বের মালিক তারা নয়। তারা নিয়ন্ত্রণ করে না আকাশ, বাতাস, গ্রহ, নক্ষত্র। নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না চন্দ্র-সূর্যের গতি-প্রকৃতি। তাদের ক্ষমতাধর সেনাবাহিনী, সুবিখ্যাত বিমান ও নৌবহর এবং সুপার হাই টেকনোলোজি পারেনি ক্যালিফোর্নিয়ার পাঁচ বছরের খরাকে রুখে দিয়ে অতি দরকারি বৃষ্টির ব্যবস্থা করতে। এরা পারে না সামান্য বরফের নীচে ঢাকা পড়া শহরের অফিস-আদালত চালু রাখতে। এমন কি পারে না নিজের মসনদকেও নিশ্চিত করতে। কে যে কখন কিভাবে ভোটের ফলাফল উল্টে দেয় সেটাও ঠিক মত জানার ক্ষমতা নেই এদের কারোর। এমন নিদারুণ অসহায়ত্ব নিয়ে মানব সভ্যতাকে নিজের ইচ্ছা মত সাজানোর পরিকল্পনা নিতান্তই দিবা স্বপ্ন ছাড়া কিছু নয়। তেমন পরিবর্তন একমাত্র করতে পারেন এই মহাজগতের প্রকৃত মালিক সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক। তিনি যদি ইচ্ছা করেন তবেই তা সম্ভব অন্যথায় নয়। তিনি কখন কি ইচ্ছা করবেন সেটা একান্তই তাঁর বিষয়। সেসব একান্ত  বিষয় তিনি কখনো শেয়ার করেন না কারো সাথে। আর সেজন্যেই আমাদের কারোর পক্ষেই বলা সম্ভব নয় যে কে কখন রবে না রবে এই দুনিয়ায়। 

তবে মহান আল্লাহ পাক অতীব দয়াময়। মানুষ তাঁর প্রিয় সৃষ্টি, তিনি অত্যন্ত স্নেহশীলও মানুষের প্রতি। তাই তিনি খাদ্য ও পানীয়ের ব্যবস্থা না করে আমাদেরকে পাঠাননি এই পৃথিবীতে। মাতা-পিতার স্নেহময় আশ্রয়েরও ব্যবস্থা করেছেন আমরা দুনিয়াতে জন্মানোর আগেই। একই ভাবে পৃথিবীর ভূত-ভবিষ্যতের ব্যাপারেও তিনি অজ্ঞ রাখেননি মানব জাতিকে। অন্য সব কিছুর সাথে তিনি মানব জাতিকে পৃথিবীর খুঁটিনাটি বিষয়েও দিয়েছেন যাবতীয় নির্দেশনা। তাই নেপথ্য নায়কদের পরিকল্পনা মত ইসলাম ও মুসলমান বিহীন বিশ্ব আদতেই সম্ভব কিনা তা জানতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই খুঁজে দেখতে হবে বিষয়টির উপর আল্লাহ পাকের নির্দেশাবলী। এজন্যে দেখতে হবে আল্লাহ পাক প্রবর্তিত সর্বশেষ আপডেটেড ম্যানুয়াল পবিত্র আল কুরআন।

উল্লেখ্য যে আল্লাহ পাক শুধুই মুসলমানদের রব্ব নন, তিনি পুরো মানব জাতি তথা সমস্ত কাফের, মুশরিক, অমুসলিম এবং দৃশ্য-অদৃশ্য জগত সমূহের সব কিছুরই রব্ব। সবারই জীবন ও জীবিকার মালিক একমাত্র তিনি। তবে তাঁর অমোঘ নীতি অনুযায়ী তিনি অমুসলিমদেরকে দুনিয়াতেই দিয়ে দেন তাদের সব চেষ্টা, তদবির ও ভালো কাজের ফল, পরকালে তাদের প্রাপ্য হবে শূন্য যেহেতু তারা পরকালে বিশ্বাসই করে না (সূরা ৩: আয়াত ১৪৫; ৪২:২০ দ্রষ্টব্য)। ব্যাপারটা অনেকটাই বিদ্যালয়ে ভর্তি না থাকলে ডিগ্রী না পাওয়ার মত। পড়াশোনা যতই করি না কেন বিদ্যালয়ের ডিগ্রী পেতে হলে অবশ্যই সেখানে ভর্তি থাকতে হবে এবং সেখানকার সব পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। তা না হলে ব্যক্তিগত পড়াশোনা থেকে উপকার হয়তো কিছু পাওয়া যাবে কিন্তু কোন ডিগ্রী লাভ হবে না, তাই উন্নত ভবিষ্যতেরও কোন সম্ভাবনা থাকবে না।

যেহেতু আল্লাহ পাক অবিশ্বাসীদের চেষ্টা তদবিরের ফলও দিয়ে থাকেন তাই ইসলাম ও মুসলিম বিহীন পৃথিবীর জন্য তাদের অন্তহীন চেষ্টাও আল্লাহ পাক নিশ্চয় এক সময় পূর্ণ হতে দেবেন, তবে তা হবে এই মহাজগত বিষয়ে আল্লাহ পাকের সব উদ্দেশ্য ও শর্ত সমূহ পুরোপুরি সুসম্পন্ন হওয়ার পর। পবিত্র আল-কুরআনে আল্লাহ পাক খুলে বলেছেন সেই ঘটনা প্রবাহ।

প্রথমত আল্লাহ পাক দুনিয়ার বুকে তাঁর দ্বীনকে সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে ছাড়বেন, সেটা কাফের, মুশরিকদের জন্য যতই দুর্বহ হোক না কেন (১০:৮২; ২৪:৫৫ দ্রষ্টব্য)। পবিত্র কুরআনকে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করে সেই অঙ্গিকারই পূরণ করেছেন মহান আল্লাহ পাক। সেটা তিনি আবার করবেন হযরত ঈসা আ:-কে নবীজি সা:-এর উম্মত হিসেবে পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনে। দুনিয়া আবার পরিপূর্ণ হবে ইসলামে (ঈসা আঃ ফেরত আসা সংক্রান্ত সহি হাদিসসমূহ দ্রষ্টব্য)। অতঃপর আসবে শেষ সময়। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্তের বিষয়ে আল্লাহ পাক বলেন, তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম করবেন না যতক্ষণ দুনিয়াতে উপস্থিত আছেন নবী করিম সা: এবং যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ আল্লাহর দরবারে ক্ষমার জন্য করতে থাকবে প্রার্থনা (৮:৩৩ দ্রষ্টব্য)।

উল্লেখ্য নবীজি সা: এরই মধ্যে ছেড়ে গেছেন দুনিয়া তাই কিয়ামতের পথে বাঁকি আছে শুধুই আল্লাহর দরবারে বান্দার ক্ষমা প্রার্থনা। বান্দা বলতে এখানে আল্লাহ পাকের শেষ ম্যানুয়াল আল কুরআন অনুযায়ী ইবাদতকারী তথা মুমিন মুসলমানই উদ্দেশ্য কারণ কুরআনের এই যুগে কুরআন বিহীন কোন প্রার্থনা আল্লাহর জন্যে প্রার্থনা হিসেবে গণ্য হবার নয় (৩:৮৫ দ্রষ্টব্য)। এর সোজা অর্থ হচ্ছে একজন মুমিন মুসলমানও জীবিত থাকা অবধি এই মহাবিশ্ব ধ্বংস করা হবে না। অর্থাৎ পৃথিবীতে মুমিন মুসলমানের উপস্থিতি এই মহা জগতের টিকে থাকার একমাত্র গ্যারান্টি। বিষয়টা লবণ বিহীন তরকারির মত। রান্না যত বনেদিই হোক না কেন লবণ ছাড়া তা অখাদ্য, তার স্থান ডাস্টবিন।

অতএব দেখা যাচ্ছে যে দুনিয়াতে যখন আল্লাহর নাম নাম নেয়ার কেউ আর অবশিষ্ট থাকবে না শুধুমাত্র তখনই পূরণ হবে কাফেরদের ইসলাম ও মুসলমান বিহীন বিশ্বের স্বপ্ন এবং তার ফলও ভোগ করতে হবে তাদেরকেই। মুসলিম শূন্য তাদের সেই স্বপ্নের পৃথিবীই হবে কাল, বয়ে আনবে মহা দুঃস্বপ্ন, এমন দুঃস্বপ্ন যা কেউ দেখেনি কখনো, কল্পনাও করেনি কখনো। সেটা হবে মহা ধ্বংসের দুঃস্বপ্ন। কাফের পূর্ণ পৃথিবীতে নেমে আসবে মহা ধ্বংসযজ্ঞের বিভীষিকা, কায়েম হবে কিয়ামত (৭০:১~২ দ্রষ্টব্য)।

এটা এমনই এক মহাযজ্ঞ যা দুনিয়ার বুকে ঘটেনি আগে কখনো। ভয়াবহ প্রকম্পনে চুরমার হয়ে যাবে ভূমি, উদগীরণ ঘটবে প্রথিত সব সম্পদের। ফুঁসে উঠবে সমুদ্র, ধূণিত তুলার মত খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে উড়তে থাকবে পাহাড়। আলোহীন হয়ে পড়বে চন্দ্র-সূর্য। তথা পৃথিবী হারাবে মাধ্যাকর্ষণ, হবে কক্ষচ্যুত। দিশাহারা পশু-পাখীর দল শত্রুতা ভুলে একত্র হয়ে পড়বে বনে-জঙ্গলে। গর্ভবতীদের গর্ভ খসে পড়বে, বালকেরা বৃদ্ধে পরিণত হবে, যা হয়ে থাকে শরীরের হরমোন সাইকেল ওলট পালট হলে, ভয়াবহ আতংকের সময় তেমন অবস্থাই হয় প্রাণী দেহে। খসে পড়বে চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র আর লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে আকাশ। মানুষ অবস্থা হবে পঙ্গপালের মত বিক্ষিপ্ত। দিগবিদিগ জ্ঞানশূন্য উদভ্রান্ত মানুষ খুঁজতে থাকবে পালানোর পথ, বাঁচতে চাইবে সর্বস্ব দিয়ে, কিন্তু কোথাও পাবে না কোন সহায়, কোন আশ্রয়। জগতের সবচেয়ে ভয়াবহ ও করুণতম মৃত্যু তাদেরকে বরণ করতে হবে চরম অসহায় ভাবে। তাদের শেষ অবস্থা হবে ভক্ষিত ভুষির মত। চূড়ান্ত অবসান ঘটবে মুসলিম বিহীন মহা বিশ্বের (ত্রিশ পারার সূরা সমূহ দ্রষ্টব্য)। 

মনে হতে পারে এ বহু দূরের কথা। বস্তুত নিজেদের জীবনকেও আমরা তেমন অন্তহীনই ভেবে থাকি যদিও ‘এক সেকেন্ডের নাই ভরসা’র বাস্তবতা আমাদের সবারই জানা। কিয়ামতও তাই, মনে হচ্ছে যেন বহু কাল পরের কল্পকথা, কিন্তু আসলে তা অতি বাস্তব এবং একেবারেই নিকটে। আল্লাহ পাক বলেন, কিয়ামতকে তারা দেখছে বহু দূরে কিন্তু আমি দেখছি খুবই কাছে (৭০:৬~৭ দ্রষ্টব্য)। আল্লাহ পাক আরও বলেন, যখন তারা তা দেখবে তখন মনে করবে দুনিয়াতে ছিল শুধুই একটা সন্ধ্যা বা সকাল মাত্র (৭৯:৪৬ দ্রষ্টব্য)। তখন বেঁচে থাকবো না বলে আত্মতৃপ্তির কোন সুযোগ নেই একালের আমাদের। কারণ ব্যক্তির মৃত্যুও কেয়ামত তুল্য, আল্লাহ দয়া না করলে সে অবস্থাও হতে পারে ভয়াবহ। তেমন করুণ মৃত্যু অহরহই ঘটছে আমাদের চারপাশে।

রীতিমত চাক্ষুষ (vivid) এইসব বিবরণীর বিষয়ে কারো যদি কিছু মাত্র অবিশ্বাস বা সন্দেহ থেকে থাকে তাহলে তাদের উচিত হবে আল্লাহ পাকের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সবার সাহায্য- সহায়তা নিয়ে পবিত্র কুরআনের ক্ষুদ্রতম একটা সূরা অথবা একটা বাক্যের তুল্য বাক্য তৈরি করে দেখানো (২:২৩; ৫২:৩৪ দ্রষ্টব্য)। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে নিজেদের স্বার্থেই আমাদের উচিত হবে ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী যে কোন পরিকল্পনা থেকে দূরে থাকা এবং মুসলমানদের ক্ষতি হতে পারে এমন কাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা।

সতর্কতাটা মুসলমানদের জন্যে আরও বেশী প্রযোজ্য কারণ ইসলামের ধূর্ত শত্রুরা মাছের তেলে মাছ ভাজতে অতি অভ্যস্ত। মুসলমানদের মধ্যেও এরা তৎপর বিভিন্ন ভাবে, বিভিন্ন বেশে। নিজেদের কুটিল উদ্দেশ্য হাসিলে এরা কুরআন-হাদিস দিয়েই বিভ্রান্ত করে থাকে নিরীহ মুসলমানদেরকে, উস্কে দেয় নিজ ধর্ম ও জাতির বিরুদ্ধে, সৃষ্টি করে আত্মঘাতী সংঘাত। এদের খপ্পর থেকে বাঁচার একমাত্র পথ সার্বক্ষণিক ভাবে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকা। এজন্যে প্রয়োজন যে কোন মূল্যে নামাজকে আঁকড়ে ধরে রাখা। ফরয ও সুন্নতের বাহিরেও অতিরিক্ত নামাজ পড়া। নামাজের মাধ্যমে নিজের প্রতিটি বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া। এতে কুরআন ও হাদিসের সঠিক নির্দেশনার উপর টিকে থাকার পথ করে দেবেন আল্লাহ পাক স্বয়ং। সেটাই শুধু প্রয়োজন হিংসা, ভ্রান্তি আর ষড়যন্ত্রের এই উত্তাল মহাসাগর স্বস্তির সাথে পাড়ি দেয়ার জন্য। এই পথ বহু পরীক্ষিত, বহু ভাবে প্রমাণিত।

পাঠকের মন্তব্য

শ্রেণীভুক্ত বিজ্ঞাপন

জন্মদিন/শুভেচ্ছা/অভিনন্দন


শ্রেণীভুক্ত বিজ্ঞাপন

কাজ চাই/বাড়ি ভাড়া


শ্রেণীভুক্ত বিজ্ঞাপন

ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন/অনুভূতি


 
 
নিবন্ধন করুন/ Registration